📘 হযরত আলী রাঃ জীবন ও খিলাফত 📄 কুরআন সংকলন

📄 কুরআন সংকলন


ধর্মত্যাগীদের দমনের সফল অভিযানগুলো ছাড়াও তাঁর যে অমর কীর্তি ইসলামের 'রূপ ও স্বরূপ' অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছে তা হলো কুরআন সংকলনের শুভ প্রচেষ্টায় তাঁর আত্মনিয়োগ, মুরতাদবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে¹ বহু হাফিযে কুরআনের শাহাদত বরণের প্রেক্ষিতে তিনি কুরআন সংকলন ও অনুলিপি প্রস্তুতকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। প্রসিদ্ধতম মতে তাঁর খিলাফতকালে এ মহাগুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিলো।

টিকাঃ
১. মুরতাদবিরোধী ইয়ামামা যুদ্ধে সত্তরজন (বা আরো বেশি) হাফিয সাহাবীর শাহাদত বরণের ঘটনায় ভীষণ বিচলিত হযরত উমর (রা) খলীফ আবূ বকর (রা)-কে কুরআন সংকলন ও অনুলিপি প্রস্তুতকরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে বিলুপ্তির আশংকা থেকে কুরআন নিরাপদ থাকে। কেননা পরবর্তীতেও ইয়ামামা- বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তির আশংকা ছিলো। কিন্তু আল্লাহর নবী যা করেন নি তাতে হাত দেয়া আবু বকর (রা)-এর কাছে ভয়ঙ্কর মনে হলো। তবে পরবর্তীতে আল্লাহ্ তা'আলা এ বিষয়ে তাঁর বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।

📘 হযরত আলী রাঃ জীবন ও খিলাফত 📄 সিদ্দীকে আকবরের ইন্তিকাল ও আলী (রা)-এর শোক প্রকাশ

📄 সিদ্দীকে আকবরের ইন্তিকাল ও আলী (রা)-এর শোক প্রকাশ


নবী ﷺ-এর ইন্তিকালের মাত্র দু'বছর পর প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর (রা)-এর ইন্তিকাল গোটা উম্মাহর জন্য ছিলো সবচেয়ে শোকাবহ ঘটনা। আর উম্মাহর এক নিবেদিতপ্রাণ সদস্য হিসেবে হযরত আলী (রা)-ও দারুণভাবে শোকাভিভূত হয়েছিলেন। সে সময় তিনি যে মর্মস্পর্শী ভাষায় তাঁর শোক প্রকাশ করেছিলেন তা এখানে তুলে ধরে আমরা আলোচ্য অধ্যায়ের ইতি টানছি।²

বর্ণনামতে ইন্তিকালের সংবাদ শুনে হযরত আলী (রা) ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়লেন এবং ক্রন্দনরত অবস্থায় ছুটে এলেন এবং অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ভাষায় শ্রদ্ধা নিবেদন করে বললেন,

"আবূ বকর! আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন, ইসলাম গ্রহণে আপনি ছিলেন সবার আগে। ঈমানের পূর্ণতায়, তাকওয়ার উচ্চতায় ও নবীর প্রতি সজাগ সতর্কতায় আপনি ছিলেন সবার ওপরে। সত্যনিষ্ঠায়, চরিত্রের পবিত্রতায় এবং ভাবগম্ভীরতা ও গুণ বিশিষ্টতায় আপনিই ছিলেন আল্লাহর নবীর নিকটতম এবং সবার মাঝে তাঁর আস্থাভাজন ও প্রিয়তম। সুতরাং ইসলামের পক্ষ হতে আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন, মানুষ যখন মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আপনি তখন সত্য বলে রাসূলকে গ্রহণ করেছিলেন। তাই আল্লাহ আপনাকে সিদ্দীক বলে উল্লেখ করেছেন।

وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ .
"যারা সত্য এনেছে এবং যারা সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে তারাই তো মুত্তাকী।" [সূরা যুমার: ৩৩]

সবাই যখন পিছিয়েছিলো এবং বসে পড়েছিলো আপনি তখন সান্ত্বনা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, কঠিন মুহূর্তে সবাই যখন সরে গিয়েছিলো আপনি তখন দরদী হয়ে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছিলেন। আর তা ছিলো দু'জনের দ্বিতীয় জন হিসেবে মহত্তম সঙ্গ। গারে ছাওরে আপনি তাঁর সঙ্গী এবং হিজরতের সাথী। সর্বোপরি আপনি ছিলেন তাঁর হৃদয়ের প্রশান্তি। উম্মতের মাঝে আপনি তাঁর সর্বোত্তম খলীফা হয়েছিলেন। আপনার সাথীদের দুর্বলতা ও ভেঙ্গে পড়ার মুখেও আপনি অনমনীয় দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছিলেন। যখন তারা হিমশিম খেয়ে থেমে গেছে তখন আপনি নিজ কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে দৃঢ় পদে এগিয়ে গিয়েছিলেন। যেমন দীর্ঘ নীরবতায় তেমনি বাকনৈপুণ্যে আপনি ছিলেন অনন্য। হিম্মতে ও মনোবলে অতুলনীয় এবং আখলাকে ও আমলে সবার অনুকরণীয়। আল্লাহ্র রাসূল যেমন বলেছেন, তুমি ছিলে শারীরিকভাবে দুর্বল কিন্তু আল্লাহ্র ব্যাপারে অতি সবল। নিজের চোখে নিজে তুচ্ছ কিন্তু আল্লাহর কাছে অতি উচ্চ। আসমানে ও যমীনে সবার প্রিয়। সুতরাং আমাদের পক্ষ হতে ও ইসলামের পক্ষ হতে আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

[আল-জাওহিরাহ ফী নাসাবিন নাবী ওয়া আসহাবিহিল আশারা, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১২৬]

টিকাঃ
২. আল মুহিত আততাবারী রচিত 'আর রিয়াদুন নাদরা' গ্রন্থে হযরত আলী (রা)-এর নামে একটি দীর্ঘ শোক ভাষণ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিকতা ও অতি দীর্ঘতার কারণে এর শাব্দিক হুবহুতা ও বর্ণনার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে 'প্রশ্ন' হতে পারে ভেবে 'আল জাওহিরাহ ফী নাসাবিন নাবী ওয়া আসহাবিহিল আশারা" গ্রন্থের বর্ণনা পেশ করেছি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px