📄 সিরিয়া অভিযান ও ইরাকীদের যুদ্ধে অনীহা
নাহরাওয়ান থেকে ফিরে এসে আলী (রা) সমবেত লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দান করলেন। হামদ ও ছানা এবং দরূদ ও সালামের পর বললেন, অতঃপর নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তোমাদেরকে সুসংহত বিজয় দান করেছেন। সুতরাং এই মুহূর্তে তোমরা সিরিয়ায় তোমাদের শত্রুদের উদ্দেশ্যে যাত্রা কর। কিন্তু তারা তাঁর উদ্দেশে দাঁড়িয়ে বললো, হে আমীরুল মু'মিনীন, আমাদের তীর ফুরিয়ে গেছে; তলোয়ার ভোঁতা হয়ে গেছে এবং বর্শার ফলা বাঁকা হয়ে গেছে। সুতরাং পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আমাদেরকে আমাদের শহরে নিয়ে চলুন। [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০৮]
এটাই ছিলো তাদের সব সময়ের আচরণ। ইন্ন জারীর বর্ণনা করেছেন, ইরাকীরা যখন সিরিয়া অভিযানে রওয়ানা হতে অস্বীকার করলো তখন এক ভাষণে আলী (রা) তাদেরকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করলেন এবং কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন। বিভিন্ন সূরা থেকে জিহাদের আয়াত তিলাওয়াত করে তাদেরকে সিরিয়া অভিযানে উদ্বুদ্ধ করলেন। কিন্তু আনুগত্যের পরিবর্তে তারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করলো এবং তাঁর উদাত্ত আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে দেশের পথে ফিরে চললো। এভাবে গোটা বাহিনী এদিক-সেদিক ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো। তখন আলী (রা) কুফায় ফিরে গেলেন।
উনচল্লিশ হিজরী শুরু হলো, তখন হযরত মু'আবিয়া (রা) বহু সংখ্যক বাহিনী তৈরি করে হযরত আলী (রা)-এর শাসনাধীন বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিলেন। কেননা তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন যে, আলী (রা)-এর ইরাকী বাহিনী অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর আনুগত্য করে না এবং তাঁর আদেশ প্রতিপালন করে না। সুতরাং এই সুযোগে তাঁর বিভিন্ন বাহিনী আইনাত্তাসার, আনবার, তায়মা ও তাদমুর অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করলো। ফলে আলী (রা)-এর সমর্থক ও ইরাকীদের মাঝে দুর্বলতা ও হতাশা দেখা দিলো।
ইরাকীদের দুর্বল অবস্থান তথা তাদের বিভিন্ন ওযর, অজুহাত, উদ্যোগ ও উদ্যমহীনতার মুখে আলী (রা) কেমন অস্থির ও ব্যথিত হৃদয় ছিলেন তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছিলো আম্বারের পতনের সংবাদ শুনে প্রদত্ত তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণটিতে।
যখন খবর এলো যে, মু'আবিয়ার প্রেরিত অশ্ববাহিনী আম্বার দখল করে নিয়েছে এবং আলী (রা)-এর নিযুক্ত প্রশাসক হাসসান বিন হাসসানকে তারা হত্যা করেছে তখন তিনি ক্রোধান্বিত অবস্থায় বের হলেন। তাঁর চাদর তখন মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলো। এভাবে তিনি নাখীলা অঞ্চলে এসে পৌঁছলেন। লোকেরাও তার পেছনে পেছনে এসে জমায়েত হলো। তিনি একটি টিলায় আরোহণ করলেন এবং আল্লাহ্র হামদ্, ছানা এবং নবী ﷺ -এর প্রতি দরূদ ও সালামের পর নিম্নোক্ত ভাষণ প্রদান করলেন। বস্তুত আপন নীতি ও অবস্থানের প্রতি বিশ্বাসে অবিচল কিন্তু কাওমের অবাধ্যতায় বিক্ষত হৃদয় শাসকদের যত ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়েছে, সেগুলোর মাঝে হযরত আলী (রা)-এর ঐতিহাসিক ভাষণ অধিক সারগর্ভ ও আবেদনপূর্ণ। আলী (রা)-এর সহজাত আরবীয় অলংকারিত্বের যে সমুজ্জ্বল প্রকাশ এতে ঘটেছে বড় বড় অলংকারশাস্ত্রবিশারদ ও অনলবর্ষী বক্তাদের পক্ষেও তাতে উত্তীর্ণ হওয়া খুব কমই সম্ভব হবে।
তিনি বললেন, অতঃপর জিহাদ হলো জান্নাতের অন্যতম দরজা। নিস্পৃহায় যারা তা বর্জন করবে আল্লাহ্ তাদেরকে যিল্লতির লেবাস পরাবেন, কলংকের কালিমা লেপন করবেন এবং হীনতায় অভ্যস্ত করবেন। রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে আমি তোমাদেরকে এ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছি। আমি তোমাদের বলেছি, তারা হামলা করার আগে তোমরা তাদের ওপর হামলা করো, যাঁর হাতে আমার প্রাণ সেই আল্লাহর শপথ! কোন কাওম যদি তার ঘরের ভেতরে হামলার শিকার হয় তাহলে যিল্লতি ছাড়া তার কোন পথ নেই। কিন্তু সংহতির পরিবর্তে তোমরা একে অন্যের মুখ চেয়ে বসেশিলে। আমার কথা তোমাদের অসহনীয় মনে হয়েছে, তাই অবজ্ঞা করেছো। শেষ পর্যন্ত তোমাদের ওপর লাগাতার হামলা শুরু হয়ে গেছে।
এই দেখ 'গামেদী' ভ্রাতার অশ্ববাহিনী আম্বারে এসে গেছে এবং হাসসান ইব্ন হাসসানসহ বহু নারী-পুরুষকে নির্দ্বিধায় তারা হত্যা করেছে। যে আল্লাহ্র হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলি, আমার কাছে এ মর্মে সংবাদ এসেছে যে, কোন কোন হানাদার সেনা মুসলিম নারী ও যিম্মী নারীর ঘরে হানা দিয়েছে এবং তাদের কানের দুল ও পায়ের নূপুর খুলে ফেলেছে। এরপর সবাই নিরাপদে ফিরে গেছে। সামান্য আঁচড়ও লাগেনি কারো গায়ে। এই দুঃখে ও লজ্জায় কোন মুসলিম পুরুষ যদি মরে যায় তাহলে আমার মতে তা দোষের কিছু নয়, বরং খুবই স্বাভাবিক বিষয়।
হায় আশ্চর্য! বাতিলের পথে তাদের একতা আর হকের পথে তোমাদের ভীরুতা দেখে হতবাক হই। দুঃখের পেয়ালা পূর্ণ হয়ে যায়, অন্তর ফেটে যায় এবং বিবেক স্তব্ধ হয়ে যায়। এখন তো তোমরা লক্ষ্যস্থল হয়ে পড়েছো, তোমাদের বুকে তীর বেঁধে। তোমাদের তীর তাদের বুকে বেঁধে না। তোমাদের ওপর হামলা হয়। তোমরা তাদের ওপর হামলা কর না। তোমাদের সামনে আল্লাহর নাফরমানি হয়, অথচ তোমরা সানন্দ বোধ করছো।
যদি বলি শীতকালে অভিযানে চলো, তখন তোমরা বল, এ তো ঠাণ্ডায় জমে যাওয়ার সময়। আর যদি বলি গ্রীষ্মকালে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে চলো তখন তোমরা বলো, এ তো আগুন ঝরার সময়, গরম কালটা একটু যেতে দিন। শীত-গরমের ভয়েই যদি পিছপা হও তাহলে আল্লাহর শপথ, তলোয়ারের ভয়ে তো তোমরা ঊর্ধ্বশ্বাসেই পালাবে!
হে পৌরুষহীন পুরুষদল ও হে আকল-বুদ্ধিহীন চুড়িওয়ালীর দল! আল্লাহর শপথ, অবাধ্যতা করে তোমরা আমার বিচার-বুদ্ধি শেষ করে দিয়েছো এবং আমার বুক ক্রোধে পূর্ণ করে দিয়েছো, এমন কি কুরায়শরা বলাবলি শুরু করেছে, আবূ তালিবের পুত্র বাহাদুর বটে, কিন্তু যুদ্ধের বিচক্ষণতা নেই তার। কী আশ্চর্য! আমার চেয়ে যুদ্ধ-পারদর্শী ও রণভিজ্ঞ কে হতে পারে!
আল্লাহর শপথ! বিশ বছরেরও কম বয়সে যুদ্ধের মাঠে নেমেছি আর আজ ষাটের ওপর হলো আমার বয়স। কিন্তু যার প্রতি আনুগত্য নেই তার বিচক্ষণতা নিষ্ফল। তিনি তিনবার একথা বললেন। [আল-কামিল, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩০-৩১]
📄 হযরত আলী (রা)-এর শাহাদাত
আল্লামা ইব্ন কাছীর (র) বলেন, অবস্থা ও পরিস্থিতি হযরত আলী (রা)-এর প্রতিকূলে চলে গেলো এবং তাঁর সেনাবাহিনীও বিশৃঙ্খল হয়ে গেলো এবং ইরাকীরাও তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ শুরু করলো। এদিকে সিরীয়দেরও প্রতাপ বেড়ে গেলো। চতুর্দিকে প্রবল দাপটের সাথে তারা বিচরণ করতে লাগলো।
সে যা-ই হোক, ইরাকীদের আমীর আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা) কিন্তু তাঁর যুগে পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষ ছিলেন। শ্রেষ্ঠ আবিদ, শ্রেষ্ঠ সাধক, শ্রেষ্ঠ আলিম ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহভীরু ছিলেন। কিন্তু এসব কিছু সত্ত্বেও তারা তাঁকে পরিত্যাগ করলো এবং নিঃসঙ্গ রেখে চলে গেলো, এমন কি তিনি জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করতে লাগলেন। তিনি যথাক্রমে দাড়ি ও মাথার প্রতি ইঙ্গিত করে বলতেন, আল্লাহ্র শপথ! এটাকে এটা দ্বারা রঞ্জিত করা হবে (পরে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছিলো)। [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩২৪]
ঘটনা এই যে, আবদুর রহমান ইবন আমর ওরফে ইব্ন মুলজিম (প্রথমে হিমায়ারী ও পরবর্তীতে কিন্দী), বারক ইব্ন আবদুল্লাহ্ তামীমী ও আমর ইব্ন বকর তামীমী এই তিন খারিজী একত্রে বসে তাদের নাহরাওয়ানবাসী ভ্রাতাদের (যুদ্ধে) নিহত হওয়ার ঘটনা আলোচনা করলো এবং তাদের প্রতি রহমত কামনা করে বললো, আমরা যদি নিজেদের জীবন বাজি রেখে গোমরাহি ও ভ্রষ্টতার হোতাদের হত্যা করতে পারি তাহলে তাদের পাপ অস্তিত্ব থেকে দেশ মুক্তি পেতে পারে এবং আমাদের নিহত ভাইদের প্রতিশোধ গ্রহণও হতে পারে। তখন ইব্ন মুলজিম বললো, আমি আলী ইব্ন আবূ তালিবের জন্য যথেষ্ট। বারক বললো, আমি মু'আবিয়ার জন্য যথেষ্ট। আমর ইব্ন বকর বললো, আমি আমর ইব্ন আস-এর জন্য যথেষ্ট।
তারা এই মর্মে পরস্পর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো যে, তাদের কেউ তার প্রতিপক্ষকে নিস্তর দেবে না। হয় তাকে কতল করবে কিংবা নিজে কতল হবে। অতঃপর তারা নিজ নিজ তলোয়ার বিষমিশ্রিত করলো এবং এভাবে সময় নির্ধারণ করলো যে, রমযানের সতের তারিখ রাত্রে তাদের প্রত্যেকে তার প্রতিপক্ষ যে শহরে বসবাস করে সেখানে রাত যাপন করবে।
ইন্ন মুসলিম কুফায় গেলো, কিন্তু সে এমন কি তার খারিজী সাথীদের কাছেও আপন উদ্দেশ্য গোপন রাখলো। যখন রমযানের সতের তারিখ জুমুআর রাত হলো তখন সে আলী (রা) যে দরজা দিয়ে বের হন তার মুখোমুখি বসলো। আলী (রা) বের হয়ে 'আস-সালাত' 'আস-সালাত' বলে মানুষকে ঘুম থেকে সালাতের জন্য ওঠাতে লাগলেন। সেই মুহূর্তে ইন্ন মুলজিম তরবারি দ্বারা তাঁর মাথায় আঘাত করলো। ফলে রক্তে তাঁর দাড়ি ভেসে গেলো (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। আঘাত করে সে বলে উঠলো, বিধান প্রদানের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। হে আলী, তোমারও নয়, তোমার সাথীদেরও নয়।
হযরত আলী (রা) ডাক দিয়ে বললেন, ধরো তাকে। সঙ্গে সঙ্গে ইন্ন মুলজিমকে পাকড়াও করা হলো, হযরত আলী (রা) জা'দা ইব্ন্ন হোবায়রা ইন্ন আবু ওয়াহবকে আগে বাড়িয়ে দিলেন, তিনি ফজরের নামায পড়ালেন। হযরত আলী (রা)-কে তাঁর ঘরে তুলে আনা হলো। তিনি বললেন, আমার মৃত্যু হলে তাকে হত্যা করো, আর যদি বেঁচে থাকি তাহলে তাকে কি করবো তা আমিই ভালো বুঝবো। [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩২৮]
তাকে যখন হযরত আলী (রা)-এর সামনে পেশ করা হলো তখন তিনি বললেন, তাকে আটক করো। তবে বাঁধনটা আরামদায়ক করো। যদি বেঁচে থাকি তাহলে কিসাস গ্রহণ করবো কিংবা ক্ষমা প্রদর্শন সম্পর্কে আমি চিন্তা-ভাবনা করবো। আর যদি মৃত্যুবরণ করি তাহলে প্রাণের পরিবর্তে প্রাণ। তবে তার লাশ বিকৃত করো না।
হযরত হাসান-হুসায়ন (রা)-কে তিনি দীর্ঘ অসিয়ত করেছিলেন, অসিয়তের শেষ দিকে তিনি বলেছেন, "হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ! আমীরুল মু'মিনীন নিহত হয়েছেন, একথা বলে মুসলমানদের রক্তে ডুব দিও না। সাবধান, আমার বিনিময়ে আমার হত্যাকারী ছাড়া আর কাউকে যেন হত্যা করা না হয়! দেখো, আমি যদি তার এই আঘাতে মৃত্যুবরণ করি তাহলে তাকেও (অনুরূপ) একটি আঘাত করবে। তবে তার লাশ বিকৃত করো না।" কেননা আমি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছি,
اياكم والمثالة ولو بالكلب العقدر .
"এমন কি পাগলা কুকুরকেও মুসলাহ করার ব্যাপারে সাবধান থেকো।"
হযরত জুন্দুব ইব্ন আবদুল্লাহ্ (র) জিজ্ঞেস করলেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার মৃত্যু হলে আমরা কি হাসানের হাতে বায়'আত হবো? তিনি বললেন, আমি আদেশও করবো না, নিষেধও করবো না, তোমরাই ভালো বুঝবে। যখন মৃত্যুর হালত শুরু হলো তখন হযরত আলী (রা) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অধিক পরিমাণে উচ্চারণ করতে লাগলেন। এছাড়া অন্য কিছু উচ্চারণ করছিলেন না। কথিত আছে, তাঁর শেষ উচ্চারণ ছিলো এই আয়াত:
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ .
"যে কণা পরিমাণ নেক আমল করবে সে তা দেখতে পাবে আর যে কণা পরিমাণ মন্দ আমল করবে সে তাও দেখতে পাবে।" [সূরা যিলযাল: ৭-৮]
হযরত আলী (রা) আপন পুত্রদ্বয় হাসান ও হুসায়ন (রা)-কে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অবলম্বনের ও উত্তম আমলসমূহের অসিয়ত করলেন এবং গ্রন্থাকারে সম্পূর্ণ অসিয়তটি লিখিয়ে দিলেন।
ইব্ন মুলজিম বলেছে, আমি তাঁকে এমন আঘাত করেছিলাম যে, শহরের অধিবাসীদেরকে যদি এ আঘাত করা হতো তাহলে তারা সকলে মৃত্যুবরণ করতো। আল্লাহর শপথ! এক মাস যাবৎ আমি এ তরবারিতে বিষ মেখেছি। এক হাজার দিরহামে আমি ঐ তরবারি খরিদ করেছি এবং এক হাজার দিরহাম ব্যয় করে বিষ মিশ্রিত করেছি।
আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলী (রা) চল্লিশ হিজরীর ১৭ রামাযান সাহরীর সময় জুমার দিন শাহাদাত বরণ করেছেন। [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩০] বিশুদ্ধ বর্ণনামতে তাঁর বয়স হয়েছিলো তখন তেষট্টি বছর এবং তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিলো চার বছর নয় মাস। তাঁর পুত্র হযরত হাসান (রা) তাঁর জানাযা পড়িয়েছেন। খারিজীদের পক্ষ হতে তাঁর জানাযার অবমাননার আশংকায় কুফাস্থ আমীরের সরকারি বাসভবনে তাঁকে দাফন করা হয়েছিলো। [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩০- ৩৩১]
📄 হাদীস ও আছার-এর আলোকে হযরত আলী (রা)
এখানে আমরা আলী (রা) সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস ও আছার-এর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁর মহান ব্যক্তিত্বের কতিপয় গুণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে চাই।
📄 জাহিলিয়াত ও প্রতিমা পূজার চিহ্ন মুছে ফেলা
হযরত আলী (রা) হতে আবু মুহাম্মদ আল-হুযালী-এর সূত্রে বর্ণিত। হযরত আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এক জানাযায় ছিলেন। সে সময় তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কে আছে যে মদীনায় গিয়ে সব মূর্তি ভেঙ্গে ফেলবে এবং সব কবর মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে এবং সব ছবি নষ্ট করে ফেলবে?
আলী (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যাবো। তিনি বললেন, যাও, আলী (রা) গেলেন এবং ফিরে এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! মদীনায় কোন মূর্তি আমি না ভেঙ্গে রাখিনি এবং কোন কবর সমান না করে ছাড়িনি এবং কোন ছবি নষ্ট না করে ছাড়িনি।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, যে ব্যক্তি পুনরায় এ ধরনের কিছু করবে সে যেন মুহাম্মদ ﷺ -এর ওপর যা নাযিল হয়েছে তা অস্বীকার করলো। [মুসনাদে আহমাদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৮৭]
হযরত জারীর ইব্ন হিব্বান তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হযরত আলী (রা) তাঁকে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যে কাজে আমাকে পাঠিয়েছিলেন তোমাকে আমি সে কাজেই পাঠাচ্ছি। তিনি আমাকে সকল কবর সমান করে গুঁড়িয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। [প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-৮৯]
আবুল হায়াজ আল-আসাদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রা) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন এক কাজে পাঠাচ্ছি যে কাজে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে পাঠিয়েছিলেন। কোন মূর্তি তুমি আস্ত রাখবে না এবং কোন উঁচু কবর সমান না করে ছাড়বে না।