📄 খারিজী সম্প্রদায়
এ সম্প্রদায়ের স্বভাব প্রকৃতিতে স্থলবাদিতা, পরমতঅসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদিতা ও স্ববিরোধিতা এমন বিমূর্ত হয়ে উঠেছিলো যা ইসলামের ইতিহাসে অতুলনীয়। তারা আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে মানুষকে বিচারক সাব্যস্ত করার অভিযোগ এনে দলত্যাগ করেছিলো। আলী (রা) তাদের বিরুদ্ধে নাহরোয়ান যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং তাদের পরাজিত করেছিলেন। কিন্তু তাদের চিন্তা-দর্শন নির্মূল হয়নি। তারা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের সাহস ও শৌর্যবীর্যের অধিকারী কিন্তু অত্যন্ত স্থূল দৃষ্টিসম্পন্ন। খেজুর গাছের নীচে পড়ে থাকা একটি খেজুর খেতে তারা মালিকের অনুমতি নেয়ার বিষয়ে সতর্ক ছিলো, অথচ মুসলমানদের রক্তপাতের ব্যাপারে ছিলো দ্বিধাহীন। [আল-কামিল, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩৬]
📄 সাবাঈ সম্প্রদায়
সাবাঈ সম্প্রদায় হলো আবদুল্লাহ ইবন সাবা-এর অনুসারী। সে ছিল ইয়ামান দেশে জন্মগ্রহণকারী ইহূদী। সে 'প্রত্যাবর্তনবাদী' ধর্মমত প্রচার করেছিলো। ইয়ামনে এই সাবাঈ দলের উদ্ভব হয়েছিলো। আলী-প্রেম তাদের এতটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের ছিলো যে, তা ঐশ্বরিক পবিত্রতা আরোপের সীমা স্পর্শ করেছিলো। তারা হযরত আলীর ইমামতের অপরিহার্যতা এবং তাঁর নবুয়ত বা ইলাহিয়াত দাবি করে বসেছিলো। আলী (রা) তাদের একটি দলকে আগুনে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ইবনে সাবাকে মাদায়েনে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। [নাহজুল বালাগা]
📄 উম্মতের সম্ভাব্য দুর্যোগ মুহূর্তে হযরত আলী (রা)-এর আদর্শ
আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি অবস্থার জন্য তদুপযোগী বিধান প্রবর্তন করেছেন। আলী (রা)-এর মাধ্যমে বিদ্রোহ ও সংঘাতের সময় ইমামের ভূমিকা কী হবে তার বাস্তব দৃষ্টান্ত আল্লাহ্ উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন। শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ী সুফিয়ান ইব্ন উয়ায়নাহ (র) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূল ﷺ -কে চারটি তরবারি দ্বারা প্রেরণ করেছেন; চতুর্থ তরবারি দ্বারা আলী (রা) আনুগত্য বর্জনকারী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ইমাম আবূ হানীফা (রা) বলেন, হযরত আলী (রা)-এর বিরুদ্ধে যখন যারাই লড়াই করেছে, তিনি তাদের মুকাবিলায় অধিকতর হকের ওপর ছিলেন। তাঁর পদক্ষেপগুলো ছাড়া কেউ জানতে পারতো না যে, বিদ্রোহীদের সাথে কী রূপ আচরণ করতে হবে।