📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 কুরআন থেকে

📄 কুরআন থেকে


(১) হিংসুকদের অনিষ্টকারিতা হ'তে বাঁচার জন্য আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা করতে বলেছেন- وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ')হে আল্লাহ!) আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই হিংসুকের অনিষ্টকারিতা হতে যখন সে হিংসা করে' (ফালাক্ব ১১৩/৫)। ইমাম রাযী বলেন, আল্লাহ মানুষের সকল নষ্টের মূল হিসাবে এখানে 'হিংসা' দিয়ে সূরা শেষ করেছেন। যেমন শয়তানের সকল অনিষ্টের মূল হিসাবে 'মনে খটকা সৃষ্টি' (ওয়াসওয়াসা) দিয়ে সূরা নাস শেষ করেছেন'। যা তারতীরের দিক দিয়ে কুরআনের শেষ সূরা। এর মাধ্যমে মানুষকে মানুষের হিংসা থেকে এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে আল্লাহ্ আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। কেননা এ দু'টি থেকে বাঁচার অন্য কোন উপায় নেই আল্লাহ্র রহমত ব্যতীত। হুসাইন বিন ফযল বলেন, আল্লাহ এই সূরাতে যাবতীয় মন্দকে একত্রিত করেছেন এবং 'হিংসা' দিয়ে শেষ করেছেন এটা বুঝানোর জন্য যে এটাই হ'ল সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বভাব'।

বস্তুতঃ যে সমাজে হিংসার প্রসার যত বেশী, সে সমাজে অশান্তি তত বেশী। সমাজে অতক্ষণ যাবত কল্যাণ ও শান্তি বিরাজ করে, যতক্ষণ সেখানে হিংসার প্রসার না ঘটে। যামরাহ বিন ছা'লাবাহ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَتَحَاسَدُوا 'মানুষ অতক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতক্ষণ তারা পরস্পরে হিংসা না করবে'।⁷

(২) আল্লাহ নিজেই হিংসাকে নিন্দা করেছেন। যেমন তিনি আহলে কিতাবদের বদস্বভাব বর্ণনা করে বলেন, أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ 'তবে কি তারা লোকদের (মুসলমানদের) প্রতি এজন্য হিংসা করে যে, আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ হতে কিছু দান করেছেন? (নিসা ৪/৫৪)। অত্র আয়াতের তাফসীরে ইমাম কুরতুবী বলেন, وَالْحَسَدُ مَذْمُومٌ وَصَاحِبُهُ مَعْمُومٌ وَهُوَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ 'হিংসা নিন্দনীয় এবং হিংসুক সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। হিংসা সকল নেকী খেয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে' (কুরতুবী)।

টিকাঃ
৭. ত্বাবারাণী হা/৮১৫৭; ছহীহাহ হা/৩৩৮৬।

📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 হাদীছ থেকে

📄 হাদীছ থেকে


(১) হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন وَلاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَحَاسَدُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَلاَ تَقَاطَعُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا 'তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করো না, হিংসা করো না, একে অপরকে পরিত্যাগ করো না, একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না। তোমরা পরস্পরে আল্লাহ্র বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও'।⁸ অত্র হাদীছে মানবতাকে হত্যাকারী কয়েকটি দুরারোগ্য ব্যাধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইসলামী সমাজকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এখানে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হলেও তা মূলতঃ একটি থেকে উৎসারিত। আর তা হ'ল 'হিংসা'। এই মূল বিষবৃক্ষ থেকেই বাকীগুলি কাঁটাযুক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক ডাল-পালার ন্যায় বেরিয়ে আসে। হাসান বাছরী বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে হিংসা রয়েছে। যতক্ষণ সেটি অবাধ্যতা ও যুলুমের দিকে সীমা অতিক্রম না করে, ততক্ষণ তা মানুষের কোন ক্ষতি করে না'।⁹

(২) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَفِي رِوَايَةٍ : تُعْرَضُ الأَعْمَالُ فِي كُلِّ يَوْمٍ خَمِيسٍ وَاثْنَيْنِ فَيَغْفِرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ لِكُلِّ امْرِئٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا امْرَأَ كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ ارْكُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا ارْكُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা সমূহ খোলা হয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এ দু'দিন বান্দার আমলনামা আল্লাহ্র কাছে পেশ করা হয়। অতঃপর আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করেনি এমন সবাইকে মাফ করা হয়। কেবল ঐ দু'জন ব্যতীত যাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ বিদ্যমান রয়েছে। বলা হয়, এদের ছাড়, যতক্ষণ না এরা আপোষে মীমাংসা করে নেয়'।¹⁰

যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করে, তার ঈমান হয় ত্রুটিপূর্ণ। হিংসা তার সমস্ত নেকীকে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন ধীরে ধীরে কাঠকে খেয়ে ফেলে। এভাবে সে নিজের আগুনে নিজে জ্বলে-পুড়ে মরে। পরিণামে তার পূর্বে কৃত সৎকর্মসমূহের নেকীগুলিও ক্রমে নিঃশেষ হয়ে যায়। ঐ অবস্থায় তার মৃত্যু হ'লে সে নিঃস্ব অবস্থায় আল্লাহ্র কাছে চলে যায়।

টিকাঃ
৮. বুখারী, ফাৎহুলবারী, হা/৬০৭৬; মুসলিম হা/২৫৫৯; মিশকাত হা/৫০২৮।
৯. ফাৎহুল বারী হা/৬০৬৫।
১০. মুসলিম হা/২৫৬৫; মিশকাত হা/৫০২৯-৩০।

📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য সমূহ (৫টি)

📄 সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য সমূহ (৫টি)


(১) হযরত মু'আবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু 'আনহুমা) বলেন, كُلُّ النَّاسِ أَسْتَطِيعُ أَنْ أَرْضِيَهُ إِلَّا حَاسِدُ نِعْمَةٍ، فَإِنَّهُ لَا يُرْضِيْهِ إِلَّا زَوَالُهَا 'সকল মানুষকে আমি খুশী করতে সক্ষম, কেবল হিংসুক ব্যতীত। কেননা সে অন্যের নে'মত দূর না হওয়া পর্যন্ত খুশী হয় না'।¹¹

(২) তাবেঈ বিদ্বান মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (৩৩-১১০ হিঃ) বলেন, দুনিয়াবী কোন ব্যাপারে আমি কোন ব্যক্তিকে হিংসা করি না। কেননা সে ব্যক্তি যদি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহ'লে আমি কিভাবে দুনিয়াবী বিষয়ে তাকে হিংসা করব? অথচ জান্নাতের তুলনায় দুনিয়া অতীব তুচ্ছ। আর যদি ঐ ব্যক্তি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহ'লে আমি কিভাবে তাকে দুনিয়াবী বিষয়ে হিংসা করব? অথচ ঐ ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে?¹²

(৩) অন্যতম তাবেঈ হাসান বাছরী (২১-১১০ হিঃ) বলেন, হিংসুকের চাইতে বড় কোন যালেমকে আমি দেখিনি যে মযলুমের মতোই। কেননা সে বেঁচে থাকে। অথচ দুঃখ তার অবশ্যম্ভাবী এবং দুশ্চিন্তা তার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী'।¹³

(৪) আবু হাতেম দারেমী (মৃঃ ৩৫৪ হিঃ) বলেন, জ্ঞানীর উপর ওয়াজিব হ'ল সর্বাবস্থায় হিংসা হ'তে দূরে থাকা। কেননা হিংসার সবচাইতে নীচু স্তর হ'ল তাক্বদীরের উপর সন্তুষ্টি পরিত্যাগ করা এবং আল্লাহ স্বীয় বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তার বিপরীত কামনা করা। তিনি বলেন, الحسد من أخلاق اللئَامِ، وتركه من أفعال الكرام، ولكلِّ حريقٍ مُطْفِى، ونارُ الحسدِ لا تَطْفَأُ হিংসা হ'ল নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্র এবং তা পরিত্যাগ করা হ'ল মর্যাদাবান ব্যক্তিদের কর্ম। আর প্রত্যেক আগুনের নির্বাপক আছে। কিন্তু হিংসার আগুন নির্বাপিত হয় না'।¹⁴

(৫) আবুল লাইছ সমরকন্দী (মৃঃ ৩৭৩ হিঃ) বলেন, হিংসাকৃত ব্যক্তির আগেই হিংসুকের নিকট পাঁচটি শাস্তি পৌঁছে যায়। (ক) দুশ্চিন্তা, যা বিচ্ছিন্ন হয় না। (খ) কষ্ট, যার কোন পুরস্কার পাওয়া যায় না। (গ) তিরষ্কার, যাকে প্রশংসা করা হয় না (ঘ) আল্লাহ্র ক্রোধ অর্জন করা এবং (ঙ) তার জন্য (কল্যাণ কর্মের) তাওফীকের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া।¹⁵

টিকাঃ
১১. ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাক্কু ৫৯/২০০ পৃঃ।
১২. বায়হাক্বী, যুহৃদ আল-কাবীর ৩১৫ পৃঃ।
১৩. ইবনু আব্দি রব্বিহী, আল-ইকুদুল ফারীদ ২/২৭০ পৃঃ।
১৪. আবু হাতেম দারেমী, রওযাতুল উক্বালা ১৩৪ পৃঃ।
১৫. শিহাবুদ্দীন আবশীহী, আল-মুসতাত্বরাফ ২২১ পৃঃ।

📘 হিংসা ও অহংকার > 📄 হিংসার পরিণাম

📄 হিংসার পরিণাম


(ক) দুনিয়াবী পরিণতি :
হিংসুক ব্যক্তি অন্যকে ক্ষতি করার আগে সে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেননা (১) শুরুতেই সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। হিংসা দূর না হওয়া পর্যন্ত এটাই তার জন্য স্থায়ী দুনিয়াবী শাস্তি। (২) তার চেহারা সর্বদা মলিন থাকে। তার সাথে তার পরিবারে হাসি ও আনন্দ থাকে না। (৩) অন্যের ক্ষতি করার চক্রান্তে ও ষড়যন্ত্রে সে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে সে সর্বদা ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকে। নিশুতি রাতে বাঁশঝাড়ে কঞ্চির শব্দে কল্পিত জিনের ভয়ে হার্টফেল করার মত হিংসুক ব্যক্তিও সর্বদা কল্পিত শত্রুর ভয়ে আড়ষ্ট থাকে। (৪) তারই মত লোকেরা তার বন্ধু হয়। ফলে সৎ সঙ্গ থেকে সে বঞ্চিত হয়। (৫) ঘুণ পোকা যেমন কাঁচা বাঁশকে ভিতর থেকে কুরে কুরে খায়, হিংসুক ব্যক্তির অন্তর তেমনি হিংসার আগুন কুরে কুরে খায়। এক সময় সে ধ্বংস হয়ে যায়, যেমন ঘুণে ধরা বাঁশ হঠাৎ ভেঙ্গে পড়ে শেষ হয়ে যায়।

বিশ্বে যত অশান্তি তার অন্যতম প্রধান কারণ হ'ল পারস্পরিক হিংসা ও প্রতিহিংসা। হিংসা ও বিদ্বেষ মানবতাকে হত্যা করে। হিংসুক ব্যক্তি কোন অবস্থায় শান্তি পায় না। তার কোন সৎবন্ধু জোটে না। সে কখনোই সুপথপ্রাপ্ত হয় না। তার হৃদয়-মন থাকে সর্বদা জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের মত। যেখান থেকে সর্বদা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র, ধোঁকা ও মিথ্যাচারের দুর্গন্ধযুক্ত স্ফুলিঙ্গ সমূহ নির্গত হয়। সে সর্বদা নিজেকে বিজয়ী ভাবে। অথচ সেই-ই সবচেয়ে পরাজিত। সে নিজেকে বীর ভাবে, অথচ সেই-ই সবচেয়ে ভীরু। ভীত-চকিত সর্পের ন্যায় সে তার কল্পিত প্রতিপক্ষকে ছোবল মারার জন্য সর্বদা ফণা উঁচিয়ে থাকে। এভাবে আমৃত্যু সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। ফলে হিংসা-বিদ্বেষ অন্যকে হত্যা করার আগে হিংসুককে হত্যা করে। এদিক দিয়ে বিচার করলে হিংসাকেই বড় ন্যায় বিচারক বলতে হয়। কেননা সে সর্বাগ্রে হিংসুককে শাস্তি দেয়, অতঃপর অন্যকে। হিংসুক ব্যক্তি শত চেষ্টায়ও তা গোপন রাখতে পারে না। কেননা শত্রুকে ঘায়েল করার পূর্বে সে নিজেই ঘায়েল হয়। যার নমুনা তার চেহারায় ও কর্মে ফুটে ওঠে। জনৈক কবি তাই বলেন,

يا حاسداً لي على نعمتي + أتدري على من أسأت الأدب

أسأت على الله في فعله + لأنك لم ترضَ لي ما قسم

فأخزاك ربي بأن زادني + وسد عليك وجوه الطلب

(১) 'হে হিংসুক ব্যক্তি! যে আমার নে'মতে হিংসা করে থাক। তুমি কি জানো তুমি কার সাথে মন্দ আচরণ করো? (২) তুমি আল্লাহ্ কর্মকে মন্দ বলে থাক। কেননা তিনি আমাকে যা (রহমত) বণ্টন করেছেন তুমি তাতে সন্তুষ্ট নও। (৩) অতএব আমার প্রভু তোমাকে লাঞ্ছিত করুন এ কারণে যে তিনি আমাকে রহমত বেশী দিয়েছেন। আর তোমার উপরে তা বন্ধ করেছেন'।¹⁶

সৎকর্মশীল ঈমানদারগণ হিংসার শিকার হন। তারা আসামী হন, কিন্তু সহজে বাদী হন না। যুগে যুগে এটাই ঐতিহাসিকভাবে সত্য। এজন্য প্রবাদ বাক্য হয়ে রয়েছে, هل مَاتَ الْبُخَارِيُّ غَيْرَ مَحْسُودٍ ؟ 'ইমাম বুখারী কি হিংসুকের হামলা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করতে পেরেছেন'? অন্য একজন পণ্ডিত বলেন, الناسُ حاسدٌ ومحسود، ولكلِّ نعمة حسود ‘মানুষ হিংসুক ও হিংসাকৃত। আর প্রত্যেক নে'মতের জন্যই হিংসুক রয়েছে'। এর পরেও প্রকৃত মুমিনগণ পাল্টা হিংসা করেন না। বিদ্বেষ করেন না। বরং প্রতিপক্ষের হেদায়াত কামনা করেন। কবি কুমায়েত আল-আসাদী বলেন,

إن يحسدونني فإني غير لائمهم + قبلي من الناس أهل الفضل قد حُسدُوا

فدام لي ولهم ما بي وما بهم + ومات أكثرنا غيظاً بما يجد

أنا الذي يجدوني في صدورهم + لا أرتقي صدراً منها ولا أرِدُ

(১) তারা যদি আমাকে হিংসা করে, পাল্টা আমি তাদের নিন্দা করব না। কেননা আমার পূর্বে বহু কল্যাণময় ব্যক্তি হিংসার শিকার হয়েছেন। (২) অতএব আমার ও তাদের সঙ্গে (আল্লাহ্র রহমত) যা ছিল, তা থাকবে। অথচ আমাদের অধিকাংশ মানুষ মারা গেছে যা সে পেয়েছে তাতে ক্রুদ্ধ অবস্থায়। (৩) আমি সেই ব্যক্তি যে, তারা আমাকে সর্বদা তাদের বুকের মধ্যে পাবে। যেখান থেকে আমি না ফিরে গেছি, না অবতরণ করেছি'।¹⁷

(খ) আখেরাতের পরিণতি :
মৃত্যুর পর কবরে তাকে গ্রাস করে ভয়াবহ আযাব। অতঃপর কিয়ামতের দিন সে উঠবে ভীত-নমিত ও মলিন চেহারায় অধোমুখি হয়ে। আল্লাহ বলেন, وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ - تَرْهَقُهَا فَتَرَةٌ أُوْلَئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ 'বহু মুখমণ্ডল সেদিন হবে ধূলি-ধূসরিত'। 'কালিমালিপ্ত'। তারা হ'ল অবিশ্বাসী পাপিষ্ঠ' ('আবাসা ৮০/৪০-৪২)। তাদেরকে দেখে যেমন দুনিয়াতে চেনা যেত। আখেরাতেও তেমনি চেনা যাবে। যেমন আল্লাহ বলেন, يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ فَيُؤْخَذُ بِالنَّوَاصِي وَالْأَقْدَامِ 'অপরাধীদের চেনা যাবে তাদের চেহারা দেখে। অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করা হবে কপালের চুল ও পা ধরে' (রহমান ৫৫/৪১)।

টিকাঃ
১৬. মুছত্বফা হাশেমী, জাওয়াহিরুল আদব ২/৪৮৭।
১৭. জাওয়াহিরুল আদব ২/২৭০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00