📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ

📄 নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ


নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #১

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #১

اَللّٰهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লা-হুম্মা আ‘য়িযহু মিন আযা-বিল ক্বাবরি

হে আল্লাহ! এ শিশুকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব বলেন, আমি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে একটি শিশুর জানাযার সালাত আদায় করেছি, যে শিশু কখনও কোনো গুনাহ করে নি, তখন আমি তাকে (উপরোক্ত দো‘আটি) বলতে শুনলাম....। হাদীসটি ইমাম মালেক তার মুওয়াত্তা গ্রন্থে সংকলন করেন, ১/২৮৮; ইবন আবী শাইবাহ তার মুসান্নাফ গ্রন্থে, ৩/২১৭; বাইহাকী, ৪/৯। আর শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত শারহুস সুন্নাহ লিল বাগভীর তাহকীকে ৫/৩৫৭, এটার সনদকে সহীহ বলেছেন।

اَللّٰهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

হে আল্লাহ! এ শিশুকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব বলেন, আমি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে একটি শিশুর জানাযার সালাত আদায় করেছি, যে শিশু কখনও কোনো গুনাহ করে নি, তখন আমি তাকে (উপরোক্ত দো‘আটি) বলতে শুনলাম....। হাদীসটি ইমাম মালেক তার মুওয়াত্তা গ্রন্থে সংকলন করেন, ১/২৮৮; ইবন আবী শাইবাহ তার মুসান্নাফ গ্রন্থে, ৩/২১৭; বাইহাকী, ৪/৯। আর শাইখ শু‘আইব আল-আরনাউত শারহুস সুন্নাহ লিল বাগভীর তাহকীকে ৫/৩৫৭, এটার সনদকে সহীহ বলেছেন।

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #২

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #২

আর যদি নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়া হয় তবে তাও উত্তম:

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ فَرَطًا وَذُخْرًا لِوَالِدَيْهِ، وَشَفِيعًا مُجَابًا، اَللّٰهُمَّ ثَقِّلْ بِهِ مَوَازِيْنَهُمَا، وَأَعْظِمْ بِهِ أُجُوْرَهُمَا، وَأَلْحِقْهُ بِصَالِحِ الْمُؤْمِنِيْنَ، وَاجْعَلْهُ فِيْ كَفَالَةِ إِبْرَاهِيْمَ، وَقِهِ بِرَحْمَتِكَ عَذَابَ الْجَحِيْمِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ، اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِأَسْلاَفِنَا، وَأَفْرَاطِنَا، وَمَنْ سَبَقَنَا بِالْإِيْمَانِ

আল্লা-হুম্মাজ‘আলহু ফারাত্বান ওয়া যুখরান লিওয়লিদায়হি, ওয়াশাফী‘আন মুজাবান। আল্লা-হুম্মা সাক্কিল বিহী মাওয়াযীনাহুমা, ওয়াআ‘যিম বিহী উজূরাহুমা, ওয়া আলহিক্বহু বিসা-লিহিল মু’মিনীন, ওয়াজ‘আলহু ফী কাফা-লাতি ইবরাহীমা, ওয়াক্বিহি বিরাহমাতিকা ‘আযা-বাল জাহীম, ওয়া আবদিলহু দা-রান খাইরান মিন দা-রিহি, ওয়া আহলান খায়রান মিন আহলিহি, আল্লা-হুম্মাগফির লি’আসলাফিনা ওয়া আফরাত্বিনা ওয়া মান সাবাক্বানা বিল ঈমান।

হে আল্লাহ, তাকে তার পিতা-মাতার জন্য অগ্রগামী প্রতিনিধি বা সওয়াব ও সযত্নে গচ্ছিত সওয়াব হিসেবে কবুল করুন। আর তাকে এমন শাফা‘আতকারী বানান, যার শাফা‘আত কবুল হয়। হে আল্লাহ, এ শিশুর দ্বারা তার পিতা মাতার ওজনসমূহ আরও ভারী করে দিন। আর এর দ্বারা তাদের দু’জনের সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন। আর তাকে নেককারদের সঙ্গী-সাথী বানান এবং তাকে ইবরাহীম আলাইহিসসালামের যিম্মায় রাখুন। আর আপনার রহমতের অসীলায় তাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তাকে তার এ বাসস্থানের পরিবর্তে উত্তম বাসস্থান প্রদান করুন, এখানকার পরিবার-পরিজনের পরিবর্তে উত্তম পরিবার-পরিজন প্রদান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের পূর্ববর্তী নর-নারী ও নাবালক অগ্রগামী সন্তান-সন্ততিদের মাফ করুন এবং যারা ঈমান সহকারে আমাদের পূর্বে মারা গেছে তাদেরকেও।

রেফারেন্স: দেখুন, আল-মুগনী, লি ইবন কুদামা, ৩/৪১৬; আরও দেখুন, আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি ‘আম্মাতিল উম্মাহ, লিশ শাইখ আবদিল আযীয ইবন আব্দিল্লাহ ইবন বায, রাহেমাহুল্লাহ, পৃ. ১৫।

আর যদি নিম্নোক্ত দো‘আটি পড়া হয় তবে তাও উত্তম:

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ فَرَطًا وَذُخْرًا لِوَالِدَيْهِ، وَشَفِيعًا مُجَابًا، اَللّٰهُمَّ ثَقِّلْ بِهِ مَوَازِيْنَهُمَا، وَأَعْظِمْ بِهِ أُجُوْرَهُمَا، وَأَلْحِقْهُ بِصَالِحِ الْمُؤْمِنِيْنَ، وَاجْعَلْهُ فِيْ كَفَالَةِ إِبْرَاهِيْمَ، وَقِهِ بِرَحْمَتِكَ عَذَابَ الْجَحِيْمِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ، اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِأَسْلاَفِنَا، وَأَفْرَاطِنَا، وَمَنْ سَبَقَنَا بِالْإِيْمَانِ

হে আল্লাহ, তাকে তার পিতা-মাতার জন্য অগ্রগামী প্রতিনিধি বা সওয়াব ও সযত্নে গচ্ছিত সওয়াব হিসেবে কবুল করুন। আর তাকে এমন শাফা‘আতকারী বানান, যার শাফা‘আত কবুল হয়। হে আল্লাহ, এ শিশুর দ্বারা তার পিতা মাতার ওজনসমূহ আরও ভারী করে দিন। আর এর দ্বারা তাদের দু’জনের সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন। আর তাকে নেককারদের সঙ্গী-সাথী বানান এবং তাকে ইবরাহীম আলাইহিসসালামের যিম্মায় রাখুন। আর আপনার রহমতের অসীলায় তাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। তাকে তার এ বাসস্থানের পরিবর্তে উত্তম বাসস্থান প্রদান করুন, এখানকার পরিবার-পরিজনের পরিবর্তে উত্তম পরিবার-পরিজন প্রদান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের পূর্ববর্তী নর-নারী ও নাবালক অগ্রগামী সন্তান-সন্ততিদের মাফ করুন এবং যারা ঈমান সহকারে আমাদের পূর্বে মারা গেছে তাদেরকেও।

রেফারেন্স: দেখুন, আল-মুগনী, লি ইবন কুদামা, ৩/৪১৬; আরও দেখুন, আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি ‘আম্মাতিল উম্মাহ, লিশ শাইখ আবদিল আযীয ইবন আব্দিল্লাহ ইবন বায, রাহেমাহুল্লাহ, পৃ. ১৫।

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #৩

নাবালক শিশুদের জন্য জানাযার সালাতে দো‘আ #৩

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا، وَسَلَفًا، وَأَجْرًا

আল্লা-হুম্মাজ‘আলহু লানা ফারাত্বান ওয়া সালাফান ওয়া আজরান

হে আল্লাহ, আমাদের জন্য তাকে অগ্রগামী প্রতিনিধি, অগ্রিম পূণ্য এবং সওয়াব হিসেবে নির্ধারণ করে দিন।

রেফারেন্স: হাসান বসরী রাহেমাহুল্লাহ যখন ছোট শিশুদের জানাযা পড়তেন তখন তার উপর সূরা ফাতেহা পড়তেন এবং উপরোক্ত দো‘আ বলতেন। হাদীসটি ইমাম বাগভী তার শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৫৭ এ বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রায্‌যাক তার মুসান্নাফে, নং ৬৫ ৮৮। তাছাড়া ইমাম বুখারী, কিতাবুল জানায়েয এর, ৬৫, বাবু কিরাআতি ফাতিহাতিল কিতাব আলাল জানাযাত ২/১১৩; ১৩৩৫ নং হাদীসের পূর্বে এটাকে তা‘লীক বা সনদ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন।

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا، وَسَلَفًا، وَأَجْرًا

হে আল্লাহ, আমাদের জন্য তাকে অগ্রগামী প্রতিনিধি, অগ্রিম পূণ্য এবং সওয়াব হিসেবে নির্ধারণ করে দিন।

রেফারেন্স: হাসান বসরী রাহেমাহুল্লাহ যখন ছোট শিশুদের জানাযা পড়তেন তখন তার উপর সূরা ফাতেহা পড়তেন এবং উপরোক্ত দো‘আ বলতেন। হাদীসটি ইমাম বাগভী তার শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৫৭ এ বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রায্‌যাক তার মুসান্নাফে, নং ৬৫ ৮৮। তাছাড়া ইমাম বুখারী, কিতাবুল জানায়েয এর, ৬৫, বাবু কিরাআতি ফাতিহাতিল কিতাব আলাল জানাযাত ২/১১৩; ১৩৩৫ নং হাদীসের পূর্বে এটাকে তা‘লীক বা সনদ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন।

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 সালাত পাঠের গুরুত্ব ও ফযীলত

📄 সালাত পাঠের গুরুত্ব ও ফযীলত


মাসনূন সালাত #১

মাসনূন সালাত #১

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَی مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلَی الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمِاتِ

আল্লা-হুম্মা সাল্লি- ‘আলা- মুহাম্মাদিন, ‘আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, ওয়া সাল্লি- ‘আলাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-ত, ওয়াল মুসলিমীন ওয়াল মুসলিমা-ত।

হে আল্লাহ, আপনি সালাত প্রেরণ করুন আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর, এবং সালাত প্রেরণ করুন সকল মুমিন পুরুষ, মুমিন নারী, মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর উপর।

রেফারেন্স: আলবানী, যয়ীফুল আদাবিল মুফরাদ ৬৩ পৃ. নং ১০০/৬৪০, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী, পৃ. ১২৭; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩০

আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : “কোনো মুসলিমের কাছে যদি দান করার কিছুই না থাকে তবে তার উচিত দু‘আর মধ্যে এ কথাগুলো (সালাতটি) বলা; তাহলে এ সালাত তাঁর জন্য যাকাত স্বরূপ গণ্য হবে (সে দান করার সাওয়াব অর্জন করবে)।” হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও, তা অনুধাবনযোগ্য এবং সাখাবী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَی مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلَی الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمِاتِ

হে আল্লাহ, আপনি সালাত প্রেরণ করুন আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর, এবং সালাত প্রেরণ করুন সকল মুমিন পুরুষ, মুমিন নারী, মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর উপর।

রেফারেন্স: আলবানী, যয়ীফুল আদাবিল মুফরাদ ৬৩ পৃ. নং ১০০/৬৪০, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী, পৃ. ১২৭; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩০

মাসনূন সালাত #২

মাসনূন সালাত #২

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَی مُحَمَّدٍ وَأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

আল¬া-হুম্মা, স্বালি¬ ‘আলা- মুহাম্মাদিন, ওয়া আনযিলহুল মাক্ব‘আদাল মুর্ক্বারাবা ‘ইনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ।

হে আল্লাহ মুহাম্মাদের উপর সালাত (দরুদ) প্রেরণ করুন এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত অবস্থানে অবতীর্ণ করুন।

রেফারেন্স: [১] মুসনাদে আহমাদ ২/৩৫২, তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর ৫/২৫-২৬; আল-মু'জামুল আউসাত ৩/৪৫৬, নং ৩২৯৭, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১৬৩; মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৫০২-৫০৩ [২] তিরমিযী ২/৩৫৪, নং ৪৮৪ (ভা ১/১১০); সাখাবী , আল-কাউলুল বাদী, পৃ. ১৩০-১৩১; আলবানী, সহীহুত তারগীব ২/১৩৬ [৩] ইবনুল কাইয়েম, জালাউল আউহাম, পৃ. ৩০, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী পৃ. ১২৬ [৪] ইবনুল কাইয়েম, জালাউল আউহাম, পৃ. ২৩৫, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী পৃ. ১২৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩১

রুআইফি বিন সাবিত আনসারী (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: “যে ব্যক্তি উপরের কথাগুলো (সালাতটি) বলবে, তার জন্য আমার শাফায়াত পাওনা হবে।” হাদীসটির সনদে একজন দুর্বল রাবী রয়েছেন, তবে আল্লামা হায়সামী ও মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন। [১] অন্য হাদীসে ইবনু মাস’ঊদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: “কিয়ামতের দিন মানুষদের মধ্য থেকে সে ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী (আমার শাফায়তের সবচেয়ে বেশি হকদার) হবে, যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করে।” হাদীসটি হাসান। [২] অন্য একটি দুর্বল সনদের হাদীসে বলা হয়েছে : “যদি কেউ দিনে ১ হাজার বার আমার উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করে তাহলে জান্নাতে তাঁর অবস্থান স্থল না দেখে তাঁর মৃত্যু হবে না (মৃত্যুর পূর্বেই তার জান্নাতের ঘর দেখার সৌভাগ্য হবে)।” হাদীসটির সনদ দুর্বল। [৩] অন্য হাদীসে সামুরা বিন জুনদুব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ব বলেছেন: “আমি গত রাতে একটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম (তাঁর স্বপ্নও ওহী), আমি দেখলাম আমার উম্মতের এক ব্যক্তি পুল-সিরাতের উপর বুকে হেটে চলেছে, কখনো বা হামাগুড়ি দিচ্ছে, কখনো বা ঝুলে পড়ছে, এমতাবস্থায় আমার উপর পাঠকৃত তার সালাত এসে তাকে সোজাভাবে সিরাতের উপর সোজা দু’পায়ে দাঁড় করিয়ে দিল এবং তাকে উদ্ধার করল।” ইবনুল কাইয়েম ও সাখাবীর আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও তা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বা আলোচনাযোগ্য। [৪]

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَی مُحَمَّدٍ وَأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

হে আল্লাহ মুহাম্মাদের উপর সালাত (দরুদ) প্রেরণ করুন এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত অবস্থানে অবতীর্ণ করুন।

রেফারেন্স: [১] মুসনাদে আহমাদ ২/৩৫২, তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর ৫/২৫-২৬; আল-মু'জামুল আউসাত ৩/৪৫৬, নং ৩২৯৭, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১৬৩; মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৫০২-৫০৩ [২] তিরমিযী ২/৩৫৪, নং ৪৮৪ (ভা ১/১১০); সাখাবী , আল-কাউলুল বাদী, পৃ. ১৩০-১৩১; আলবানী, সহীহুত তারগীব ২/১৩৬ [৩] ইবনুল কাইয়েম, জালাউল আউহাম, পৃ. ৩০, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী পৃ. ১২৬ [৪] ইবনুল কাইয়েম, জালাউল আউহাম, পৃ. ২৩৫, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী পৃ. ১২৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩১

মাসনূন সালাত #৩

মাসনূন সালাত #৩

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَی مُحَمَّدٍ عَبْدِك وَنَبِيِّك وَرَسُوْلِكَ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ

আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি- ‘আলা- মু‘হাম্মাদিন ‘আব্দিকা ওয়া নাবিয়্যিকা ওয়া রাসূলিকান নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি।

হে আল্লাহ, আপনি সালাত দিন মুহাম্মাদের উপরে আপনার বান্দা এবং আপনার নবীএবং আপনার রাসূল উম্মী নবী।

রেফারেন্স: খতীব, বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৪৮৯; ইবনুল জাওযী, আল-ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ ১/৪৬৪; ইরাকী, তাখরীজ আহাদীসি ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, ২/৪৯; ইবনু আররাক, তানযীহুশ শারীয়াহ ২/৪০৬; আজালূনী, কাশফুল খাফা ১/১৬৭; আলবানী, যায়ীফাহ ১/৩৮২; ৮/২৭৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩২

আবূ হুরাইরা (রা) থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: যদি কেউ শুক্রবারে আমার উপর আশি বার সালাত পাঠ করে তবে তার আশি বছরের পাপ ক্ষমা করা হবে। আমি বললাম: কিভাবে আপনার উপর সালাত পাঠ করতে হবে? তিনি বলেন... উপরের সালাতটি। হাদীসটি খতীব বাগদাদী ওয়াহব ইবনু দাঊদ নামক এক ব্যক্তির সূত্রে উদ্ধৃত করে বলেন, লোকটি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল এবং আলবানী হাদীসটিকে জাল বলে গণ্য করেছেন। এ অর্থে আরেকটি হাদীস দারাকুতনী সংকলন করেছেন। দারাকুতনীর হাদীসে জুমুআর দিনে আশি বার সালাত পাঠে আশি বছরের পাপ ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, তবে এ হাদীসে সালাতের বাক্যটি নেই। দারাকুতনীর হাদীসটিকে ইমাম ইরাকী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস হাসান বলে গণ্য করেছেন। অন্যরা একে যয়ীফ বা দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো গ্রন্থে এ সালাতের শেষে (وسَلِّم تَسْلِيْماً كَثٍيْراً) ‘ওয়া সাল্লি-ম তাসলীমান কাসীরান..’ সংযোজিত। এ অতিরিক্ত সংযোজিত বাক্যটির কোনো সনদ আমি খুঁজে পাই নি।

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَی مُحَمَّدٍ عَبْدِك وَنَبِيِّك وَرَسُوْلِكَ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ

হে আল্লাহ, আপনি সালাত দিন মুহাম্মাদের উপরে আপনার বান্দা এবং আপনার নবীএবং আপনার রাসূল উম্মী নবী।

রেফারেন্স: খতীব, বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৪৮৯; ইবনুল জাওযী, আল-ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ ১/৪৬৪; ইরাকী, তাখরীজ আহাদীসি ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, ২/৪৯; ইবনু আররাক, তানযীহুশ শারীয়াহ ২/৪০৬; আজালূনী, কাশফুল খাফা ১/১৬৭; আলবানী, যায়ীফাহ ১/৩৮২; ৮/২৭৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩২

ফন্ট সাইজ
15px
17px