📄 মন্দির ও তীর্থ
মন্দির হলো দেবালয়। এখানে দেবদেবীদের মূর্তি থাকে। মন্দিরে পূজা অর্চনা হয়। ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে পূজার্চনা করে। দেবতার কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করে। হিন্দুগণ বলেন মন্দিরে গেলে দেহমন পবিত্র হয়। দেব দর্শনে ভক্তি আসে।
📄 মন্দিরের অবস্থা
মন্দির সব জায়গায় সমান নয়। শহর ও গ্রামের মন্দিরের মধ্যে পার্থক্য অনেক। তুলনামূলকভাবে গ্রামের মন্দিরগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। এ প্রসঙ্গে স্বামী ধর্মতীর্থ বলেন- যদি আপনি কোন সাধারণ গ্রামে যান এবং প্রথমেই যে ব্যক্তির সাথে দেখা হয় তাকে অনুরোধ করেন সেখানকার সবচেয়ে নোংরা স্থানটি দেখাতে, তবে যদি সে সৎ এবং তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন হয়, তবে আপনাকে মন্দিরে নিয়ে যাবে। অধিকাংশ স্থানেই এসব মন্দিরের স্থাপনা জরাগ্রস্ত, নোংরা এবং অভ্যন্তর ভাগ অযত্নে অবহেলিত। দেয়াল যদি থাকে তবে তাতে রয়েছে নির্লজ্জ যুবকদের হাতের নানা ধরনের লেখা। চত্বরগুলোকে মাসের পর মাস ঝাড়ু দেওয়া হয় না। তাতে দেখা যায় গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, গোবর এবং আরও নানা ধরনের আবর্জনা। পূজার দিনগুলো ব্যতীত সারাটি বছরই এগুলোকে কোন ভক্ত বা দর্শনার্থী দেখা যায় না। আমাদের দেশের গ্রাম এলাকায় যেসব মন্দির রয়েছে, সেগুলো যদি একবার দেখে নেওয়া যায় তবে স্বামী তীর্থের কথার সত্যতা অতি সহজে অনুধাবন করা যাবে। নানা জায়গায় বড় বড় মন্দির আছে যেমন- ঢাকার ঢাকেশ্বর মন্দির, কলকাতার কালীঘাটের কালী মন্দির, পুরীর জগন্নাথ মন্দির, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির।
📄 তীর্থ
দেবতাদের লীলাস্থল, মুনি-ঋষিদের সাধনার ক্ষেত্রে প্রভৃতিকে তীর্থ বলা হয়। তীর্থ হল পুণ্যস্থান। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন তীর্থে গেলে পাপ থাকে না, পুণ্যলাভ হয়। তীর্থের জল, মাটি, বাতাস সবই পবিত্র। তীর্থ দর্শনে মন পবিত্র হয়।
📄 গয়া
ভারতের বিহার প্রদেশে ফণ্ডু নদীর তীরে গয়া অবস্থিত। মৃত পিতা-মাতা ও পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশে গয়াতে পিন্ড দেওয়া হয়। গয়াতে পিন্ড দান করা পুত্রের একটি বড় কর্তব্য।