📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 হিংসা

📄 হিংসা


মানব মনের রোগসমূহের মধ্যে একটি কঠিন রোগের নাম হ'ল 'হিংসা'। যা মানুষকে পশুর চাইতে নীচে নামিয়ে দেয়। হিংসার পারিভাষিক অর্থ تَمَنِّى زَوَالِ نِعْمَةِ الْمَحْسُوْدِ ‘হিংসাকৃত ব্যক্তির নে'মতের ধ্বংস কামনা করা'। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لاَ حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَسُلِّطَ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ الْحِكْمَةَ ، فَهْوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا 'দু’টি বস্তু ভিন্ন অন্য কিছুতে হিংসা সিদ্ধ নয়। ১. আল্লাহ যাকে মাল দিয়েছেন। অতঃপর সে তা হক-এর পথে ব্যয় করে। ২. আল্লাহ যাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন। সে তা দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং শিক্ষা দেয়'।¹ এটিকে মূলতঃ হিংসা বলা হয় না, বরং ঈর্ষা বলা হয়। ইমাম রাযী বলেন, যখন আল্লাহ তোমার কোন ভাইকে কোন নে'মত দান করেন, আর তুমি যদি তার উক্ত নে'মতের ধ্বংস কামনা কর, তাহ'লে সেটি হ'ল হিংসা )الْحَسَدُ(। আর যদি তুমি নিজের জন্য অনুরূপ নে'মত কামনা কর, তাহ'লে সেটি হ'ল ঈর্ষা )الْغِبْطَةُ(। হিংসা নিষিদ্ধ এবং ঈর্ষা সিদ্ধ, বরং আকাংখিত। উক্ত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেটাই বলতে চেয়েছেন। ইমাম নববী বলেন, হিংসা দু'প্রকারের: প্রকৃত )حقيقي( ও রূপক )مجازي(। প্রকৃত হিংসা হল, تمنى زوال النعمة عن صاحبها 'ব্যক্তির নে'মত দূর হয়ে যাওয়ার কামনা করা'। এটি সর্বসম্মতভাবে হারাম। পক্ষান্তরে রূপক হ'ল ঈর্ষা )الغبطة(। যা অন্যের অনুরূপ নে'মত কামনা করে, তার নে'মত দূর হওয়ার কামনা ছাড়াই। এরূপ ঈর্ষা করা দুনিয়াবী ব্যাপারে 'মুবাহ' এবং দ্বীনী ব্যাপারে ‘মুস্তাহাব'। যেমন ইবাদতে রাত্রি জাগরণে প্রতিযোগিতা করা, দান-ছাদাক্বায় প্রতিযোগিতা করা ইত্যাদি।²

উদাহরণ স্বরূপ তাবুকের যুদ্ধে গমনের সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন সকলের নিকট দান চাইলেন, তখন ওমর ফারূক (রাঃ) বলেন যে, আমি আমার অর্ধেক মাল-সম্পদ নিয়ে হাযির হ'লাম। আর মনে মনে ভাবলাম, আজ আমি আবুবকরকে ছাড়িয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বললেন, مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟ 'তুমি তোমার পরিবারের জন্য কি রেখে এসেছ? বললাম, অতটা। এরপর আবুবকর এলেন তার সব মাল-সম্পদ নিয়ে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে একই কথা জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে তিনি বললেন, أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهُ وَرَسُولَهُ 'আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি'। তখন আমি বললাম, لَا أُسَابِقُكَ إِلَى شَيْءٍ أَبَدًا 'কোন ব্যাপারেই আমি কখনো আপনার সাথে পেরে উঠিনি'।³

এটা ছিল আখেরাতে নেকী অর্জনের প্রতিযোগিতা। তাই এটি প্রশংসনীয়। কিন্তু যখন এটি দুনিয়াবী সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা হবে। সেখানে প্রথমে হিংসা না থাকলেও পরে তা পারস্পরিক হিংসা ও বিদ্বেষে রূপ নেবে। যেমন আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের বললেন, إِذَا فُتِحَتْ عَلَيْكُمْ فَارِسُ وَالرُّومُ أَيُّ قَوْمٍ أَنْتُمْ 'যখন তোমরা পারস্য ও রোমক সাম্রাজ্য জয় করবে, তখন তোমরা কেমন হবে? আব্দুর রহমান বিন 'আওফ বললেন, যেমন আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ، تَتَنَافَسُونَ ثُمَّ تَتَحَاسَدُونَ ثُمَّ تَتَدَابَرُونَ ثُمَّ تَبَاغَضُونَ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ বরং অন্য কিছু। তোমরা প্রতিযোগিতা করবে। অতঃপর পরস্পরে হিংসা করবে। অতঃপর পরস্পরকে পরিত্যাগ করবে। অতঃপর পরস্পরে বিদ্বেষ করবে বা অনুরূপ করবে'।⁴ তিনি বলেন, فَوَاللَّهُ مَا الْفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكنِّى أَخْشَى أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُمْ كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا فَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ 'আমি তোমাদের দরিদ্রতাকে ভয় পাইনা। বরং আমি তোমাদের ব্যাপারে ভয় পাই যে, তোমাদের উপর দুনিয়াবী প্রাচুর্য আসবে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর এসেছিল। অতঃপর তোমরা প্রতিযোগিতা করবে। যেমন তারা করেছিল। অতঃপর প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিবে, যেমন তাদেরকে ধ্বংস করেছিল'।⁵ অন্য বর্ণনায় এসেছে, وَتُلْهِيَكُمْ كَمَا أَلْهَتْهُمْ 'তোমাদেরকে উদাসীন করে দিবে, যেমন তাদেরকে উদাসীন করেছিল'।⁶

উক্ত হাদীছে যে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার দু'টি দিক রয়েছে। এক- যদি উক্ত প্রাচুর্যকে ধ্বংস করার চিন্তা কারু মাথায় আসে, তবে সেটা হবে 'হিংসা'। যা নিন্দনীয়। দুই- যদি তার হেদায়াত কামনা করে এবং নিজেও অনুরূপ প্রাচুর্যের কামনা করে, তবে সেটা হবে বৈধ ও প্রশংসনীয়। যাকে কুরআনে ও হাদীছে 'তানাফুস' )التنافس( বা প্রতিযোগিতা বলা হয়েছে।

টিকাঃ
১. বুখারী হা/৭৩; মিশকাত হা/২০২ 'ইলম' অধ্যায়।
২. মুসলিম শরহ নববী হা/৮১৬-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ।
৩. আবুদাঊদ হা/১৬৭৮; তিরমিযী হা/৩৬৭৫; মিশকাত হা/৬০২১।
৪. মুসলিম হা/২৬৬২; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯৬।
৫. তিরমিযী হা/২৪৬২, ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯৭।
৬. বুখারী হা/৬৪২৫; মুসলিম হা/২৯৬১; মিশকাত হা/৫১৬৩।

📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 কুরআন থেকে

📄 কুরআন থেকে


(১) হিংসুকদের অনিষ্টকারিতা হ'তে বাঁচার জন্য আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা করতে বলেছেন- وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ')হে আল্লাহ!) আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই হিংসুকের অনিষ্টকারিতা হতে যখন সে হিংসা করে' (ফালাক্ব ১১৩/৫)। ইমাম রাযী বলেন, আল্লাহ মানুষের সকল নষ্টের মূল হিসাবে এখানে 'হিংসা' দিয়ে সূরা শেষ করেছেন। যেমন শয়তানের সকল অনিষ্টের মূল হিসাবে 'মনে খটকা সৃষ্টি' (ওয়াসওয়াসা) দিয়ে সূরা নাস শেষ করেছেন'। যা তারতীরের দিক দিয়ে কুরআনের শেষ সূরা। এর মাধ্যমে মানুষকে মানুষের হিংসা থেকে এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে আল্লাহ্ আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। কেননা এ দু'টি থেকে বাঁচার অন্য কোন উপায় নেই আল্লাহ্র রহমত ব্যতীত। হুসাইন বিন ফযল বলেন, আল্লাহ এই সূরাতে যাবতীয় মন্দকে একত্রিত করেছেন এবং 'হিংসা' দিয়ে শেষ করেছেন এটা বুঝানোর জন্য যে এটাই হ'ল সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বভাব'।

বস্তুতঃ যে সমাজে হিংসার প্রসার যত বেশী, সে সমাজে অশান্তি তত বেশী। সমাজে অতক্ষণ যাবত কল্যাণ ও শান্তি বিরাজ করে, যতক্ষণ সেখানে হিংসার প্রসার না ঘটে। যামরাহ বিন ছা'লাবাহ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَتَحَاسَدُوا 'মানুষ অতক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা পরস্পরে হিংসা না করবে'।⁷

(২) আল্লাহ নিজেই হিংসাকে নিন্দা করেছেন। যেমন তিনি আহলে কিতাবদের বদস্বভাব বর্ণনা করে বলেন, أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ 'তবে কি তারা লোকদের (মুসলমানদের) প্রতি এজন্য হিংসা করে যে, আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ হতে কিছু দান করেছেন? (নিসা ৪/৫৪)। অত্র আয়াতের তাফসীরে ইমাম কুরতুবী বলেন, وَالْحَسَدُ مَذْمُومٌ وَصَاحِبُهُ مَعْمُومٌ وَهُوَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ 'হিংসা নিন্দনীয় এবং হিংসুক সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। হিংসা সকল নেকী খেয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে' (কুরতুবী)।

টিকাঃ
৭. ত্বাবারাণী হা/৮১৫৭; ছহীহাহ হা/৩৩৮৬।

📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 হাদীছ থেকে

📄 হাদীছ থেকে


(১) হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন وَلاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَحَاسَدُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَلاَ تَقَاطَعُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا 'তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করো না, হিংসা করো না, একে অপরকে পরিত্যাগ করো না, একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না। তোমরা পরস্পরে আল্লাহ্র বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও'।⁸ অত্র হাদীছে মানবতাকে হত্যাকারী কয়েকটি দুরারোগ্য ব্যাধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইসলামী সমাজকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এখানে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হলেও তা মূলতঃ একটি থেকে উৎসারিত। আর তা হ'ল 'হিংসা'। এই মূল বিষবৃক্ষ থেকেই বাকীগুলি কাঁটাযুক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক ডাল-পালার ন্যায় বেরিয়ে আসে। হাসান বাছরী বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে হিংসা রয়েছে। যতক্ষণ সেটি অবাধ্যতা ও যুলুমের দিকে সীমা অতিক্রম না করে, ততক্ষণ তা মানুষের কোন ক্ষতি করে না'।⁹

(২) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَفِي رِوَايَةٍ : تُعْرَضُ الأَعْمَالُ فِي كُلِّ يَوْمٍ خَمِيسٍ وَاثْنَيْنِ فَيَغْفِرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ لِكُلِّ امْرِئٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا امْرَأَ كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ ارْكُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا ارْكُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা সমূহ খোলা হয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এ দু'দিন বান্দার আমলনামা আল্লাহ্র কাছে পেশ করা হয়। অতঃপর আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করেনি এমন সবাইকে মাফ করা হয়। কেবল ঐ দু'জন ব্যতীত যাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ বিদ্যমান রয়েছে। বলা হয়, এদের ছাড়, যতক্ষণ না এরা আপোষে মীমাংসা করে নেয়'।¹⁰

যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করে, তার ঈমান হয় ত্রুটিপূর্ণ। হিংসা তার সমস্ত নেকীকে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন ধীরে ধীরে কাঠকে খেয়ে ফেলে। এভাবে সে নিজের আগুনে নিজে জ্বলে-পুড়ে মরে। পরিণামে তার পূর্বে কৃত সৎকর্মসমূহের নেকীগুলিও ক্রমে নিঃশেষ হয়ে যায়। ঐ অবস্থায় তার মৃত্যু হ'লে সে নিঃস্ব অবস্থায় আল্লাহ্র কাছে চলে যায়।

টিকাঃ
৮. বুখারী, ফাৎহুলবারী, হা/৬০৭৬; মুসলিম হা/২৫৫৯; মিশকাত হা/৫০২৮।
৯. ফাৎহুল বারী হা/৬০৬৫।
১০. মুসলিম হা/২৫৬৫; মিশকাত হা/৫০২৯-৩০।

📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য সমূহ (৫টি)

📄 সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য সমূহ (৫টি)


(১) হযরত মু'আবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু 'আনহুমা) বলেন, كُلُّ النَّاسِ أَسْتَطِيعُ أَنْ أَرْضِيَهُ إِلَّا حَاسِدُ نِعْمَةٍ، فَإِنَّهُ لَا يُرْضِيْهِ إِلَّا زَوَالُهَا 'সকল মানুষকে আমি খুশী করতে সক্ষম, কেবল হিংসুক ব্যতীত। কেননা সে অন্যের নে'মত দূর না হওয়া পর্যন্ত খুশী হয় না'।¹¹

(২) তাবেঈ বিদ্বান মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (৩৩-১১০ হিঃ) বলেন, দুনিয়াবী কোন ব্যাপারে আমি কোন ব্যক্তিকে হিংসা করি না। কেননা সে ব্যক্তি যদি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহ'লে আমি কিভাবে দুনিয়াবী বিষয়ে তাকে হিংসা করব? অথচ জান্নাতের তুলনায় দুনিয়া অতীব তুচ্ছ। আর যদি ঐ ব্যক্তি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহ'লে আমি কিভাবে তাকে দুনিয়াবী বিষয়ে হিংসা করব? অথচ ঐ ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে?¹²

(৩) অন্যতম তাবেঈ হাসান বাছরী (২১-১১০ হিঃ) বলেন, হিংসুকের চাইতে বড় কোন যালেমকে আমি দেখিনি যে মযলুমের মতোই। কেননা সে বেঁচে থাকে। অথচ দুঃখ তার অবশ্যম্ভাবী এবং দুশ্চিন্তা তার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী'।¹³

(৪) আবু হাতেম দারেমী (মৃঃ ৩৫৪ হিঃ) বলেন, জ্ঞানীর উপর ওয়াজিব হ'ল সর্বাবস্থায় হিংসা হ'তে দূরে থাকা। কেননা হিংসার সবচাইতে নীচু স্তর হ'ল তাক্বদীরের উপর সন্তুষ্টি পরিত্যাগ করা এবং আল্লাহ স্বীয় বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তার বিপরীত কামনা করা। তিনি বলেন, الحسد من أخلاق اللئَامِ، وتركه من أفعال الكرام، ولكلِّ حريقٍ مُطْفِى، ونارُ الحسدِ لا تَطْفَأُ হিংসা হ'ল নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্র এবং তা পরিত্যাগ করা হ'ল মর্যাদাবান ব্যক্তিদের কর্ম। আর প্রত্যেক আগুনের নির্বাপক আছে। কিন্তু হিংসার আগুন নির্বাপিত হয় না'।¹⁴

(৫) আবুল লাইছ সমরকন্দী (মৃঃ ৩৭৩ হিঃ) বলেন, হিংসাকৃত ব্যক্তির আগেই হিংসুকের নিকট পাঁচটি শাস্তি পৌঁছে যায়। (ক) দুশ্চিন্তা, যা বিচ্ছিন্ন হয় না। (খ) কষ্ট, যার কোন পুরস্কার পাওয়া যায় না। (গ) তিরষ্কার, যাকে প্রশংসা করা হয় না (ঘ) আল্লাহ্র ক্রোধ অর্জন করা এবং (ঙ) তার জন্য (কল্যাণ কর্মের) তাওফীকের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া।¹⁵

টিকাঃ
১১. ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাক্কু ৫৯/২০০ পৃঃ।
১২. বায়হাক্বী, যুহৃদ আল-কাবীর ৩১৫ পৃঃ।
১৩. ইবনু আব্দি রব্বিহী, আল-ইকুদুল ফারীদ ২/২৭০ পৃঃ।
১৪. আবু হাতেম দারেমী, রওযাতুল উক্বালা ১৩৪ পৃঃ।
১৫. শিহাবুদ্দীন আবশীহী, আল-মুসতাত্বরাফ ২২১ পৃঃ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00