📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ

📄 ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ


কুরআনের শেষ তিন সূরা

কুরআনের শেষ তিন সূরা

দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে নিম্নোক্ত সূরাগুলো পড়ে তাতে ফুঁ দিবে:

﷽ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ‌ ۚ‏﴿١﴾ اَللّٰهُ الصَّمَدُ‌ ۚ‏﴿٢﴾ لَمۡ يَلِدۡ ۙوَلَمۡ يُوۡلَدۡ ۙ‏﴿٣﴾ وَلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿٤﴾‏‏ ‏

ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ

বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
﷽ - পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
قُلۡ - বলুন
هُوَ - তিনি
اللّٰهُ - আল্লাহ
اَحَدٌ‌ - এক, অদ্বিতীয়
ۚ‏﴿١﴾ - (১)
اَللّٰهُ - আল্লাহ
الصَّمَدُ‌ - অমুখাপেক্ষী, অভাবমুক্ত
ۚ‏﴿٢﴾ - (২)
لَمۡ - নি
يَلِدۡ - তিনি কাউকে জন্ম দেন
ۙوَلَمۡ - এবং নি
يُوۡلَدۡ - কেউ তাঁকে জন্ম দেয়
ۙ‏﴿٣﴾ - (৩)
وَلَمۡ - এবং নাই
يَكُنۡ - (হয়)
لَّهٗ - তাঁর
كُفُوًا - সমতূল্য/সমকক্ষ
اَحَدٌ - কেউ
﴿٤﴾‏‏ - (৪)

﷽ قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ الۡفَلَقِۙ‏ ﴿١﴾ مِنۡ شَرِّ مَا خَلَقَۙ‏ ﴿٢﴾ وَمِنۡ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ‏ ﴿٣﴾ وَمِنۡ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الۡعُقَدِۙ‏ ﴿٤﴾ وَمِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
﷽ - পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
قُلۡ - বলুুন
اَعُوۡذُ - আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই
بِرَبِّ - পালনকর্তার
الۡفَلَقِۙ‏ - ভোর/প্রভাতের
﴿١﴾ - (১)
مِنۡ - থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
مَا - যা
خَلَقَۙ‏ - তিনি সৃষ্টি করেছেন
﴿٢﴾ - (২)
وَمِنۡ - এবং হতে
شَرِّ - অনিষ্ট
غَاسِقٍ - অন্ধকার রাত্রির
اِذَا - যখন
وَقَبَۙ‏ - আচ্ছন্ন হয়
﴿٣﴾ - (৩)
وَمِنۡ - এবং থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
النَّفّٰثٰتِ - ফুঁৎকার প্রদানকারীর
فِى - মধ্যে
الۡعُقَدِۙ‏ - গ্রন্থি/গীরা
﴿٤﴾ - (৪)
وَمِنۡ - এবং থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
حَاسِدٍ - হিংসুকের
اِذَا - যখন
حَسَدَ - সে হিংসা করে
﴿٥﴾ - (৫)

﷽ قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ النَّاسِۙ‏ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِۙ‏ ﴿٢﴾ اِلٰهِ النَّاسِۙ‏ ﴿٣﴾ مِنۡ شَرِّ الۡوَسۡوَاسِ ۙ الۡخَـنَّاسِ ۙ‏﴿٤﴾ الَّذِىۡ يُوَسۡوِسُ فِىۡ صُدُوۡرِ النَّاسِۙ‏ ﴿٥﴾ مِنَ الۡجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
﷽ - পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
قُلۡ - বলুন
اَعُوۡذُ - আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই
بِرَبِّ - পালনকর্তার
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿١﴾ - (১)
مَلِكِ - মালিক/বাদশাহ/অধিপতি
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿٢﴾ - (২)
اِلٰهِ - উপাস্য/মা'বুদের
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿٣﴾ - (৩)
مِنۡ - থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
الۡوَسۡوَاسِ ۙ - কুপরামর্শর/কুমন্ত্রণার
الۡخَـنَّاسِ - আত্নগোপনকারী
ۙ‏﴿٤﴾ - (৪)
الَّذِىۡ - যে
يُوَسۡوِسُ - কুপরামর্শ/কুমন্ত্রণা দেয়
فِىۡ - মধ্যে
صُدُوۡرِ - অন্তরের
النَّاسِۙ‏ - মানুষের
﴿٥﴾ - (৫)
مِنَ - মধ্য থেকে
الۡجِنَّةِ - জ্বিনের
وَالنَّاسِ - এবং মানুষের
﴿٦﴾ - (৬)

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৯/৬২, নং ৫০১৭; মুসলিম ৪/১৭২৩, নং ২১৯২

তারপর দুই হাতের তালু দ্বারা দেহের যতোটা অংশ সম্ভব মাসেহ করবে। মাসেহ আরম্ভ করবে তার মাথা, মুখমণ্ডল ও দেহের সামনের দিক থেকে। এভাবে ৩ বার করবে।

দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে নিম্নোক্ত সূরাগুলো পড়ে তাতে ফুঁ দিবে:

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি) قُلۡ বলুন هُوَ তিনি اللّٰهُ আল্লাহ اَحَدٌ‌ এক, অদ্বিতীয় ۚ‏﴿١﴾ (১) اَللّٰهُ আল্লাহ الصَّمَدُ‌ অমুখাপেক্ষী, অভাবমুক্ত ۚ‏﴿٢﴾ (২) لَمۡ নি يَلِدۡ তিনি কাউকে জন্ম দেন ۙوَلَمۡ এবং নি يُوۡلَدۡ কেউ তাঁকে জন্ম দেয় ۙ‏﴿٣﴾ (৩) وَلَمۡ এবং নাই يَكُنۡ (হয়) لَّهٗ তাঁর كُفُوًا সমতূল্য/সমকক্ষ اَحَدٌ কেউ ﴿٤﴾‏‏ (৪)

বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি) قُلۡ বলুুন اَعُوۡذُ আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই بِرَبِّ পালনকর্তার الۡفَلَقِۙ‏ ভোর/প্রভাতের ﴿١﴾ (১) مِنۡ থেকে شَرِّ অনিষ্ট مَا যা خَلَقَۙ‏ তিনি সৃষ্টি করেছেন ﴿٢﴾ (২) وَمِنۡ এবং হতে شَرِّ অনিষ্ট غَاسِقٍ অন্ধকার রাত্রির اِذَا যখন وَقَبَۙ‏ আচ্ছন্ন হয় ﴿٣﴾ (৩) وَمِنۡ এবং থেকে شَرِّ অনিষ্ট النَّفّٰثٰتِ ফুঁৎকার প্রদানকারীর فِى মধ্যে الۡعُقَدِۙ‏ গ্রন্থি/গীরা ﴿٤﴾ (৪) وَمِنۡ এবং থেকে شَرِّ অনিষ্ট حَاسِدٍ হিংসুকের اِذَا যখন حَسَدَ সে হিংসা করে ﴿٥﴾ (৫)

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি) قُلۡ বলুন اَعُوۡذُ আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি/চাই بِرَبِّ পালনকর্তার النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿١﴾ (১) مَلِكِ মালিক/বাদশাহ/অধিপতি النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿٢﴾ (২) اِلٰهِ উপাস্য/মা'বুদের النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿٣﴾ (৩) مِنۡ থেকে شَرِّ অনিষ্ট الۡوَسۡوَاسِ ۙ কুপরামর্শর/কুমন্ত্রণার الۡخَـنَّاسِ আত্নগোপনকারী ۙ‏﴿٤﴾ (৪) الَّذِىۡ যে يُوَسۡوِسُ কুপরামর্শ/কুমন্ত্রণা দেয় فِىۡ মধ্যে صُدُوۡرِ অন্তরের النَّاسِۙ‏ মানুষের ﴿٥﴾ (৫) مِنَ মধ্য থেকে الۡجِنَّةِ জ্বিনের وَالنَّاسِ এবং মানুষের ﴿٦﴾ (৬)

বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৯/৬২, নং ৫০১৭; মুসলিম ৪/১৭২৩, নং ২১৯২

আয়াতুল কুরসি: সূরা আল-বাকারাহ্‌ ২৫৫

আয়াতুল কুরসি: সূরা আল-বাকারাহ্‌ ২৫৫

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡحَـىُّ الۡقَيُّوۡمُ

আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু

আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُ - আল্লাহ্
لَاۤ - নেই
اِلٰهَ - ইলাহ্/উপাস্য
اِلَّا - ছাড়া
هُوَ - তিনি
الۡحَـىُّ - চিরঞ্জীব
الۡقَيُّوۡمُ - চিরস্থায়ী/শাশ্বত সত্তা

لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوۡمٌ

লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম।

তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
لَا - না
تَاۡخُذُهٗ - তাঁকে স্পর্শ করতে পারে
سِنَةٌ - তন্দ্রা
وَّلَا - এবং না
نَوۡمٌ - নিদ্রা

لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِ

লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি।

আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
لَهٗ - তাঁর জন্য
مَا - যা কিছু
فِى - মধ্যে আছে
السَّمٰوٰتِ - আসমানসমূহে
وَمَا - এবং যা কিছু
فِى - মধ্যে আছে
الۡاَرۡضِ - যমীনে

مَنۡ ذَا الَّذِىۡ يَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ

মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী।

কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
مَنۡ - কে
ذَا - সে (এমন )
الَّذِىۡ - যিনি
يَشۡفَعُ - সুপারিশ করবে
عِنۡدَهٗۤ - তাঁর কাছে/নিকট
اِلَّا - ব্যতীত
بِاِذۡنِهٖ - তাঁর অনুমতি

يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ

ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম।

তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
يَعۡلَمُ - তিনি জানেন
مَا - যা কিছু আছে
بَيۡنَ - মধ্যে
اَيۡدِيۡهِمۡ - তাদের সামনে
وَمَا - এবং যা কিছু
خَلۡفَهُمۡ - তাদের পিছনে

وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ بِشَىۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ

ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ।

আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَلَا - এবং না
يُحِيۡطُوۡنَ - তারা আয়ত্ব করতে পারে
بِشَىۡءٍ - কোনো কিছুই
مِّنۡ - থেকে
عِلۡمِهٖۤ - তাঁর জ্ঞান
اِلَّا - ছাড়া
بِمَا - যা
شَآءَ - তিনি চান

وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ

ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব।

তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে;

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَسِعَ - বিস্তৃত/পরিব্যাপ্ত
كُرۡسِيُّهُ - তাঁর সিংহাসন (কর্তৃত্ব)
السَّمٰوٰتِ - আসমানসমূহে
وَالۡاَرۡضَ - এবং যমীনে

وَلَا يَـــُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا

ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা

আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَلَا - এবং না
يَـــُٔوۡدُهٗ - তাঁকে ক্লান্ত/পরিশ্রান্ত করে
حِفۡظُهُمَا - এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ

وَهُوَ الۡعَلِىُّ الۡعَظِيۡمُ‏

ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম

আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَهُوَ - এবং তিনি
الۡعَلِىُّ - সর্বোচ্চ/সুউচ্চ (সত্তা)
الۡعَظِيۡمُ‏ - সুমহান

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, নং ২৩১১

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে কেউ যখন রাতে আপন বিছানায় যাবে এবং ‘আয়াতুল কুরসী’ পড়বে, তখন সে রাতের পুরো সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য হেফাযতকারী থাকবে; আর সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তার নিকটেও আসতে পারবে না।”

اَللّٰهُ আল্লাহ্ لَاۤ নেই اِلٰهَ ইলাহ্/উপাস্য اِلَّا ছাড়া هُوَ তিনি الۡحَـىُّ চিরঞ্জীব الۡقَيُّوۡمُ চিরস্থায়ী/শাশ্বত সত্তা

আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।

لَا না تَاۡخُذُهٗ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে سِنَةٌ তন্দ্রা وَّلَا এবং না نَوۡمٌ নিদ্রা

তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।

لَهٗ তাঁর জন্য مَا যা কিছু فِى মধ্যে আছে السَّمٰوٰتِ আসমানসমূহে وَمَا এবং যা কিছু فِى মধ্যে আছে الۡاَرۡضِ যমীনে

আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর।

مَنۡ কে ذَا সে (এমন ) الَّذِىۡ যিনি يَشۡفَعُ সুপারিশ করবে عِنۡدَهٗۤ তাঁর কাছে/নিকট اِلَّا ব্যতীত بِاِذۡنِهٖ তাঁর অনুমতি

কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?

يَعۡلَمُ তিনি জানেন مَا যা কিছু আছে بَيۡنَ মধ্যে اَيۡدِيۡهِمۡ তাদের সামনে وَمَا এবং যা কিছু خَلۡفَهُمۡ তাদের পিছনে

তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।

وَلَا এবং না يُحِيۡطُوۡنَ তারা আয়ত্ব করতে পারে بِشَىۡءٍ কোনো কিছুই مِّنۡ থেকে عِلۡمِهٖۤ তাঁর জ্ঞান اِلَّا ছাড়া بِمَا যা شَآءَ তিনি চান

আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না।

وَسِعَ বিস্তৃত/পরিব্যাপ্ত كُرۡسِيُّهُ তাঁর সিংহাসন (কর্তৃত্ব) السَّمٰوٰتِ আসমানসমূহে وَالۡاَرۡضَ এবং যমীনে

তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে;

وَلَا এবং না يَـــُٔوۡدُهٗ তাঁকে ক্লান্ত/পরিশ্রান্ত করে حِفۡظُهُمَا এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ

আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না।

وَهُوَ এবং তিনি الۡعَلِىُّ সর্বোচ্চ/সুউচ্চ (সত্তা) الۡعَظِيۡمُ‏ সুমহান

আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, নং ২৩১১

সূরা বাকারাহ্‌ আয়াত ২৮৫-২৮৬

সূরা বাকারাহ্‌ আয়াত ২৮৫-২৮৬

اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ‌ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ‌ وَقَالُوۡا سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا‌ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيۡكَ الۡمَصِيۡرُ‏

আ-মানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ, লা নুফাররিক্বু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া ক্বালু সামি‘না ওয়া আতা‘না গুফ্‌রা-নাকা রব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اٰمَنَ - বিশ্বাস/ঈমান এনেছেন
الرَّسُوۡلُ - রসূল
بِمَاۤ - ঐ বিষয় যা
اُنۡزِلَ - অবতীর্ণ হয়েছে
اِلَيۡهِ - তাঁর প্রতি
مِنۡ - পক্ষ থেকে
رَّبِّهٖ - তাঁর রবের
وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ‌ؕ - এবং মুমিনরা
كُلٌّ - সবাই
اٰمَنَ - ঈমান এনেছেন
بِاللّٰهِ - আল্লাহর প্রতি
وَمَلٰٓئِكَتِهٖ - ও তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি
وَكُتُبِهٖ - এবং তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি
وَرُسُلِهٖ - ও তাঁর রসূলদের প্রতি
لَا - না
نُفَرِّقُ - আমরা পার্থক্য করি
بَيۡنَ - মাঝে
اَحَدٍ - কারো
مِّنۡ - হতে
رُّسُلِهٖ‌ - তাঁর রসূলদের মধ্যে
وَقَالُوۡا - এবং তারা বলে
سَمِعۡنَا - আমরা শুনলাম
وَاَطَعۡنَا‌ - এবং আমরা কবুল/মানলাম
غُفۡرَانَكَ - আমরা আপনার ক্ষমা চাই
رَبَّنَا - হে আমাদের পালনকর্তা
وَاِلَيۡكَ - এবং আপনারই দিকে
الۡمَصِيۡرُ‏ - প্রত্যাবর্তন হবে

لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ‌ؕ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا اكۡتَسَبَتۡ‌ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِيۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ‌ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَاۤ اِصۡرًا كَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَى الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ‌‌ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖۚ وَاعۡفُ عَنَّا وَاغۡفِرۡ لَنَا وَارۡحَمۡنَا اَنۡتَ مَوْلَىٰنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَى الۡقَوۡمِ الۡكٰفِرِيۡنَ

লা ইয়ুকাল্লিফুল্লাহু নাফ্‌সান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাক্তাসাবাত রব্বানা লা তুআখিয্‌না ইন নাসীনা আও আখ্‌ত্বা’না। রব্বনা ওয়ালা তাহ্‌মিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা। রব্বনা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা ত্বা-ক্বাতা লানা বিহী। ওয়া‘ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলা-না ফানসুরনা ‘আলাল ক্বাউমিল কাফিরীন

আল্লাহ্ কারো উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। [১]

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
لَا - না
يُكَلِّفُ - কাজের ভার দেন
اللّٰهُ - আল্লাহ
نَفۡسًا - কোনো ব্যক্তিকে
اِلَّا - ছাড়া
وُسۡعَهَا ‌ؕ - তার সামর্থ্য
لَهَا - তার জন্য (আছে)
مَا - যা (নেকী)
كَسَبَتۡ - সে উপার্জন করে
وَعَلَيۡهَا - এবং তার উপর বর্তায়
مَا - যা (পাপ)
اكۡتَسَبَتۡ‌ؕ - সে অর্জন করে
رَبَّنَا - হে আমাদের রব্ব
لَا - না
تُؤَاخِذۡنَاۤ - আমাদেরকে অপরাধী/পাকড়াও করবেন
اِنۡ - যদি
نَّسِيۡنَاۤ - আমরা ভুলে যাই
اَوۡ - কিংবা
اَخۡطَاۡنَا ‌ۚ - আমরা ভুল করি
رَبَّنَا - হে আমাদের রব্ব
وَلَا - এবং না
تَحۡمِلۡ - চাপিয়ে দিবেন
عَلَيۡنَاۤ - আমাদের উপর
اِصۡرًا - বোঝা
كَمَا - যেমন
حَمَلۡتَهٗ - তা চাপিয়ে দিয়েছিলেন
عَلَى - উপর
الَّذِيۡنَ - যারা
مِنۡ - ছিলো
قَبۡلِنَا ‌‌ۚ - আমাদের পূর্বে
رَبَّنَا - হে আমাদের রব্ব
وَلَا - এবং না
تُحَمِّلۡنَا - আমাদের উপর চাপাবেন
مَا - তা
لَا - নাই
طَاقَةَ - বহনশক্তি
لَنَا - আমাদের
بِهٖۚ - যার
وَاعۡفُ - এবং পাপ মোচন করুন
عَنَّا - আমাদের থেকে
وَاغۡفِرۡ - এবং ক্ষমা করুন
لَنَا - আমাদেরকে
وَارۡحَمۡنَا - এবং আমাদেরকে দয়া করুন
اَنۡتَ - তুমিই
مَوْلَىٰنَا - আমাদের অভিভাবক
فَانۡصُرۡنَا - অতএব আমাদেরকে সাহায্য কর
عَلَى - বিরুদ্ধে
الۡقَوۡمِ - সম্প্রদায়ের
الۡكٰفِرِيۡنَ - কাফের

রেফারেন্স: [১] সূরা আল-বাকারা ২৮৫-২৮৬। [২] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৯/৯৪, ৪০০৮; মুসলিম ১/৫৫৪, নং ৮০৭।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি রাতের বেলা সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। [২]

اٰمَنَ বিশ্বাস/ঈমান এনেছেন الرَّسُوۡلُ রসূল بِمَاۤ ঐ বিষয় যা اُنۡزِلَ অবতীর্ণ হয়েছে اِلَيۡهِ তাঁর প্রতি مِنۡ পক্ষ থেকে رَّبِّهٖ তাঁর রবের وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ‌ؕ এবং মুমিনরা كُلٌّ সবাই اٰمَنَ ঈমান এনেছেন بِاللّٰهِ আল্লাহর প্রতি وَمَلٰٓئِكَتِهٖ ও তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি وَكُتُبِهٖ এবং তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি وَرُسُلِهٖ ও তাঁর রসূলদের প্রতি لَا না نُفَرِّقُ আমরা পার্থক্য করি بَيۡنَ মাঝে اَحَدٍ কারো مِّنۡ হতে رُّسُلِهٖ‌ তাঁর রসূলদের মধ্যে وَقَالُوۡا এবং তারা বলে سَمِعۡنَا আমরা শুনলাম وَاَطَعۡنَا‌ এবং আমরা কবুল/মানলাম غُفۡرَانَكَ আমরা আপনার ক্ষমা চাই رَبَّنَا হে আমাদের পালনকর্তা وَاِلَيۡكَ এবং আপনারই দিকে الۡمَصِيۡرُ‏ প্রত্যাবর্তন হবে

রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।

لَا না يُكَلِّفُ কাজের ভার দেন اللّٰهُ আল্লাহ نَفۡسًا কোনো ব্যক্তিকে اِلَّا ছাড়া وُسۡعَهَا ‌ؕ তার সামর্থ্য لَهَا তার জন্য (আছে) مَا যা (নেকী) كَسَبَتۡ সে উপার্জন করে وَعَلَيۡهَا এবং তার উপর বর্তায় مَا যা (পাপ) اكۡتَسَبَتۡ‌ؕ সে অর্জন করে رَبَّنَا হে আমাদের রব্ব لَا না تُؤَاخِذۡنَاۤ আমাদেরকে অপরাধী/পাকড়াও করবেন اِنۡ যদি نَّسِيۡنَاۤ আমরা ভুলে যাই اَوۡ কিংবা اَخۡطَاۡنَا ‌ۚ আমরা ভুল করি رَبَّنَا হে আমাদের রব্ব وَلَا এবং না تَحۡمِلۡ চাপিয়ে দিবেন عَلَيۡنَاۤ আমাদের উপর اِصۡرًا বোঝা كَمَا যেমন حَمَلۡتَهٗ তা চাপিয়ে দিয়েছিলেন عَلَى উপর الَّذِيۡنَ যারা مِنۡ ছিলো قَبۡلِنَا ‌‌ۚ আমাদের পূর্বে رَبَّنَا হে আমাদের রব্ব وَلَا এবং না تُحَمِّلۡنَا আমাদের উপর চাপাবেন مَا তা لَا নাই طَاقَةَ বহনশক্তি لَنَا আমাদের بِهٖۚ যার وَاعۡفُ এবং পাপ মোচন করুন عَنَّا আমাদের থেকে وَاغۡفِرۡ এবং ক্ষমা করুন لَنَا আমাদেরকে وَارۡحَمۡنَا এবং আমাদেরকে দয়া করুন اَنۡتَ তুমিই مَوْلَىٰنَا আমাদের অভিভাবক فَانۡصُرۡنَا অতএব আমাদেরকে সাহায্য কর عَلَى বিরুদ্ধে الۡقَوۡمِ সম্প্রদায়ের الۡكٰفِرِيۡنَ কাফের

আল্লাহ্ কারো উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। [১]

রেফারেন্স: [১] সূরা আল-বাকারা ২৮৫-২৮৬। [২] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৯/৯৪, ৪০০৮; মুসলিম ১/৫৫৪, নং ৮০৭।

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৪

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৪

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করলো, আবার ঘুমাতে ফিরে এলো সে যেন তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, (আল্লাহর নাম নেয়); কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে। তারপর সে যখন শোয়, তখন যেন এ দো‘আটি বলে,

بِاسْمِكَ رَبِّيْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِيْ فارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ

বিইসমিকারব্বী ওয়াদা‘তু জাম্বী, ওয়া বিকা আরফা‘উহু। ফাইন্ আম্‌সাক্তা নাফ্‌সী ফারহামহা, ওয়াইন আরসালতাহা ফাহ্‌ফায্‌হা বিমা তাহ্‌ফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস সা-লিহীন

আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/১২৬, নং ৬৩২০; মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১[৪] হাদীসে বর্ণিত صنفة إزاره শব্দের অর্থ হচ্ছে, চাদরের পার্শ্বদিকস্থ অংশ। এর জন্য দেখুন, নিহায়া ফী গারিবিল হাদীস ওয়াল আসার’ ‘صنف’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করলো, আবার ঘুমাতে ফিরে এলো সে যেন তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, (আল্লাহর নাম নেয়); কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে। তারপর সে যখন শোয়, তখন যেন এ দো‘আটি বলে,

بِاسْمِكَ رَبِّيْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِيْ فارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ

আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/১২৬, নং ৬৩২০; মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১[৪] হাদীসে বর্ণিত صنفة إزاره শব্দের অর্থ হচ্ছে, চাদরের পার্শ্বদিকস্থ অংশ। এর জন্য দেখুন, নিহায়া ফী গারিবিল হাদীস ওয়াল আসার’ ‘صنف’

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৫

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৫

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِيْ وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ

আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা খালাক্তা নাফসী ওয়া আন্তা তাওয়াফ্‌ফাহা। লাকা মামা-তুহা ওয়া মাহ্‌ইয়া-হা। ইন্ আহ্ইয়াইতাহা ফাহ্‌ফায্‌হা ওয়াইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আ-ফিয়াতা

হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১২; আহমাদ, তাঁর শব্দে ২/৭৯, নং ৫৫০২

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِيْ وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ

হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১২; আহমাদ, তাঁর শব্দে ২/৭৯, নং ৫৫০২

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৬

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৬

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘আটি বলতেন:

اَللّٰهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

আল্লা-হুম্মা ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আছু ‘ইবা-দাকা

হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, শব্দ তাঁরই, ৪/৩১১, নং ৫০৪৫; তিরমিযী, নং ৩৩৯৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪৩; সহীহ আবী দাঊদ, ৩/২৪০।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘আটি বলতেন:

اَللّٰهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, শব্দ তাঁরই, ৪/৩১১, নং ৫০৪৫; তিরমিযী, নং ৩৩৯৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪৩; সহীহ আবী দাঊদ, ৩/২৪০।

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৭

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৭

بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

বিস্‌মিকাল্লা-হুম্মা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া

হে আল্লাহ ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩২৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১

بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

হে আল্লাহ ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩২৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৮

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৮

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রা:) এবং ফাতেমাকে (রা:) বলেন: “আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু’জনে ৩৩ বার

سُبْحَانَ اللّٰهِ

সুবহা-নাল্লাহ

আল্লাহ অতি-পবিত্র

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
سُبْحَانَ - পবিত্রতা ঘোষণা করছি
اللّٰهِ - আল্লাহর

৩৩ বার

وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ

আলহামদুলিল্লা-হ

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَالْحَمْدُ - এবং সকল প্রশংসা
لِلّٰهِ - আল্লাহর জন্য

৩৪ বার

وَاللّٰهُ أَكْبَرُ

আল্লা-হু আকবার

আল্লাহ অতি-মহান

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
وَاللّٰهُ - এবং আল্লাহ
أَكْبَرُ - সর্বশ্রেষ্ঠ

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৭/৭১, নং ৩৭০৫; মুসলিম ৪/২০৯১, নং ২৭২৬।

...বলবে, যা তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে’’।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রা:) এবং ফাতেমাকে (রা:) বলেন: “আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু’জনে ৩৩ বার

سُبْحَانَ পবিত্রতা ঘোষণা করছি اللّٰهِ আল্লাহর

আল্লাহ অতি-পবিত্র

৩৩ বার

وَالْحَمْدُ এবং সকল প্রশংসা لِلّٰهِ আল্লাহর জন্য

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য

৩৪ বার

وَاللّٰهُ এবং আল্লাহ أَكْبَرُ সর্বশ্রেষ্ঠ

আল্লাহ অতি-মহান

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৭/৭১, নং ৩৭০৫; মুসলিম ৪/২০৯১, নং ২৭২৬।

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৯

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৯

اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْأَرْضِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيْلِ، وَالْفُرْقَانِ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ،

আল্লা-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব‘ই ওয়া রব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, রব্বনা ওয়া রব্বা কুল্লি শাই’ইন্, ফা-লিক্বাল হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনযিলাত্-তাওরা-তি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল ফুরক্বা-ন, আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি কুল্লি শাই’ইন্ আনতা আ-খিযুম-বিনা-সিয়াতিহি।

হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমিনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ
رَبَّ - রব্ব
السَّمَاوَاتِ - আকাশের
السَّبْعِ - সপ্ত
وَرَبَّ - এবং রব্ব
الْأَرْضِ، - যমিনের
وَرَبَّ - এবং রব্ব
الْعَرْشِ - আরশের
الْعَظِيْمِ، - মহান
رَبَّنَا - হে আমাদের রব্ব
وَرَبَّ - ও রব্ব
كُلِّ - প্রত্যেক
شَيْءٍ، - বস্তুর
فَالِقَ - বিদীর্ণকারী
الْحَبِّ - শস্য-বীজের
وَالنَّوَى، - এবং আঁটি/বীচি
وَمُنْزِلَ - এবং অবতীর্নকারী
التَّوْرَاةِ - তাওরাত
وَالْإِنْجِيْلِ، - ও ইনজীল
وَالْفُرْقَانِ، - এবং কুরআন
أَعُوْذُ - আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি
بِكَ - আপনার নিকট
مِنْ - থেকে
شَرِّ - অনিষ্ট
كُلِّ - প্রত্যেক
شَيْءٍ - বস্তুর
أَنْتَ - আপনি
آخِذٌ - ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)
بِنَاصِيَتِهِ، - তার (মাথার) অগ্রভাগ

اَللّٰهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُوْنَكَ شَيْءٌ، اِقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

আল্লা-হুম্মা আনতাল আউওয়ালু ফালাইসা ক্বাবলাকা শাইউন। ওয়া আনতাল আ-খিরু ফালাইসা বা‘দাকা শাইউন। ওয়া আনতায যা-হিরু ফালাইসা ফাওক্বাকা শাইউন। ওয়া আনতাল বা-ত্বিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন। ইক্বদ্বি ‘আন্নাদ্-দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল ফাক্বরি

হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।

ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড:
اَللّٰهُمَّ - হে আল্লাহ
أَنْتَ - আপনিই
الْأَوَّلُ - প্রথম
فَلَيْسَ - অতএব না (ছিল)
قَبْلَكَ - আপনার পূর্বে
شَيْءٌ، - কিছুই
وَأَنْتَ - এবং আপনি
الْآخِرُ - সর্বশেষ
فَلَيسَ - অতএব না (থাকবে)
بَعْدَكَ - আপনার পরে
شَيْءٌ، - কোনো কিছু
وَأَنْتَ - এবং আপনি
الظَّاهِرُ - প্রকাশ্য/স্পষ্ট
فَلَيْسَ - অতএব নাই
فَوْقَكَ - আপনার উর্ধ্বে
شَيْءٌ، - কোনো কিছু
وَأَنْتَ - এবং আপনি
الْبَاطِنُ - অপ্রকাশ্য/গোপন
فَلَيْسَ - অতএব নাই
دُوْنَكَ - আপনার নিম্নে
شَيْءٌ، - কোনো কিছু
اِقْضِ - পরিশোধ/ব্যবস্থা করে দিন
عَنَّا - আমাদের থেকে
الدَّيْنَ - ঋণ
وَأَغْنِنَا - এবং আমাদেরকে অভাবমুক্ত করুন
مِنَ - থেকে
الْفَقْرِ - অভাবগ্রস্ততা/দারিদ্রতা

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৩

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ رَبَّ রব্ব السَّمَاوَاتِ আকাশের السَّبْعِ সপ্ত وَرَبَّ এবং রব্ব الْأَرْضِ، যমিনের وَرَبَّ এবং রব্ব الْعَرْشِ আরশের الْعَظِيْمِ، মহান رَبَّنَا হে আমাদের রব্ব وَرَبَّ ও রব্ব كُلِّ প্রত্যেক شَيْءٍ، বস্তুর فَالِقَ বিদীর্ণকারী الْحَبِّ শস্য-বীজের وَالنَّوَى، এবং আঁটি/বীচি وَمُنْزِلَ এবং অবতীর্নকারী التَّوْرَاةِ তাওরাত وَالْإِنْجِيْلِ، ও ইনজীল وَالْفُرْقَانِ، এবং কুরআন أَعُوْذُ আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি بِكَ আপনার নিকট مِنْ থেকে شَرِّ অনিষ্ট كُلِّ প্রত্যেক شَيْءٍ বস্তুর أَنْتَ আপনি آخِذٌ ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন) بِنَاصِيَتِهِ، তার (মাথার) অগ্রভাগ

হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমিনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)।

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ أَنْتَ আপনিই الْأَوَّلُ প্রথম فَلَيْسَ অতএব না (ছিল) قَبْلَكَ আপনার পূর্বে شَيْءٌ، কিছুই وَأَنْتَ এবং আপনি الْآخِرُ সর্বশেষ فَلَيسَ অতএব না (থাকবে) بَعْدَكَ আপনার পরে شَيْءٌ، কোনো কিছু وَأَنْتَ এবং আপনি الظَّاهِرُ প্রকাশ্য/স্পষ্ট فَلَيْسَ অতএব নাই فَوْقَكَ আপনার উর্ধ্বে شَيْءٌ، কোনো কিছু وَأَنْتَ এবং আপনি الْبَاطِنُ অপ্রকাশ্য/গোপন فَلَيْسَ অতএব নাই دُوْنَكَ আপনার নিম্নে شَيْءٌ، কোনো কিছু اِقْضِ পরিশোধ/ব্যবস্থা করে দিন عَنَّا আমাদের থেকে الدَّيْنَ ঋণ وَأَغْنِنَا এবং আমাদেরকে অভাবমুক্ত করুন مِنَ থেকে الْفَقْرِ অভাবগ্রস্ততা/দারিদ্রতা

হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৩

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১০

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১০

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ

আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত‘আমানা, ওয়া সাক্বা-না, ওয়া কাফা-না, ওয়া আ-ওয়ানা, ফাকাম্ মিম্মান লা কা-ফিয়া লাহু, ওয়ালা মু’উইয়া

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, এমন বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৫, নং ২৭১৫।

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, এমন বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৫, নং ২৭১৫।

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১১

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১১

اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوْءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

আল্লা-হুম্মা ‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি, ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, রাব্বা কুল্লি শাই’ইন ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আ‘উযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়ামিন শাররিশ শাইত্বা-নী ওয়াশিরকিহী, ওয়া আন আক্বতারিফা ‘আলা নাফসী সূ’আন আউ আজুররাহু ইলা মুসলিম

হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, ৪/৩১৭, নং ৫০৬৭; তিরমিযী, নং ৩৬২৯; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২

اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوْءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ, ৪/৩১৭, নং ৫০৬৭; তিরমিযী, নং ৩৬২৯; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১২

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১২

জাবির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা সাজদাহ (32:1) ও সূরা মুলক (67:1) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা বানী ইসরাঈল (17:1) ও সূরা যুমার (39:1) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। অন্য হাদীসে আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যেক রাতে সূরা সাজদাহ (32:1) ও সূরা যুমার (39:1) পাঠ করতেন। হাদীসগুলো সহীহ।

রেফারেন্স: তিরমিযী, নং ৩৪০৪; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৭০৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২৫৫।

জাবির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা সাজদাহ (32:1) ও সূরা মুলক (67:1) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা বানী ইসরাঈল (17:1) ও সূরা যুমার (39:1) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। অন্য হাদীসে আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যেক রাতে সূরা সাজদাহ (32:1) ও সূরা যুমার (39:1) পাঠ করতেন। হাদীসগুলো সহীহ।

রেফারেন্স: তিরমিযী, নং ৩৪০৪; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৭০৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২৫৫।

ফিত্‌রাহের উপর মৃত্যুবরণ করা

ফিত্‌রাহের উপর মৃত্যুবরণ করা

রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের মত ওযু করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বল,

اَللّٰهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِيْ إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِيْ إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِيْ إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَّرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِيْ أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِيْ أَرْسَلْتَ

আল্লা-হুম্মা আস্‌লামতু নাফ্‌সী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়াআলজা’তু যাহ্‌রী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মান্‌জা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা

হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”

রেফারেন্স: [১] বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩১৩; মুসলিম ৪/২০৮১, নং ২৭১০। [২] বুখারী (১০০-কিতাবুত তাওহীদ, ৩৪-বাব...আনযালাহু বিইলমিহি...) ৬/২৭২২ (ভা ২/১১১৫); মুসলিম (৪৮-কিতাবুদ্দাআওয়াত, ১৭-বাব মা ইয়াকূল ইনদান নাওম) ৪/২০৮১ (ভারতীয় ২/৩৪৮)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে এ দো‘আটি শিক্ষা দিলেন, তাকে বলেন: “যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও তবে ‘ফিতরাত’ তথা দীন ইসলামের উপর মারা গেলে।” [১] বারা ইবনুল আযিব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলেন, “বিছানায় যাওয়ার সময় তুমি সালাতের ওযূর মতো ওযূ করবে। এরপর ডান কাতে শুয়ে বলবে: (উপরের দুআটি)। এ তোমার শেষ কথা হবে (এর পরে আর কথাবার্তা বলবে না)। এ রাতে মৃত্যু হলে তুমি ফিতরাতের উপরে (নিষ্পাপভাবে) মৃত্যুবরণ করবে। আর বেঁচে থাকলে তুমি কল্যাণ লাভ করবে।” [২]

রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের মত ওযু করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বল,

اَللّٰهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِيْ إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِيْ إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِيْ إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَّرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِيْ أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِيْ أَرْسَلْتَ

হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”

রেফারেন্স: [১] বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩১৩; মুসলিম ৪/২০৮১, নং ২৭১০। [২] বুখারী (১০০-কিতাবুত তাওহীদ, ৩৪-বাব...আনযালাহু বিইলমিহি...) ৬/২৭২২ (ভা ২/১১১৫); মুসলিম (৪৮-কিতাবুদ্দাআওয়াত, ১৭-বাব মা ইয়াকূল ইনদান নাওম) ৪/২০৮১ (ভারতীয় ২/৩৪৮)।

সূরা কাফিরূন

সূরা কাফিরূন

সূরা কাফিরূন

﷽ قُلۡ يٰۤاَيُّهَا الۡكٰفِرُوۡنَۙ‏ ﴿١﴾ لَاۤ اَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُوۡنَۙ‏ ﴿٢﴾ وَلَاۤ اَنۡـتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ‌ ۚ‏ ﴿٣﴾ وَلَاۤ اَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدۡتُّمۡۙ‏ ﴿٤﴾ وَ لَاۤ اَنۡـتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ؕ‏ ﴿٥﴾ لَـكُمۡ دِيۡنُكُمۡ وَلِىَ دِيۡنِ‏ ﴿٦﴾

রেফারেন্স: তিরমিযী (৪৯-কিতাবুুদ্দাআওয়াত, ২২-বাব) ৫/৪৭৪, নং ৩৪০৩ (ভারতীয় ২/১৭৭); আবূ দাউদ (কিতাবুল আদাব, বাব মা ইউকারু ইনদান নাওম) ৪/৩১৫, নং ৫০৫৫ (ভা ২/৬৮৯); সহীহ ইবন হিব্বান ৩/৭০;হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১২১; নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১৩৯; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৫০

নাওফাল আল-আশজায়ী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলেছেন, তুমি সূরা ‘কাফিরূন’ পড়ে ঘুমাবে, এ র্শিক থেকে তোমার বিমুক্তি। হাদীসটি হাসান। এ অর্থে ইবনু আব্বাস (রা) থেকে আরেকটি হাদীস হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে।

সূরা কাফিরূন

قُلۡ يٰۤاَيُّهَا الۡكٰفِرُوۡنَۙ‏ ﴿١﴾ لَاۤ اَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُوۡنَۙ‏ ﴿٢﴾ وَلَاۤ اَنۡـتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ‌ ۚ‏ ﴿٣﴾ وَلَاۤ اَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدۡتُّمۡۙ‏ ﴿٤﴾ وَ لَاۤ اَنۡـتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ؕ‏ ﴿٥﴾ لَـكُمۡ دِيۡنُكُمۡ وَلِىَ دِيۡنِ‏ ﴿٦﴾

রেফারেন্স: তিরমিযী (৪৯-কিতাবুুদ্দাআওয়াত, ২২-বাব) ৫/৪৭৪, নং ৩৪০৩ (ভারতীয় ২/১৭৭); আবূ দাউদ (কিতাবুল আদাব, বাব মা ইউকারু ইনদান নাওম) ৪/৩১৫, নং ৫০৫৫ (ভা ২/৬৮৯); সহীহ ইবন হিব্বান ৩/৭০;হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১২১; নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১৩৯; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৫০

সূরা ইখলাস

সূরা ইখলাস

সূরা ইখলাস

﷽ قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ‌ ۚ‏﴿١﴾ اَللّٰهُ الصَّمَدُ‌ ۚ‏﴿٢﴾ لَمۡ يَلِدۡ ۙوَلَمۡ يُوۡلَدۡ ۙ‏﴿٣﴾ وَلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿٤﴾‏‏ ‏

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

রেফারেন্স: বুখারী (৬৯-কিতাব ফাদায়িলিল কুরআন,১৩-বাব ফাদল কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) ৪/১৯১৬ (ভা ২/৭৫০); মুসলিম (৬-সালাতিল মুসাফিরীন, ৪৫-ফাদল কিরাআত) ১/৫৫৬ (ভা ১/২৭১); রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৫১

আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, নবীজী (স) তাঁর সাহাবীগণকে বললেন: তোমরা কি পারবে না রাতে কুরআনের একতৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে? বিষয়টি তাঁদের কাছে কষ্টকর মনে হলো। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের মধ্যে কে-ই বা তা পারবে? তখন তিনি বলেন: ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ্’ সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশ।’

সূরা ইখলাস

قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ‌ ۚ‏﴿١﴾ اَللّٰهُ الصَّمَدُ‌ ۚ‏﴿٢﴾ لَمۡ يَلِدۡ ۙوَلَمۡ يُوۡلَدۡ ۙ‏﴿٣﴾ وَلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿٤﴾‏‏ ‏

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

রেফারেন্স: বুখারী (৬৯-কিতাব ফাদায়িলিল কুরআন,১৩-বাব ফাদল কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) ৪/১৯১৬ (ভা ২/৭৫০); মুসলিম (৬-সালাতিল মুসাফিরীন, ৪৫-ফাদল কিরাআত) ১/৫৫৬ (ভা ১/২৭১); রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৫১

ঘুমানোর যিকর ১৪

ঘুমানোর যিকর ১৪

بِاسْمِكَ رَبِّيْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ

বিসমিকা রাব্বী, ওয়াদ্বা‘অ্তু জানবী, ফাগফির লী যাম্বী।

হে আমার প্রভু , আপনারই নামে শয়ন করলাম। আপনি আমার গোনাহ ক্ষমা করে দিন।

রেফারেন্স: মুসনাদ আহমদ ২/১৭৩; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১২৩; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬০

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেন, নবীজী (স) যখন বিছানায় ঘুমের জন্য শয়ন করতেন, তখন উপরোল্লেখিত দু‘আটি বলতেন। হাদীসটি হাসান।

بِاسْمِكَ رَبِّيْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ

হে আমার প্রভু , আপনারই নামে শয়ন করলাম। আপনি আমার গোনাহ ক্ষমা করে দিন।

রেফারেন্স: মুসনাদ আহমদ ২/১৭৩; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১২৩; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬০

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৫

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৫

اَللّٰهُمَّ أَمْتِعْنِيْ بِسَمْعِيْ وَبَصَرِيْ وَاجْعَلْهُمَا الْوَارِثَ مِنِّيْ اَللّٰهُمَّ انْصُرْنِيْ عَلَی عَدُوِّيْ وَأَرِنِيْ فِيْهِ ثَأْرِيْ، اَللّٰهُمَّ إنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَمِنَ الْجُوْعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيْعُ

আল্লা-হুম্মা, আমতি‘অ্নী বিসমা‘ঈ, ওয়াবাসারী, ওয়াজ্-‘আলহুমাল ওয়া-রিসা মিন্নী। আল্লা-হুমান্-সুরনী ‘আলা- ‘আদুও্ঈ, ওয়া আরিনী ফীহি সা’রী। আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি, ওয়া মিনাল জূ’ই, ফাইন্নাহু বি‘সাদ্দ্বাজী‘য়।

হে আল্লাহ, আমরণ আমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ ও নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার শত্র“র বিরুদ্ধে সাহায্য করুন এবং তার জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করে আমাকে দেখান। হে আল্লাহ, আমি ঋণের বোঝা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং ক্ষুধা থেকে ; নিশ্চয় ক্ষুধা অত্যন্ত নিকৃষ্ট সঙ্গী।

রেফারেন্স: মুুসতাদরাক হাকিম ২/১৫৪, সহীহহুল জামিয়িস সাগীর ১/২৭২, নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১৪২; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৪

এ কথাগুলো বলে রাসূলুল্লাহ (স) বিভিন্ন সময়ে মুনাজাত করতেন বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নববী একটি বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিছানায় শয়ন করার পরেও এ মুনাজাতটি বলতেন।

اَللّٰهُمَّ أَمْتِعْنِيْ بِسَمْعِيْ وَبَصَرِيْ وَاجْعَلْهُمَا الْوَارِثَ مِنِّيْ اَللّٰهُمَّ انْصُرْنِيْ عَلَی عَدُوِّيْ وَأَرِنِيْ فِيْهِ ثَأْرِيْ، اَللّٰهُمَّ إنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَمِنَ الْجُوْعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيْعُ

হে আল্লাহ, আমরণ আমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ ও নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার শত্র“র বিরুদ্ধে সাহায্য করুন এবং তার জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করে আমাকে দেখান। হে আল্লাহ, আমি ঋণের বোঝা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং ক্ষুধা থেকে ; নিশ্চয় ক্ষুধা অত্যন্ত নিকৃষ্ট সঙ্গী।

রেফারেন্স: মুুসতাদরাক হাকিম ২/১৫৪, সহীহহুল জামিয়িস সাগীর ১/২৭২, নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১৪২; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৪

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৬

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৬

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ الَّتِىْ لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ، وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وَبَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيْهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِىْ الأَرْضِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمٰنُ

আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লাহিত তাম্মা-তিল্লাতী লা- ইউজাওিযুহুন্না র্বারুন ওয়ালা- ফা-জির, মিন র্শারি মা- খালাক্কা ওয়া যারাআ ওয়া বারাআ, ওয়া মিন র্শারি মা ইয়ানযিলু মিনাস সামা-য়ি ওয়া মিন র্শারি মা ইয়া‘অরুজু ফীহা-, ওয়া মিন র্শারি মা যারাআ ফিল আরদ্বি, ওয়া মিন র্শারি মা ইয়া‘খরুজু মিন্হা-, ওয়া মিন র্শারিল্লাইলি ওয়ান নাহা-রি, ওয়া মিন র্শারি কুল্লি ত্বা-রিক্কিন ইল্লা- ত্বারিক্কান ইয়াত্বরুক্কু বিখাইরিন ইয়া- রা‘হমা-ন।

আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যাবলির, যেগুলোকে অতিক্রম করতে পারে না কোনো পুণ্যবান বা কোনো পাপী, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, বানিয়েছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমান থেকে অবতরণ করে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমানে উঠে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিনে সৃষ্ট-ছড়ানো তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিন থেকে বের হয় তার অনিষ্ট থেকে, রাত ও দিনের অনিষ্ট থেকে এবং সকল আগন্তুকের অনিষ্ট থেকে, শুধু যে আগন্তুক কল্যাণ-সহ আগমন করে সে ব্যতীত, হে মহা-দয়াময়।

রেফারেন্স: আহমাদ, আল-মুসনাদ (আরনউত সম্পাদিত) ৩/৪১৯; আবূ ইয়ালা, আল-মুসনাদ (আসাদ সম্পাদিত) ১২/২৩৭; তাবারানী, আল-মু'জামুল আউসাত ৫/৩১৫; আলবানী, সহীহাহ; মুখতাসারাহ (শামিলা) ২/৪৯৫, ৭/১৯৬; সহীহুত তারগীব ২/১২০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৫

আব্দুর রাহমান ইবন খানবাশ (রা) বলেন, “এক রাতে শয়তান জিনগণ আগুন নিয়ে মরুপ্রান্তরে রাসূলুল্লাহ (স)-কে আক্রমন করতে এগিয়ে আসে। তখন জিবরাঈল (আ) এসে তাঁকে এ দুআটি শিখিয়ে দেন। দুআটি পাঠের সাথে সাথে শয়তানদের আগুন নিভে যায় এবং তারা পালিয়ে যায়।” অন্য হাদীসে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) বলেন, “আমি রাতে প্রচণ্ড আতঙ্কিত হতাম, এমনকি তরবারি নিয়ে ছুটতাম এবং যা পেতাম তাতেই আঘাত করতাম। রাসূলুল্লাহ (স)-কে এ কথা জানালে তিনি বলেন: আমাকে জিবরাঈল যে দুআ শিখিয়েছেন আমি তোমাকে তা শিখিয়ে দিচ্ছি। (উপরের দুআটির অনুরূপ)।” হাদীসটি সহীহ।

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ الَّتِىْ لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ، وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وَبَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيْهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِىْ الأَرْضِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمٰنُ

আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যাবলির, যেগুলোকে অতিক্রম করতে পারে না কোনো পুণ্যবান বা কোনো পাপী, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, বানিয়েছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমান থেকে অবতরণ করে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমানে উঠে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিনে সৃষ্ট-ছড়ানো তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিন থেকে বের হয় তার অনিষ্ট থেকে, রাত ও দিনের অনিষ্ট থেকে এবং সকল আগন্তুকের অনিষ্ট থেকে, শুধু যে আগন্তুক কল্যাণ-সহ আগমন করে সে ব্যতীত, হে মহা-দয়াময়।

রেফারেন্স: আহমাদ, আল-মুসনাদ (আরনউত সম্পাদিত) ৩/৪১৯; আবূ ইয়ালা, আল-মুসনাদ (আসাদ সম্পাদিত) ১২/২৩৭; তাবারানী, আল-মু'জামুল আউসাত ৫/৩১৫; আলবানী, সহীহাহ; মুখতাসারাহ (শামিলা) ২/৪৯৫, ৭/১৯৬; সহীহুত তারগীব ২/১২০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৫

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৭

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৭

بِسْمِ اللّٰهِ وَضَعْتُ جَنْبِىْ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ ذَنْبِىْ وَأَخْسِئْ شَيْطَانِىْ وَفُكَّ رِهَانِىْ وَاجْعَلْنِىْ فِىْ النَّدِىِّ الأَعْلَی

বিস্মিল্লাহি ওয়াদ্বা‘অ্তু জানবী। আল্লা-হুম্মা‘র্গ্ফি লী যানবী, ওয়া আ‘খ্সিঅ্ শাইত্বা-নী, ওয়া ফুক্কা রিহা-নী, ওয়াজ্‘আল্নী ফিন্ নাদিইয়িল আ‘অ্লা।

আল্লাহর নামে আমি আমার দেহ (বিছানায়) রাখলাম। হে আল্লাহ আপনি ক্ষমা করুন আমার পাপ, লাঞ্ছিত-অক্ষম করুন আমার শয়তানকে, মুক্ত করুন আমাকে আমার বাঁধন থেকে এবং আমাকে সর্বোচ্চ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ (কিতাবুল আদাব, বাব মা ইউকালু ইনদান নাওম) ৪/৩১৪-৩১৫, নং ৫০৫৪ (ভা ২/৬৮৯); আলবানী, সহীহ ওয়া যয়ীফ আবী দাউদ ১১/৫৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৮

আবুল আযহার আনমারী (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (স) রাতে যখন বিছানায় শয়ন করতেন তখন এ কথাগুলো বলতেন।” হাদীসটি সহীহ।

بِسْمِ اللّٰهِ وَضَعْتُ جَنْبِىْ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ ذَنْبِىْ وَأَخْسِئْ شَيْطَانِىْ وَفُكَّ رِهَانِىْ وَاجْعَلْنِىْ فِىْ النَّدِىِّ الأَعْلَی

আল্লাহর নামে আমি আমার দেহ (বিছানায়) রাখলাম। হে আল্লাহ আপনি ক্ষমা করুন আমার পাপ, লাঞ্ছিত-অক্ষম করুন আমার শয়তানকে, মুক্ত করুন আমাকে আমার বাঁধন থেকে এবং আমাকে সর্বোচ্চ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।

রেফারেন্স: আবূ দাউদ (কিতাবুল আদাব, বাব মা ইউকালু ইনদান নাওম) ৪/৩১৪-৩১৫, নং ৫০৫৪ (ভা ২/৬৮৯); আলবানী, সহীহ ওয়া যয়ীফ আবী দাউদ ১১/৫৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৮

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 রাতে যখন পার্শ্ব পরিবর্তন করে তখন পড়ার দো‘আ

📄 রাতে যখন পার্শ্ব পরিবর্তন করে তখন পড়ার দো‘আ


রাতে যখন পার্শ্ব পরিবর্তন করে তখন পড়ার দো‘আ

রাতে যখন পার্শ্ব পরিবর্তন করে তখন পড়ার দো‘আ

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন বিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন তখন বলতেন,

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ، رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيْزُ الْغَفَّارُ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ওয়াহিদুল কাহ্‌হারু রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল-আরদ্বি ওয়ামা বাইনাহুমাল-‘আযীযুল গাফ্‌ফার

মহাপ্রতাপশালী এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। (তিনি) আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যস্থিত সবকিছুর রব্ব, প্রবলপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, হাকেম এবং তিনি তা সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন, ১/৫৪০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলা, নং ২০২; ইবনুস সুন্নী, নং ৭৫৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২১৩

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন বিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন তখন বলতেন,

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ، رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيْزُ الْغَفَّارُ

মহাপ্রতাপশালী এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। (তিনি) আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যস্থিত সবকিছুর রব্ব, প্রবলপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, হাকেম এবং তিনি তা সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন, ১/৫৪০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলা, নং ২০২; ইবনুস সুন্নী, নং ৭৫৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২১৩

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 ঘুমন্ত অবস্থায় ভয় এবং একাকিত্বের অস্বস্তিতে পড়ার দো‘আ

📄 ঘুমন্ত অবস্থায় ভয় এবং একাকিত্বের অস্বস্তিতে পড়ার দো‘আ


ঘুমন্ত অবস্থায় ভয় এবং একাকিত্বের অস্বস্তিতে পড়ার দো‘আ

ঘুমন্ত অবস্থায় ভয় এবং একাকিত্বের অস্বস্তিতে পড়ার দো‘আ

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ

আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লাহিত্তা-ম্মাতি মিন্ গাদ্বাবিহি ওয়া ইক্বা-বিহি ওয়া শাররি ‘ইবা-দিহি ওয়ামিন হামাযা-তিশ্‌শায়া-ত্বীনি ওয়া আন ইয়াহ্‌দুরূন

আমি আশ্রয় চাই আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালামসমূহের অসীলায় তাঁর ক্রোধ থেকে, তাঁর শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের উপস্থিতি থেকে

রেফারেন্স: আবূ দাঊদ ৪/১২, নং ৩৮৯৩; তিরমিযী, নং ৩৫২৮। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৭১

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ

আমি আশ্রয় চাই আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালামসমূহের অসীলায় তাঁর ক্রোধ থেকে, তাঁর শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের উপস্থিতি থেকে

রেফারেন্স: আবূ দাঊদ ৪/১২, নং ৩৮৯৩; তিরমিযী, নং ৩৫২৮। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৭১

📘 হিসনুল মুসলিম - দোআ ও যিকর 📄 খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন দেখে যা করবে

📄 খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন দেখে যা করবে


খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন দেখে যা করবে

খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন দেখে যা করবে

সৎ ও ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে হয়ে থাকে। আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ হতে হয়ে থাকে। তাই যখন কেউ পছন্দনীয় কোন স্বপ্ন দেখে তখন এমন লোকের কাছেই বলবে, যাকে সে পছন্দ করে। ... আর, খারাপ বা অপছন্দনীয় কোন স্বপ্ন দেখলে যা যা করা উচিৎঃ ১. তার বাম দিকে হাল্কা থুতু ফেলবে। (৩ বার) ২. শয়তান থেকে এবং যা দেখেছে তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে প্রার্থনা করবে। (৩ বার) ৩. কাউকে এ ব্যাপারে কিছু বলবে না। ৪. অতঃপর যে পার্শ্বে সে ঘুমিয়েছিল তা পরিবর্তন করবে। ৫. যদি ইচ্ছা করে তবে উঠে সালাত আদায় করবে। [১]

রেফারেন্স: [১] মুসলিম, ৪/১৭৭২, ১৭৭৩, নং ২২৬১, ২২৬[২]

সৎ ও ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে হয়ে থাকে। আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ হতে হয়ে থাকে। তাই যখন কেউ পছন্দনীয় কোন স্বপ্ন দেখে তখন এমন লোকের কাছেই বলবে, যাকে সে পছন্দ করে। ... আর, খারাপ বা অপছন্দনীয় কোন স্বপ্ন দেখলে যা যা করা উচিৎঃ ১. তার বাম দিকে হাল্কা থুতু ফেলবে। (৩ বার) ২. শয়তান থেকে এবং যা দেখেছে তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে প্রার্থনা করবে। (৩ বার) ৩. কাউকে এ ব্যাপারে কিছু বলবে না। ৪. অতঃপর যে পার্শ্বে সে ঘুমিয়েছিল তা পরিবর্তন করবে। ৫. যদি ইচ্ছা করে তবে উঠে সালাত আদায় করবে। [১]

রেফারেন্স: [১] মুসলিম, ৪/১৭৭২, ১৭৭৩, নং ২২৬১, ২২৬[২]

ফন্ট সাইজ
15px
17px