📘 হযরত আলী রাঃ জীবন ও খিলাফত 📄 শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামতের আকীদা

📄 শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামতের আকীদা


পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে দিবালোকের ন্যায় এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আহলে বায়তের সাইয়েদগণ ইসলামের পরিচ্ছন্ন ও বিশুদ্ধ আকীদা-বিশ্বাসকে অন্তরে স্থান দিয়েছিলেন যা তাঁরা তাদের প্রিয় নবী ﷺ ও নানাজানের কাছ থেকে লাভ করেছিলেন। সে আকীদা-বিশ্বাসের সারনির্যাস এই যে, তাদের প্রিয় নবী ও নানাজানই হলেন সর্বশেষ নবী যাঁর মাধ্যমে নবুয়ত ও রিসালাতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। অহীর অবতরণ বন্ধ হয়েছে এবং দীন ও শরীয়ত পরিপূর্ণতায় উপনীত হয়েছে।

ইমাম সুফিয়ান-মুতারবাফ হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি আবূ জুহায়ফা হতে বর্ণনা করেন। আবূ জুহায়ফা (র) বলেন, আলী (রা)-কে আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনাদের নিকট কি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -এর পক্ষ হতে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু রয়েছে? তিনি বললেন, সেই পবিত্র সত্তার শপথ, যিনি বীজ অংকুরিত করেন এবং মানবকে সৃষ্টি করেছেন তা ছাড়া আর কিছু নেই। তবে কুরআন সম্পর্কে বিশেষ সমঝ যা আল্লাহ দান করে থাকেন আর যা 'সহীফায়' রয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সহীফায় কি রয়েছে? তিনি বললেন, 'দিয়ত' এর বিধান, বন্দী মুক্তির বিধান এবং এই বিধান যে, কোন মুসলমানকে কোন কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা হবে না। [মুসনাদে আহমাদ]

📘 হযরত আলী রাঃ জীবন ও খিলাফত 📄 এই আকীদা গ্রহণের বিকৃত মনস্তাত্ত্বিক কার্যকারণ

📄 এই আকীদা গ্রহণের বিকৃত মনস্তাত্ত্বিক কার্যকারণ


হযরত আলী (রা)-এর সন্তান-সন্ততি ও উত্তরাধিকারিগণ এই আকীদা-বিশ্বাস সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং এর প্রতিই মানুষকে তাঁরা আজীবন আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু অবশেষে সেই স্বভাব ও মানসিকতাই প্রবল হয়ে উঠলো যার উৎস হলো প্রাচীন জাহিলিয়াত বিকৃতিপ্রাপ্ত প্রাচীন ধর্মসমূহ এবং নবুয়তের সম্পর্ক ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত গ্রীক, পারস্য, চীন ও ভারতবর্ষের সমাজ সভ্যতা ও দর্শনসমূহ। শিয়া ইছনা আশারিয়া সম্প্রদায় ধর্মীয় পবিত্রতার ছাপ দিয়ে ইমামতের আকীদার মাধ্যমে কিছু মনস্তাত্ত্বিক উদ্দেশ্য অর্জনের প্রয়াসী হয়েছিলো। এই ভ্রান্ত ফেরকা দাবি করলো যে, রাসূলের খলীফা ও ইমামগণের নির্বাচন আল্লাহর পক্ষ হতেই হয়ে গিয়েছিলো। নবী ও রাসূলের ন্যায় তাঁরাও নিষ্পাপ। তাঁদের মর্যাদা রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর মর্যাদার সমতুল্য এবং অন্যান্য নবী-রাসূলের মর্যাদার ঊর্ধ্বে। তারা বিশ্বাস করে ইমাম ছাড়া বান্দার ওপর আল্লাহর হুজ্জত (প্রমাণ) সাব্যস্ত হয় না এবং ইমাম ছাড়া দুনিয়া কায়েম থাকতে পারে না।

আল্লামা ইব্‌ন খালদুন বলেন, শিয়াদের ইমামতের ধারণাটি দীনের স্তম্ভ ও ইসলামের বুনিয়াদ হিসেবে তারা গণ্য করে। তাদের কতিপয় গোঁড়া উপদল এমনও রয়েছে যারা এই ইমামগণের ইলাহিয়াত দাবি করে বসেছে। এ ধরনের মতবাদ পোষণকারীদেরকে আলী (রা) আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিলেন। মুখতার ইব্‌ন আবূ ওবায়দ সম্পর্কে এই আকীদার কথা শুনতে পেয়ে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া (র) খুবই ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। শিয়া সম্প্রদায়ের এ সকল আকীদা-বিশ্বাস বর্তমান যুগের শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবর্গও ধারণ করে চলেছেন, এমনকি আয়াতুল্লাহ খোমেনী তাঁর রচিত "আল-হুকুমাতুল ইসলামিয়া" গ্রন্থে ইমামদের এমন উচ্চ মরতবা দিয়েছেন যেখানে নৈকট্যপ্রাপ্ত কোন ফেরেশতা কিংবা কোন প্রেরিত নবী উপনীত হতে পারেন না।

📘 হযরত আলী রাঃ জীবন ও খিলাফত 📄 প্রাচীন ইরান ও তার ধর্মবিশ্বাসের প্রতিফলন

📄 প্রাচীন ইরান ও তার ধর্মবিশ্বাসের প্রতিফলন


'ইমামত' গোঁড়া আকীদা বিশ্বাস যার সীমারেখা ব্যক্তি ও পরিবারের প্রতি ঐশ্বরিক পবিত্রতা আরোপ পর্যন্ত উপনীত হয়, মূলত এর ওপর প্রাচীন ইরানের ধর্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন ঘটেছে। পারসিকরা সম্রাটের প্রতি এমন দৃষ্টিতে তাকাতেই অভ্যস্ত ছিলো, যাতে একটা ঈশ্বরীয় ভাব বিদ্যমান থাকে। পরবর্তীতে ঠিক একই দৃষ্টিতে তারা আলী ও তাঁর পরিবারের প্রতি তাকাতে শুরু করেছিলো। [ফজরুল ইসলাম, পৃষ্ঠা-২৭৭]

শরীয়তের বিধান প্রবর্তন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নবুয়তের সমান্তরাল প্রতিষ্ঠানরূপে আত্মপ্রকাশকারী 'ইমামত' থেকে যে নিরংকুশ ক্ষমতা উৎসারিত হয়েছে তার ফলশ্রুতি এই যে, ইমামতের নামে দীনের যে কোন রোকন বা বিধান যখনই কোন রাজনৈতিক প্রয়োজন দেখা দেবে, তখন রহিত করা যাবে। ইরানের সরকারি পত্রিকা কায়হান-এ প্রকাশিত খোমেনীর একটি পত্রে বলা হয়েছে যে, (ইমামের) হুকুমত সমস্ত মসজিদ বাতিল করে বা ভেঙ্গে ফেলতে পারে এবং এই হুকুমত নামায-রোযার ওপর অগ্রগণ্য।

আয়াতুল্লাহ্ খোমেনীর মৃত্যুর পর ইরানী জনগণের মাঝে যে অন্ধ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যেখানে লাশের কাফনের কাপড় ছিনিয়ে নেওয়া এবং সমাধি সৌধ নির্মাণে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত- এসবই ঐশ্বরিক পবিত্রতার সেই অতিমানবীয় বলয় যা ইমামতের চরমপন্থী আকীদা সৃষ্টি করে রেখেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -এর সীরাত ও শিক্ষা অনুযায়ী তিনি কোন বিষয়ে তাঁর প্রতি আলাদা আচরণ পছন্দ করতেন না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, খ্রীস্টানরা ঈসা ইবন মারয়ামের যেমন অতিরঞ্জিত প্রশংসা করেছে তোমরা আমার সে রকম প্রশংসা করো না। [বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া]

এই ইমামত ব্যবস্থার ফলে এমন একটি বেকার ও কর্মবিমুখ শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে থাকে, যারা কপালের ঘাম ও হাতের শ্রমের পরিবর্তে জনসাধারণের দান ও ভিক্ষার ওপর জীবন ধারণ করে। আল্লাহ্ তা'আলা সত্যই বলেছেন, “হে মু'মিনগণ, অধিকাংশ ইহুদী আলিম ও খ্রীস্টান পাদরী মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে এবং আল্লাহ্র পথ হতে (মানুষকে) বাধা দান করে। [সূরা তাওবা: ৩৪]

সমাপ্ত

📘 হযরত আলী রাঃ জীবন ও খিলাফত 📄 বাংলায় অনূদিত এক নজরে লেখকের অন্যান্য বইয়ের তালিকা

📄 বাংলায় অনূদিত এক নজরে লেখকের অন্যান্য বইয়ের তালিকা


১. এ লেখকের আরো অন্যান্য কিতাব
২. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
৩. সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস (১-৫ খণ্ড)
৪. নবীয়ে রহমত (সা.)
৫. সীরাতে রাসূল (সা.)
৬. প্রাচ্যের উপহার
৭. ঈমান যখন জাগলো
৮. নয়া খুন
৯. আমার আম্মা
১০. নতুন পৃথিবীর জন্ম দিবস
১১. আরকানে আরবাআ
১২. তারুণ্যের প্রতি হৃদয়ের তপ্ত আহবান
১৩. হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া (র)
১৪. শায়খুল হাদীস হযরত যাকারিয়া (র)
১৫. সালাত: গুরুত্ব ও তাৎপর্য
১৬. সিয়াম: গুরুত্ব ও তাৎপর্য
১৭. ইসলামী জীবন বিধান
১৮. কারওয়ানে মদীনা
১৯. ঈমান দীপ্ত কিশোর কাহিনী
২০. বিধ্বস্ত মানবতা
২১. হজ: গুরুত্ব ও তাৎপর্য
২২. যাকাত: গুরুত্ব ও তাৎপর্য
২৩. ছোটদের আলী মিয়া
২৪. মুসলিম বিশ্বে ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব
২৫. পুরানো চেরাগ (১ম খণ্ড)
২৬. পুরানো চেরাগ (২য় ও ৩য় খণ্ড)
২৭. সীরাতে সাইয়িদ আহমদ শহীদ (রহ) ১ম-২য় খণ্ড [যন্ত্রস্ত]
২৮. কারওয়ানে জিন্দেগী (১-৭ খণ্ড) [যন্ত্রস্ত]
২৯. খুতবাতে আলী (১-১০ খণ্ড) [যন্ত্রস্ত]
৩০. ইসলামে নারীর অধিকার [যন্ত্রস্ত]
৩১. আমার আব্বা [যন্ত্রস্ত]
৩২. ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যদা [যন্ত্রস্ত]
৩৩. সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ)-এর জীবন ও কর্ম [যন্ত্রস্ত]

ফন্ট সাইজ
15px
17px