📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 মসজিদে যাওয়ার সময়ে পড়ার দো‘আ

📄 মসজিদে যাওয়ার সময়ে পড়ার দো‘আ


মসজিদে যাওয়ার সময়ে পড়ার দো‘আ

মসজিদে যাওয়ার সময়ে পড়ার দো‘আ

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِيْ قَلْبِيْ نُوْرًا، وَفِيْ لِسَانِيْ نُوْرًا، وَفِيْ سَمْعِيْ نُوْرًا، وَفِيْ بَصَرِي نُوْرًا، وَمِنْ فَوْقِيْ نُوْرًا، وَمِنْ تَحْتِيْ نُوْرًا، وَعَنْ يَمِيْنِيْ نُوْرًا، وَعَنْ شِمَالِيْ نُوْرًا، وَمِنْ أَمَامِيْ نُوْرًا، وَمِنْ خَلْفِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ نَفْسِيْ نُوْرًا، وَأَعْظِمْ لِيْ نُوْرًا، وَعَظِّمْ لِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ لِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْنِيْ نُوْرًا، اَللّٰهُمَّ أَعْطِنِي نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ عَصَبِيْ نُوْرًا، وَفِيْ لَحْمِيْ نُوْرًا، وَفِيْ دَمِيْ نُوْرًا، وَفِيْ شَعْرِيْ نُوْرًا، وَفِيْ بَشَرِيْ نُوْرًا

আল্লা-হুম্মাজ‘আল ফী ক্বালবী নূরান, ওয়া ফী লিসানী নূরান, ওয়া ফী সাম্‘য়ী নূরান, ওয়া ফী বাসারী নূরান, ওয়া মিন ফাওকী নূরান, ওয়া মিন তাহ্‌তী নূরান, ওয়া ‘আন ইয়ামীনী নূরান, ওয়া ‘আন শিমালী নূরান, ওয়া মিন আমামী নূরান, ওয়া মিন খলফী নূরান, ওয়াজ‘আল ফী নাফ্‌সী নূরান, ওয়া আ‘যিম লী নূরান, ওয়া ‘আয্‌যিম লী নূরান, ওয়াজ‘আল্ লী নূরান, ওয়াজ‘আলনী নূরান; আল্লা-হুম্মা আ‘তিনী নূরান, ওয়াজ‘আল ফী ‘আসাবী নূরান, ওয়া ফী লাহ্‌মী নূরান, ওয়া ফী দামী নূরান, ওয়া ফী শা‘রী নূরান, ওয়া ফী বাশারী নূরান।

হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর (বা আলো) দান করুন, আমার যবানে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার দর্শনশক্তিতে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নীচে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার আত্মায় নূর দান করুন, আমার জন্য নূরকে বড় করে দিন, আমার জন্য নূর বাড়িয়ে দিন, আমার জন্য নূর নির্ধারণ করুন, আমাকে আলোকময় করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন, আমার পেশীতে নূর প্রদান করুন, আমার গোশ্‌তে নূর দান করুন, আমার রক্তে নূর দান করুন, আমার চুলে নূর দান করুন ও আমার চামড়ায় নূর দান করুন। [১]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
اجْعَلْ - (দান) করুন
فِيْ - মধ্যে
قَلْبِيْ - আমার অন্তরের
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَفِيْ - এবং মধ্যে
لِسَانِيْ - আমার জিহ্বায়/যবানে
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَفِيْ - এবং মধ্যে
سَمْعِيْ - আমার শ্রবণশক্তির
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَفِيْ - এবং মধ্যে
بَصَرِي - আমার দর্শনশক্তির
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَمِنْ - এবং হতে
فَوْقِيْ - আমার উপর
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَمِنْ - হতে এবং
تَحْتِيْ - আমার নীচে
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَعَنْ - এবং দিকে
يَمِيْنِيْ - আমার ডানের
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَعَنْ - এবং দিকে
شِمَالِيْ - আমার বামের
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَمِنْ - এবং হতে
أَمَامِيْ - আমার সামনে
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَمِنْ - এবং হতে
خَلْفِيْ - আমার পিছনে
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَاجْعَلْ - (দান) করুন এবং
فِيْ - মধ্যে
نَفْسِيْ - আমার আত্মার
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَأَعْظِمْ - এবং বিবর্ধিত করেদিন
لِيْ - আমার জন্য
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَعَظِّمْ - এবং বর্ধিত/বাড়িয়ে দিন
لِيْ - আমার জন্য
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَاجْعَلْ - এবং (নির্ধারণ) করুন
لِيْ - আমার জন্য
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَاجْعَلْنِيْ - এবং আমাকে করুন
نُوْرًا، - নূর/আলো (আলোকময় )
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
أَعْطِنِي - আমাকে দান করুন
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَاجْعَلْ - এবং (দান) করুন
فِيْ - মধ্যে
عَصَبِيْ - আমার স্নায়ুর
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَفِيْ - এবং মধ্যে
لَحْمِيْ - আমার মাংসের
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَفِيْ - এবং মধ্যে
دَمِيْ - আমার রক্তের
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَفِيْ - এবং মধ্যে
شَعْرِيْ - আমার চুলের
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَفِيْ - এবং মধ্যে
بَشَرِيْ - আমার চামড়ার
نُوْرًا - নূর/আলো

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ لِيْ نُوْرًا فِيْ قَبْرِي… وَنُوْرًا فِيْ عِظَامِيْ

আল্লা-হুম্মাজ‘আল লী নূরান ফী কাবরী... ওয়া নূরান ফী ‘ইযামী

হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার কবরে নূর দিন, আমার হাড়সমূহেও নূর দিন [২]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
اجْعَلْ - (দান) করুন
لِيْ - আমার জন্য
نُوْرًا - নূর/আলো
فِيْ - মধ্যে
قَبْرِي… - আমার কবরের
وَنُوْرًا - এবং নূর/আলো
فِيْ - মধ্যে
عِظَامِيْ - আমার হাড়সমূহের

وَزِدْنِيْ نُوْرًا، وَزِدْنِيْ نُوْرًا، وَزِدْنِيْ نُوْرًا

ওয়া যিদ্‌নী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান

আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন [৩]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَزِدْنِيْ - এবং আমাকে বৃদ্ধি করে দিন
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَزِدْنِيْ - এবং আমাকে বৃদ্ধি করে দিন
نُوْرًا، - নূর/আলো
وَزِدْنِيْ - এবং আমাকে বৃদ্ধি করে দিন
نُوْرًا - নূর/আলো

وَهَبْ لِيْ نُوْرًا عَلَى نُوْرٍ

ওয়া হাবলী নূরান ‘আলা নুর

আমাকে নূরের উপর নূর দান করুন [৪]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَهَبْ - এবং দান করুন
لِيْ - আমার জন্য
نُوْرًا - নূর/আলো
عَلَى - উপর
نُوْرٍ - নূর/আলোর

রেফারেন্স: [১] এ শব্দগুলোর জন্য দেখুন, বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৬, নং ৬৩১৬; মুসলিম ১/৫২৬, ৫২৯, ৫৩০, নং ৭৬৩ [২] তিরমিযী ৫/৪৮৩, নং ৩৪১৯। [৩] ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ৬৯৫; পৃ. ২৫৮; আর আলবানী সেটার সনদকে সহীহ আদাবিল মুফরাদে সহীহ বলেছেন, নং ৫৩৬। [৪] হাফেয ইবন হাজার এটাকে তার ফতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন এবং ইবন আবী আসেমের ‘কিতাবুদ দো‘আ’ এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন। দেখুন ফাতহুল বারী, ১১/১১৮। আরও বলেছেন, বিভিন্ন বর্ণনা থেকে মোট ২৫ (পঁচিশটি) বিষয় পাওয়া গেল।

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! اجْعَلْ (দান) করুন فِيْ মধ্যে قَلْبِيْ আমার অন্তরের نُوْرًا، নূর/আলো وَفِيْ এবং মধ্যে لِسَانِيْ আমার জিহ্বায়/যবানে نُوْرًا، নূর/আলো وَفِيْ এবং মধ্যে سَمْعِيْ আমার শ্রবণশক্তির نُوْرًا، নূর/আলো وَفِيْ এবং মধ্যে بَصَرِي আমার দর্শনশক্তির نُوْرًا، নূর/আলো وَمِنْ এবং হতে فَوْقِيْ আমার উপর نُوْرًا، নূর/আলো وَمِنْ হতে এবং تَحْتِيْ আমার নীচে نُوْرًا، নূর/আলো وَعَنْ এবং দিকে يَمِيْنِيْ আমার ডানের نُوْرًا، নূর/আলো وَعَنْ এবং দিকে شِمَالِيْ আমার বামের نُوْرًا، নূর/আলো وَمِنْ এবং হতে أَمَامِيْ আমার সামনে نُوْرًا، নূর/আলো وَمِنْ এবং হতে خَلْفِيْ আমার পিছনে نُوْرًا، নূর/আলো وَاجْعَلْ (দান) করুন এবং فِيْ মধ্যে نَفْسِيْ আমার আত্মার نُوْرًا، নূর/আলো وَأَعْظِمْ এবং বিবর্ধিত করেদিন لِيْ আমার জন্য نُوْرًا، নূর/আলো وَعَظِّمْ এবং বর্ধিত/বাড়িয়ে দিন لِيْ আমার জন্য نُوْرًا، নূর/আলো وَاجْعَلْ এবং (নির্ধারণ) করুন لِيْ আমার জন্য نُوْرًا، নূর/আলো وَاجْعَلْنِيْ এবং আমাকে করুন نُوْرًا، নূর/আলো (আলোকময় ) اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! أَعْطِنِي আমাকে দান করুন نُوْرًا، নূর/আলো وَاجْعَلْ এবং (দান) করুন فِيْ মধ্যে عَصَبِيْ আমার স্নায়ুর نُوْرًا، নূর/আলো وَفِيْ এবং মধ্যে لَحْمِيْ আমার মাংসের نُوْرًا، নূর/আলো وَفِيْ এবং মধ্যে دَمِيْ আমার রক্তের نُوْرًا، নূর/আলো وَفِيْ এবং মধ্যে شَعْرِيْ আমার চুলের نُوْرًا، নূর/আলো وَفِيْ এবং মধ্যে بَشَرِيْ আমার চামড়ার نُوْرًا নূর/আলো

হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর (বা আলো) দান করুন, আমার যবানে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার দর্শনশক্তিতে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নীচে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার আত্মায় নূর দান করুন, আমার জন্য নূরকে বড় করে দিন, আমার জন্য নূর বাড়িয়ে দিন, আমার জন্য নূর নির্ধারণ করুন, আমাকে আলোকময় করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন, আমার পেশীতে নূর প্রদান করুন, আমার গোশ্‌তে নূর দান করুন, আমার রক্তে নূর দান করুন, আমার চুলে নূর দান করুন ও আমার চামড়ায় নূর দান করুন। [১]

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! اجْعَلْ (দান) করুন لِيْ আমার জন্য نُوْرًا নূর/আলো فِيْ মধ্যে قَبْرِي… আমার কবরের وَنُوْرًا এবং নূর/আলো فِيْ মধ্যে عِظَامِيْ আমার হাড়সমূহের

হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার কবরে নূর দিন, আমার হাড়সমূহেও নূর দিন [২]

وَزِدْنِيْ এবং আমাকে বৃদ্ধি করে দিন نُوْرًا، নূর/আলো وَزِدْنِيْ এবং আমাকে বৃদ্ধি করে দিন نُوْرًا، নূর/আলো وَزِدْنِيْ এবং আমাকে বৃদ্ধি করে দিন نُوْرًا নূর/আলো

আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন [৩]

وَهَبْ এবং দান করুন لِيْ আমার জন্য نُوْرًا নূর/আলো عَلَى উপর نُوْرٍ নূর/আলোর

আমাকে নূরের উপর নূর দান করুন [৪]

রেফারেন্স: [১] এ শব্দগুলোর জন্য দেখুন, বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৬, নং ৬৩১৬; মুসলিম ১/৫২৬, ৫২৯, ৫৩০, নং ৭৬৩ [২] তিরমিযী ৫/৪৮৩, নং ৩৪১৯। [৩] ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ৬৯৫; পৃ. ২৫৮; আর আলবানী সেটার সনদকে সহীহ আদাবিল মুফরাদে সহীহ বলেছেন, নং ৫৩৬। [৪] হাফেয ইবন হাজার এটাকে তার ফতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন এবং ইবন আবী আসেমের ‘কিতাবুদ দো‘আ’ এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন। দেখুন ফাতহুল বারী, ১১/১১৮। আরও বলেছেন, বিভিন্ন বর্ণনা থেকে মোট ২৫ (পঁচিশটি) বিষয় পাওয়া গেল।

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 মসজিদে প্রবেশের দো‘আ

📄 মসজিদে প্রবেশের দো‘আ


মসজিদে প্রবেশের দো‘আ

মসজিদে প্রবেশের দো‘আ

আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সুন্নাত হচ্ছে, যখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন তোমার ডান পা দিয়ে ঢুকবে, আর যখন বের হবে, তখন বাম পা দিয়ে বের হবে” [১] তাই ডান পা দিয়ে ঢুকবে এবং বলবে,

أَعُوْذُ بِاللّٰهِ الْعَظِيْمِ، وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ، وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ، مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

আ‘ঊযু বিল্লা-হিল ‘আযীম, ওয়া বিওয়াজহিহিল কারীম, ওয়াসুলতা-নিহিল ক্বদীম, মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম।

আমি মহান আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর সম্মানিত চেহারা ও প্রাচীন ক্ষমতার ওসীলায় বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [২]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় চাই
بِاللّٰهِ - আল্লাহর কাছে
الْعَظِيْمِ، - সুমহান
وَبِوَجْهِهِ - এবং তাঁর সত্তা (চেহারা)
الْكَرِيْمِ، - মহাঅনুগ্রহশীল
وَسُلْطَانِهِ - এবং তার রাজত্ব/সার্বভৌমত্ব
الْقَدِيْمِ، - প্রাচীন/শাশ্বত
مِنَ - হতে
الشَّيْطَانِ - শয়তান
الرَّجِيْمِ - বিতাড়িত/অভিশপ্ত

بِسْمِ اللّٰهِ

বিসমিল্লা-হি

আল্লাহ্‌র নামে (প্রবেশ করছি) [৩]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
بِسْمِ - নামে (প্রবেশ করছি)
اللّٰهِ - আল্লাহর

وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللّٰهِ

ওয়াসসালাতু ওয়াসসালা-মু ‘আলা রাসূলিল্লা-হি

সালাত ও সালাম আল্লাহ্‌র রাসূলের উপর। [৪]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَالصَّلَاةُ - এবং সালাত/দরুদ
وَالسَّلَامُ - ও সালাম
عَلَى - উপর
رَسُوْلِ - রাসূলের
اللّٰهِ - আল্লাহর

اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

আল্লা-হুম্মাফ্‌তাহ লী আবওয়া-বা রাহ্‌মাতিকা

হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। [৫]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
افْتَحْ - খুলে দিন
لِيْ - আমার জন্য
أَبْوَابَ - দরজাসমূহ
رَحْمَتِكَ - আপনার রহমতের

রেফারেন্স: [১] হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন, হাকিম ১/২১৮; এবং একে মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী সেটার সমর্থন করেছেন। আরও উদ্ধৃত করেছেন বাইহাকী, ২/৪৪২; আর শাইখ আলবানী তার সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা গ্রন্থে এটাকে হাসান বলেছেন, ৫/৬২৪; নং ২৪৭৮। [২] আবূ দাউদ, নং ৪৬৬; আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪৫৯১ [৩] ইবনুসসুন্নি কর্তৃক উদ্ধৃত, নং ৮। আর শাইখ আলবানী তার আস-সামারুল মুস্তাতাব গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন, পৃ. ৬০৭। [৪] আবূ দাউদ ১/১২৬; নং ৪৬৫; আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ১/৫২৮। [৫] মুসলিম ১/৪৯৪, নং ৭১৩; আর সুনান ইবন মাজায় ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসে এসেছে, “হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বারসমূহ অবারিত করে দিন”। আর শাইখ আলবানী অন্যান্য শাহেদ বা সম অর্থের বর্ণনার কারণে একে সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্ ১/১২৮-১২৯। [৬] আবু দাঊদ(কিতাবুস সালাত,বাব ফীমা ইয়াকুলুর রজুলু ইনদা দুখুলিহিল মাসজিদ) ১/১২৪,নং ৪৬৬ (ভা ১/৬৭); আলবানী,সহীহুল জামিয়িস সাগীর ২/৮৬০,নং ৪৭১৫।

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে প্রবেশের সময় এ কথা বলতেন এবং তিনি বলেছেন, “যদি কেউ তা বলে তবে শয়তান বলে, সারাদিনের জন্য এ ব্যক্তি আমার খপ্পর থেকে রক্ষা পেল।” হাদীসটি সহীহ।

আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সুন্নাত হচ্ছে, যখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন তোমার ডান পা দিয়ে ঢুকবে, আর যখন বের হবে, তখন বাম পা দিয়ে বের হবে” [১] তাই ডান পা দিয়ে ঢুকবে এবং বলবে,

أَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই بِاللّٰهِ আল্লাহর কাছে الْعَظِيْمِ، সুমহান وَبِوَجْهِهِ এবং তাঁর সত্তা (চেহারা) الْكَرِيْمِ، মহাঅনুগ্রহশীল وَسُلْطَانِهِ এবং তার রাজত্ব/সার্বভৌমত্ব الْقَدِيْمِ، প্রাচীন/শাশ্বত مِنَ হতে الشَّيْطَانِ শয়তান الرَّجِيْمِ বিতাড়িত/অভিশপ্ত

আমি মহান আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর সম্মানিত চেহারা ও প্রাচীন ক্ষমতার ওসীলায় বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [২]

بِسْمِ নামে (প্রবেশ করছি) اللّٰهِ আল্লাহর

আল্লাহ্‌র নামে (প্রবেশ করছি) [৩]

وَالصَّلَاةُ এবং সালাত/দরুদ وَالسَّلَامُ ও সালাম عَلَى উপর رَسُوْلِ রাসূলের اللّٰهِ আল্লাহর

সালাত ও সালাম আল্লাহ্‌র রাসূলের উপর। [৪]

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! افْتَحْ খুলে দিন لِيْ আমার জন্য أَبْوَابَ দরজাসমূহ رَحْمَتِكَ আপনার রহমতের

হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। [৫]

রেফারেন্স: [১] হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন, হাকিম ১/২১৮; এবং একে মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী সেটার সমর্থন করেছেন। আরও উদ্ধৃত করেছেন বাইহাকী, ২/৪৪২; আর শাইখ আলবানী তার সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা গ্রন্থে এটাকে হাসান বলেছেন, ৫/৬২৪; নং ২৪৭৮। [২] আবূ দাউদ, নং ৪৬৬; আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪৫৯১ [৩] ইবনুসসুন্নি কর্তৃক উদ্ধৃত, নং ৮। আর শাইখ আলবানী তার আস-সামারুল মুস্তাতাব গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন, পৃ. ৬০৭। [৪] আবূ দাউদ ১/১২৬; নং ৪৬৫; আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ১/৫২৮। [৫] মুসলিম ১/৪৯৪, নং ৭১৩; আর সুনান ইবন মাজায় ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসে এসেছে, “হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বারসমূহ অবারিত করে দিন”। আর শাইখ আলবানী অন্যান্য শাহেদ বা সম অর্থের বর্ণনার কারণে একে সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্ ১/১২৮-১২৯। [৬] আবু দাঊদ(কিতাবুস সালাত,বাব ফীমা ইয়াকুলুর রজুলু ইনদা দুখুলিহিল মাসজিদ) ১/১২৪,নং ৪৬৬ (ভা ১/৬৭); আলবানী,সহীহুল জামিয়িস সাগীর ২/৮৬০,নং ৪৭১৫।

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 মসজিদ থেকে বের হওয়ার দো‘আ

📄 মসজিদ থেকে বের হওয়ার দো‘আ


মসজিদ থেকে বের হওয়ার দো‘আ

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দো‘আ

বাম পা দিয়ে শুরু করবে [১] এবং বলবে,

بِسْمِ اللّٰهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللّٰهِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ، اَللّٰهُمَّ اعْصِمْنِيْ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

বিস্‌মিল্লা-হি ওয়াস্‌সালা-তু ওয়াস্‌সালা-মু ‘আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকা, আল্লা-হুম্মা আ‘সিমনি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম।

আল্লাহ্‌র নামে (বের হচ্ছি)। আল্লাহ্‌র রাসুলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাসমূহ মাফ করে দিন এবং আমার জন্য আপনার দয়ার দরজাগুলো খুলে দিন। হে আল্লাহ, আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে হেফাযত করুন [২]

রেফারেন্স: [১] আল-হাকিম, ১/২১৮; বাইহাকী, ২/৪৪২, আর শাইখ আলবানী তার সিলসিলাতুস সহীহায় একে হাসান হাদীস বলেছেন, ৫/৬২৪, নং ২৪৭৮। আর সেটার তাখরীজ পূর্বে গত হয়েছে। [২] মসজিদে প্রবেশের দো‘আয় পূর্বে বর্ণিত হাদীসের রেওয়ায়েতসমূহের তাখরীজ দেখুন, (২০ নং) আর “হে আল্লাহ, আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে হেফাযত করুন” এ বাড়তি অংশের তাখরীজ দেখুন, ইবন মাজাহ্‌ ১/১২৯।

বাম পা দিয়ে শুরু করবে [১] এবং বলবে,

بِسْمِ اللّٰهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللّٰهِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ، اَللّٰهُمَّ اعْصِمْنِيْ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

আল্লাহ্‌র নামে (বের হচ্ছি)। আল্লাহ্‌র রাসুলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাসমূহ মাফ করে দিন এবং আমার জন্য আপনার দয়ার দরজাগুলো খুলে দিন। হে আল্লাহ, আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে হেফাযত করুন [২]

রেফারেন্স: [১] আল-হাকিম, ১/২১৮; বাইহাকী, ২/৪৪২, আর শাইখ আলবানী তার সিলসিলাতুস সহীহায় একে হাসান হাদীস বলেছেন, ৫/৬২৪, নং ২৪৭৮। আর সেটার তাখরীজ পূর্বে গত হয়েছে। [২] মসজিদে প্রবেশের দো‘আয় পূর্বে বর্ণিত হাদীসের রেওয়ায়েতসমূহের তাখরীজ দেখুন, (২০ নং) আর “হে আল্লাহ, আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে হেফাযত করুন” এ বাড়তি অংশের তাখরীজ দেখুন, ইবন মাজাহ্‌ ১/১২৯।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া #২

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া #২

اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِيْ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

আল্লা-হুম্মা, আর্জি নী মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজীম।

হে আল্লাহ আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: [১]সহীহ ইবনু খুযাইমা ১/২৩১,৪/২০১,সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৯৬,৩৯৯,মুসতাদরাক হাকিম ১/৩২৫,ইবনুল ক্বাইয়িম,জালাউল আউহাম ৪৬-৪৭ পৃ. আলবানী,আস-সামরুল মুসতাতাব,পৃ.৬১০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৮১

আবু হুরাইরা (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এ যিকর পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসটি সহীহ।

اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِيْ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

হে আল্লাহ আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: [১]সহীহ ইবনু খুযাইমা ১/২৩১,৪/২০১,সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৯৬,৩৯৯,মুসতাদরাক হাকিম ১/৩২৫,ইবনুল ক্বাইয়িম,জালাউল আউহাম ৪৬-৪৭ পৃ. আলবানী,আস-সামরুল মুসতাতাব,পৃ.৬১০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৮১

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 আযানের যিক্‌রসমূহ

📄 আযানের যিক্‌রসমূহ


আযানের যিক্‌রসমূহ

আযানের যিক্‌রসমূহ

মুয়াযযিন যা বলে শ্রোতাও তা বলবে, তবে

حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ وَحَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ

হাইয়্যা ‘আলাস্‌সালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ’

নামাযের দিকে আসো, কল্যানের দিকে আসো

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
حَيَّ - এসো
عَلَى - জন্য
الصَّلاَةِ - স্বালাতের
وَحَيَّ - এসো
عَلَى - জন্য
الْفَلَاحِ - কল্যাণের

...এর সময় বলবে,

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ

লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ

আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই। [১]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
لاَ - নেই (কোনো)
حَوْلَ - সামর্থ্য/ক্ষমতা
وَلاَ - এবং নেই
قُوَّةَ - শক্তি
إِلَّا - ব্যতীত
بِاللّٰهِ - আল্লাহ

মুয়াযযিন তাশাহহুদ (তথা আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার...) উচ্চারণ করার পরই শ্রোতারা এ যিক্‌রটি বলব,

وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، وَبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا

ওয়া আনা আশ্‌হাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহু, রাদীতু বিল্লা-হি রব্‌বান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান, ওয়া বিলইসলা-মি দীনান

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল। আমি আল্লাহকে রব্ব, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রাসূল এবং ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَأَنَا - এবং আমি
أَشْهَدُ - সাক্ষ্য দিচ্ছি
أَنْ - যে
لَا - নাই (কোনো)
إِلٰهَ - মাবুদ/ইলাহ
إِلَّا - ছাড়া
اللّٰهُ - আল্লাহ
وَحْدَهُ - তিনি এক
لَا - নাই
شَرِيْكَ - শরীক/অংশীদার
لَهُ - তাঁর
وَأَنَّ - এবং যে
مُحَمَّدًا - মুহাম্মাদ (সা:)
عَبْدُهُ - তাঁর বান্দা
وَرَسُولُهُ، - ও তাঁর রাসূল
رَضِيْتُ - আমি (গ্রহণকরে) সন্তুষ্ট
بِاللّٰهِ - আল্লাহকে
رَبًّا، - রব হিসাবে
وَبِمُحَمَّدٍ - এবং মুহাম্মাদ (সা:) কে
رَسُولًا، - রাসূল
وَبِالْإِسْلَامِ - ও ইসলামকে
دِيْنًا - দীন হিসেবে

সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: “যে ব্যক্তি মুআযযিনকে শুনে এ বাক্যগুলো বলবে তার সকল পাপ ক্ষমা করা হবে।” [২]

মুয়াযযিনের কথার জবাব দেওয়া শেষ করার পর বলবে,

اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُوْدًا الَّذِيْ وَعَدتَّهُ، إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ

আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মাতি ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমাতি আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা ওয়াব্‘আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ, (ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ)

হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ওসীলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। (নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।) [৩]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
رَبَّ - প্রতিপালক
هٰذِهِ - এই
الدَّعْوَةِ - আহ্বান
التَّامَّةِ، - পরিপূর্ণ
وَالصَّلَاةِ - এবং সালাতের
الْقَائِمَةِ، - প্রতিষ্ঠিত
آتِ - দান করুন
مُحَمَّدًا - মুহাম্মাদ (সা:) কে
الْوَسِيْلَةَ - ওসীলা (জান্নাতের সন্মানিত স্থান )
وَالْفَضِيْلَةَ، - ও মর্যাদা
وَابْعَثْهُ - এবং পৌঁছে দিন
مَقَامًا - মাকামে (স্থানে)
مَحْمُوْدًا - মাহমূদে (প্রশংসিত)
الَّذِيْ - যার
وَعَدتَّهُ، - এবং প্রতিশ্রুতি/ওয়াদা তাঁকে দিয়েছেন
إِنَّكَ - নিশ্চয়
لَا - না
تُخْلِفُ - ভঙ্গ করেন
الْمِيْعَادَ - আপনি প্রতিশ্রুতি

রেফারেন্স: [১] বুখারী, ১/১৫২, নং ৬১১, ৬১৩; মুসলিম, ১/২৮৮, নং ৩৮৩ [২] মুসলিম ৩/১৫৫৭, নং ১৯৬৭; বায়হাকী ৯/২৮৭, দু ব্রাকেটের মাঝখানের অংশ বাইহাকী থেকে, ৯/২৮৭, ইত্যাদি। তবে সর্বশেষ বাক্যটি ইমাম মুসলিমের বর্ণনা থেকে অর্থ হিসেবে গৃহীত। [৩] আহমাদ ৩/৪১৯, নং ১৫৪৬১, সহীহ সনদে। আর ইবনুস সুন্নী, নং ৬৩৭; আরনাঊত তার ত্বাহাভীয়ার তাখরীজে এর সনদকে বিশুদ্ধ বলেছেন, পৃ.১৩৩ আরও দেখুন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ১০/১২৭। [৪] মুসলিম (৪-কিতাবুস সালাত,৭-বাব ইসতিহবাবিল কাওলি মিসল...) ১/২৮৮, নং ৩৮৪(ভা ১/১৬৬) [৫] বুখারী(১৪-কিতাবুল আযান, ৮-বাবুদ দাআ ইনদান নিদা) ১/২২২ নং ৫৮৯ (ভারতীয় ১/৮৬)। [৬] সহীহ ইবন হিব্বান ৪/৫৫৩, মুসতাদরাক হাকিম ১/৩২১; আলবানী সহীহুত তারগীব ১/১৭৭।

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ স বলেছেন: “যখন তোমরা মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যেরূপ বলে তদ্রƒপ বলবে। এরপর আমার উপর সালাত পাঠ করবে ; কারণ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত পাঠ করবে, আল্লাহ তাঁকে দশবার সালাত (রহমত) প্রদান করবেন। এরপর আমার জন্য ‘ওসীলা’ চাইবে ; কারণ ‘ওসীলা’ জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান, আল্লাহর একজন মাত্র বান্দাই এ মর্যাদা লাভ করবেন এবং আমি আশা করি আমিই হব সেই বান্দা। যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘ওসীলা’ প্রার্থনা করবে, তাঁর জন্য শাফায়াত প্রাপ্য হয়ে যাবে।” [৪] ‘ওসীলা’ অর্থ নৈকট্য। জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর যা আল্লাহর আরশের সবচেয়ে নিকটবর্তী তাকে ‘ওসীলা’ বলা হয়। এ স্থানটি আল্লাহর একজন বান্দার জন্য নির্ধারিত, তিনিই মুহাম্মাদ (স)। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, “মুয়াযযিনের আযান শুনে যে ব্যক্তি উপরের বাক্যগুলো বলবে, তাঁর জন্য কিয়ামতের দিন আমার শাফা’আত পাওনা হয়ে যাবে।” [৫] আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে নিজের জন্য দো‘আ করবে। কেননা ঐ সময়ের দো‘আ প্রত্যাখ্যান করা হয় না। [১] আবু হুরাইরা (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ -এর কাছে ছিলাম। তখন বিলাল (রা) আযান দিলেন। আযান শেষে রাসূলুল্লাহ (স) বললেন: “এ ব্যক্তি (মুয়াযযিন) যা বলল, তা যদি কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” হাদীসটি হাসান। [৬]

মুয়াযযিন যা বলে শ্রোতাও তা বলবে, তবে

حَيَّ এসো عَلَى জন্য الصَّلاَةِ স্বালাতের وَحَيَّ এসো عَلَى জন্য الْفَلَاحِ কল্যাণের

নামাযের দিকে আসো, কল্যানের দিকে আসো

...এর সময় বলবে,

لاَ নেই (কোনো) حَوْلَ সামর্থ্য/ক্ষমতা وَلاَ এবং নেই قُوَّةَ শক্তি إِلَّا ব্যতীত بِاللّٰهِ আল্লাহ

আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই। [১]

মুয়াযযিন তাশাহহুদ (তথা আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার...) উচ্চারণ করার পরই শ্রোতারা এ যিক্‌রটি বলব,

وَأَنَا এবং আমি أَشْهَدُ সাক্ষ্য দিচ্ছি أَنْ যে لَا নাই (কোনো) إِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ إِلَّا ছাড়া اللّٰهُ আল্লাহ وَحْدَهُ তিনি এক لَا নাই شَرِيْكَ শরীক/অংশীদার لَهُ তাঁর وَأَنَّ এবং যে مُحَمَّدًا মুহাম্মাদ (সা:) عَبْدُهُ তাঁর বান্দা وَرَسُولُهُ، ও তাঁর রাসূল رَضِيْتُ আমি (গ্রহণকরে) সন্তুষ্ট بِاللّٰهِ আল্লাহকে رَبًّا، রব হিসাবে وَبِمُحَمَّدٍ এবং মুহাম্মাদ (সা:) কে رَسُولًا، রাসূল وَبِالْإِسْلَامِ ও ইসলামকে دِيْنًا দীন হিসেবে

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দাহ ও রাসূল। আমি আল্লাহকে রব্ব, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রাসূল এবং ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট।

মুয়াযযিনের কথার জবাব দেওয়া শেষ করার পর বলবে,

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! رَبَّ প্রতিপালক هٰذِهِ এই الدَّعْوَةِ আহ্বান التَّامَّةِ، পরিপূর্ণ وَالصَّلَاةِ এবং সালাতের الْقَائِمَةِ، প্রতিষ্ঠিত آتِ দান করুন مُحَمَّدًا মুহাম্মাদ (সা:) কে الْوَسِيْلَةَ ওসীলা (জান্নাতের সন্মানিত স্থান ) وَالْفَضِيْلَةَ، ও মর্যাদা وَابْعَثْهُ এবং পৌঁছে দিন مَقَامًا মাকামে (স্থানে) مَحْمُوْدًا মাহমূদে (প্রশংসিত) الَّذِيْ যার وَعَدتَّهُ، এবং প্রতিশ্রুতি/ওয়াদা তাঁকে দিয়েছেন إِنَّكَ নিশ্চয় لَا না تُخْلِفُ ভঙ্গ করেন الْمِيْعَادَ আপনি প্রতিশ্রুতি

হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ওসীলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। (নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।) [৩]

রেফারেন্স: [১] বুখারী, ১/১৫২, নং ৬১১, ৬১৩; মুসলিম, ১/২৮৮, নং ৩৮৩ [২] মুসলিম ৩/১৫৫৭, নং ১৯৬৭; বায়হাকী ৯/২৮৭, দু ব্রাকেটের মাঝখানের অংশ বাইহাকী থেকে, ৯/২৮৭, ইত্যাদি। তবে সর্বশেষ বাক্যটি ইমাম মুসলিমের বর্ণনা থেকে অর্থ হিসেবে গৃহীত। [৩] আহমাদ ৩/৪১৯, নং ১৫৪৬১, সহীহ সনদে। আর ইবনুস সুন্নী, নং ৬৩৭; আরনাঊত তার ত্বাহাভীয়ার তাখরীজে এর সনদকে বিশুদ্ধ বলেছেন, পৃ.১৩৩ আরও দেখুন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ১০/১২৭। [৪] মুসলিম (৪-কিতাবুস সালাত,৭-বাব ইসতিহবাবিল কাওলি মিসল...) ১/২৮৮, নং ৩৮৪(ভা ১/১৬৬) [৫] বুখারী(১৪-কিতাবুল আযান, ৮-বাবুদ দাআ ইনদান নিদা) ১/২২২ নং ৫৮৯ (ভারতীয় ১/৮৬)। [৬] সহীহ ইবন হিব্বান ৪/৫৫৩, মুসতাদরাক হাকিম ১/৩২১; আলবানী সহীহুত তারগীব ১/১৭৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px