📄 দুর্গা পূজা
দুর্গা হলেন সকল অপশক্তি ধ্বংসের দেবী। দুর্গাদেবী দশভুজা অর্থাৎ তার হাত দশটি। দুর্গার এক হাতে থাকে রক্তাক্ত ছুরি, অন্য হাতে থাকে একটি কর্তিত মস্তক মূর্তি। তার গলায় থাকে নরমুন্ডের মালা। দুর্গার পদতলে থাকে সিংহরূপী একটি দৈত্য।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিরাট পূজামন্ডপ বা প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। এই পূজামঞ্চে বা মন্ডপে কয়েকটি মূর্তি এক সঙ্গে রাখা হয়। এর মধ্যে থাকে দেবী দুর্গার মূর্তি। দেবী দুর্গার একপাশে স্থাপন করা হয়। দুর্গার পুত্র কার্তিক এবং গণেশের মূর্তি। অন্যপাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মূর্তি।
দুর্গাপূজা সার্বজনীন। এককভাবে কারো পক্ষে দুর্গা পূজার অনুষ্ঠান করা অর্থাৎ ব্যয়ভার বহন করা কঠিন। তাই যৌথভাবে এই পূজার ব্যবস্থা করতে হয়। অতীতে জমিদারগণ, বর্তমানে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীগণ এককভাবে দুর্গা পূজার অনুষ্ঠান করতে পারেন।
দুর্গাপূজা একাধিক দিনব্যাপী চলে। পূজা চলাকালে নাচ, গান, বাদ্য, বাজনার ব্যবস্থা হয়। দেবীর কল্যাণে আনন্দের স্রোত প্রবাহিত হয়। দুর্গাপূজা চলাকালে যন্ত্রসঙ্গীত উচ্চ কন্ঠের গীত হয়। করতাল, ঢোল, বেল বাজানো হয়।
দুর্গাপূজা হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কৃত্তিবাসী রামায়ণ থেকে জানা যায়, রাবণকে হত্যা করার জন্য রাম শরৎকালে দুর্গার পূজা করেছিলেন। তখন থেকে এর নাম হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা করার জন্য শুক্ল ষষ্ঠীতিথিতে দুর্গার বোধন (জাগরণের আয়োজন) করা হয় এবং সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে পূজা দিয়ে দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। দুর্গাপূজা কেউ ব্যক্তিগতভাবে আবার কেউ সমষ্টিগতভাবে করে। সমষ্টিগত পূজাকে বলা হয় বারোয়ারি দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজার সময় অষ্টমীর দিন মন্দিরে আট-নয় বছরের একটি বালিকাকে দুর্গা সাজিয়ে কুমারী পূজা করা হয়। দশমীর দিন বিকালে মিছিল সহকারে প্রতিমা নিয়ে নিকটস্থ নদী-খাল-বিল বা পুকুরে বিসর্জন দেয়া হয়। পূজার সময় জাতিভেদকে অগ্রাহ্য করার কারণে দুর্গাপূজাকে বলা হয় সার্বজনীন পূজা।
📄 দুর্গাপূজা তিন প্রকার
দুর্গাপূজা তিন প্রকার: স্বাত্বিক (জপ, যজ্ঞ ও নিরামিষ ভোগ দ্বারা পূজা) আমষিক (মদ, মাংস প্রভৃতি দ্বারা পূজা) ও রাজসিক (পশুবলি ও আমিষ ভোগ দ্বারা পূজা)। অতীতে দুর্গাপূজার সময় ছাগল, মেষ, মহিষ ইত্যাদি বলি দেয়া হতো। কোন কোন শাস্ত্রে নরবলির বিধানও আছে।
📄 জন্মাষ্টমী
জন্মাষ্টমী জন্মষ্টমী হচ্ছে কৃষ্ণের জন্ম উপলক্ষে পালিত উৎসব। হিন্দুদের বিশ্বাস দ্বাপর যুগের কোন এক শ্রাবণে (মতান্তরে ভাদ্র) মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এ দিনটি জন্মষ্টমী নামে খ্যাত। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। ঢাকায় প্রতিবছর ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে মিছিল বের হয় এবং শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের একটি বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে একটি শিশু বালক, যাকে কৃষ্ণ সাজিয়ে মিছিলের সাথে প্রদর্শন করা হয়।
📄 সরস্বতীপূজা
সরস্বতীপূজা হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, সরস্বতী দেবী অজ্ঞতা বিদূরিত করে জ্ঞান দান করেন। এজন্য হিন্দু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালাভের আশায় সরস্বতীর অর্চনা করে। তারা মাঘ মাসের শ্রীপঞ্চমীতে (শুক্লপক্ষের পঞ্চম তিথিতে) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা করে। পূজার সময় আশীর্বাদ লাভের আশায় পূজাবেদীর ওপর পাঠ্যপুস্তক ও কলম-পেন্সিল রাখা হয়।