📄 কুফার পথে হুসায়ন ইবন আলী (রা)
আপন পরিবার-পরিজনসহ কুফা থেকে আগত ষাটজন লোকের ক্ষুদ্র এক কাফেলা নিয়ে হুসায়ন ইব্ন আলী কুফার উদ্দেশে যাত্রা করলেন । তখনও কুফার ঘটনাবলী কিছুই তাঁর জানা ছিলো না । পথে মুসলিম ইব্ন আকীল ও হানী ইব্ন ওরওয়ার শাহাদাতের সংবাদ পেয়ে বারবার তিনি "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" পড়তে লাগলেন । সকলে তখন তাঁকে বিনীতভাবে বললো, আল্লাহ্র দোহাই, নিজেকে রক্ষা করুন ! তিনি বললেন, এ দু'জনের শাহাদাতের পর আর বেঁচে থাকায় কোন কল্যাণ নেই ।
'হাজির' অঞ্চলে পৌঁছার পর তিনি ঘোষণা দিলেন, দেখো, আমাদের সমর্থকরা আমাদের সঙ্গ বর্জন করেছে । সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা ফিরে যেতে চাও নিঃসংকোচে যেতে পারো । কারো ওপর আমাদের পক্ষ হতে আনুগত্যের দায়বদ্ধতা নেই । এ ঘোষণার পর পথের ডান বাম থেকে যারা তাঁর কাফেলায় যোগ দিয়েছিলো তারা সকলে তাঁকে পরিত্যাগ করে কেটে পড়লো । মক্কা থেকে যারা তাঁর সঙ্গী হয়ে ছিলো কেবল তারাই রয়ে গেলো । [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৬৭]
হুসায়ন ইব্ন আলী (রা) চিঠিপত্রের দু'টি বান্ডিল হাযির করলেন এবং সেগুলো সামনে ছড়িয়ে দিয়ে তা থেকে কয়েকটা পত্র পাঠ করলেন । তখন হুর বলে উঠলো, যারা এসব কথা আপনার কাছে লিখেছে তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই । একথা বলে 'হুর' হুসায়ন ইব্ন আলী (রা) থেকে পৃথক হয়ে গেলো এবং তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে কেটে পড়লো । এ সময় কুফা থেকে আগত একদল লোক তার সঙ্গে দেখা করলো । তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের পেছনে কুফার লোকদের কী খবর বলো ।
মুজাম্মা ইব্ন আবদুল্লাহ আল-আমেরী বললেন, নেতৃস্থানীয় লোকেরা আপনার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ । কেননা বড় বড় অংকের উৎকোচ পেয়ে তাদের সিন্দুক ভরে গেছে । সুতরাং তারা আপনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ । পক্ষান্তরে সাধারণ লোকদের অবস্থা এই যে, হৃদয় তাদের আপনার প্রতি ঝুঁকে আছে । কিন্তু আগামীকাল তাদের তলোয়ার আপনার বিরুদ্ধেই কোষমুক্ত হবে ।
ওবায়দুল্লাহ ইব্ন যিয়াদ আমর ইবন সা'আদকে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পাঠালো । হযরত হুসায়ন ইব্ন আলী (রা) তাকে বললেন, "হে উমর ! আমার তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি গ্রহণ করো । হয় আমাকে যেভাবে এসেছি সেভাবে ফিরে যেতে দাও । আর তা গ্রহণযোগ্য না হলে আমাকে ইয়াযীদের কাছে পাঠিয়ে দাও । আমি তার হাতে হাত রাখবো । তখন আমার সম্পর্কে যে যা ভালো মনে করে ফায়সালা করবে । তাও যদি গ্রহণযোগ্য না মনে কর তাহলে আমাকে তুর্কীদের দেশে পাঠিয়ে দাও । মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবো ।"
প্রস্তাবগুলো ইব্ন যিয়াদের বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হলো । সে হুসায়ন ইব্ন আলী (রা)-কে ইয়াযীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল । তখন নরাধম শিমার ইব্ন যিল জাওশান বাধা দিয়ে বললো, আপনার সিদ্ধান্তের ওপর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছু গ্রহণযোগ্য নয় । ইব্ন যিয়াদ হুসায়ন (রা) কে সে কথাই জানিয়ে দিলো । হুসায়ন (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা আমি করবো না ।
উমর বিন সা'আদ হুসায়ন (রা)-এর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে বিলম্ব করছিলো । তখন ইব্ন যিয়াদ শিমার বিন যিল জাওশানকে এই নির্দেশ দিয়ে পাঠালো, উমর যদি আগে বাড়ে তাহলে তার নেতৃত্বে তুমি লড়াই করবে । অন্যথায় তাকে হত্যা করে তুমি তার স্থান গ্রহণ করবে । আমি তোমাকে দায়িত্বভার অর্পণ করলাম । উমর ইব্ন সা'আদের সঙ্গে কুফার প্রায় ত্রিশজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলো । তাঁরা তাকে বললেন, নবী-কন্যার পুত্র তোমাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব পেশ করছেন আর তোমরা তার একটিও গ্রহণ করবে না ! একথা বলে তারা হযরত হুসায়ন (রা)-এর সঙ্গে যোগ দিলো এবং তাঁর পক্ষে লড়াই করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন । [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-১৭০]
📄 কারবালার প্রান্তরে
হযরত হুসায়ন (রা) কারবালা প্রান্তরে অবতরণ করে জিজ্ঞেস করলেন, এ ভূমির নাম কি ? তাঁকে বলা হলো, এটা কারবালা । তিনি বললেন, এ তো 'কারব' ও 'বালা' অর্থাৎ বিপদ ও বালা-মুসিবতের সমষ্টি ।
যা-ই হোক , ইব্ন যিয়াদ উমর ইব্ন সা'আদকে এ নির্দেশ দিলো যে, হুসায়ন ও তার সঙ্গীদল তরবারি সমর্পণ না করা পর্যন্ত পানি অবরোধ করে রাখো যাতে তারা ফোরাতের এক ফোঁটা পানিও সংগ্রহ করতে না পারে । পক্ষান্তরে হুসায়ন ইব্ন আলী (রা) তাঁর সঙ্গীদের নির্দেশ দিলেন, যাতে তারা ফোরাতের পানিতে পিপাসা নিবারণ করে এবং নিজেদের ঘোড়াগুলোর সঙ্গে শত্রুদের ঘোড়াগুলোকেও পানি খেতে দেয় । দুপুরে ইমাম হুসায়ন (রা) যোহরের সালাত আদায় করলেন । উমর ইবন সা'আদ শিমার ইব্ন যিল জাওশানকে পদাতিক দলের দায়িত্ব প্রদান করলো । তারা ৯ মুহররম রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হুসায়ন ও তাঁর সঙ্গী দলের দিকে অগ্রসর হলো । সেই রাত্রে হুসায়ন (রা) তাঁর পরিবার-পরিজনকে প্রয়োজনীয় অসিয়ত করলেন এবং সাথীদের উদ্দেশে ভাষণ প্রদান করে বললেন: দেখো, তোমরা যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে পারো । ওরা শুধু আমার মাথাটাই চায় । এর উত্তরে হযরত হুসায়ন (রা)-এর সঙ্গী-সাথীরা ও তাঁর পুত্ররা ও ভ্রাতুষ্পুত্ররা দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, আপনার পরে আমরা বেঁচে থাকতে চাই না । আল্লাহ্ যেন আপনার কোন মন্দ পরিণতি আমাদের না দেখান !
আকীল (রা)-এর পুত্রগণ বললেন, আমরা আমাদের জান-মাল ও পরিবার- পরিজন আপনার জন্য উৎসর্গ করবো এবং আপনার মতো ভাগ্য বরণ করা পর্যন্ত আপনার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাবো । আপনার পর বেঁচে থাকাকে আল্লাহ্ ধিক্কার দান করুন । [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৭৬-৭৭]
শুক্রবার সকালে (কোন কোন মতে শনিবার সকাল) হযরত হুসায়ন (রা) ফজরের সালাত আদায় করলেন । সেদিন ছিলো আশুরার দিন । তাঁর সঙ্গীদের মাঝে ছিলো বত্রিশ জন যোদ্ধা ও চল্লিশ জন (সাধারণ) পুরুষ । ইমাম হুসায়ন (রা) ঘোড়ায় আরোহণ করলেন এবং একখণ্ড কুরআন নিজের সামনে রাখলেন । তাঁর পুত্র আলী ইবন হুসায়নও ঘোড়ায় আরোহণ করলেন । তিনি তখন খুব দুর্বল ও অসুস্থ ছিলেন ।
হযরত হুসায়ন (রা) লোকদের সামনে আপন উচ্চ বংশ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনাপূর্বক তাদের ধর্মানুভূতি জাগ্রত করার চেষ্টা করে বললেন, তোমরা নিজ নিজ বিবেকের মুখোমুখি হয়ে আত্মজিজ্ঞাসা করো । আমি তো তোমাদের নবীর কন্যার পুত্র ! আমার মত মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ কি তোমাদের শোভা পায় ? এ ধরনের আরো অনেক কথা তিনি বললেন । হুর ইব্ন ইয়াযীদ রায়াহী তখন তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন ও ঘোড়ায় চড়ে লড়াই শুরু করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেন ।
শিমার অগ্রসর হয়ে হুসায়নের সঙ্গীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো । আর তারা দু'জন দু'জন ও একজন একজন করে তাদের প্রিয় ইমামের সামনে লড়াই করতে লাগলেন । আর তিনি এই বলে তাদেরকে দু'আ দিতে থাকলেন , "আল্লাহ্ তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ মুত্তাকীদের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দান করুন !" এভাবে তারা তাঁর সামনে লড়াই করতে করতে শেষ হয়ে গেলেন , আলী-পুত্র ও হুসায়ন-ভ্রাতাদের অনেকেই নিহত হলেন ।
শিমার ইব্ন যিল জাওশান তার যোদ্ধাদের উত্তেজিত করে বললো, তাঁকে হত্যা করতে তোমাদের আর অপেক্ষা কিসের ?! তখন (নরাধম) যোরআ বিন শরীক তামীমী আগে বেড়ে তাঁর কাঁধে তরবারির দ্বারা আঘাত করলো । অতঃপর সিনান ইব্ন আনাস ইব্ন আমর নাখয়ী তাঁকে বর্শাঘাত করলো । অতঃপর ঘোড়া থেকে নেমে তাঁর মাথা কেটে নিলো এবং তা খাওলার হাতে অর্পণ করলো ।
আবূ মুখান্নাফ জাফার ইব্ন মুহাম্মাদ সূত্রে বর্ণনা করেন । জাফার বলেন, নিহত হওয়ার সময় হুসায়নের শরীরে আমরা ৩৩টি বর্শাঘাত ও ৩৪টি তরবারির আঘাত দেখতে পেয়েছি ।¹
কারবালার যুদ্ধে হযরত হুসায়ন (রা)-এর পক্ষে ৭২ জন শাহাদাত বরণ করেছিলেন । মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া হতে বর্ণিত , তিনি বলেন, হযরত হুসায়ন (রা)-এর সঙ্গে এমন ১৭ জন পুরুষ নিহত হয়েছিলেন যাঁদের সকলেই ছিলেন হযরত ফাতিমা (রা)-এর বংশধর ।
ইমাম হুসায়ন (রা) ৬১ হিজরীর ১০ মুহররম , রোজ শুক্রবার শাহাদাতবরণ করেন । ইন্তিকালের সময় তাঁর বয়স হয়ে ছিলো ৫৪ বছর ৬ মাস ১৫ দিন ।
টিকাঃ
১. শিক্ষণীয় বিষয় এই যে, হযরত হুসায়ন (রা)-এর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণে ও তাঁকে হত্যা করার ব্যাপারে যাদের ভূমিকা ছিলো তাদের সকলেই পবর্তীকালে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলো । আল মুখতার তার গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতা সত্ত্বেও হযরত হুসায়ন (রা)-এর ঘাতকদের খুঁজে খুঁজে বের করেছিলো এবং এ জঘন্য অপরাধে যাদেরই হাত রঞ্জিত হয়েছিলো তাদেরকে সে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো , অবশ্যই আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী ও প্রতিশোধ গ্রহণকারী ।
📄 ইয়াযীদের দরবারে
হিশাম বলেন, হযরত হুসায়ন (রা)-এর ছিন্ন মস্তক যখন হাযির করা হলো তখন ইয়াযীদ ইব্ন মু'আবিয়ার দু' চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিলো । সে বলেছিলো, হুসায়নকে হত্যা করা ছাড়াও তোমাদের আনুগত্যে আমি সন্তুষ্ট হতাম । ইব্ন সুমাইয়ার (ওবায়দুল্লাহ ইব্ন যিয়াদের) প্রতি আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক , আল্লাহর শপথ , যদি ইনি আমার সম্মুখে উপস্থিত হতেন তাহলে তাঁকে আমি ক্ষমা করে দিতাম । [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-১৯১]
মু'আবিয়া ইব্ন আবূ সুফিয়ানের জনৈক মুক্ত দাস বর্ণনা করেন , ইয়াযীদের সামনে যখন হুসায়ন (রা)-এর ছিন্ন মস্তক রাখা হলো তখন তাকে আমি কাঁদতে দেখেছি এবং বলতে শুনেছি, ইব্ন যিয়াদ ও হুসায়নের মাঝে যদি রক্ত সম্পর্ক থাকতো তাহলে সে এটা করতে পারতো না । [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-১৭১]
বন্দীদেরকে যখন ইয়াযীদের সামনে উপস্থিত করা হলো তখন প্রথমে সে তাঁদের প্রতি রুক্ষ আচরণ করলো । পরে আবার কোমল আচরণ প্রদর্শন করে তাঁদের নিজ হারেমে পাঠিয়ে দিলো । অতঃপর তাদেরকে সসম্মানে মদীনা শরীফে পাঠিয়ে দিলো ।
ইতিহাসে এমন কোন তথ্য বর্ণিত হয়নি যাতে প্রমাণিত হয় যে, ইব্ন যিয়াদকে সে কৃতকর্মের কারণে বরখাস্ত করেছিলো বা কোন সাজা দিয়ে ছিলো কিংবা অন্তত কোন্ রকম তিরস্কার করেছিলো । পক্ষান্তরে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশের এমন কিছুও বর্ণনা এসেছে যা কোন মুসলমানের পক্ষে শোভনীয় নয় ।
📄 হাররার মর্মন্তুদ ঘটনা ও ইয়াযীদের মৃত্যু
৬৩ হিজরীতে সংঘটিত হাররার মর্মন্তুদ ঘটনা ইসলামের প্রথম যুগের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাসের ললাটে এক কলংকতিলক হয়ে থাকবে । ইয়াযীদ মুসলিম ইব্ন ওকবাকে মদীনায় তিন দিনব্যাপী নৈরাজ্য চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলো । আল্লামা ইবন কাসীর (র) বলেন, এই তিন দিনে মদীনায় যে ভয়ঙ্কর ফিতনা- ফাসাদ ও ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়েছে তা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয় । ইয়াযীদ এভাবে চেয়ে ছিলো তার রাজত্বের বুনিয়াদ মজবুত করতে এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক শাসন ক্ষমতাকে স্থায়িত্ব দান করতে কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর ইচ্ছার বিপরীত ঘটিয়ে তাকে শায়েস্তা করলেন । ফলে মৃত্যু এসে তার স্বপ্নসাধের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালো । [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-২২২]
রাজত্ব ভোগ করার জন্য ইয়াযীদ চার বছরের বেশি বেঁচে ছিলো না । ৬৪ হিজরীর ১৪ রবিউল আউয়াল সে মৃত্যুমুখে পতিত হয় । তার মৃত্যুর মাধ্যমেই আবু সুফিয়ানের পরিবারের খিলাফতের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং মারওয়ান ইবনুল হাকাম পরিবারে স্থানান্তরিত হয় । আব্বাসীদের হাতে উমাইয়া রাজত্বের পতন পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে । সর্বরাজত্বের একচ্ছত্র মালিক হলেন আল্লাহ্ , যাকে ইচ্ছা তিনি রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন । যাকে ইচ্ছা মর্যাদা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপদস্থ করেন ।