📄 একজন ত্রাণকর্তার জন্য বিপদগ্রস্থ আবেরদের প্রার্থনা
আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন, যিনি আখেরী জমানায় আবির্ভূত হবেন। এই মহান ব্যক্তি মুসলিম উম্মাহকে নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করবেন। তিনি দুর্নীতি রোধ করে এমন এক সমাজ গঠন করবেন যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার, সুখ-সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণ বিরাজ করবে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অরাজকতা, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রদ্রোহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন এলাকায় হত্যাযজ্ঞ ও ভয়াবহ বিপর্যয় সংঘটিত হচ্ছে। দারিদ্র্য ও ক্ষুধায় একই সাথে বৃদ্ধি পেয়ে আদম সন্তানদের ধৈর্যের সকল সীমা অতিক্রম করছে এবং তারা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে সকল নির্দেশনাদি পরিলক্ষিত হওয়ায় এটাই নির্দেশ করে যে, ইমাম মাহদী (আঃ), যিনি সেই আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি, যার জন্য মুসলিম উম্মাহ শত শত বৎসর যাবৎ অপেক্ষা করছে, তিনি আসছেন। এই মহাসংবাদ সকল ঈমানদারদের উৎসাহ ও আবেগ বৃদ্ধি করবে এবং তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।
📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন
ইমাম মাহদী (আঃ) এর সাথে হযরত ঈসা (আঃ) এর সাক্ষাৎ হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি ইসলাম ধর্মের সার্বিক নৈতিক মূল্যবোধ পুনঃসংস্থাপন করবেন। পৃথিবীতে শান্তি, কল্যাণ ও পবিত্রতা বিরাজ করবে, যা ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি। এই মহাসংবাদ সকল ঈমানদারদের উৎসাহ ও আবেগ বৃদ্ধি করবে। আখেরী জমানায় হযরত ঈসা (আঃ) এর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অনেক হাদিস ও নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কিত সুসংবাদের পাশাপাশি হযরত ঈসা (আঃ) এর অবতরণের বিষয়টিও ঈমানদারদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়ে আসছে। এটি এমন এক সময় যখন পৃথিবী দুর্নীতি ও অত্যাচারে নিমজ্জিত থাকবে এবং এই দুই মহান পবিত্র ব্যক্তির আবির্ভাব বিশ্ববাসীকে নতুন আলোর পথ দেখাবে।
📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে আল হাদীস
হযরত ঈসা (আঃ) হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর ইমামতিতে নামাজ আদায় করবেনঃ
জেরুজালেমে ইমাম মাহদী (আঃ) যখন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাবেন, তখন হযরত ঈসা (আঃ), ইমাম মাহদী (আঃ) কে ঈমানদারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন। হাদীস অনুযায়ী, হযরত ঈসা (আঃ) ইমাম মাহদী (আঃ) এর কাঁধে হাত রেখে বলবেন, “এ নামাজে ইমামতি করার জন্য আপনি নির্দেশিত”। তখন হযরত ঈসা (আঃ) এবং অন্যান্য ঈমানদাররা ইমাম মাহদী (আঃ) এর ইমামতিতে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এ সময় দাজ্জালের সশস্ত্র রক্ষীবাহিনী মাহদী (আঃ) এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে ও তাঁর কার্যে বাধা প্রদান করার চেষ্টা করবে, কিন্তু আল্লাহর কুদরতে সত্য জয়যুক্ত হবে। যখন দাজ্জালের আগমন ঘটবে, তখন মাহদী (আঃ) তার বিরোধিতা করবেন এবং হযরত ঈসা (আঃ) এর সহযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে।
📄 হযরত ঈসা (আঃ) এর পরিচয়
হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর সাথে হযরত ঈসা (আঃ) এর সাক্ষাৎ হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি ইসলাম ধর্মের সার্বিক নৈতিক মূল্যবোধ পুনঃসংস্থাপন করবেন। পৃথিবীতে শান্তি, কল্যাণ ও পবিত্রতা বিরাজ করবে, যা ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি। পুরাতন এবং নতুন বাইবেলে (ইসালে) উল্লেখিত আছে যে, জেসির (হযরত দাউদ (আঃ) এর পিতার নাম) বংশধারায় এক সত্য প্রকাশিত হবে। এর শাখা থেকে একটি ফল আত্মপ্রকাশ করবে, যার মধ্যে আল্লাহর রূহ বিকশিত হবে। যার মধ্যে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিবৃত্তি, উপদেশ, শক্তি এবং খোদাভীতি বিদ্যমান থাকবে। তিনি খোদাভীতিতে আপ্লুত থাকবেন। তিনি ন্যায়নীতির সাহায্যে বিচার করবেন এবং পৃথিবীতে দরিদ্রদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।
জেরুজালেমে ইমাম মাহদী (আঃ) যখন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাবেন, তখন হযরত ঈসা (আঃ), ইমাম মাহদী (আঃ) কে ঈমানদারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন। হযরত ঈসা (আঃ) ইমাম মাহদী (আঃ) এর কাঁধে হাত রেখে বলবেন, “এ নামাজে ইমামতি করার জন্য আপনি নির্দেশিত”। তখন হযরত ঈসা (আঃ) এবং অন্যান্য ঈমানদাররা ইমাম মাহদী (আঃ) এর ইমামতিতে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তিনি হবেন সত্য এবং ন্যায়ের প্রতীক, যিনি দুষ্ট ও অসৎ ব্যক্তিদের প্রভাব নির্মূল করবেন।