📘 হযরত ইমাম মাহদী এর আবির্ভাবের নিদর্শন সমূহ > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মহাপ্রলয় বা কেয়ামতের কিছুদিন পূর্বে সংঘটিতব্য আখেরী জমানার আলামত বা নিদর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বর্ণনা করেছেন। এই সমস্ত হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী একটার পর একটা ঘটতে থাকবে।

আখেরী জমানার প্রথম পর্যায়ে অত্যাধিক দুর্নীতি এবং ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মানুষ যেহেতু সত্যিকার ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের দ্বারা পরিচালিত হবে, এ কারণে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং শান্তি এবং নিরাপত্তা বিরাজ করবে।

আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন, যাকে আখেরী জমানায় পাঠানো হবে। এই মহান ব্যক্তি মুসলিম উম্মাহকে নিষ্ঠুরতা এবং নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করবেন এবং দুর্নীতি দূর করবেন। তিনি এমন যুগের সূচনা করবেন যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার, সমৃদ্ধি, প্রাচুর্য্য, সুখ ও কল্যাণই কল্যাণ বিরাজ করবে। এই মহাসংবাদ সকল ঈমানদারদের উৎসাহ ও আবেগ বৃদ্ধি করবে। অনেক হাদিস ও নির্ভরযোগ্য পান্ডুলিপির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কিত সুসংবাদ ঈমানদারদের আনন্দ, উৎসাহের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচিত হয়ে আসছে।

আমাদের সময়কালে যে সব নিদর্শনাদি দেখা যাচ্ছে সেই অনুযায়ী ইমাম মাহদী (আঃ) এর আবির্ভাবের সময় আসন্ন। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান বিশ্বে বিশৃঙ্খলা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অত্যাচার, সংগ্রাম, যুদ্ধ, অশান্তি, দুর্ভিক্ষ, ঘন ঘন ভূমিকম্প এ সবই এ মহাসংবাদের নিদর্শন বা আলামত হিসেবে বিবেচিত।

এই পুস্তিকাটি দুই ভাগে বিভক্তঃ হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) এর আবির্ভাবের নিদর্শনাদি এবং ইমাম মাহদী (আঃ) এর অবয়ব তথা চেহারা মোবারক ও অন্যান্য। এই পুস্তিকায় হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে বর্ণিত নতুন তত্ত্ব ও তথ্যাদি সন্দেহাতীতভাবে মুসলমানদের উজ্জীবিত করবে।

📘 হযরত ইমাম মাহদী এর আবির্ভাবের নিদর্শন সমূহ > 📄 হযরত ঈসা (আঃ) সকল পয়গম্বরদের মত

📄 হযরত ঈসা (আঃ) সকল পয়গম্বরদের মত


হাদীসে বর্ণিত আছে, সকল পয়গম্বরগণ পরস্পরের আত্মীয়। ইমাম মাহদী (আঃ) ও একই ধারার হবেন। এই বংশধারার সদস্যগণ সমাজে সৈয়দ হিসাবে সুপরিচিত। এই নিয়মে ইমাম মাহদী (আঃ) ও সৈয়দ হবেন। পবিত্র কুরআনে নবীরা (সাঃ) পরস্পর একই বংশ থেকে উদ্ভূত মর্মে উল্লেখিত রয়েছে। কুরআন শরীফের এ সকল আয়াতের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইমাম মাহদী (আঃ) এই বংশধারারই একজন সম্মানিত সদস্য।

“নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে, নূহকে ও ইব্রাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করেছেন। ইহারা একে অপরের বংশধর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞ” (সুরা আল ইমরান; ৩৩-৩৪)।

“হে আমার প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত (মুসলিম) কর এবং আমাদের বংশ হইতে তোমার এক অনুগত উম্মত করিও। তাহাদিগকে ইবাদতের নিয়ম পদ্ধতি দেখাইয়া দাও এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু” (সুরা বাকারা-১২৮)।

“এবং ইহাদের (পূর্ববর্তী নবী ও রাসূল) পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দদের কতককে আমি মনোনীত করিয়াছিলাম এবং তাহাদিগকে সরল পথে পরিচালিত করিয়াছিলাম" (সুরা আল আনআম-৮৭)।

📘 হযরত ইমাম মাহদী এর আবির্ভাবের নিদর্শন সমূহ > 📄 আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম

📄 আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম


হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) ইসলামের মূল্যবোধ প্রবর্তন করবেন। হাদীসসমূহের মাধ্যমে জানা যায় যে, তিনি এমনভাবে ধর্মীয় জ্ঞান সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবেন যার ফলে ধর্মবিরোধী সকল প্রকার আন্দোলন ও ক্ষতি যা ধর্মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তার অস্তিত্বই থাকবে না। অর্থাৎ তিনি ইসলামের নৈতিক মান ও মূল্যবোধ সমুন্নত এবং প্রবর্তন করবেন।

ইমাম মাহদী (আঃ) সেই ধর্ম অনুসরণ করবেন, যা আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়ে তিনি পালন করতেন। ইমাম মাহদী (আঃ) পৃথিবী থেকে সব ধরনের সাম্প্রদায়িক বিরোধ অপসারণ করবেন। একমাত্র প্রকৃত ও সঠিক ধর্ম ছাড়া অন্য কোন সম্প্রদায় বা ধর্মের অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি সকল প্রকার নাস্তিক্যতাবাদ ও খোদাদ্রোহীতা পৃথিবী থেকে অপসারণ করবেন। তিনি আখেরী জমানায় সেই সকল ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করবেন ঠিক যেমনটি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর জমানায় করছিলেন। রাসূল (সাঃ) যেভাবে প্রথম দিকে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন, অনুরূপভাবে ইমাম মাহদী (আঃ)ও আখেরী জমানায় ঐ দায়িত্ব পালন করবেন।

📘 হযরত ইমাম মাহদী এর আবির্ভাবের নিদর্শন সমূহ > 📄 একজন ত্রাণকর্তার জন্য বিপদগ্রস্থ আবেরদের প্রার্থনা

📄 একজন ত্রাণকর্তার জন্য বিপদগ্রস্থ আবেরদের প্রার্থনা


আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন, যিনি আখেরী জমানায় আবির্ভূত হবেন। এই মহান ব্যক্তি মুসলিম উম্মাহকে নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করবেন। তিনি দুর্নীতি রোধ করে এমন এক সমাজ গঠন করবেন যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার, সুখ-সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণ বিরাজ করবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অরাজকতা, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রদ্রোহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন এলাকায় হত্যাযজ্ঞ ও ভয়াবহ বিপর্যয় সংঘটিত হচ্ছে। দারিদ্র্য ও ক্ষুধায় একই সাথে বৃদ্ধি পেয়ে আদম সন্তানদের ধৈর্যের সকল সীমা অতিক্রম করছে এবং তারা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে সকল নির্দেশনাদি পরিলক্ষিত হওয়ায় এটাই নির্দেশ করে যে, ইমাম মাহদী (আঃ), যিনি সেই আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি, যার জন্য মুসলিম উম্মাহ শত শত বৎসর যাবৎ অপেক্ষা করছে, তিনি আসছেন। এই মহাসংবাদ সকল ঈমানদারদের উৎসাহ ও আবেগ বৃদ্ধি করবে এবং তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00