📄 খারিজীদের দলত্যাগ
সালিস-বিষয়ক পত্র শোনার পর বনী তামীম গোত্রের উরওয়া ইব্ন ওয়ায়না নামক এক ব্যক্তি বলে উঠলো, "আল্লাহর দীনের ব্যাপারে মানুষকে তোমরা বিচারক সাব্যস্ত করছো?" এখান থেকেই প্রথম দলত্যাগের সূচনা হয় যা খারিজী সম্প্রদায়ের জন্ম দেয়। তাদের স্লোগান ছিলো: لا حكم الا الله "আল্লাহ্ ছাড়া কারো বিধান প্রদানের অধিকার নেই।"
আলী (রা) কুফায় প্রত্যাবর্তন করলেন। শহরে প্রবেশের পূর্ব মুহূর্তে তাঁর বাহিনীর প্রায় বার হাজার সৈন্য দলত্যাগ করলো। তারা 'হারুরা' নামক এলাকায় জমায়েত হলো। এরপর তারা নাহরওয়ান অঞ্চলে সংঘবদ্ধ হলো। এদিকে সালিসদ্বয় দাওমাতুল জান্দাল এলাকায় বৈঠকে মিলিত হলেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন যে আলী ও মু'আবিয়া উভয়কে অপসারিত করে বিষয়টি মুসলমানদের পরামর্শের ওপর ন্যস্ত করবেন। কিন্তু জনসমক্ষে ঘোষণার সময় আমর ইবনুল আ'স (রা) চাতুর্য অবলম্বন করে মু'আবিয়াকে বহাল রাখার ঘোষণা দিলেন। এতে উভয় সালিসের মাঝে বাদানুবাদ হলো। অন্যদিকে খারিজীরা আবদুল্লাহ্ ইব্ন ওয়াহব রাসেদীর নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো। [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৮৭]
📄 হযরত আলী (রা)-এর সালিসী প্রস্তাব গ্রহণ ও তাঁর প্রতি খারিজীদের অবিচার
গবেষক আল আক্কাদ বলেন, সালিসী প্রস্তাব গ্রহণের 'অপরাধে' যারা আলী (রা)-এর সমালোচনায় মুখর হয়েছে, তারা আসলে ভুলে যান যে, আলী (রা) তাঁর সৈন্যবাহিনীর যুদ্ধ পরিত্যাগের মুখে এবং আপন শিবিরে সংঘর্ষের আশংকার মুখে অনন্যোপায় হয়েই তা মেনে নিয়েছিলেন। সমালোচক ঐতিহাসিকদের নিকট এর চেয়ে উত্তম কোন সমাধান কিন্তু ছিলো না। [আল-আবকারিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯২৫-৬]
📄 খারিজী ও সাবাঈ সম্প্রদায়
বস্তুত হযরত আলী (রা) এক মহাঅগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। একের পর এক অতি ভয়াবহ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুকাবিলা তাঁকে করতে হয়েছিলো। এর পেছনে যে হিকমত ও নিগূঢ় রহস্য নিহিত ছিলো তা আল্লাহ্ই অধিক জানেন। তবে যে অনন্যসাধারণ গুণ ও বৈশিষ্ট্য আল্লাহ্ তাঁকে দান করেছিলেন এবং মানবীয় প্রতিভার যে অভাবনীয় প্রকাশ তাঁর সুমহান ব্যক্তিত্বে ঘটেছিলো এ যেন ছিলো আল্লাহপ্রদত্ত সেই প্রতিভা-সম্পদের অবশ্যম্ভাবী 'যাকাত'।
📄 খারিজী সম্প্রদায়
এ সম্প্রদায়ের স্বভাব প্রকৃতিতে স্থলবাদিতা, পরমতঅসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদিতা ও স্ববিরোধিতা এমন বিমূর্ত হয়ে উঠেছিলো যা ইসলামের ইতিহাসে অতুলনীয়। তারা আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে মানুষকে বিচারক সাব্যস্ত করার অভিযোগ এনে দলত্যাগ করেছিলো। আলী (রা) তাদের বিরুদ্ধে নাহরোয়ান যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং তাদের পরাজিত করেছিলেন। কিন্তু তাদের চিন্তা-দর্শন নির্মূল হয়নি। তারা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের সাহস ও শৌর্যবীর্যের অধিকারী কিন্তু অত্যন্ত স্থূল দৃষ্টিসম্পন্ন। খেজুর গাছের নীচে পড়ে থাকা একটি খেজুর খেতে তারা মালিকের অনুমতি নেয়ার বিষয়ে সতর্ক ছিলো, অথচ মুসলমানদের রক্তপাতের ব্যাপারে ছিলো দ্বিধাহীন। [আল-কামিল, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩৬]