📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 যিক্‌রের ফযীলত

📄 যিক্‌রের ফযীলত


যিক্‌রের ফযীলত

যিক্‌রের ফযীলত

মহান আল্লাহ বলেন:

فَاذْكُرُوْنِيْٓ اَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوْا لِيْ وَلَا تَكْفُرُوْنِ

“অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।”

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
فَاذْكُرُوْنِيْٓ - সুতরাং তোমরা স্মরণ কর আমাকে
اَذْكُرْكُمْ - আমিও স্মরণ রাখবো তোমাদেরকে
وَاشْكُرُوْا - এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর
لِيْ - আমার
وَلَا - এবং না
تَكْفُرُوْنِ - অকৃতজ্ঞ হওয়া

রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারাহ্‌ - ২:১৫২

يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوا اللّٰهَ ذِكْرًا كَثِيْرًا

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর”

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
يٰٓاَيُّهَا - ওহে
الَّذِيْنَ - যারা
اٰمَنُوا - ঈমান এনেছো
اذْكُرُوا - তোমরা স্মরণ কর
اللّٰهَ - আল্লাহকে
ذِكْرًا - স্মরণ কর
كَثِيْرًا - অধিক পরিমাণে

রেফারেন্স: সূরা আল-আহযাব - ৩৩:৪১

وَالذّٰكِرِيْنَ اللّٰهَ كَثِيْرًا وَّالذّٰكِرٰتِۙ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَّاَجْرًا عَظِيْمًا

“আর আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণকারী পুরুষ ও নারী: আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।”

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَالذّٰكِرِيْنَ - এবং স্মরণকারী পুরুষগন
اللّٰهَ - আল্লাহকে
كَثِيْرًا - অধিক পরিমাণে
وَّالذّٰكِرٰتِۙ - এবং স্মরণকারী নারীগন
اَعَدَّ - নির্দিষ্ট করে রেখেছেন
اللّٰهُ - আল্লাহ
لَهُمْ - তাদের জন্য
مَّغْفِرَةً - ক্ষমা
وَّاَجْرًا - এবং পুরস্কার
عَظِيْمًا - বিরাট

রেফারেন্স: সূরা আল-আহযাব - ৩৩:৩৫।

وَاذْكُرْ رَّبَّكَ فِيْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَّخِيْفَةً وَّدُوْنَ الْجَــهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِيْنَ

“আর আপনি আপনার রব্বকে স্মরণ করুন মনে মনে, মিনতি ও ভীতিসহকারে, অনুচ্চস্বরে; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।”

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَاذْكُرْ - এবং স্মরণ করুন
رَّبَّكَ - আপনার রব্বকে
فِيْ - মধ্যে
نَفْسِكَ - আপনার মনের
تَضَرُّعًا - সবিনয়ে
وَّخِيْفَةً - এবং ভীতিসহকারে
وَّدُوْنَ - এবং ব্যতীত
الْجَــهْرِ - উচ্চস্বর
مِنَ - থেকে
الْقَوْلِ - কথার
بِالْغُدُوِّ - সকালে
وَالْاٰصَالِ - এবং সন্ধায়
وَلَا - এবং না
تَكُنْ - অন্তর্ভুক্ত হবেন
مِّنَ - থেকে/হতে
الْغٰفِلِيْنَ - উদাসীন/গাফিলদের

রেফারেন্স: [১] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/২০৮, নং ৬৪০৭; মুসলিম, ১/৫৩৯, নং ৭৭৯, আর তার শব্দ হচ্ছে, «مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللّٰهُ فِيهِ، وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللّٰهُ فِيهِ، مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ» “যে ঘরে আল্লাহ্‌র যিক্‌র হয়, আর যে ঘরে আল্লাহ্‌র যিক্‌র হয় না— তার দৃষ্টান্ত যেন জীবিত আর মৃত।” [২] তিরমিযী ৫/৪৫৯, নং ৩৩৭৭; ইবন মাজাহ্‌ ২/১৬৪৫, নং ৩৭৯০; আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্‌ ২/৩১৬; সহীহ তিরমিযী ৩/১৩৯। [৩] বুখারী ৮/১৭১, নং ৭৪০৫; মুসলিম ৪/২০৬১, নং ২৬৭৫। তবে শব্দটি বুখারীর। [৪] তিরমিযী ৫/৪৫৮, নং ৩৩৭৫; ইবন মাজাহ্‌ ২/১২৪৬, নং ৩৭৯[৩] আর শাইখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহ আত-তিরমিযী, ৩/১৩৯; সহীহ ইবন মাজাহ্ ২/৩১৭। [৫] তিরমিযী ৫/১৭৫, নং ২৯১০। শাইখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন; দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/৯; সহীহ জামে সগীর-৫/৩৪০। [৬] মুসলিম, ১/৫৫৩; নং ৮০৩ [৭] আবূ দাউদ ৪/২৬৪, নং ৪৮৫৬ ও অন্যান্য। দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৫/৩৪২ [৮] তিরমিযী, ৫/৪৬১, নং ৩৩৮০। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪০। [৯] আবূ দাউদ ৪/২৬৪, নং ৪৮৫৫; আহমদ ২/৩৮৯ নং ১০৬৮০। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৫/১৭৬।

সূরা আল-আ‘রাফ: ২০৫। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি তার রবের যিক্‌র (স্মরণ) করে, আর যে ব্যক্তি তার রবের যিক্‌র করে না— তারা যেন জীবিত আর মৃত।” [১] রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “আমি কি তোমাদেরকে তা জানাবো না— আমলের মধ্যে যা সর্বোত্তম, তোমাদের মালিক (আল্লাহ্‌র) কাছে যা অত্যন্ত পবিত্র, তোমাদের জন্য যা অধিক মর্যাদা বৃদ্ধিকারী, (আল্লাহ্‌র পথে) সোনা-রূপা ব্যয় করার তুলনায় যা তোমাদের জন্য উত্তম এবং তোমরা তোমাদের শত্রুদের মুখোমুখি হয়ে তাদেরকে হত্যা এবং তারা তোমাদের হত্যা করার চাইতেও অধিকতর শ্রেষ্ঠ?” সাহাবীগণ বললেন, অবশ্যই হ্যাঁ। তিনি বললেন, “আল্লাহ্ তা‘আলার যিক্‌র।” [২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেরূপ ধারণা করে, আমাকে সে তদ্রূপই পাবে; আর যখন সে আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথে থাকি। সুতরাং যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও আমার মনে তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে এর চাইতে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। আর সে যদি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ নিকটবর্তী হয়, তাহলে আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হই। সে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হলে আমি তার দিকে এক বাহু পরিমাণ নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দ্রুতবেগে যাই।” [৩] আব্দুল্লাহ ইবন বুসর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! ইসলামের বিধিবিধান আমার জন্য বেশি হয়ে গেছে। কাজেই আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ের খবর দিন, যা আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা জিহ্বা যেনো সর্বক্ষণ আল্লাহ্‌র যিক্‌রে সজীব থাকে।” [৪] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কিতাব (কুরআন) থেকে একটি হরফ পাঠ করে, সে তার বিনিময়ে একটি সওয়াব পায়; আর একটি সওয়াব হবে দশটি সওয়াবের সমান। আমি আলিফ, লাম ও মীমকে একটি হরফ বলছি না। বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ, ‘লাম’ একটি হরফ এবং ‘মীম’ একটি হরফ।” [৫] উকবা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। আমরা তখন সুফ্‌ফায় (মসজিদে নববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে প্রতিদিন সকালে বুতহান বা আকীক উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে কোনো প্রকার পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন না করে উঁচু কুঁজবিশিষ্ট দু’টো উষ্ট্রী নিয়ে আসতে পছন্দ করে”? আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা তা পছন্দ করি। তিনি বললেন: “তোমাদের কেউ কি এরূপ করতে পার না যে, সকালে মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহ্‌র কিতাব থেকে দুটো আয়াত জানবে অথবা পড়বে; এটা তার জন্য দু’টো উষ্ট্রীর তুলনায় উত্তম। আর তিনটি আয়াত তিনটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম, চারটি আয়াত চারটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম। আর (শুধু উষ্ট্রীই নয়, বরং একইসাথে) সমসংখ্যক উট লাভ করা থেকেও তা উত্তম হবে।” [৬] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: “যে ব্যক্তি এমন কোনো বৈঠকে (মজলিসে) বসেছে যেখানে সে আল্লাহ্‌র যিক্‌র করে নি, তার সে বসাই আল্লাহ্‌র নিকট থেকে তার জন্য আফসোস ও নৈরাশ্যজনক হবে। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো শয়নে শুয়েছে যেখানে সে আল্লাহ্‌র যিক্‌র করে নি, তার সে শোয়াই আল্লাহ্‌র নিকট থেকে তার জন্য আফসোস ও নৈরাশ্যজনক হবে।” [৭] রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: “যদি কোনো দল কোনো বৈঠকে বসে আল্লাহ্‌র যিক্‌র না করে এবং তাদের নবীর ওপর দরূদও পাঠ না করে, তাহলে তাদের সেই বৈঠক তাদের জন্য কমতি ও আফসোসের কারণ হবে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি দেবেন, অথবা তিনি চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন।” [৮] রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন : “যদি কোনো একদল লোক এমন কোনো বৈঠক থেকে উঠল, যেখানে তারা আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করে নি, তবে তারা যেন গাধার লাশের কাছ থেকে উঠে আসল। আর এরূপ মজলিস তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে”। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি দেবেন, অথবা তিনি চাইলে তাদের ক্ষমাকরবেন।” [৯]

মহান আল্লাহ বলেন:

فَاذْكُرُوْنِيْٓ সুতরাং তোমরা স্মরণ কর আমাকে اَذْكُرْكُمْ আমিও স্মরণ রাখবো তোমাদেরকে وَاشْكُرُوْا এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর لِيْ আমার وَلَا এবং না تَكْفُرُوْنِ অকৃতজ্ঞ হওয়া

“অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।”

রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারাহ্‌ - ২:১৫২

يٰٓاَيُّهَا ওহে الَّذِيْنَ যারা اٰمَنُوا ঈমান এনেছো اذْكُرُوا তোমরা স্মরণ কর اللّٰهَ আল্লাহকে ذِكْرًا স্মরণ কর كَثِيْرًا অধিক পরিমাণে

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর”

রেফারেন্স: সূরা আল-আহযাব - ৩৩:৪১

وَالذّٰكِرِيْنَ এবং স্মরণকারী পুরুষগন اللّٰهَ আল্লাহকে كَثِيْرًا অধিক পরিমাণে وَّالذّٰكِرٰتِۙ এবং স্মরণকারী নারীগন اَعَدَّ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন اللّٰهُ আল্লাহ لَهُمْ তাদের জন্য مَّغْفِرَةً ক্ষমা وَّاَجْرًا এবং পুরস্কার عَظِيْمًا বিরাট

“আর আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণকারী পুরুষ ও নারী: আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।”

রেফারেন্স: সূরা আল-আহযাব - ৩৩:৩৫।

وَاذْكُرْ এবং স্মরণ করুন رَّبَّكَ আপনার রব্বকে فِيْ মধ্যে نَفْسِكَ আপনার মনের تَضَرُّعًا সবিনয়ে وَّخِيْفَةً এবং ভীতিসহকারে وَّدُوْنَ এবং ব্যতীত الْجَــهْرِ উচ্চস্বর مِنَ থেকে الْقَوْلِ কথার بِالْغُدُوِّ সকালে وَالْاٰصَالِ এবং সন্ধায় وَلَا এবং না تَكُنْ অন্তর্ভুক্ত হবেন مِّنَ থেকে/হতে الْغٰفِلِيْنَ উদাসীন/গাফিলদের

“আর আপনি আপনার রব্বকে স্মরণ করুন মনে মনে, মিনতি ও ভীতিসহকারে, অনুচ্চস্বরে; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।”

রেফারেন্স: [১] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/২০৮, নং ৬৪০৭; মুসলিম, ১/৫৩৯, নং ৭৭৯, আর তার শব্দ হচ্ছে, «مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللّٰهُ فِيهِ، وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللّٰهُ فِيهِ، مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ» “যে ঘরে আল্লাহ্‌র যিক্‌র হয়, আর যে ঘরে আল্লাহ্‌র যিক্‌র হয় না— তার দৃষ্টান্ত যেন জীবিত আর মৃত।” [২] তিরমিযী ৫/৪৫৯, নং ৩৩৭৭; ইবন মাজাহ্‌ ২/১৬৪৫, নং ৩৭৯০; আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্‌ ২/৩১৬; সহীহ তিরমিযী ৩/১৩৯। [৩] বুখারী ৮/১৭১, নং ৭৪০৫; মুসলিম ৪/২০৬১, নং ২৬৭৫। তবে শব্দটি বুখারীর। [৪] তিরমিযী ৫/৪৫৮, নং ৩৩৭৫; ইবন মাজাহ্‌ ২/১২৪৬, নং ৩৭৯[৩] আর শাইখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহ আত-তিরমিযী, ৩/১৩৯; সহীহ ইবন মাজাহ্ ২/৩১৭। [৫] তিরমিযী ৫/১৭৫, নং ২৯১০। শাইখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন; দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/৯; সহীহ জামে সগীর-৫/৩৪০। [৬] মুসলিম, ১/৫৫৩; নং ৮০৩ [৭] আবূ দাউদ ৪/২৬৪, নং ৪৮৫৬ ও অন্যান্য। দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৫/৩৪২ [৮] তিরমিযী, ৫/৪৬১, নং ৩৩৮০। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪০। [৯] আবূ দাউদ ৪/২৬৪, নং ৪৮৫৫; আহমদ ২/৩৮৯ নং ১০৬৮০। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৫/১৭৬।

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ

📄 সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ


সকাল ও বিকালের যিক্‌রের ফযীলত

সকাল ও বিকালের যিক্‌রের ফযীলত

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হাদীসটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, “কোনো গোষ্ঠী যারা যিক্‌র করছে, তাদের সাথে ফজরের সালাতের পরে সূর্য উঠা পর্যন্ত সময় বসা আমার কাছে ইসমাঈলের বংশধরদের চার জন দাস মুক্তির থেকেও বেশি প্রিয়। অনুরূপভাবে কোনো গোষ্ঠী যারা যিক্‌র করছে, তাদের সাথে আসরের সালাতের পরে সূর্য ডুবা পর্যন্ত সময় বসা আমার কাছে চার জন দাস মুক্তির থেকেও বেশি প্রিয়।”

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, নং ৩৬৬৭। আর শাইখ আলবানী, সহীহ আবি দাউদ ২/৬৯৮ তে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। হাদীসটি হাকিম সংকলন করেছেন, ১/৫৬[২] আর শাইখ আলবানী একে সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীবে সহীহ বলেছেন ১/২৭[৩] আর তিনি একে নাসাঈ, তাবারানীর দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তাবারানীর সনদ ‘জাইয়্যেদ’ বা ভালো।

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হাদীসটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, “কোনো গোষ্ঠী যারা যিক্‌র করছে, তাদের সাথে ফজরের সালাতের পরে সূর্য উঠা পর্যন্ত সময় বসা আমার কাছে ইসমাঈলের বংশধরদের চার জন দাস মুক্তির থেকেও বেশি প্রিয়। অনুরূপভাবে কোনো গোষ্ঠী যারা যিক্‌র করছে, তাদের সাথে আসরের সালাতের পরে সূর্য ডুবা পর্যন্ত সময় বসা আমার কাছে চার জন দাস মুক্তির থেকেও বেশি প্রিয়।”

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, নং ৩৬৬৭। আর শাইখ আলবানী, সহীহ আবি দাউদ ২/৬৯৮ তে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। হাদীসটি হাকিম সংকলন করেছেন, ১/৫৬[২] আর শাইখ আলবানী একে সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীবে সহীহ বলেছেন ১/২৭[৩] আর তিনি একে নাসাঈ, তাবারানীর দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তাবারানীর সনদ ‘জাইয়্যেদ’ বা ভালো।

আয়াতুল কুরসি: সূরা আল-বাকারাহ্‌ ২৫৫

আয়াতুল কুরসি: সূরা আল-বাকারাহ্‌ ২৫৫

أَعُوْذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম

বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহ্‌র আশ্রয় নিচ্ছি।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় চাচ্ছি
بِاللّٰهِ - আল্লাহর নিকট
مِنَ - থেকে
الشَّيْطَانِ - শয়তান
الرَّجِيْمِ - বিতাড়িত/অভিশপ্ত

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡحَـىُّ الۡقَيُّوۡمُ

আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু

আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُ - আল্লাহ
لَاۤ - নেই
اِلٰهَ - ইলাহ্‌/ উপাস্য
اِلَّا - ছাড়া
هُوَ - তিনি
الۡحَـىُّ - চিরঞ্জীব
الۡقَيُّوۡمُ - চিরস্থায়ী/ শাশ্বত সত্তা

لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوۡمٌ

লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম।

তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
لَا - না
تَاۡخُذُهٗ - তাঁকে স্পর্শ করতে পারে
سِنَةٌ - তন্দ্রা
وَّلَا - এবং না
نَوۡمٌ - নিদ্রা

لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِ

লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি।

আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
لَهٗ - তাঁঁর জন্য
مَا - যা কিছু
فِى - মধ্যে আছে
السَّمٰوٰتِ - আসমানসমূহে
وَمَا - এবং যা কিছু
فِى - মধ্যে আছে
الۡاَرۡضِ - যমীনে

مَنۡ ذَا الَّذِىۡ يَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ

মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী।

কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
مَنۡ - কে
ذَا - সে (এমন)
الَّذِىۡ - যিনি
يَشۡفَعُ - সুপারিশ করবে
عِنۡدَهٗۤ - তাঁর কাছে/নিকট
اِلَّا - ব্যতীত
بِاِذۡنِهٖ - তাঁঁর অনুমতি

يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ

ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম।

তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
يَعۡلَمُ - তিনি জানেন
مَا - যা কিছু আছে
بَيۡنَ - মধ্যে
اَيۡدِيۡهِمۡ - তাদের সামনে
وَمَا - এবং যা কিছু
خَلۡفَهُمۡ - তাদের পিছনে

وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ بِشَىۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ

ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ।

আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَلَا - এবং না
يُحِيۡطُوۡنَ - তারা আয়ত্ব করতে পারে
بِشَىۡءٍ - কোন কিছুই
مِّنۡ - থেকে
عِلۡمِهٖۤ - তাঁর জ্ঞান
اِلَّا - ছাড়া
بِمَا - যা
شَآءَ - তিনি চান

وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ

ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব।

তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে;

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَسِعَ - বিস্তৃত/পরিব্যাপ্ত
كُرۡسِيُّهُ - তাঁর সিংহাসন (কর্তৃত্ব)
السَّمٰوٰتِ - আসমানসমূহে
وَالۡاَرۡضَ - এবং যামীনে

وَلَا يَـــُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا

ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা

আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَلَا - এবং না
يَـــُٔوۡدُهٗ - তাঁকে ক্লান্ত/পরিশ্রান্ত করে
حِفۡظُهُمَا - এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ

وَهُوَ الۡعَلِىُّ الۡعَظِيۡمُ

ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম

আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَهُوَ - এবং তিনি
الۡعَلِىُّ - সর্বোচ্চ/সুউচ্চ (সত্তা)
الۡعَظِيۡمُ - সুমহান

রেফারেন্স: হাদীসটি হাকিম সংকলন করেছেন, ১/৫৬২ আর শাইখ আলবানী একে সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীবে সহীহ বলেছেন ১/২৭৩ আর তিনি একে নাসাঈ, তাবারানীর দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তাবারানীর সনদ ‘জাইয়্যেদ’ বা ভালো।

সূরা আল-বাকারাহ্‌, ২৫৫। যে ব্যক্তি সকালে তা বলবে সে বিকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে, আর যে ব্যক্তি বিকালে তা বলবে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে।

أَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাচ্ছি بِاللّٰهِ আল্লাহর নিকট مِنَ থেকে الشَّيْطَانِ শয়তান الرَّجِيْمِ বিতাড়িত/অভিশপ্ত

বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহ্‌র আশ্রয় নিচ্ছি।

اَللّٰهُ আল্লাহ لَاۤ নেই اِلٰهَ ইলাহ্‌/ উপাস্য اِلَّا ছাড়া هُوَ তিনি الۡحَـىُّ চিরঞ্জীব الۡقَيُّوۡمُ চিরস্থায়ী/ শাশ্বত সত্তা

আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।

لَا না تَاۡخُذُهٗ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে سِنَةٌ তন্দ্রা وَّلَا এবং না نَوۡمٌ নিদ্রা

তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।

لَهٗ তাঁঁর জন্য مَا যা কিছু فِى মধ্যে আছে السَّمٰوٰتِ আসমানসমূহে وَمَا এবং যা কিছু فِى মধ্যে আছে الۡاَرۡضِ যমীনে

আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর।

مَنۡ কে ذَا সে (এমন) الَّذِىۡ যিনি يَشۡفَعُ সুপারিশ করবে عِنۡدَهٗۤ তাঁর কাছে/নিকট اِلَّا ব্যতীত بِاِذۡنِهٖ তাঁঁর অনুমতি

কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?

يَعۡلَمُ তিনি জানেন مَا যা কিছু আছে بَيۡنَ মধ্যে اَيۡدِيۡهِمۡ তাদের সামনে وَمَا এবং যা কিছু خَلۡفَهُمۡ তাদের পিছনে

তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।

وَلَا এবং না يُحِيۡطُوۡنَ তারা আয়ত্ব করতে পারে بِشَىۡءٍ কোন কিছুই مِّنۡ থেকে عِلۡمِهٖۤ তাঁর জ্ঞান اِلَّا ছাড়া بِمَا যা شَآءَ তিনি চান

আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না।

وَسِعَ বিস্তৃত/পরিব্যাপ্ত كُرۡسِيُّهُ তাঁর সিংহাসন (কর্তৃত্ব) السَّمٰوٰتِ আসমানসমূহে وَالۡاَرۡضَ এবং যামীনে

তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে;

وَلَا এবং না يَـــُٔوۡدُهٗ তাঁকে ক্লান্ত/পরিশ্রান্ত করে حِفۡظُهُمَا এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ

আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না।

وَهُوَ এবং তিনি الۡعَلِىُّ সর্বোচ্চ/সুউচ্চ (সত্তা) الۡعَظِيۡمُ সুমহান

আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

রেফারেন্স: হাদীসটি হাকিম সংকলন করেছেন, ১/৫৬২ আর শাইখ আলবানী একে সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীবে সহীহ বলেছেন ১/২৭৩ আর তিনি একে নাসাঈ, তাবারানীর দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তাবারানীর সনদ ‘জাইয়্যেদ’ বা ভালো।

সবকিছুর (নিরাপত্তার) জন্য যথেষ্ট যে দোআ

সবকিছুর (নিরাপত্তার) জন্য যথেষ্ট যে দোআ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি সকাল ও বিকালে ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’(সূরা ইখলাস),

﷽ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ‌ ۚ‏﴿١﴾ اَللّٰهُ الصَّمَدُ‌ ۚ‏﴿٢﴾ لَمۡ يَلِدۡ ۙوَلَمۡ يُوۡلَدۡ ۙ‏﴿٣﴾ وَلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿٤﴾‏‏ ‏

ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ

বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
﷽ - পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
قُلۡ - বলুন
هُوَ - তিনি
اللّٰهُ - আল্লাহ
اَحَدٌ‌ - এক, অদ্বিতীয়
ۚ‏﴿١﴾ - (১)
اَللّٰهُ - আল্লাহ
الصَّمَدُ‌ - অমুখাপেক্ষী, অভাবমুক্ত
ۚ‏﴿٢﴾ - (২)
لَمۡ - নি
يَلِدۡ - তিনি কাউকে জন্ম দেন
ۙوَلَمۡ - এবং নি
يُوۡلَدۡ - কেউ তাঁকে জন্ম দেয়
ۙ‏﴿٣﴾ - (৩)
وَلَمۡ - এবং নাই
يَكُنۡ - (হয়)
لَّهٗ - তাঁর
كُفُوًا - সমতূল্য/সমকক্ষ
اَحَدٌ - কেউ
﴿٤﴾‏‏ - (৪)

ও সূরা ফালাক,

﷽ قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ الۡفَلَقِۙ‏ ﴿١﴾ مِنۡ شَرِّ مَا خَلَقَۙ‏ ﴿٢﴾ وَمِنۡ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ‏ ﴿٣﴾ وَمِنۡ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الۡعُقَدِۙ‏ ﴿٤﴾ وَمِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
﷽ - পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
قُلۡ - বলুুন
اَعُوۡذُ - আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই
بِرَبِّ - পালনকর্তার
الۡفَلَقِۙ‏ - ভোর/প্রভাতের
﴿١﴾ - (১)
مِنۡ - থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
مَا - যা
خَلَقَۙ‏ - তিনি সৃষ্টি করেছেন
﴿٢﴾ - (২)
وَمِنۡ - এবং হতে
شَرِّ - অনিষ্ট
غَاسِقٍ - অন্ধকার রাত্রির
اِذَا - যখন
وَقَبَۙ‏ - আচ্ছন্ন হয়
﴿٣﴾ - (৩)
وَمِنۡ - এবং থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
النَّفّٰثٰتِ - ফুঁৎকার প্রদানকারীর
فِى - মধ্যে
الۡعُقَدِۙ‏ - গ্রন্থি/গীরা
﴿٤﴾ - (৪)
وَمِنۡ - এবং থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
حَاسِدٍ - হিংসুকের
اِذَا - যখন
حَسَدَ - সে হিংসা করে
﴿٥﴾ - (৫)

ও সূরা নাস,

﷽ قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ النَّاسِۙ‏ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِۙ‏ ﴿٢﴾ اِلٰهِ النَّاسِۙ‏ ﴿٣﴾ مِنۡ شَرِّ الۡوَسۡوَاسِ ۙ الۡخَـنَّاسِ ۙ‏﴿٤﴾ الَّذِىۡ يُوَسۡوِسُ فِىۡ صُدُوۡرِ النَّاسِۙ‏ ﴿٥﴾ مِنَ الۡجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
﷽ - পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
قُلۡ - বলুন
اَعُوۡذُ - আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই
بِرَبِّ - পালনকর্তার
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿١﴾ - (১)
مَلِكِ - মালিক/বাদশাহ/অধিপতি
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿٢﴾ - (২)
اِلٰهِ - উপাস্য/মা'বুদের
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿٣﴾ - (৩)
مِنۡ - থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
الۡوَسۡوَاسِ ۙ - কুপরামর্শর/কুমন্ত্রণার
الۡخَـنَّاسِ - আত্নগোপনকারী
ۙ‏﴿٤﴾ - (৪)
الَّذِىۡ - যে
يُوَسۡوِسُ - কুপরামর্শ/কুমন্ত্রণা দেয়
فِىۡ - মধ্যে
صُدُوۡرِ - অন্তরের
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿٥﴾ - (৫)
مِنَ - মধ্য থেকে
الۡجِنَّةِ - জ্বিনের
وَالنَّاسِ - এবং মানুষের
﴿٦﴾ - (৬)

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩২২, নং ৫০৮২; তিরমিযী ৫/৫৬৭, নং ৩৫৭৫। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৮২

...তিনবার করে বলবে, এটাই তার সবকিছুর (নিরাপত্তার) জন্য যথেষ্ট হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি সকাল ও বিকালে ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’(সূরা ইখলাস),

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি) قُلۡ বলুন هُوَ তিনি اللّٰهُ আল্লাহ اَحَدٌ‌ এক, অদ্বিতীয় ۚ‏﴿١﴾ (১) اَللّٰهُ আল্লাহ الصَّمَدُ‌ অমুখাপেক্ষী, অভাবমুক্ত ۚ‏﴿٢﴾ (২) لَمۡ নি يَلِدۡ তিনি কাউকে জন্ম দেন ۙوَلَمۡ এবং নি يُوۡلَدۡ কেউ তাঁকে জন্ম দেয় ۙ‏﴿٣﴾ (৩) وَلَمۡ এবং নাই يَكُنۡ (হয়) لَّهٗ তাঁর كُفُوًا সমতূল্য/সমকক্ষ اَحَدٌ কেউ ﴿٤﴾‏‏ (৪)

বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

ও সূরা ফালাক,

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি) قُلۡ বলুুন اَعُوۡذُ আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই بِرَبِّ পালনকর্তার الۡفَلَقِۙ‏ ভোর/প্রভাতের ﴿١﴾ (১) مِنۡ থেকে شَرِّ অনিষ্ট مَا যা خَلَقَۙ‏ তিনি সৃষ্টি করেছেন ﴿٢﴾ (২) وَمِنۡ এবং হতে شَرِّ অনিষ্ট غَاسِقٍ অন্ধকার রাত্রির اِذَا যখন وَقَبَۙ‏ আচ্ছন্ন হয় ﴿٣﴾ (৩) وَمِنۡ এবং থেকে شَرِّ অনিষ্ট النَّفّٰثٰتِ ফুঁৎকার প্রদানকারীর فِى মধ্যে الۡعُقَدِۙ‏ গ্রন্থি/গীরা ﴿٤﴾ (৪) وَمِنۡ এবং থেকে شَرِّ অনিষ্ট حَاسِدٍ হিংসুকের اِذَا যখন حَسَدَ সে হিংসা করে ﴿٥﴾ (৫)

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।

ও সূরা নাস,

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি) قُلۡ বলুন اَعُوۡذُ আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই بِرَبِّ পালনকর্তার النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿١﴾ (১) مَلِكِ মালিক/বাদশাহ/অধিপতি النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿٢﴾ (২) اِلٰهِ উপাস্য/মা'বুদের النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿٣﴾ (৩) مِنۡ থেকে شَرِّ অনিষ্ট الۡوَسۡوَاسِ ۙ কুপরামর্শর/কুমন্ত্রণার الۡخَـنَّاسِ আত্নগোপনকারী ۙ‏﴿٤﴾ (৪) الَّذِىۡ যে يُوَسۡوِسُ কুপরামর্শ/কুমন্ত্রণা দেয় فِىۡ মধ্যে صُدُوۡرِ অন্তরের النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿٥﴾ (৫) مِنَ মধ্য থেকে الۡجِنَّةِ জ্বিনের وَالنَّاسِ এবং মানুষের ﴿٦﴾ (৬)

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩২২, নং ৫০৮২; তিরমিযী ৫/৫৬৭, নং ৩৫৭৫। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৮২

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #৪

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #৪

সকালে বলবে,

أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِيْ هٰذَا الْيَوْمِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهُ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْ هٰذَا الْيَوْمِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوْءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِيْ النَّارِ وَعَذَابٍ فِيْ الْقَبْرِ

আসবাহ্‌না ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লাহি, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। রব্বি আস্আলুকা খাইরা মা ফী হা-যাল ইয়াউমি ওয়া খাইরা মা বা‘দাহু, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা ফী হা-যাল ইয়াউমি ওয়া শাররি মা বা‘দাহু। রব্বি আঊযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূইল-কিবারি। রব্বি আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযাবিন ফিন্না-রি ওয়া আযাবিন্ ফিল ক্বাবরি

আমরা আল্লাহর জন্য সকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সকালে উপনীত হয়েছে, আল্লাহ্‌র জন্য। সমুদয় প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে রব্ব! এই দিনের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু কল্যাণ আছে আমি আপনার নিকট তা প্রার্থনা করি। আর এই দিনের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু অকল্যাণ আছে, তা থেকে আমি আপনার আশ্রয় চাই। হে রব্ব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা ও খারাপ বার্ধক্য থেকে। হে রব্ব!আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামে আযাব হওয়া থেকে এবং কবরে আযাব হওয়া থেকে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَصْبَحْنَا - আমরা সকালে উপনীত হয়েছি
وَأَصْبَحَ - এবং সকালে উপনীত হয়েছে
الْمُلْكُ - সকল রাজত্ব
لِلّٰهِ، - আল্লাহর জন্য
وَالْحَمْدُ - এবং যাবতীয় প্রশংসা
لِلّٰهِ، - আল্লাহ জন্য
لَا - নাই (কোনো)
إِلٰهَ - মাবুদ/ইলাহ
إِلَّا - ছাড়া
اللّٰهُ - আল্লাহ
وَحْدَهُ - এবং তিনি এক
لاَ - নাই
شَرِيْكَ - শরীক/অংশীদার
لَهُ، - তাঁর
لَهُ - তাঁরই
الْمُلْكُ - রাজত্ব
وَلَهُ - ও তাঁর
الْحَمْدُ - সমস্ত প্রশংসাও
وَهُوَ - এবং তিনি
عَلَى - উপর
كُلِّ - সব
شَيْءٍ - কিছুর
قَدِيْرٌ، - মহাপ্রতাপশালী/ক্ষমতাবান
رَبِّ - হে রব
أَسْأَلُكَ - আপনার কাছে আমি চাই
خَيْرَ - কল্যাণ রয়েছে
مَا - যা
فِيْ - মাঝে
هٰذَا - এই
الْيَوْمِ - দিনের
وَخَيْرَ - ও কল্যাণ
مَا - যা
بَعْدَهُ، - এর পরে রয়েছে
وَأَعُوْذُ - এবং আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنْ - থেকে
شَرِّ - অকল্যাণ
مَا - যা
فِيْ - মাঝে
هٰذَا - এই
الْيَوْمِ - দিনের
وَشَرِّ - ও অকল্যাণ
مَا - যা
بَعْدَهُ، - এর পরে রয়েছে
رَبِّ - হে রব্ব!
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنَ - থেকে
الْكَسَلِ - অলসতা
وَسُوْءِ - ও খারাপ
الْكِبَرِ، - বার্ধক্য
رَبِّ - হে রব্ব!
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنْ - থেকে
عَذَابٍ - আযাব
فِيْ - মধ্যের
النَّارِ - জাহান্নামের
وَعَذَابٍ - এবং আযাব (থেকে)
فِيْ - মধ্যের
الْقَبْرِ - কবরের

বিকালে বলবে,

أَمْسَيْنَا وَأَمْسٰى الْمُلْكُ لِلّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِيْ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوْءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِيْ النَّارِ وَعَذَابٍ فِيْ الْقَبْرِ

আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লাহি, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। রব্বি আস্আলুকা খাইরা মা ফী হাযিহিল লাইলাতি ওয়া খাইরা মা বা‘দাহা, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা ফী হাযিহিল লাইলাতি ওয়া শাররি মা বা‘দাহা। রব্বি আঊযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূইল-কিবারি। রব্বি আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযাবিন ফিন্না-রি ওয়া আযাবিন্ ফিল ক্বাবরি

আমরা আল্লাহর জন্য বিকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও বিকালে উপনীত হয়েছে, আল্লাহ্‌র জন্য। সমুদয় প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে রব্ব! এই রাতের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু কল্যাণ আছে আমি আপনার নিকট তা প্রার্থনা করি। আর এই রাতের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু অকল্যাণ আছে, তা থেকে আমি আপনার আশ্রয় চাই। হে রব্ব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা ও খারাপ বার্ধক্য থেকে। হে রব্ব!আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামে আযাব হওয়া থেকে এবং কবরে আযাব হওয়া থেকে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَمْسَيْنَا - আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি
وَأَمْسٰى - এবং বিকালে উপনীত হয়েছে
الْمُلْكُ - সকল রাজত্ব
لِلّٰهِ، - আল্লাহর জন্য
وَالْحَمْدُ - এবং যাবতীয় প্রশংসা
لِلّٰهِ، - আল্লাহ জন্য
لَا - নাই (কোনো)
إِلٰهَ - মাবুদ/ইলাহ
إِلَّا - ছাড়া
اللّٰهُ - আল্লাহ
وَحْدَهُ - এবং তিনি এক
لاَ - নাই
شَرِيْكَ - শরীক/অংশীদার
لَهُ، - তাঁর
لَهُ - তাঁরই
الْمُلْكُ - রাজত্ব
وَلَهُ - ও তাঁর
الْحَمْدُ - সমস্ত প্রশংসাও
وَهُوَ - এবং তিনি
عَلَى - উপর
كُلِّ - সব
شَيْءٍ - কিছুর
قَدِيْرٌ، - মহাপ্রতাপশালী/ক্ষমতাবান
رَبِّ - হে রব
أَسْأَلُكَ - আপনার কাছে আমি চাই
خَيْرَ - কল্যাণ রয়েছে
مَا - যা
فِيْ - মাঝে
هٰذِهِ - এই
اللَّيْلَةِ - রাতের
وَخَيْرَ - ও কল্যাণ
مَا - যা
بَعْدَهَا، - এর পরে রয়েছে
وَأَعُوْذُ - এবং আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنْ - থেকে
شَرِّ - অকল্যাণ
مَا - যা
فِيْ - মাঝে
هٰذِهِ - এই
اللَّيْلَةِ - রাতের
وَشَرِّ - ও অকল্যাণ
مَا - যা
بَعْدَهَا، - এর পরে রয়েছে
رَبِّ - হে রব্ব!
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنَ - থেকে
الْكَسَلِ - অলসতা
وَسُوْءِ - ও খারাপ
الْكِبَرِ، - বার্ধক্য
رَبِّ - হে রব্ব!
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنْ - থেকে
عَذَابٍ - আযাব
فِيْ - মধ্যের
النَّارِ - জাহান্নামের
وَعَذَابٍ - এবং আযাব (থেকে)
فِيْ - মধ্যের
الْقَبْرِ - কবরের

রেফারেন্স: মুসলিম, ৪/২০৮৮, নং ২৭২৩

সকালে বলবে,

أَصْبَحْنَا আমরা সকালে উপনীত হয়েছি وَأَصْبَحَ এবং সকালে উপনীত হয়েছে الْمُلْكُ সকল রাজত্ব لِلّٰهِ، আল্লাহর জন্য وَالْحَمْدُ এবং যাবতীয় প্রশংসা لِلّٰهِ، আল্লাহ জন্য لَا নাই (কোনো) إِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ إِلَّا ছাড়া اللّٰهُ আল্লাহ وَحْدَهُ এবং তিনি এক لاَ নাই شَرِيْكَ শরীক/অংশীদার لَهُ، তাঁর لَهُ তাঁরই الْمُلْكُ রাজত্ব وَلَهُ ও তাঁর الْحَمْدُ সমস্ত প্রশংসাও وَهُوَ এবং তিনি عَلَى উপর كُلِّ সব شَيْءٍ কিছুর قَدِيْرٌ، মহাপ্রতাপশালী/ক্ষমতাবান رَبِّ হে রব أَسْأَلُكَ আপনার কাছে আমি চাই خَيْرَ কল্যাণ রয়েছে مَا যা فِيْ মাঝে هٰذَا এই الْيَوْمِ দিনের وَخَيْرَ ও কল্যাণ مَا যা بَعْدَهُ، এর পরে রয়েছে وَأَعُوْذُ এবং আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنْ থেকে شَرِّ অকল্যাণ مَا যা فِيْ মাঝে هٰذَا এই الْيَوْمِ দিনের وَشَرِّ ও অকল্যাণ مَا যা بَعْدَهُ، এর পরে রয়েছে رَبِّ হে রব্ব! أَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنَ থেকে الْكَسَلِ অলসতা وَسُوْءِ ও খারাপ الْكِبَرِ، বার্ধক্য رَبِّ হে রব্ব! أَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنْ থেকে عَذَابٍ আযাব فِيْ মধ্যের النَّارِ জাহান্নামের وَعَذَابٍ এবং আযাব (থেকে) فِيْ মধ্যের الْقَبْرِ কবরের

আমরা আল্লাহর জন্য সকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সকালে উপনীত হয়েছে, আল্লাহ্‌র জন্য। সমুদয় প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে রব্ব! এই দিনের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু কল্যাণ আছে আমি আপনার নিকট তা প্রার্থনা করি। আর এই দিনের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু অকল্যাণ আছে, তা থেকে আমি আপনার আশ্রয় চাই। হে রব্ব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা ও খারাপ বার্ধক্য থেকে। হে রব্ব!আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামে আযাব হওয়া থেকে এবং কবরে আযাব হওয়া থেকে।

বিকালে বলবে,

أَمْسَيْنَا আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি وَأَمْسٰى এবং বিকালে উপনীত হয়েছে الْمُلْكُ সকল রাজত্ব لِلّٰهِ، আল্লাহর জন্য وَالْحَمْدُ এবং যাবতীয় প্রশংসা لِلّٰهِ، আল্লাহ জন্য لَا নাই (কোনো) إِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ إِلَّا ছাড়া اللّٰهُ আল্লাহ وَحْدَهُ এবং তিনি এক لاَ নাই شَرِيْكَ শরীক/অংশীদার لَهُ، তাঁর لَهُ তাঁরই الْمُلْكُ রাজত্ব وَلَهُ ও তাঁর الْحَمْدُ সমস্ত প্রশংসাও وَهُوَ এবং তিনি عَلَى উপর كُلِّ সব شَيْءٍ কিছুর قَدِيْرٌ، মহাপ্রতাপশালী/ক্ষমতাবান رَبِّ হে রব أَسْأَلُكَ আপনার কাছে আমি চাই خَيْرَ কল্যাণ রয়েছে مَا যা فِيْ মাঝে هٰذِهِ এই اللَّيْلَةِ রাতের وَخَيْرَ ও কল্যাণ مَا যা بَعْدَهَا، এর পরে রয়েছে وَأَعُوْذُ এবং আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنْ থেকে شَرِّ অকল্যাণ مَا যা فِيْ মাঝে هٰذِهِ এই اللَّيْلَةِ রাতের وَشَرِّ ও অকল্যাণ مَا যা بَعْدَهَا، এর পরে রয়েছে رَبِّ হে রব্ব! أَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنَ থেকে الْكَسَلِ অলসতা وَسُوْءِ ও খারাপ الْكِبَرِ، বার্ধক্য رَبِّ হে রব্ব! أَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنْ থেকে عَذَابٍ আযাব فِيْ মধ্যের النَّارِ জাহান্নামের وَعَذَابٍ এবং আযাব (থেকে) فِيْ মধ্যের الْقَبْرِ কবরের

আমরা আল্লাহর জন্য বিকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও বিকালে উপনীত হয়েছে, আল্লাহ্‌র জন্য। সমুদয় প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে রব্ব! এই রাতের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু কল্যাণ আছে আমি আপনার নিকট তা প্রার্থনা করি। আর এই রাতের মাঝে এবং এর পরে যা কিছু অকল্যাণ আছে, তা থেকে আমি আপনার আশ্রয় চাই। হে রব্ব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা ও খারাপ বার্ধক্য থেকে। হে রব্ব!আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামে আযাব হওয়া থেকে এবং কবরে আযাব হওয়া থেকে।

রেফারেন্স: মুসলিম, ৪/২০৮৮, নং ২৭২৩

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #৫

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #৫

সকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوْتُ وَإِلَيْكَ النُّشُوْرُ

আল্লা-হুম্মা বিকা আসবাহ্‌না ওয়াবিকা আমসাইনা ওয়াবিকা নাহ্‌ইয়া, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলাইকান নুশূর

হে আল্লাহ! আমরা আপনার জন্য সকালে উপনীত হয়েছি এবং আপনারই জন্য আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি। আর আপনার দ্বারা আমরা জীবিত থাকি, আপনার দ্বারাই আমরা মারা যাব; আর আপনার দিকেই উত্থিত হব।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ
بِكَ - আপনার কাছে
أَصْبَحْنَا، - সকালে উপনীত হয়েছি
وَبِكَ - এবং আপনার কাছে
أَمْسَيْنَا، - আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি
وَبِكَ - এবং আপনার দ্বারা
نَحْيَا، - আমরা জীবিত থাকি
وَبِكَ - ও আপনার দ্বারা
نَمُوْتُ - আমরা মৃত্যু বরন করি
وَإِلَيْكَ - এবং আপনার দিকেই
النُّشُوْرُ - পুনরুত্থিত হব

বিকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوْتُ، وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ

আল্লা-হুম্মা বিকা আমসাইনা ওয়াবিকা আসবাহ্‌না ওয়াবিকা নাহ্‌ইয়া ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

হে আল্লাহ!আমরা আপনার জন্য বিকালে উপনীত হয়েছি এবং আপনারই জন্য আমরা সকালে উপনীত হয়েছি। আর আপনার দ্বারা আমরা জীবিত থাকি, আপনার দ্বারাই আমরা মারা যাব;আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তিত হব।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ
بِكَ - আপনার কাছে
أَمْسَيْنَا، - আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি
وَبِكَ - এবং আপনার কাছে
أَصْبَحْنَا، - সকালে উপনীত হয়েছি
وَبِكَ - এবং আপনার দ্বারা
نَحْيَا، - আমরা জীবিত থাকি
وَبِكَ - ও আপনার দ্বারা
نَمُوْتُ، - আমরা মৃত্যু বরন করি
وَإِلَيْكَ - এবং আপনার দিকেই
الْمَصِيْرُ - প্রত্যাবর্তন

রেফারেন্স: তিরমিযী, ৫/৪৬৬, নং ৩৩৯১ আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২

সকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ بِكَ আপনার কাছে أَصْبَحْنَا، সকালে উপনীত হয়েছি وَبِكَ এবং আপনার কাছে أَمْسَيْنَا، আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি وَبِكَ এবং আপনার দ্বারা نَحْيَا، আমরা জীবিত থাকি وَبِكَ ও আপনার দ্বারা نَمُوْتُ আমরা মৃত্যু বরন করি وَإِلَيْكَ এবং আপনার দিকেই النُّشُوْرُ পুনরুত্থিত হব

হে আল্লাহ! আমরা আপনার জন্য সকালে উপনীত হয়েছি এবং আপনারই জন্য আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি। আর আপনার দ্বারা আমরা জীবিত থাকি, আপনার দ্বারাই আমরা মারা যাব; আর আপনার দিকেই উত্থিত হব।

বিকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ بِكَ আপনার কাছে أَمْسَيْنَا، আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি وَبِكَ এবং আপনার কাছে أَصْبَحْنَا، সকালে উপনীত হয়েছি وَبِكَ এবং আপনার দ্বারা نَحْيَا، আমরা জীবিত থাকি وَبِكَ ও আপনার দ্বারা نَمُوْتُ، আমরা মৃত্যু বরন করি وَإِلَيْكَ এবং আপনার দিকেই الْمَصِيْرُ প্রত্যাবর্তন

হে আল্লাহ!আমরা আপনার জন্য বিকালে উপনীত হয়েছি এবং আপনারই জন্য আমরা সকালে উপনীত হয়েছি। আর আপনার দ্বারা আমরা জীবিত থাকি, আপনার দ্বারাই আমরা মারা যাব;আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তিত হব।

রেফারেন্স: তিরমিযী, ৫/৪৬৬, নং ৩৩৯১ আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২

সায়্যিদুল ইসতিগফার (ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোআ)

সায়্যিদুল ইসতিগফার (ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোআ)

اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ

আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানী ওয়া আনা ‘আব্দুকা,

হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ্!
أَنْتَ - আপনি
رَبِّيْ - আমার প্রভু
لَا - নেই
إِلٰهَ - হক্ব ইলাহ
إِلَّا - ছাড়া
أَنْتَ، - আপনি
خَلَقْتَنِيْ - আমাকে সৃষ্টি করেছেন
وَأَنَا - এবং আমি
عَبْدُكَ - আপনার বান্দা

وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ

ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্বা‘তু। আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু,

আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَأَنَا - এবং আমি
عَلَى - উপর রয়েছি
عَهْدِكَ - আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার
وَوَعْدِكَ - এবং আপনার (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির
مَا - যা
اسْتَطَعْتُ، - আমার সাধ্য মতো
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنْ - থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
مَا - যা
صَنَعْتُ - আমি করেছি

أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِيْ

আবূউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী।

আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَبُوْءُ - আমি স্বীকার করছি
لَكَ - আপনার কাছে
بِنِعْمَتِكَ - আপনার অনুগ্রহ
عَلَيَّ، - আমার উপর
وَأَبُوْءُ - এবং আমি স্বীকার করছি
بِذَنْبِيْ - আমার অপরাধ/পাপ

فَاغْفِرْ لِيْ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ

ফাগফির লী, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা

অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
فَاغْفِرْ - অতএব ক্ষমা করুন
لِيْ - আমাকে
فَإِنَّهُ - নিশ্চয়
لَا - না
يَغْفِرُ - মাফ করবে
الذُّنُوْبَ - গুনাহসমূহ
إِلَّا - ছাড়া (আর কেউ)
أَنْتَ - আপনি

রেফারেন্স: বুখারী, ৭/১৫০, নং ৬৩০৬।

যে ব্যক্তি সকালবেলা অথবা সন্ধ্যাবেলা এটি (‘সায়্যিদুল ইসতিগফার’) অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাসসহকারে পড়বে, সে ঐ দিন রাতে বা দিনে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে।

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ্! أَنْتَ আপনি رَبِّيْ আমার প্রভু لَا নেই إِلٰهَ হক্ব ইলাহ إِلَّا ছাড়া أَنْتَ، আপনি خَلَقْتَنِيْ আমাকে সৃষ্টি করেছেন وَأَنَا এবং আমি عَبْدُكَ আপনার বান্দা

হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা।

وَأَنَا এবং আমি عَلَى উপর রয়েছি عَهْدِكَ আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার وَوَعْدِكَ এবং আপনার (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির مَا যা اسْتَطَعْتُ، আমার সাধ্য মতো أَعُوْذُ আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنْ থেকে شَرِّ অনিষ্ট مَا যা صَنَعْتُ আমি করেছি

আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

أَبُوْءُ আমি স্বীকার করছি لَكَ আপনার কাছে بِنِعْمَتِكَ আপনার অনুগ্রহ عَلَيَّ، আমার উপর وَأَبُوْءُ এবং আমি স্বীকার করছি بِذَنْبِيْ আমার অপরাধ/পাপ

আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ।

فَاغْفِرْ অতএব ক্ষমা করুন لِيْ আমাকে فَإِنَّهُ নিশ্চয় لَا না يَغْفِرُ মাফ করবে الذُّنُوْبَ গুনাহসমূহ إِلَّا ছাড়া (আর কেউ) أَنْتَ আপনি

অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।

রেফারেন্স: বুখারী, ৭/১৫০, নং ৬৩০৬।

জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি

জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি

সকালে চার বার বলবে,

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلَاىِٕكَتَكَ، وَجَمِيْعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসবাহ্‌তু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা ‘আরশিকা ওয়া মালা-ইকাতাকা ওয়া জামী‘আ খালক্বিকা, আন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আনতা ওয়াহ্‌দাকা লা শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা

হে আল্লাহ! আমি সকালে উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি, আরও সাক্ষী রাখছি আপনার ‘আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, (এর উপর) যে— নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোন হক্ব ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই; আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসূল।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
إِنِّيْ - নিশ্চয় আমি
أَصْبَحْتُ - সকালে উপনীত হয়েছি
أُشْهِدُكَ، - আমি সাক্ষী রাখছি আপনাকে
وَأُشْهِدُ - আরও সাক্ষী রাখছি
حَمَلَةَ - বহনকারীদেরকে
عَرْشِكَ، - আপনার আরশ
وَمَلَاىِٕكَتَكَ، - এবং আপনার ফেরেশতাগণকে
وَجَمِيْعَ - এবং সকল
خَلْقِكَ، - আপনার সৃষ্টিকে
أَنَّكَ - নিশ্চয়
أَنْتَ - আপনিই
اللّٰهُ - আল্লাহ
لَا - নেই
إِلٰهَ - ইলাহ
إِلَّا - ছাড়া (আর কোনো হক্ব)
أَنْتَ - আপনি
وَحْدَكَ - এবং আপনি এক
لَا - নেই
شَرِيْكَ - কোনো শরীক
لَكَ، - আপনার
وَأَنَّ - এবং যে
مُحَمَّدًا - মুহাম্মাদ (সা:)
عَبْدُكَ - আপনার বান্দা
وَرَسُوْلُكَ - ও আপনার রাসূল

বিকালে চার বার বলবে,

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَمْسَيْتُ أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلَاىِٕكَتَكَ، وَجَمِيْعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আমসাইতু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা ‘আরশিকা ওয়া মালা-ইকাতাকা ওয়া জামী‘আ খালক্বিকা, আন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আনতা ওয়াহ্‌দাকা লা শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা

হে আল্লাহ! আমি বিকালে উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি, আরও সাক্ষী রাখছি আপনার ‘আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, (এর উপর) যে— নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোন হক্ব ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই; আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসূল।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
إِنِّيْ - নিশ্চয় আমি
أَمْسَيْتُ - বিকালে উপনীত হয়েছি
أُشْهِدُكَ، - আমি সাক্ষী রাখছি আপনাকে
وَأُشْهِدُ - আরও সাক্ষী রাখছি
حَمَلَةَ - বহনকারীদেরকে
عَرْشِكَ، - আপনার আরশ
وَمَلَاىِٕكَتَكَ، - এবং আপনার ফেরেশতাগণকে
وَجَمِيْعَ - এবং সকল
خَلْقِكَ، - আপনার সৃষ্টিকে
أَنَّكَ - নিশ্চয়
أَنْتَ - আপনিই
اللّٰهُ - আল্লাহ
لَا - নেই
إِلٰهَ - ইলাহ
إِلَّا - ছাড়া (আর কোনো হক্ব)
أَنْتَ - আপনি
وَحْدَكَ - এবং আপনি এক
لَا - নেই
شَرِيْكَ - কোনো শরীক
لَكَ، - আপনার
وَأَنَّ - এবং যে
مُحَمَّدًا - মুহাম্মাদ (সা:)
عَبْدُكَ - আপনার বান্দা
وَرَسُوْلُكَ - ও আপনার রাসূল

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩১৭, নং ৫০৭১; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ১২০১; নাসাঈ, ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৯; ইবনুস সুন্নী, নং ৭০। সম্মানিত শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায রাহেমাহুল্লাহ তাঁর তুহফাতুল আখইয়ার গ্রন্থের পৃ. ২৩ এ নাসাঈ ও আবূ দাউদের সনদকে হাসান বলেছেন।

যে ব্যক্তি সকালে অথবা বিকালে তা চারবার বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবেন।

সকালে চার বার বলবে,

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! إِنِّيْ নিশ্চয় আমি أَصْبَحْتُ সকালে উপনীত হয়েছি أُشْهِدُكَ، আমি সাক্ষী রাখছি আপনাকে وَأُشْهِدُ আরও সাক্ষী রাখছি حَمَلَةَ বহনকারীদেরকে عَرْشِكَ، আপনার আরশ وَمَلَاىِٕكَتَكَ، এবং আপনার ফেরেশতাগণকে وَجَمِيْعَ এবং সকল خَلْقِكَ، আপনার সৃষ্টিকে أَنَّكَ নিশ্চয় أَنْتَ আপনিই اللّٰهُ আল্লাহ لَا নেই إِلٰهَ ইলাহ إِلَّا ছাড়া (আর কোনো হক্ব) أَنْتَ আপনি وَحْدَكَ এবং আপনি এক لَا নেই شَرِيْكَ কোনো শরীক لَكَ، আপনার وَأَنَّ এবং যে مُحَمَّدًا মুহাম্মাদ (সা:) عَبْدُكَ আপনার বান্দা وَرَسُوْلُكَ ও আপনার রাসূল

হে আল্লাহ! আমি সকালে উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি, আরও সাক্ষী রাখছি আপনার ‘আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, (এর উপর) যে— নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোন হক্ব ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই; আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসূল।

বিকালে চার বার বলবে,

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! إِنِّيْ নিশ্চয় আমি أَمْسَيْتُ বিকালে উপনীত হয়েছি أُشْهِدُكَ، আমি সাক্ষী রাখছি আপনাকে وَأُشْهِدُ আরও সাক্ষী রাখছি حَمَلَةَ বহনকারীদেরকে عَرْشِكَ، আপনার আরশ وَمَلَاىِٕكَتَكَ، এবং আপনার ফেরেশতাগণকে وَجَمِيْعَ এবং সকল خَلْقِكَ، আপনার সৃষ্টিকে أَنَّكَ নিশ্চয় أَنْتَ আপনিই اللّٰهُ আল্লাহ لَا নেই إِلٰهَ ইলাহ إِلَّا ছাড়া (আর কোনো হক্ব) أَنْتَ আপনি وَحْدَكَ এবং আপনি এক لَا নেই شَرِيْكَ কোনো শরীক لَكَ، আপনার وَأَنَّ এবং যে مُحَمَّدًا মুহাম্মাদ (সা:) عَبْدُكَ আপনার বান্দা وَرَسُوْلُكَ ও আপনার রাসূল

হে আল্লাহ! আমি বিকালে উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি, আরও সাক্ষী রাখছি আপনার ‘আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, (এর উপর) যে— নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোন হক্ব ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই; আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসূল।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩১৭, নং ৫০৭১; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ১২০১; নাসাঈ, ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৯; ইবনুস সুন্নী, নং ৭০। সম্মানিত শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায রাহেমাহুল্লাহ তাঁর তুহফাতুল আখইয়ার গ্রন্থের পৃ. ২৩ এ নাসাঈ ও আবূ দাউদের সনদকে হাসান বলেছেন।

আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায়

আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায়

সকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ

আল্লা-হুম্মা মা আসবাহা বী মিন নি‘মাতিন আউ বিআহাদিন মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়াহ্‌দাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হাম্‌দু ওয়ালাকাশ্ শুক্‌রু

হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে সকালে উপনীত হয়েছে, অথবা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও সাথে; এসব নেয়ামত কেবলমাত্র আপনার নিকট থেকেই; আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই। আর সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
مَا - যে
أَصْبَحَ - সকালে উপনীত হয়েছে
بِيْ - আমার সাথে
مِنْ - হতে
نِعْمَةٍ - নেয়ামত/অনুগ্রহ
أَوْ - অথবা
بِأَحَدٍ - কেউ কেউ
مِنْ - থেকে
خَلْقِكَ - আপনার সৃষ্টির
فَمِنْكَ - আপনার পক্ষ থেকে
وَحْدَكَ - এবং আপনি এক
لَا - নেই কোনো
شَرِيْكَ - শরীক
لَكَ، - আপনার
فَلَكَ - সুতরাং আপনারই জন্য
الْحَمْدُ - সকল প্রশংসা
وَلَكَ - এবং আপনারই জন্য
الشُّكْرُ - সকল কৃতজ্ঞতা

বিকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ مَا أَمْسَى بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ

আল্লা-হুম্মা মা আমসা বী মিন নি‘মাতিন আউ বিআহাদিন মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়াহ্‌দাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হাম্‌দু ওয়ালাকাশ্ শুক্‌রু

হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে বিকালে উপনীত হয়েছে, অথবা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও সাথে; এসব নেয়ামত কেবলমাত্র আপনার নিকট থেকেই; আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই। আর সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
مَا - যে
أَمْسَى - বিকালে উপনীত হয়েছে
بِيْ - আমার সাথে
مِنْ - হতে
نِعْمَةٍ - নেয়ামত/অনুগ্রহ
أَوْ - অথবা
بِأَحَدٍ - কেউ কেউ
مِنْ - থেকে
خَلْقِكَ - আপনার সৃষ্টির
فَمِنْكَ - আপনার পক্ষ থেকে
وَحْدَكَ - এবং আপনি এক
لَا - নেই কোনো
شَرِيْكَ - শরীক
لَكَ، - আপনার
فَلَكَ - সুতরাং আপনারই জন্য
الْحَمْدُ - সকল প্রশংসা
وَلَكَ - এবং আপনারই জন্য
الشُّكْرُ - সকল কৃতজ্ঞতা

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, আবূ দাউদ ৪/৩১৮, নং ৫০৭৫; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৭; ইবনুস সুন্নী, নং ৪১; ইবন হিব্বান, (মাওয়ারিদ) নং ২৩৬১ আর শাইখ ইবন বায তাঁর তুহফাতুল আখইয়ার পৃ. ২৪ এ এর সনদকে হাসান বলেছেন।

যে ব্যক্তি সকালবেলা উপরোক্ত দো‘আ পাঠ করলো সে যেন সেই দিনের শুকরিয়া আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি বিকালবেলা এ দো‘আ পাঠ করলো সে যেন রাতের শুকরিয়া আদায় করলো

সকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! مَا যে أَصْبَحَ সকালে উপনীত হয়েছে بِيْ আমার সাথে مِنْ হতে نِعْمَةٍ নেয়ামত/অনুগ্রহ أَوْ অথবা بِأَحَدٍ কেউ কেউ مِنْ থেকে خَلْقِكَ আপনার সৃষ্টির فَمِنْكَ আপনার পক্ষ থেকে وَحْدَكَ এবং আপনি এক لَا নেই কোনো شَرِيْكَ শরীক لَكَ، আপনার فَلَكَ সুতরাং আপনারই জন্য الْحَمْدُ সকল প্রশংসা وَلَكَ এবং আপনারই জন্য الشُّكْرُ সকল কৃতজ্ঞতা

হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে সকালে উপনীত হয়েছে, অথবা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও সাথে; এসব নেয়ামত কেবলমাত্র আপনার নিকট থেকেই; আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই। আর সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য।

বিকালে বলবে,

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! مَا যে أَمْسَى বিকালে উপনীত হয়েছে بِيْ আমার সাথে مِنْ হতে نِعْمَةٍ নেয়ামত/অনুগ্রহ أَوْ অথবা بِأَحَدٍ কেউ কেউ مِنْ থেকে خَلْقِكَ আপনার সৃষ্টির فَمِنْكَ আপনার পক্ষ থেকে وَحْدَكَ এবং আপনি এক لَا নেই কোনো شَرِيْكَ শরীক لَكَ، আপনার فَلَكَ সুতরাং আপনারই জন্য الْحَمْدُ সকল প্রশংসা وَلَكَ এবং আপনারই জন্য الشُّكْرُ সকল কৃতজ্ঞতা

হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে বিকালে উপনীত হয়েছে, অথবা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও সাথে; এসব নেয়ামত কেবলমাত্র আপনার নিকট থেকেই; আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই। আর সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য।

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, আবূ দাউদ ৪/৩১৮, নং ৫০৭৫; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৭; ইবনুস সুন্নী, নং ৪১; ইবন হিব্বান, (মাওয়ারিদ) নং ২৩৬১ আর শাইখ ইবন বায তাঁর তুহফাতুল আখইয়ার পৃ. ২৪ এ এর সনদকে হাসান বলেছেন।

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #৯

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #৯

তিন বার বলবে,

اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ

আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী সাম্‘ঈ আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাসারী। লা ইলা-হা ইল্লা আনতা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল-ফাক্বরি ওয়া আ‘উযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আন্‌তা।

হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শরীরে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শ্রবণশক্তিতে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফরি ও দারিদ্র্য থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩২৪, নং ৫০৯২; আহমাদ ৫/৪২, নং ২০৪৩০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ, নং ২২; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৯; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ৭০১ আর শাইখ আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের পৃ. ২৬ এ এর সনদকে হাসান বলেছেন।

তিন বার বলবে,

اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ

হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শরীরে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শ্রবণশক্তিতে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফরি ও দারিদ্র্য থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩২৪, নং ৫০৯২; আহমাদ ৫/৪২, নং ২০৪৩০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ, নং ২২; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৯; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, নং ৭০১ আর শাইখ আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের পৃ. ২৬ এ এর সনদকে হাসান বলেছেন।

দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট হবেন

দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট হবেন

সাত বার বলবে,

حَسْبِيَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

হাসবিয়াল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব্ব।

রেফারেন্স: ইবনুস সুন্নী, নং ৭১, মারফূ‘ সনদে; আবূ দাউদ ৪/৩২১; মাওকূফ সনদে, নং ৫০৮১ আর শাইখ শু‘আইব ও আব্দুল কাদের আরনাঊত এর সনদকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, যাদুল মা‘আদ ২/৩৭৬।

যে ব্যক্তি দো‘আটি সকালবেলা সাতবার এবং বিকালবেলা সাতবার বলবে তার দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট হবেন।

সাত বার বলবে,

حَسْبِيَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব্ব।

রেফারেন্স: ইবনুস সুন্নী, নং ৭১, মারফূ‘ সনদে; আবূ দাউদ ৪/৩২১; মাওকূফ সনদে, নং ৫০৮১ আর শাইখ শু‘আইব ও আব্দুল কাদের আরনাঊত এর সনদকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, যাদুল মা‘আদ ২/৩৭৬।

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১১

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১১

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ، وَمَالِيْ، اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ، وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ، اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَينِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَمِيْنِيْ، وَعَنْ شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল- ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাতি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়াদুনইয়াইয়া, ওয়া আহ্‌লী ওয়া মা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী ওয়া আ-মিন রাও‘আ-তি। আল্লা-হুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া শিমা-লী ওয়া মিন ফাওকী। ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহ্‌তী

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নীচ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, নং ৫০৭৪; ইবন মাজাহ্‌, নং ৩৮৭১ আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্‌ ২/৩৩২

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ، وَمَالِيْ، اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ، وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ، اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَينِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَمِيْنِيْ، وَعَنْ شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নীচ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, নং ৫০৭৪; ইবন মাজাহ্‌, নং ৩৮৭১ আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্‌ ২/৩৩২

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১২

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১২

اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

আল্লা-হুম্মা আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ্‌শাহা-দাতি ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, রব্বা কুল্লি শাই’ইন ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল-লা ইলা-হা ইল্লা আনতা। আ‘উযু বিকা মিন শাররি নাফ্‌সী ওয়া মিন শাররিশ শাইত্বা-নি ওয়াশারাকিহী ওয়া আন আক্বতারিফা ‘আলা নাফ্‌সী সূওআন আউ আজুররাহূ ইলা মুসলিম

হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।

রেফারেন্স: তিরমিযী, নং ৩৩৯২; আবূ দাউদ, নং ৫০৬৭। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২

اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।

রেফারেন্স: তিরমিযী, নং ৩৩৯২; আবূ দাউদ, নং ৫০৬৭। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২

কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না

কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না

তিন বার বলবে,

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদ্বুররু মা‘আস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই, ওয়াহুয়াস্ সামী‘উল ‘আলীম

আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৮; ইবন মাজাহ, নং ৩৮৬৯; আহমাদ, নং ৪৪৬। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩৩২ আর আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় এটার সনদকে হাসান বলেছেন।

যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং বিকালে তিনবার এটি বলবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।

তিন বার বলবে,

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৮; ইবন মাজাহ, নং ৩৮৬৯; আহমাদ, নং ৪৪৬। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩৩২ আর আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় এটার সনদকে হাসান বলেছেন।

কিয়ামতের দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি

কিয়ামতের দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি

তিন বার বলবে,

رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا، وَّبِالْإِسْلاَمِ دِينًا وَّبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا

রদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলা-মি দীনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামা নাবিয়্যান

আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবীরূপে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট।

রেফারেন্স: [১] আহমাদ ৪/৩৩৭; নং ১৮৯৬৭; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নং ৪; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৮; আবু দাউদ, ৪/৩১৮, নং ১৫৩১; তিরমিযী ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৯। আর ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ এর ৩৯ পৃষ্ঠায় একে হাসান বলেছেন। [২] হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১৬; আলবানী, সাহীহাহ ?/৪২১; সহীহুত তারগীব ১/১৬০।

যে ব্যক্তি এ দো‘আ সকাল ও বিকাল তিনবার করে বলবে, আল্লাহর কাছে তার অধিকার হয়ে যায় তাকে কিয়ামাতের দিন সন্তুষ্ট করা। [১] মুনাইযির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকালে এ বাক্যগুলো বলবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করছি যে, তাঁর হাত ধরে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।” হাফিয হাইসামী হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন। [২]

তিন বার বলবে,

رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا، وَّبِالْإِسْلاَمِ دِينًا وَّبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا

আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবীরূপে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট।

রেফারেন্স: [১] আহমাদ ৪/৩৩৭; নং ১৮৯৬৭; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নং ৪; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৮; আবু দাউদ, ৪/৩১৮, নং ১৫৩১; তিরমিযী ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৯। আর ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ এর ৩৯ পৃষ্ঠায় একে হাসান বলেছেন। [২] হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১৬; আলবানী, সাহীহাহ ?/৪২১; সহীহুত তারগীব ১/১৬০।

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১৫

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১৫

يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ أَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ

ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূমু বিরহ্‌মাতিকা আস্তাগীসু, আসলিহ্‌ লী শা’নী কুল্লাহু, ওয়ালা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা ‘আইন

হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমতের অসীলায় আপনার কাছে উদ্ধার কামনা করি, আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন, আর আমাকে আমার নিজের কাছে নিমেষের জন্যও সোপর্দ করবেন না।

রেফারেন্স: হাকেম ১/৫৪৫, তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আরও দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ১/২৭৩

يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ أَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ

হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমতের অসীলায় আপনার কাছে উদ্ধার কামনা করি, আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন, আর আমাকে আমার নিজের কাছে নিমেষের জন্যও সোপর্দ করবেন না।

রেফারেন্স: হাকেম ১/৫৪৫, তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আরও দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ১/২৭৩

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১৬

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১৬

সকালে বলবে,

أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هٰذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ، وَنَصْرَهُ، وَنُوْرَهُ، وَبَرَكَتَهُ، وَهُدَاهُ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْهِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ

আসবাহ্‌না ওয়া আসবাহাল-মূলকু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আলামীন। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খাইরা হাযাল ইয়াওমি ফাতহাহু ওয়া নাসরাহু ওয়া নুরাহু ওয়া বারাকাতাহু ওয়া হুদা-হু। ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা ফীহি ওয়া শাররি মা বা‘দাহু

আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সকালে উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্‌র জন্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কামনা করি এই দিনের কল্যাণ: বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত ও হেদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এ দিনের এবং এ দিনের পরের অকল্যাণ থেকে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَصْبَحْنَا - আমরা সকালে উপনীত হয়েছি
وَأَصْبَحَ - এবং সকালে উপনীত হয়
الْمُلْكُ - যাবতীয় রাজত্বও
لِلّٰهِ - আল্লাহর জন্য
رَبِّ - পালনকর্তা
الْعَالَمِيْنَ، - সকল সৃষ্টি জগতের
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
إِنِّيْ - নিশ্চয় আমি
أَسْأَلُكَ - আপনার কাছে চাই
خَيْرَ - কল্যাণ/মঙ্গল
هٰذَا - এই
الْيَوْمِ - দিনের
فَتْحَهُ، - তার বিজয়
وَنَصْرَهُ، - ও তার সাহায্য
وَنُوْرَهُ، - ও তার নূর
وَبَرَكَتَهُ، - ও তার রবকত
وَهُدَاهُ، - ও তার হেদায়াত
وَأَعُوْذُ - এবং আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنْ - থেকে
شَرِّ - অকল্যাণ
مَا - যা আছে
فِيْهِ - তার মাঝে
وَشَرِّ - এবং অকল্যাণ
مَا - যা আছে
بَعْدَهُ - তার পরে

বিকালে বলবে,

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ :فَتْحَهَا، وَنَصْرَهَا، وَنُوْرَهَا، وَبَرَكَتَهَا، وَهُدَاهَا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْهَا وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا

আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামীন। আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরা হাযিহিল লাইলাতি ফাতহাহা ওয়া নাসরাহা, ওয়া নূরাহা, ওয়া বারাকাতাহা, ওয়া হুদাহা, ওয়া আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা ফী-হা, ওয়া শাররি মা বা‘দাহা

আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও বিকালে উপত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্‌র জন্য। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কামনা করি এই রাতের কল্যাণ: বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত ও হেদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এ রাতের এবং এ রাতের পরের অকল্যাণ থেকে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَمْسَيْنَا - আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি
وَأَمْسَى - এবং বিকালে উপনীত হয়
الْمُلْكُ - যাবতীয় রাজত্বও
لِلّٰهِ - আল্লাহর জন্য
رَبِّ - পালনকর্তা
الْعَالَمِيْنَ، - সকল সৃষ্টি জগতের
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ!
إِنِّيْ - নিশ্চয় আমি
أَسْأَلُكَ - আপনার কাছে চাই
خَيْرَ - কল্যাণ/মঙ্গল
هٰذِهِ - এই
اللَّيْلَةِ - দিনের
:فَتْحَهَا، - তার বিজয়
وَنَصْرَهَا، - ও তার সাহায্য
وَنُوْرَهَا، - ও তার নূর
وَبَرَكَتَهَا، - ও তার রবকত
وَهُدَاهَا، - ও তার হেদায়াত
وَأَعُوْذُ - এবং আমি আশ্রয় চাই
بِكَ - আপনার কাছে
مِنْ - থেকে
شَرِّ - অকল্যাণ
مَا - যা আছে
فِيْهَا - তার মাঝে
وَشَرِّ - এবং অকল্যাণ
مَا - যা আছে
بَعْدَهَا - তার পরে

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩২২, নং ৫০৮৪; আর শু‘আইব ও আবদুল কাদের আরনাঊত যাদুল মা‘আদের সম্পাদনায় ২/৩৭৩ এর সনদকে হাসান বলেছেন।

সকালে বলবে,

أَصْبَحْنَا আমরা সকালে উপনীত হয়েছি وَأَصْبَحَ এবং সকালে উপনীত হয় الْمُلْكُ যাবতীয় রাজত্বও لِلّٰهِ আল্লাহর জন্য رَبِّ পালনকর্তা الْعَالَمِيْنَ، সকল সৃষ্টি জগতের اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! إِنِّيْ নিশ্চয় আমি أَسْأَلُكَ আপনার কাছে চাই خَيْرَ কল্যাণ/মঙ্গল هٰذَا এই الْيَوْمِ দিনের فَتْحَهُ، তার বিজয় وَنَصْرَهُ، ও তার সাহায্য وَنُوْرَهُ، ও তার নূর وَبَرَكَتَهُ، ও তার রবকত وَهُدَاهُ، ও তার হেদায়াত وَأَعُوْذُ এবং আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنْ থেকে شَرِّ অকল্যাণ مَا যা আছে فِيْهِ তার মাঝে وَشَرِّ এবং অকল্যাণ مَا যা আছে بَعْدَهُ তার পরে

আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সকালে উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্‌র জন্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কামনা করি এই দিনের কল্যাণ: বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত ও হেদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এ দিনের এবং এ দিনের পরের অকল্যাণ থেকে।

বিকালে বলবে,

أَمْسَيْنَا আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি وَأَمْسَى এবং বিকালে উপনীত হয় الْمُلْكُ যাবতীয় রাজত্বও لِلّٰهِ আল্লাহর জন্য رَبِّ পালনকর্তা الْعَالَمِيْنَ، সকল সৃষ্টি জগতের اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! إِنِّيْ নিশ্চয় আমি أَسْأَلُكَ আপনার কাছে চাই خَيْرَ কল্যাণ/মঙ্গল هٰذِهِ এই اللَّيْلَةِ দিনের :فَتْحَهَا، তার বিজয় وَنَصْرَهَا، ও তার সাহায্য وَنُوْرَهَا، ও তার নূর وَبَرَكَتَهَا، ও তার রবকত وَهُدَاهَا، ও তার হেদায়াত وَأَعُوْذُ এবং আমি আশ্রয় চাই بِكَ আপনার কাছে مِنْ থেকে شَرِّ অকল্যাণ مَا যা আছে فِيْهَا তার মাঝে وَشَرِّ এবং অকল্যাণ مَا যা আছে بَعْدَهَا তার পরে

আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও বিকালে উপত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্‌র জন্য। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কামনা করি এই রাতের কল্যাণ: বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত ও হেদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এ রাতের এবং এ রাতের পরের অকল্যাণ থেকে।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ ৪/৩২২, নং ৫০৮৪; আর শু‘আইব ও আবদুল কাদের আরনাঊত যাদুল মা‘আদের সম্পাদনায় ২/৩৭৩ এর সনদকে হাসান বলেছেন।

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১৭

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #১৭

সকালে বলবে,

أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلاَمِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلاَصِ، وَعَلَى دِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعَلَى مِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيْمَ، حَنِيْفًا مُّسْلِمًا وَّمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

আসবাহনা ‘আলা ফিত্বরাতিল ইসলামি ওয়া আলা কালিমাতিল ইখলাসি ওয়া আলা দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আলা মিল্লাতি আবীনা ইবরা-হীমা হানীফাম মুসলিমাও ওয়ামা কা-না মিনাল মুশরিকীন

আমরা সকালে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিত্বরাতের উপর, নিষ্ঠাপূর্ণ বাণী (তাওহীদ) এর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের উপর, আর আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম-এর মিল্লাতের উপর—যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং যিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَصْبَحْنَا - আমরা সকালে উপনীত হয়েছি
عَلَى - উপর
فِطْرَةِ - ফিত্বরাত/স্বাভাবিকভাবে
الْإِسْلاَمِ، - ইসলামের
وَعَلَى - এবং উপর
كَلِمَةِ - বাণীর
الْإِخْلاَصِ، - নিষ্ঠাপূর্ণ
وَعَلَى - ও উপর
دِيْنِ - দ্বীনের
نَبِيِّنَا - আমাদের নবী
مُحَمَّدٍ - মুহাম্মাদ (সা:) এর
صَلَّى - দরুদ/রহমত বর্ষন করুন
اللّٰهُ - আল্লাহ
عَلَيْهِ - তার উপর
وَسَلَّمَ، - এবং সালাম/শান্তি
وَعَلَى - এবং উপর
مِلَّةِ - জাতি/ধর্ম
أَبِيْنَا - আমাদের পিতা
إِبْرَاهِيْمَ، - ইব্রাহীম (আ:)
حَنِيْفًا - একনিষ্ঠ
مُّسْلِمًا - মুসলিম
وَّمَا - এবং না
كَانَ - ছিলেন
مِنَ - থেকে
الْمُشْرِكِيْنَ - মুশরিকদের

বিকালে বলবে,

أَمْسَيْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلاَمِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلاَصِ، وَعَلَى دِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعَلَى مِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيْمَ، حَنِيْفًا مُّسْلِمًا وَّمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

আমসাইনা ‘আলা ফিত্বরাতিল ইসলামি ওয়া আলা কালিমাতিল ইখলাসি ওয়া আলা দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আলা মিল্লাতি আবীনা ইবরা-হীমা হানীফাম মুসলিমাও ওয়ামা কা-না মিনাল মুশরিকীন

আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিত্বরাতের উপর, নিষ্ঠাপূর্ণ বাণী (তাওহীদ) এর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের উপর, আর আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম-এর মিল্লাতের উপর—যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং যিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
أَمْسَيْنَا - আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি
عَلَى - উপর
فِطْرَةِ - ফিত্বরাত/স্বাভাবিকভাবে
الْإِسْلاَمِ، - ইসলামের
وَعَلَى - এবং উপর
كَلِمَةِ - বাণীর
الْإِخْلاَصِ، - নিষ্ঠাপূর্ণ
وَعَلَى - ও উপর
دِيْنِ - দ্বীনের
نَبِيِّنَا - আমাদের নবী
مُحَمَّدٍ - মুহাম্মাদ (সা:) এর
صَلَّى - দরুদ/রহমত বর্ষন করুন
اللّٰهُ - আল্লাহ
عَلَيْهِ - তার উপর
وَسَلَّمَ، - এবং সালাম/শান্তি
وَعَلَى - এবং উপর
مِلَّةِ - জাতি/ধর্ম
أَبِيْنَا - আমাদের পিতা
إِبْرَاهِيْمَ، - ইব্রাহীম (আ:)
حَنِيْفًا - একনিষ্ঠ
مُّسْلِمًا - মুসলিম
وَّمَا - এবং না
كَانَ - ছিলেন
مِنَ - থেকে
الْمُشْرِكِيْنَ - মুশরিকদের

রেফারেন্স: আহমাদ ৩/৪০৬, ৪০৭, নং ১৫৩৬০ ও নং ১৫৫৬৩; ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নং ৩৪ আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘উ ৪/২০৯।

সকালে বলবে,

أَصْبَحْنَا আমরা সকালে উপনীত হয়েছি عَلَى উপর فِطْرَةِ ফিত্বরাত/স্বাভাবিকভাবে الْإِسْلاَمِ، ইসলামের وَعَلَى এবং উপর كَلِمَةِ বাণীর الْإِخْلاَصِ، নিষ্ঠাপূর্ণ وَعَلَى ও উপর دِيْنِ দ্বীনের نَبِيِّنَا আমাদের নবী مُحَمَّدٍ মুহাম্মাদ (সা:) এর صَلَّى দরুদ/রহমত বর্ষন করুন اللّٰهُ আল্লাহ عَلَيْهِ তার উপর وَسَلَّمَ، এবং সালাম/শান্তি وَعَلَى এবং উপর مِلَّةِ জাতি/ধর্ম أَبِيْنَا আমাদের পিতা إِبْرَاهِيْمَ، ইব্রাহীম (আ:) حَنِيْفًا একনিষ্ঠ مُّسْلِمًا মুসলিম وَّمَا এবং না كَانَ ছিলেন مِنَ থেকে الْمُشْرِكِيْنَ মুশরিকদের

আমরা সকালে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিত্বরাতের উপর, নিষ্ঠাপূর্ণ বাণী (তাওহীদ) এর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের উপর, আর আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম-এর মিল্লাতের উপর—যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং যিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না

বিকালে বলবে,

أَمْسَيْنَا আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি عَلَى উপর فِطْرَةِ ফিত্বরাত/স্বাভাবিকভাবে الْإِسْلاَمِ، ইসলামের وَعَلَى এবং উপর كَلِمَةِ বাণীর الْإِخْلاَصِ، নিষ্ঠাপূর্ণ وَعَلَى ও উপর دِيْنِ দ্বীনের نَبِيِّنَا আমাদের নবী مُحَمَّدٍ মুহাম্মাদ (সা:) এর صَلَّى দরুদ/রহমত বর্ষন করুন اللّٰهُ আল্লাহ عَلَيْهِ তার উপর وَسَلَّمَ، এবং সালাম/শান্তি وَعَلَى এবং উপর مِلَّةِ জাতি/ধর্ম أَبِيْنَا আমাদের পিতা إِبْرَاهِيْمَ، ইব্রাহীম (আ:) حَنِيْفًا একনিষ্ঠ مُّسْلِمًا মুসলিম وَّمَا এবং না كَانَ ছিলেন مِنَ থেকে الْمُشْرِكِيْنَ মুশরিকদের

আমরা বিকালে উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিত্বরাতের উপর, নিষ্ঠাপূর্ণ বাণী (তাওহীদ) এর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের উপর, আর আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম-এর মিল্লাতের উপর—যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং যিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না

রেফারেন্স: আহমাদ ৩/৪০৬, ৪০৭, নং ১৫৩৬০ ও নং ১৫৫৬৩; ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নং ৩৪ আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘উ ৪/২০৯।

তার চেয়ে কেউ উৎকৃষ্ট হবে না যে এই দোআ বেশি পরবে

তার চেয়ে কেউ উৎকৃষ্ট হবে না যে এই দোআ বেশি পরবে

একশত বার বলবে,

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৭১, নং ২৬৯২

যে ব্যক্তি তা সকালে একশত বার ও বিকালে একশত বার বলবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি উৎকৃষ্ট কিছু কেউ নিয়ে আসতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি যে তার মত বলবে, বা তার চেয়ে বেশি আমল করবে।

একশত বার বলবে,

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৭১, নং ২৬৯২

দশটি দাসমুক্তির অনুরূপ ও একশত সাওয়াব

দশটি দাসমুক্তির অনুরূপ ও একশত সাওয়াব

১০ বার [১] অথবা (অলসতা লাগলে) ১ বার [২] বলবে অথবা একশত বার বলবে,

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

রেফারেন্স: [১]ইমাম আবু ইউসুফ,কিতাবুল আসার ১/৪১-৪২;আলবানী,সহীহুত তারগীব ১/২৬২-২৬৪ [২]আলবানী।সহীহুত তারগীব ১/২৬৩ [৩]আব্দুর রাজ্জাক সান'আনী,আল-মুসান্নাফ ২/২৩৫। [৪]বুখারী(৬৩-কিতাব বাদইয়িল খালক,১১-বাব সিফাত ইব্লিস...) ৩/১১৯৮ (ভা ২/৯৪৭); মুসলিম(৪৮-কিতাবুয যিকর,১০-বাব ফাদলিত তাহলীল...)৪/২০৭১ (ভা ২/৩৪৪)।

বিভিন্ন হাদীসে ফজরের পরে সালাতের বৈঠকে থেকেই ১০০ বার অথবা ১০ বার এবং মাগরিবের পরেই সালাতের বৈঠকে থেকেই ১০ বার বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবূ যার (রা), আবু আইয়ূব আনসারী (রা) ও অন্যান্য সাহাবী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মাগরিবের পর এবং ফজরের পর, ঘুরে বসা বা নড়াচড়ার আগেই, পা গুটানো অবস্থাতেই, কোনো কথা বলার আগে এ যিকরটি ১০ বার পাঠ করবে আল্লাহ তার প্রত্যেক বারের জন্য ১০ টি সাওয়াব লিখবেন, ১০ টি গোনাহ ক্ষমা করবেন, তাঁর ১০ টি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, সেদিনের জন্য তাকে সকল অমঙ্গল ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করা হবে, শয়তান থেকে পাহারা দেওয়া হবে। সেদিনে র্শিক ছাড়া কোনো গোনাহ তাঁকে ধরতে পারা উচিত নয়। যে ব্যক্তি তার চেয়ে বেশি বলবে সে ছাড়া অন্য সবার চেয়ে সে সে দিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকারী বলে গণ্য হবে।” হাদীসটি হাসান পর্যায়ের। আবু উমামাহ (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ফজরের পরেই তাঁর পা গুটানোর আগেই যিকরটি ১০০ বার পাঠ করবে, সে ব্যক্তি ঐ দিনের শ্রেষ্ঠ আমলকারী বলে বিবেচিত হবে। তবে যে ব্যক্তি তাঁর মতো বা তাঁর চেয়ে বেশি বলবে তাঁর কথা ভিন্ন।” হাদীসটির সনদ হাসান। একটি দুর্বল সনদের হাদীসে এ যিকরটি প্রত্যেক ফরয সালাতের শেষে পা ভাঁজ করে বসে থেকেই কথা বলার পূর্বে দশবার বলতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং তার বিশেষ ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: “যদি কেউ এক দিনে ১০০ বার উপরের বাক্যগুলো বলে তা তার জন্য দশজন ক্রীতদাস মুক্ত করার সমান হবে, তার জন্য ১০০ সাওয়াব লেখা হবে, তার ১০০ গোনাহ ক্ষমা করা হবে এবং ঐ দিনের জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত তা তাকে শয়তান থেকে সংরক্ষণ করবে। ঐ দিনে তার কর্মই সর্বোত্তম বলে গণ্য হবে, তবে যদি কেউ তার চেয়েও বেশি আমল করে তবে তা ভিন্ন কথা।”

১০ বার [১] অথবা (অলসতা লাগলে) ১ বার [২] বলবে অথবা একশত বার বলবে,

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

রেফারেন্স: [১]ইমাম আবু ইউসুফ,কিতাবুল আসার ১/৪১-৪২;আলবানী,সহীহুত তারগীব ১/২৬২-২৬৪ [২]আলবানী।সহীহুত তারগীব ১/২৬৩ [৩]আব্দুর রাজ্জাক সান'আনী,আল-মুসান্নাফ ২/২৩৫। [৪]বুখারী(৬৩-কিতাব বাদইয়িল খালক,১১-বাব সিফাত ইব্লিস...) ৩/১১৯৮ (ভা ২/৯৪৭); মুসলিম(৪৮-কিতাবুয যিকর,১০-বাব ফাদলিত তাহলীল...)৪/২০৭১ (ভা ২/৩৪৪)।

চারটি কালেমা সারা সকাল ইবাদতের চেয়েও ওজনে ভারী

চারটি কালেমা সারা সকাল ইবাদতের চেয়েও ওজনে ভারী

উম্মুল মুমিনিন জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) প্রত্যূষে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। যখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তিনি সালাতের জায়গায় ছিলেন। এরপর তিনি –দুহা’র পরে ফিরে এলেন। তখনও তিনি বসেছিলেন। নবী (সা) বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্হায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি সেই অবস্হায়ই আছো? তিনি বললেন, হ্যা। তখন নবী (সা) বললেনঃ আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করলে এই কালেমা চারটির ওযনই বেশী হবে। কালেমাগুলো এই- (তিনবার বলবে)

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

সুব্‌হা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী ‘আদাদা খালক্বিহী, ওয়া রিদা নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী।

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি— তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান ও তাঁর বাণীসমূহ লেখার কালি পরিমাণ (অগণিত অসংখ্য)

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৯০, নং ২৭২৬।

উম্মুল মুমিনিন জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) প্রত্যূষে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। যখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তিনি সালাতের জায়গায় ছিলেন। এরপর তিনি –দুহা’র পরে ফিরে এলেন। তখনও তিনি বসেছিলেন। নবী (সা) বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্হায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি সেই অবস্হায়ই আছো? তিনি বললেন, হ্যা। তখন নবী (সা) বললেনঃ আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করলে এই কালেমা চারটির ওযনই বেশী হবে। কালেমাগুলো এই- (তিনবার বলবে)

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি— তাঁর সৃষ্ট বস্তুসমূহের সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তোষের সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান ও তাঁর বাণীসমূহ লেখার কালি পরিমাণ (অগণিত অসংখ্য)

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৯০, নং ২৭২৬।

উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমলের দো'আ

উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমলের দো'আ

সকালবেলা বলবে,

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا

আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফে‘আন ওয়া রিয্‌কান তাইয়্যেবান ওয়া ‘আমালান মুতাক্বাব্বালান

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, ইবনুস সুন্নী, নং ৫৪; ইবন মাজাহ, নং ৯২৫। আর আব্দুল কাদের ও শু‘আইব আল-আরনাঊত যাদুল মা‘আদের সম্পাদনায় ২/৩৭৫; এর সনদকে হাসান বলেছেন। আর পূর্ব ৭৩ নং এ ও তা গত হয়েছে।

সকালবেলা বলবে,

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, ইবনুস সুন্নী, নং ৫৪; ইবন মাজাহ, নং ৯২৫। আর আব্দুল কাদের ও শু‘আইব আল-আরনাঊত যাদুল মা‘আদের সম্পাদনায় ২/৩৭৫; এর সনদকে হাসান বলেছেন। আর পূর্ব ৭৩ নং এ ও তা গত হয়েছে।

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #২২

সকাল ও বিকালের যিক্‌রসমূহ #২২

প্রতি দিন ১০০ বার বলবে,

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি

আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি

রেফারেন্স: বুখারী (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১০১, নং ৬৩০৭; মুসলিম ৪/২০৭৫, নং ২৭০২

প্রতি দিন ১০০ বার বলবে,

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি

রেফারেন্স: বুখারী (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১০১, নং ৬৩০৭; মুসলিম ৪/২০৭৫, নং ২৭০২

বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তা

বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তা

তিন বার বিকালবেলা বলবে,

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্বা।

আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।

রেফারেন্স: আহমাদ ২/২৯০, নং ৭৮৯৮; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৫৯০; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮৭; সহীহ ইবন মাজাহ ২/২৬৬; তুহফাতুল আখইয়ার লি ইবন বায, পৃ. ৪৫।

যে কেউ বিকাল বেলা এ দো‘আটি তিনবার বলবে, সে রাতে কোনো বিষধর প্রাণী তার ক্ষতি করতে পারবে না।

তিন বার বিকালবেলা বলবে,

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।

রেফারেন্স: আহমাদ ২/২৯০, নং ৭৮৯৮; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৫৯০; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮৭; সহীহ ইবন মাজাহ ২/২৬৬; তুহফাতুল আখইয়ার লি ইবন বায, পৃ. ৪৫।

কিয়ামতের দিন রসুলুল্লাহ (স:)এর সুপারিশ লাভ

কিয়ামতের দিন রসুলুল্লাহ (স:)এর সুপারিশ লাভ

দশবার বলবে,

اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ

আল্লা-হুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ

হে আল্লাহ! আপনি সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর।

রেফারেন্স: তাবরানী হাদীসটি দু’ সনদে সংকলন করেন, যার একটি উত্তম। দেখুন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ১০/১২০; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৭৩

‘যে কেউ সকাল বেলা আমার উপর দশবার দরুদ পাঠ করবে এবং বিকাল বেলা দশবার দরুদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ দ্বারা সৌভাগ্যবান হবে।’

দশবার বলবে,

اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ

হে আল্লাহ! আপনি সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর।

রেফারেন্স: তাবরানী হাদীসটি দু’ সনদে সংকলন করেন, যার একটি উত্তম। দেখুন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ১০/১২০; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৭৩

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৬

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৬

اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِيْ مِنَ النَّارِ

আল্লা-হুম্মা, আজিরনী মিনান না-র।

হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: [১]আবু দাঊদ (কিতাবুল আদব,বাব...ইযা আসবাহা) ৪/৩২২ (ভা ২/৬৯৩);সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৬৭, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৬১-৩৬৫, নাবাবী,আযকার পৃ. ১১৫;আলবানী ৬/২২; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৯৬

হারিস ইবনু মুসলিম (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলেছেন, তুমি ফজরের সালাতের পরেই (দুনিয়াবী) কথা বলার আগে এ দু‘আ ৭ বার বলবে। যদি তুমি ঐ দিনে মৃত্যুবরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। অনুরূপভাবে, মাগরিবের সালাতের পরে কথা বলার আগেই এ দু‘আ ৭ বার বলবে। তুমি যদি ঐ রাতে মৃত্যু বরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।” অধিকাংশ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেছেন।

اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِيْ مِنَ النَّارِ

হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

রেফারেন্স: [১]আবু দাঊদ (কিতাবুল আদব,বাব...ইযা আসবাহা) ৪/৩২২ (ভা ২/৬৯৩);সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৬৭, মাওয়ারিদুয যামআন ৭/৩৬১-৩৬৫, নাবাবী,আযকার পৃ. ১১৫;আলবানী ৬/২২; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৯৬

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৫

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৫

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ

আস্-তাগফিরুল্লা-হ

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।

রেফারেন্স: রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৯৭

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।

রেফারেন্স: রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৯৭

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৭

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৭

সকালে ১ বার।

اَللّٰهُمَّ إنِّيْ قَدْ تَصَدَّقْتُ بِعِرْضِيْ عَلَی عِبَادِكَ

আল্লা-হুম্মা, ইন্নী কাদ তাসাদ্দাকতু বি‘ইরদী ‘আলা- ‘ইবাদিকা।

হে আল্লাহ, আমি আমার মর্যাদা-সম্মান আপনার বান্দাগণের জন্য দান করে দিলাম।

রেফারেন্স: আবূূ দাউদ (কিতাবুল আদাব, বাব মা ফির রাজুলি...) ৪/২৭৩, নং ৪৮৮৬,৪৮৮৭; আল-মাকদিসী, আল-আহাদীসুল মুখতারাহ ৫/১৪৯; নাবাবী, আল-আযকার, পৃ। ১২৭; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৩৭

তাবেয়ী আব্দুর রাহমান ইবনু আজলান অথবা সাহাবী আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: “তোমরা কি আবু দামদামের মতো হতে পার না?” সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন: “আবু দামদাম কে?” তিনি বলেন: “তোমাদের পূর্বের যুগের একজন মানুষ। তিনি প্রতিদিন সকালে এ বাক্যটি বলতেন।” অন্য বর্ণনায়: “তিনি বলতেন, আমাকে যে গালি দেয় আমি আমার সম্মান তাকে দান করলাম।” হাদীসটির সনদ সহীহ, তবে মুরসাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সকালে ১ বার।

اَللّٰهُمَّ إنِّيْ قَدْ تَصَدَّقْتُ بِعِرْضِيْ عَلَی عِبَادِكَ

হে আল্লাহ, আমি আমার মর্যাদা-সম্মান আপনার বান্দাগণের জন্য দান করে দিলাম।

রেফারেন্স: আবূূ দাউদ (কিতাবুল আদাব, বাব মা ফির রাজুলি...) ৪/২৭৩, নং ৪৮৮৬,৪৮৮৭; আল-মাকদিসী, আল-আহাদীসুল মুখতারাহ ৫/১৪৯; নাবাবী, আল-আযকার, পৃ। ১২৭; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৩৭

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৮

সকাল ও বিকালের যিকরসমূহ #২৮

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত

هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ ۚ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ‌ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِيۡمُ‏ ﴿٢٢﴾ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ اَلۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَيۡمِنُ الۡعَزِيۡزُ الۡجَـبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُ‌ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ‏ ﴿٢٣﴾ هُوَ اللّٰهُ الۡخَـالِـقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ‌ لَـهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى‌ؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ‌ۚ وَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُ‏ ﴿٢٤﴾

রেফারেন্স: তিরমিযী (৪৬-ফাদায়িলুল কুরআন, ২২-বাব) ৫/১৬৭ (ভা ২/১২০); নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১২৫; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৩৮

একটি দুর্বল সনদের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রা) রাসূলুল্লাহ (স) থেকে বর্ণনা করেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে (৩ বার) বলবে: أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ “আমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি” এবং এরপর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে আল্লাহ তাঁর জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতাকে নিয়োজিত করবেন যারা তাঁর জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু‘আ করবে। যদি সে ঐ দিনে মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা বলবে সেও উপরিউক্ত মর্যাদা লাভ করবে।” ইমাম তিরমিযী হাদীসটি সংকলিত করে হাদীসটির সনদ যয়ীফ বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববীও দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন।

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত

هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ ۚ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ‌ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِيۡمُ‏ ﴿٢٢﴾ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ اَلۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَيۡمِنُ الۡعَزِيۡزُ الۡجَـبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُ‌ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ‏ ﴿٢٣﴾ هُوَ اللّٰهُ الۡخَـالِـقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ‌ لَـهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى‌ؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ‌ۚ وَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُ‏ ﴿٢٤﴾

রেফারেন্স: তিরমিযী (৪৬-ফাদায়িলুল কুরআন, ২২-বাব) ৫/১৬৭ (ভা ২/১২০); নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১২৫; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৩৮

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠের ফযীলত

📄 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠের ফযীলত


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠের ফযীলত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠের ফযীলত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ্ তার উপর দশবার দরুদ পাঠ করবেন।” [১] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “তোমরা আমার কবরকে ঈদ তথা সম্মিলনস্থলে পরিণত করবে না, আর তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ কর;কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়, তোমরা যেখানেই থাক না কেন।” [২] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হলো অতঃপর সে আমার উপর দরূদ পড়লো না, সে-ই কৃপণ।” [৩] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “পৃথিবীতে আল্লাহর একদল ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা রয়েছে যারা উম্মতের পক্ষ থেকে প্রেরিত সালাম আমার কাছে পৌঁছিয়ে দেয়।” [৪] রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যখন কোনো ব্যক্তি আমাকে সালাম দেয়, তখন আল্লাহ আমার রূহ ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি সালামের জবাব দিতে পারি।” [৫]

রেফারেন্স: [১] হাদীসটি সংকলন করেছেন, মুসলিম ১/২৮৮, নং ৩৮[৪] [২] আবূ দাউদ ২/২১৮, নং ২০৪৪; আহমাদ ২/৩৬৭, নং ৮৮০[৪] আর শাইখ আলবানী একে সহীহ আবি দাঊদে ২/৩৮৩, সহীহ বলেছেন। [৩] তিরমিযী, ৫/৫৫১, নং ৩৫৪৬, ইত্যাদি। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৩/২৫; সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৭৭। [৪] নাসাঈ, ৩/৪৩, নং ১২৮২; হাকেম, ২/৪২[১] আর শাইখ আলবানী একে সহীহুন নাসাঈ ১/২৭৪, সহীহ বলেছেন। [৫] আবূ দাউদ, নং ২০৪[১] আর শাইখ আলবানী সহীহ আবি দাউদে ১/৩৮৩, একে হাসান হাদীস বলেছেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ্ তার উপর দশবার দরুদ পাঠ করবেন।” [১] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “তোমরা আমার কবরকে ঈদ তথা সম্মিলনস্থলে পরিণত করবে না, আর তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ কর;কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়, তোমরা যেখানেই থাক না কেন।” [২] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হলো অতঃপর সে আমার উপর দরূদ পড়লো না, সে-ই কৃপণ।” [৩] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “পৃথিবীতে আল্লাহর একদল ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা রয়েছে যারা উম্মতের পক্ষ থেকে প্রেরিত সালাম আমার কাছে পৌঁছিয়ে দেয়।” [৪] রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যখন কোনো ব্যক্তি আমাকে সালাম দেয়, তখন আল্লাহ আমার রূহ ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি সালামের জবাব দিতে পারি।” [৫]

রেফারেন্স: [১] হাদীসটি সংকলন করেছেন, মুসলিম ১/২৮৮, নং ৩৮[৪] [২] আবূ দাউদ ২/২১৮, নং ২০৪৪; আহমাদ ২/৩৬৭, নং ৮৮০[৪] আর শাইখ আলবানী একে সহীহ আবি দাঊদে ২/৩৮৩, সহীহ বলেছেন। [৩] তিরমিযী, ৫/৫৫১, নং ৩৫৪৬, ইত্যাদি। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৩/২৫; সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৭৭। [৪] নাসাঈ, ৩/৪৩, নং ১২৮২; হাকেম, ২/৪২[১] আর শাইখ আলবানী একে সহীহুন নাসাঈ ১/২৭৪, সহীহ বলেছেন। [৫] আবূ দাউদ, নং ২০৪[১] আর শাইখ আলবানী সহীহ আবি দাউদে ১/৩৮৩, একে হাসান হাদীস বলেছেন।

দু'আর শুরুতে ও শেষে দুরুদ পাঠ

দু'আর শুরুতে ও শেষে দুরুদ পাঠ

يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।

ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।

রেফারেন্স: হাদীসটি সহীহ। তিরমিযী ৫/৫০৪ (নং ৩৫২৪, ৩৫২৫) (ভা ২/১৯২); মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৭৬, মুসনাদ আবী ইয়ালা ৬/৪৪৫, আলবানী, সহীহুল জামিয়িস সাগীর ১/২৬৯, নং ১২৫০, সিলসিলাতুস সাহীহাহ ৪/৪৯-৫১; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ২৩

আল্লাহর নাম নিয়ে দু‘আর ক্ষেত্রে বিশেষ একটি নাম ‘যুল জালালি ওয়াল ইকরাম’। দু‘আর মধ্যে এ নাম বেশি বেশি বলতে রাসূলুল্লাহ (স) নির্দেশ দিয়েছেন। রাবীয়া ইবনু আমের (রা) বলেন , রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : “তোমরা ‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’-কে সর্বদা আঁকড়ে ধরে থাকবে (দু‘আয় বেশি বেশি বলবে)।”

يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।

রেফারেন্স: হাদীসটি সহীহ। তিরমিযী ৫/৫০৪ (নং ৩৫২৪, ৩৫২৫) (ভা ২/১৯২); মুসতাদরাক হাকিম ১/৬৭৬, মুসনাদ আবী ইয়ালা ৬/৪৪৫, আলবানী, সহীহুল জামিয়িস সাগীর ১/২৬৯, নং ১২৫০, সিলসিলাতুস সাহীহাহ ৪/৪৯-৫১; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ২৩

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 সন্ধায় উপনীত হলে করণীয়

📄 সন্ধায় উপনীত হলে করণীয়


সন্ধায় উপনীত হলে করণীয়

সন্ধায় উপনীত হলে করণীয়

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন রাত্রি অন্ধকার হবে” অথবা (বলেছেন) “সন্ধায় উপনীত হলে, তখন তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে আগলে রাখবে; কারণ, তখন শয়তানরা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তারপর যখন রাতের একটা সময় অতিবাহিত হবে, তখন তাদের ছেড়ে দিবে। আর তোমরা দরজাগুলো বন্ধ করবে এবং আল্লাহ্‌র নাম নিবে; কেননা শয়তান কোনো বন্ধ দরজা খুলে না। আর তোমরা তোমাদের পানপাত্রসমূহ বেঁধে রাখবে এবং আল্লাহ্‌র নাম নিবে। আর তোমরা তোমাদের থালা-বাসন ঢেকে রাখবে এবং আল্লাহ্‌র নাম নিবে, যদিও সামান্য কিছু তার উপর রাখ। আর তোমরা তোমাদের ঘরের প্রদীপগুলো নিভিয়ে রাখবে।”

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১০/৮৮; নং ৫৬২৩; মুসলিম, ৩/১৫৯৫, নং ২০১[২]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন রাত্রি অন্ধকার হবে” অথবা (বলেছেন) “সন্ধায় উপনীত হলে, তখন তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে আগলে রাখবে; কারণ, তখন শয়তানরা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তারপর যখন রাতের একটা সময় অতিবাহিত হবে, তখন তাদের ছেড়ে দিবে। আর তোমরা দরজাগুলো বন্ধ করবে এবং আল্লাহ্‌র নাম নিবে; কেননা শয়তান কোনো বন্ধ দরজা খুলে না। আর তোমরা তোমাদের পানপাত্রসমূহ বেঁধে রাখবে এবং আল্লাহ্‌র নাম নিবে। আর তোমরা তোমাদের থালা-বাসন ঢেকে রাখবে এবং আল্লাহ্‌র নাম নিবে, যদিও সামান্য কিছু তার উপর রাখ। আর তোমরা তোমাদের ঘরের প্রদীপগুলো নিভিয়ে রাখবে।”

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১০/৮৮; নং ৫৬২৩; মুসলিম, ৩/১৫৯৫, নং ২০১[২]

ফন্ট সাইজ
15px
17px