📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ

📄 নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ


নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #১

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #১

اَللّٰهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লা-হুম্মা আ‘য়িযহু মিন আযা-বিল ক্বাবরি

হে আল্লাহ! এ শিশুকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব বলেন, আমি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে একটি শিশুর জানাযার সালাত আদায় করেছি, যে শিশু কখনও কোনো গুনাহ করে নি, তখন আমি তাকে (উপরোক্ত দো‘আটি) বলতে শুনলাম....। হাদীসটি ইমাম মালেক তার মুওয়াত্তা গ্রন্থে সংকলন করেন, ১/২৮৮; ইবন আবী শাইবাহ তার মুসান্নাফ গ্রন্থে, ৩/২১৭; বাইহাকী, ৪/৯। আর শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত শারহুস সুন্নাহ লিল বাগভীর তাহকীকে ৫/৩৫৭, এটার সনদকে সহীহ বলেছেন।

اَللّٰهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

হে আল্লাহ! এ শিশুকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব বলেন, আমি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে একটি শিশুর জানাযার সালাত আদায় করেছি, যে শিশু কখনও কোনো গুনাহ করে নি, তখন আমি তাকে (উপরোক্ত দো‘আটি) বলতে শুনলাম....। হাদীসটি ইমাম মালেক তার মুওয়াত্তা গ্রন্থে সংকলন করেন, ১/২৮৮; ইবন আবী শাইবাহ তার মুসান্নাফ গ্রন্থে, ৩/২১৭; বাইহাকী, ৪/৯। আর শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত শারহুস সুন্নাহ লিল বাগভীর তাহকীকে ৫/৩৫৭, এটার সনদকে সহীহ বলেছেন।

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #২

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #২

আর যদি নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়া হয় তবে তাও উত্তম:

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ فَرَطًا وَذُخْرًا لِوَالِدَيْهِ، وَشَفِيعًا مُجَابًا، اَللّٰهُمَّ ثَقِّلْ بِهِ مَوَازِيْنَهُمَا، وَأَعْظِمْ بِهِ أُجُوْرَهُمَا، وَأَلْحِقْهُ بِصَالِحِ الْمُؤْمِنِيْنَ، وَاجْعَلْهُ فِيْ كَفَالَةِ إِبْرَاهِيْمَ، وَقِهِ بِرَحْمَتِكَ عَذَابَ الْجَحِيْمِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ، اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِأَسْلاَفِنَا، وَأَفْرَاطِنَا، وَمَنْ سَبَقَنَا بِالْإِيْمَانِ

আল্লা-হুম্মাজ‘আলহু ফারাত্বান ওয়া যুখরান লিওয়লিদায়হি, ওয়াশাফী‘আন মুজাবান। আল্লা-হুম্মা সাক্কিল বিহী মাওয়াযীনাহুমা, ওয়াআ‘যিম বিহী উজূরাহুমা, ওয়া আলহিক্বহু বিসা-লিহিল মু’মিনীন, ওয়াজ‘আলহু ফী কাফা-লাতি ইবরাহীমা, ওয়াক্বিহি বিরাহমাতিকা ‘আযা-বাল জাহীম, ওয়া আবদিলহু দা-রান খাইরান মিন দা-রিহি, ওয়া আহলান খায়রান মিন আহলিহি, আল্লা-হুম্মাগফির লি’আসলাফিনা ওয়া আফরাত্বিনা ওয়া মান সাবাক্বানা বিল ঈমান।

হে আল্লাহ, তাকে তার পিতা-মাতার জন্য অগ্রগামী প্রতিনিধি বা সওয়াব ও সযত্নে গচ্ছিত সওয়াব হিসেবে কবুল করুন। আর তাকে এমন শাফা‘আতকারী বানান, যার শাফা‘আত কবুল হয়। হে আল্লাহ, এ শিশুর দ্বারা তার পিতা মাতার ওজনসমূহ আরও ভারী করে দিন। আর এর দ্বারা তাদের দু’জনের সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন। আর তাকে নেককারদের সঙ্গী-সাথী বানান এবং তাকে ইবরাহীম আলাইহিসসালামের যিম্মায় রাখুন। আর আপনার রহমতের অসীলায় তাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তাকে তার এ বাসস্থানের পরিবর্তে উত্তম বাসস্থান প্রদান করুন, এখানকার পরিবার-পরিজনের পরিবর্তে উত্তম পরিবার-পরিজন প্রদান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের পূর্ববর্তী নর-নারী ও নাবালক অগ্রগামী সন্তান-সন্ততিদের মাফ করুন এবং যারা ঈমান সহকারে আমাদের পূর্বে মারা গেছে তাদেরকেও।

রেফারেন্স: দেখুন, আল-মুগনী, লি ইবন কুদামা, ৩/৪১৬; আরও দেখুন, আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি ‘আম্মাতিল উম্মাহ, লিশ শাইখ আবদিল আযীয ইবন আব্দিল্লাহ ইবন বায, রাহেমাহুল্লাহ, পৃ. ১৫।

আর যদি নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়া হয় তবে তাও উত্তম:

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ فَرَطًا وَذُخْرًا لِوَالِدَيْهِ، وَشَفِيعًا مُجَابًا، اَللّٰهُمَّ ثَقِّلْ بِهِ مَوَازِيْنَهُمَا، وَأَعْظِمْ بِهِ أُجُوْرَهُمَا، وَأَلْحِقْهُ بِصَالِحِ الْمُؤْمِنِيْنَ، وَاجْعَلْهُ فِيْ كَفَالَةِ إِبْرَاهِيْمَ، وَقِهِ بِرَحْمَتِكَ عَذَابَ الْجَحِيْمِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ، اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِأَسْلاَفِنَا، وَأَفْرَاطِنَا، وَمَنْ سَبَقَنَا بِالْإِيْمَانِ

হে আল্লাহ, তাকে তার পিতা-মাতার জন্য অগ্রগামী প্রতিনিধি বা সওয়াব ও সযত্নে গচ্ছিত সওয়াব হিসেবে কবুল করুন। আর তাকে এমন শাফা‘আতকারী বানান, যার শাফা‘আত কবুল হয়। হে আল্লাহ, এ শিশুর দ্বারা তার পিতা মাতার ওজনসমূহ আরও ভারী করে দিন। আর এর দ্বারা তাদের দু’জনের সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন। আর তাকে নেককারদের সঙ্গী-সাথী বানান এবং তাকে ইবরাহীম আলাইহিসসালামের যিম্মায় রাখুন। আর আপনার রহমতের অসীলায় তাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তাকে তার এ বাসস্থানের পরিবর্তে উত্তম বাসস্থান প্রদান করুন, এখানকার পরিবার-পরিজনের পরিবর্তে উত্তম পরিবার-পরিজন প্রদান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের পূর্ববর্তী নর-নারী ও নাবালক অগ্রগামী সন্তান-সন্ততিদের মাফ করুন এবং যারা ঈমান সহকারে আমাদের পূর্বে মারা গেছে তাদেরকেও।

রেফারেন্স: দেখুন, আল-মুগনী, লি ইবন কুদামা, ৩/৪১৬; আরও দেখুন, আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি ‘আম্মাতিল উম্মাহ, লিশ শাইখ আবদিল আযীয ইবন আব্দিল্লাহ ইবন বায, রাহেমাহুল্লাহ, পৃ. ১৫।

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #৩

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #৩

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا، وَسَلَفًا، وَأَجْرًا

আল্লা-হুম্মাজ‘আলহু লানা ফারাত্বান ওয়া সালাফান ওয়া আজরান

হে আল্লাহ, আমাদের জন্য তাকে অগ্রগামী প্রতিনিধি, অগ্রিম পূণ্য এবং সওয়াব হিসেবে নির্ধারণ করে দিন।

রেফারেন্স: হাসান বসরী রাহেমাহুল্লাহ যখন ছোট শিশুদের জানাযা পড়তেন তখন তার উপর সূরা ফাতেহা পড়তেন এবং উপরোক্ত দো‘আ বলতেন। হাদীসটি ইমাম বাগভী তার শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৫৭ এ বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রায্‌যাক তার মুসান্নাফে, নং ৬৫ ৮৮। তাছাড়া ইমাম বুখারী, কিতাবুল জানায়েয এর, ৬৫, বাবু কিরাআতি ফাতিহাতিল কিতাব আলাল জানাযাত ২/১১৩; ১৩৩৫ নং হাদীসের পূর্বে এটাকে তা‘লীক বা সনদ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন।

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا، وَسَلَفًا، وَأَجْرًا

হে আল্লাহ, আমাদের জন্য তাকে অগ্রগামী প্রতিনিধি, অগ্রিম পূণ্য এবং সওয়াব হিসেবে নির্ধারণ করে দিন।

রেফারেন্স: হাসান বসরী রাহেমাহুল্লাহ যখন ছোট শিশুদের জানাযা পড়তেন তখন তার উপর সূরা ফাতেহা পড়তেন এবং উপরোক্ত দো‘আ বলতেন। হাদীসটি ইমাম বাগভী তার শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৫৭ এ বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রায্‌যাক তার মুসান্নাফে, নং ৬৫ ৮৮। তাছাড়া ইমাম বুখারী, কিতাবুল জানায়েয এর, ৬৫, বাবু কিরাআতি ফাতিহাতিল কিতাব আলাল জানাযাত ২/১১৩; ১৩৩৫ নং হাদীসের পূর্বে এটাকে তা‘লীক বা সনদ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন।

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 শোকার্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার দো‘আ

📄 শোকার্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার দো‘আ


শোকার্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার দো‘আ #১

শোকার্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার দো‘আ #১

إِنَّ لِلّٰهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ

ইন্না লিল্লা-হি মা আখাযা, ওয়ালাহু মা আ‘তা, ওয়া কুল্লু শাই’ইন ‘ইনদাহু বিআজালিম মুসাম্মা, ফালতাসবির ওয়াল তাহতাসিব

নিশ্চয় যা নিয়ে গেছেন আল্লাহ্‌ তা তাঁরই, আর যা কিছু প্রদান করেছেন তাও তাঁর। তাঁর কাছে সব কিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কাজেই সবর করা এবং সওয়াবের আশা করা উচিত।

রেফারেন্স: বুখারী, ২/৮০, নং ১২৮৪; মুসলিম, ২/৬৩৬, নং ৯২৩

উসামা ইবনু যাইদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর একজন কন্যা তাঁকে খবর পাঠান যে, আমার একটি পুত্র মৃত্যুপথযাত্রী, আপনি একটু আমার বাড়িতে আসুন। তখন তিনি এ কথাগুলো বলে তাঁকে ধৈর্য ধরতে এবং আল্লাহর কাছে সাওয়াব লাভের আকাঙ্খা রাখতে নসীহত করেন। আমরা বলেছি যে, যিকর, দুআ, ইসতিগফার, দরুদ, সালাম, অভিনন্দন, সান্ত্বনা ইত্যাদি বিষয়ে মুমিন যে কোনোভাষায় ও বাক্যে নিজের মনের আবেগ প্রকাশ করতে পারেন। তবে সাওয়াব ও বরকতের জন্য সুন্নাত বাক্য উত্তম।

إِنَّ لِلّٰهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ

নিশ্চয় যা নিয়ে গেছেন আল্লাহ্‌ তা তাঁরই, আর যা কিছু প্রদান করেছেন তাও তাঁর। তাঁর কাছে সব কিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কাজেই সবর করা এবং সওয়াবের আশা করা উচিত।

রেফারেন্স: বুখারী, ২/৮০, নং ১২৮৪; মুসলিম, ২/৬৩৬, নং ৯২৩

শোকার্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার দো‘আ #২

শোকার্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার দো‘আ #২

আর নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়াও ভালো,

أَعْظَمَ اللّٰهُ أَجْرَكَ، وَأَحْسَنَ عَزَاءَكَ، وَغَفَرَ لِمَيِّتِكَ

আ‘যামাল্লাহু আজরাকা, ওয়া আহসানা ‘আযা-’আকা, ওয়াগাফারা লিমাইয়্যিতিকা

আল্লাহ আপনার সওয়াব বর্ধিত করুন, আপনার (শোকার্ত মনে) সুন্দর ধৈর্য ধরার তাওফীক দিন, আর আপনার মৃতকে ক্ষমা করে দিন।

রেফারেন্স: আল-আযকার লিন নাওয়াওয়ী, পৃ. ১২৬।

আর নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়াও ভালো,

أَعْظَمَ اللّٰهُ أَجْرَكَ، وَأَحْسَنَ عَزَاءَكَ، وَغَفَرَ لِمَيِّتِكَ

আল্লাহ আপনার সওয়াব বর্ধিত করুন, আপনার (শোকার্ত মনে) সুন্দর ধৈর্য ধরার তাওফীক দিন, আর আপনার মৃতকে ক্ষমা করে দিন।

রেফারেন্স: আল-আযকার লিন নাওয়াওয়ী, পৃ. ১২৬।

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 মৃতকে কবরে প্রবেশ করানোর দো‘আ

📄 মৃতকে কবরে প্রবেশ করানোর দো‘আ


মৃতকে কবরে প্রবেশ করানোর দো‘আ

মৃতকে কবরে প্রবেশ করানোর দো‘আ

بِسْمِ اللّٰهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُوْلِ اللّٰهِ

বিসমিল্লা-হি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসুলিল্লা-হি

আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মে।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৩/৩১৪, নং ৩২১৫ সহীহ সনদে; অনুরূপভাবে আহমাদ, নং ৫২৩৪; আর ৪৮১২ এর শব্দ হচ্ছে, ‘বিসমিল্লাহ ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’ অর্থাৎ ‘আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহর মিল্লাতের উপর।’ তার সনদও বিশুদ্ধ।

بِسْمِ اللّٰهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُوْلِ اللّٰهِ

আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মে।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৩/৩১৪, নং ৩২১৫ সহীহ সনদে; অনুরূপভাবে আহমাদ, নং ৫২৩৪; আর ৪৮১২ এর শব্দ হচ্ছে, ‘বিসমিল্লাহ ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’ অর্থাৎ ‘আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহর মিল্লাতের উপর।’ তার সনদও বিশুদ্ধ।

মৃতকে কবরস্থ করার দুআ-২

মৃতকে কবরস্থ করার দুআ-২

সহীহ হাদীসে বর্ণিত যে, মৃতকে কবরস্থ করার পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য সুন্নাত তিন বার দু হাত ভরে মাটি কবরে ফেলা।

أَنَّ رَسُولَ اللّٰهِ (ﷺ ) صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ ثُمَّ أَتَى قَبْرَ الْمَيِّتِ فَحَثَى عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ ثَلَاثًا

রেফারেন্স: [১] হাদিসটি সহীহ। ইবন মাজাহ (৬-কিতাবুল জানাইয, ৪৪-বাব ... হাসবিত্তুরাব...) ১/৪৯৯ (ভারতীয় ২/১১২); বূসীরী, মিসবাহুয যুজাজাহ ২/৪১; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ৩/২০০।[২] আহমাদ, আল-মুসনাদ ৫/২৫৪; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ২/৪১১; বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৩/৪০৯; ইবনু হাজার, তালখীসুল হাবীর ২/৩০১; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৩/১৬০; আলবানী, আহকামুল জানাইয, পৃষ্ঠা ১৫৩; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ২৪৩

“রাসূলুল্লাহ (স) একটি জানাযার সালাত আদায় করলেন। এরপর মৃতের কবের গিয়ে তার মাথার দিক থেকে তার উপর তিনবার মাটি ফেললেন।”[১] মাাটি ফেলার সময় কোনো দুআ পাঠ করার কথা এ হাদীসে নেই। তবে আবূ উমামা (রা) থেকে অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্ণিত একটি হাদীসের বলা হয়েছে: “যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর কন্যা উম্মু কুলসূম (রা) কে কবরে রাখা হলো তখন তিনি বলেন: ‘মিনহা খালাক্কনা-কুম ওয়া ফীহা নূ‘য়ীদুকুম ও মিনহা- নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা-’ (মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়ে আনব এবং মাটি থেকেই পুনর্বার তোমাদের বের করব: সূরা ত্বাহা ৫৫ আয়াত)। তিনি এরপর বিসমিল্লাহি ওয়া আলা সাবীলিল্লাহ ও আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ (স) বলেছিলেন কিনা তা জানি না।” মুহাদ্দিসগণ একমত যে, হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল। কোনো কোনো মুহাদ্দিস হাদীসটি জাল বলে গণ্য করেছেন। কারণ, হাদীসটির বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ ইবন যাহর এবং তার উস্তাদ আলী ইবন ইয়াযীদ আলহানী উভয়েই অত্যন্ত দুর্বল রাবী এবং জাল হাদীস বর্ণনা করতেন বলে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এজন্য বাইহাকী, নববী, যাহাবী, ইবন হাজার আসকালানী, হাইসামী ও অন্যান্য সকল প্রাচীন ও সমকালীন মুহাদ্দিস হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বা জাল বলে গণ্য করেছেন। [২] উল্লেখ্য যে, এ দুর্বল হাদীসে বলা হয়েছে যে, এ আয়াতটি পূর্বের দুআটির (বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি..) পূর্বে পড়তে হবে। এ আয়াতটি মাটি ফেলার সময় পড়তে হবে, অথবা তিন বার মাটি ফেলার সময় আয়াতটিকে তিনভাগ করে পড়তে হবে বলে এ হাদীসের কোনোরূপ নির্দেশনা নেই।

সহীহ হাদীসে বর্ণিত যে, মৃতকে কবরস্থ করার পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য সুন্নাত তিন বার দু হাত ভরে মাটি কবরে ফেলা।

أَنَّ رَسُولَ اللّٰهِ (ﷺ ) صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ ثُمَّ أَتَى قَبْرَ الْمَيِّتِ فَحَثَى عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ ثَلَاثًا

রেফারেন্স: [১] হাদিসটি সহীহ। ইবন মাজাহ (৬-কিতাবুল জানাইয, ৪৪-বাব ... হাসবিত্তুরাব...) ১/৪৯৯ (ভারতীয় ২/১১২); বূসীরী, মিসবাহুয যুজাজাহ ২/৪১; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ৩/২০০।[২] আহমাদ, আল-মুসনাদ ৫/২৫৪; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ২/৪১১; বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৩/৪০৯; ইবনু হাজার, তালখীসুল হাবীর ২/৩০১; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৩/১৬০; আলবানী, আহকামুল জানাইয, পৃষ্ঠা ১৫৩; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ২৪৩

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 মৃতকে দাফন করার পর দো‘আ

📄 মৃতকে দাফন করার পর দো‘আ


মৃতকে দাফন করার পর দো‘আ

মৃতকে দাফন করার পর দো‘আ

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اَللّٰهُمَّ ثَبِّتْهُ

আল্লা-হুম্মাগফির লাহু, আল্লা-হুম্মা সাববিতহু

হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ্‌ আপনি তাকে (প্রশ্নোত্তরের সময়) স্থির রাখুন।

রেফারেন্স: আবু দাউদ ৩/৩১৫, নং ৩২২৩; হাকেম এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন, আর যাহাবী সমর্থন করেছেন, ১/৩৭০।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, ‘তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আর তার জন্য দৃঢ়তা চাও। কেননা এখনই তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে’।

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اَللّٰهُمَّ ثَبِّتْهُ

হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ্‌ আপনি তাকে (প্রশ্নোত্তরের সময়) স্থির রাখুন।

রেফারেন্স: আবু দাউদ ৩/৩১৫, নং ৩২২৩; হাকেম এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন, আর যাহাবী সমর্থন করেছেন, ১/৩৭০।

কবরস্থ করার পরের দুআ

কবরস্থ করার পরের দুআ

তাবিয়ী আব্দুর রাহমান ইবন শিমাসাহ মাহরী বলেন, সাহাবী আমর ইবনুল আস (রা) মৃত্যুর সময় আমাদেরকে বলেন, আমাকে কবরস্থ করা হয়ে গেল একটি উট জবাই করে গোশত বণ্টন করতে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় তোমরা আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে; যেন আমি তোমাদের উপস্থিতি দ্বারা আমার নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারি এবং আমি আমার রবের দূতদের প্রশ্নের কি উত্তর দিব তা ভেবে দেখতে পারি। [১] এ থেকে জানা যায় যে, দাফনের পরে কিছু সময় কবরের পাশে অবস্থান করা ভাল; যেন মৃতব্যক্তি ফিরিশতাদের প্রশ্নের উত্তর দানে মনের জোর পান। অন্য হাদীসে উসমান ইবন আফ্ফান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ স যখন মৃতব্যক্তিকে কবরস্থ করা শেষ করতেন তখন তিনি কবরের উপর দাঁড়াতেন এবং বলতেন: “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও এবং তার ঈমানী দৃঢ়তা স্থিরতার জন্য দুআ কর।” হাদীসটি সহীহ। [২] এ হাদীসের নির্দেশনা অনুসারে মুমিন যে কোনো ভাষায় ও বাক্যে কবরস্থ ব্যক্তির মাগফিরাত ও ফিরিশতাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদানে তার স্থিরতার জন্য দুআ করতে পারেন। যেমন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তার জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দিন... ইত্যাদি। যেহেতু এখানে কোনো বাক্য রাসূলুল্লাহ স নিজ মুখে শিখিয়ে দেন নি সেহেতু এখানে কোনো বাক্য নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। দাফনের পরে কবরস্থ মৃতব্যক্তিকে ডেকে তাকে তাকে ঈমান, কালিমা ইত্যাদি বিষয় স্মরণ করানোর বিষয়ে একটি হাদীস বর্ণিত। এ হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্ণিত। ইমাম নববী, ইবনুল কাইয়িম, ইমাম ইরাকী, হাইসামী, ইবন হাজার আসকালানী, সাখাবী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস সকলেই হাদীসটিকে দুর্বল বা অত্যন্ত দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন [৩]। মুমিনের উচিত এরূপ দুর্বল হাদীসের উপর ভিত্তি করে কোনো কর্ম সমাজে প্রচলন না করা, বরং উপরের সহীহ হাদীস নির্দেশিত দুআর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

-

রেফারেন্স: [১] মুসলিম (১-কিতাবুল ইমান, ৫৪-ইসলাম ইযাহদিমু মা কাবলাহু...) ১/১১২-১১৩ (ভারতীয় ১/৭৬)। [২] আবূ দাউদ (কিতাবুল জানাইয, বাবুল ইসতিগফার ইন্দাল কাবর) ৩/২১৩ (ভারতীয় ২/২৪৫৯); আলবানী, আহকামুল জানাইয, পৃষ্ঠা ১৫৫। [৩] ইরাকী, তাখরীজু আহাদীসিল ইহইয়া ৯/৪০৮; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৩/১৬৩; সাখাবী, আল-মাকাসিদুল হাসানা, পৃষ্ঠা ২৬৫।

তাবিয়ী আব্দুর রাহমান ইবন শিমাসাহ মাহরী বলেন, সাহাবী আমর ইবনুল আস (রা) মৃত্যুর সময় আমাদেরকে বলেন, আমাকে কবরস্থ করা হয়ে গেল একটি উট জবাই করে গোশত বণ্টন করতে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় তোমরা আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে; যেন আমি তোমাদের উপস্থিতি দ্বারা আমার নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারি এবং আমি আমার রবের দূতদের প্রশ্নের কি উত্তর দিব তা ভেবে দেখতে পারি। [১] এ থেকে জানা যায় যে, দাফনের পরে কিছু সময় কবরের পাশে অবস্থান করা ভাল; যেন মৃতব্যক্তি ফিরিশতাদের প্রশ্নের উত্তর দানে মনের জোর পান। অন্য হাদীসে উসমান ইবন আফ্ফান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ স যখন মৃতব্যক্তিকে কবরস্থ করা শেষ করতেন তখন তিনি কবরের উপর দাঁড়াতেন এবং বলতেন: “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও এবং তার ঈমানী দৃঢ়তা স্থিরতার জন্য দুআ কর।” হাদীসটি সহীহ। [২] এ হাদীসের নির্দেশনা অনুসারে মুমিন যে কোনো ভাষায় ও বাক্যে কবরস্থ ব্যক্তির মাগফিরাত ও ফিরিশতাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদানে তার স্থিরতার জন্য দুআ করতে পারেন। যেমন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তার জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দিন... ইত্যাদি। যেহেতু এখানে কোনো বাক্য রাসূলুল্লাহ স নিজ মুখে শিখিয়ে দেন নি সেহেতু এখানে কোনো বাক্য নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। দাফনের পরে কবরস্থ মৃতব্যক্তিকে ডেকে তাকে তাকে ঈমান, কালিমা ইত্যাদি বিষয় স্মরণ করানোর বিষয়ে একটি হাদীস বর্ণিত। এ হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্ণিত। ইমাম নববী, ইবনুল কাইয়িম, ইমাম ইরাকী, হাইসামী, ইবন হাজার আসকালানী, সাখাবী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস সকলেই হাদীসটিকে দুর্বল বা অত্যন্ত দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন [৩]। মুমিনের উচিত এরূপ দুর্বল হাদীসের উপর ভিত্তি করে কোনো কর্ম সমাজে প্রচলন না করা, বরং উপরের সহীহ হাদীস নির্দেশিত দুআর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

-

রেফারেন্স: [১] মুসলিম (১-কিতাবুল ইমান, ৫৪-ইসলাম ইযাহদিমু মা কাবলাহু...) ১/১১২-১১৩ (ভারতীয় ১/৭৬)। [২] আবূ দাউদ (কিতাবুল জানাইয, বাবুল ইসতিগফার ইন্দাল কাবর) ৩/২১৩ (ভারতীয় ২/২৪৫৯); আলবানী, আহকামুল জানাইয, পৃষ্ঠা ১৫৫। [৩] ইরাকী, তাখরীজু আহাদীসিল ইহইয়া ৯/৪০৮; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৩/১৬৩; সাখাবী, আল-মাকাসিদুল হাসানা, পৃষ্ঠা ২৬৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية