📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 বৃক্ষ পূজা

📄 বৃক্ষ পূজা


বৃক্ষ ফল দেয়, ছায়া দেয়, পাতা দেয়। গাছ কেটে কাঠ পাওয়া যায়। কাঠ দিয়ে ঘর তৈরি হয়। নৌকা তৈরি হয়। জাহাজ তৈরি হয়। জ্বালানি হিসেবেও কাঠ ব্যবহার হয়। বৃক্ষ, মহীরুহ শত শত বছর জীবিত থাকে। তাই বৃক্ষমূলে পূজা অর্পণ শুরু হয়। প্রাকৃতিক শক্তির পূজা মানুষের মনে প্রথম সৃষ্টি হয়। ঝড়ে বা অন্য কারণে বৃক্ষ উপড়ে পড়ে। বুড়ো ডাল ভেঙ্গে পড়ে। বৃক্ষ স্বেচ্ছায় কারো ক্ষতি করে না। বৃক্ষের উপকার এতো বেশি যে, বৃক্ষকেও দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। ঈশ্বরের প্রতিভূ দেব দেবীবৃন্দ নিজেদের বৃক্ষের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। মুনি ঋষিগণ বৃক্ষতলে তপস্যা করেন। এই বৃক্ষকেও হিন্দুগণ দেবতা জ্ঞানে পূজা করেন।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 তুলসী দেবীরপূজা

📄 তুলসী দেবীরপূজা


ঈশ্বর নিজেকে তার সৃষ্টজীবের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। শুধু বটবৃক্ষ, অশ্বথ বৃক্ষ নয়, তরুলতার মাধ্যমেও ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশ করেন। তুলসী চারা অতি ক্ষুদ্র। ঝোপ ঝাড় যতটুকু উঁচু হয় তুলসী ততটুকুও নয়। ক্ষুদ্র তুলসী গাছকেও দেবী মনে করা হয়। ধরা হয় যে, তুলসী গাছে এক হাজার দেবতা বাস করেন। তুলসী পাতার রস, কফ এবং সর্দির জন্য খুবই উপকারী। এর অন্যান্য স্বাস্থ্যগুণও রয়েছে। ধর্মপ্রাণ হিন্দুগৃহে তুলসী গাছ রোপণ করা হয়। মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যুপথযাত্রীকে বাড়ির আঙ্গিনায় তাড়াতাড়ি তুলসী বৃক্ষদেবীর তলে নিয়ে যাওয়া হয়। যাতে মৃতের প্রতি এক হাজার দেবতার আশীর্বাদ তুলসীদেবীর আশীর্বাদের সঙ্গে মিলিত হয়।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 কীর্তন

📄 কীর্তন


হিন্দুদের ধর্মীয় সঙ্গীতকে বলা হয় কীর্তন। সঙ্গীতের বিষয়বস্তু থাকে ধর্মসংক্রান্ত এবং পবিত্রতার আমেজস্নিগ্ধ। কীর্তন ধর্মীয় আরাধনা বা পূজার একটি বিশেষরূপ। যন্ত্র সঙ্গীতের তালে তালে কীর্তনে অংশগ্রহণকারীদের নৃত্যও থাকে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দুর্গা পূজা

📄 দুর্গা পূজা


দুর্গা হলেন সকল অপশক্তি ধ্বংসের দেবী। দুর্গাদেবী দশভুজা অর্থাৎ তার হাত দশটি। দুর্গার এক হাতে থাকে রক্তাক্ত ছুরি, অন্য হাতে থাকে একটি কর্তিত মস্তক মূর্তি। তার গলায় থাকে নরমুন্ডের মালা। দুর্গার পদতলে থাকে সিংহরূপী একটি দৈত্য।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিরাট পূজামন্ডপ বা প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। এই পূজামঞ্চে বা মন্ডপে কয়েকটি মূর্তি এক সঙ্গে রাখা হয়। এর মধ্যে থাকে দেবী দুর্গার মূর্তি। দেবী দুর্গার একপাশে স্থাপন করা হয়। দুর্গার পুত্র কার্তিক এবং গণেশের মূর্তি। অন্যপাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মূর্তি।

দুর্গাপূজা সার্বজনীন। এককভাবে কারো পক্ষে দুর্গা পূজার অনুষ্ঠান করা অর্থাৎ ব্যয়ভার বহন করা কঠিন। তাই যৌথভাবে এই পূজার ব্যবস্থা করতে হয়। অতীতে জমিদারগণ, বর্তমানে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীগণ এককভাবে দুর্গা পূজার অনুষ্ঠান করতে পারেন।

দুর্গাপূজা একাধিক দিনব্যাপী চলে। পূজা চলাকালে নাচ, গান, বাদ্য, বাজনার ব্যবস্থা হয়। দেবীর কল্যাণে আনন্দের স্রোত প্রবাহিত হয়। দুর্গাপূজা চলাকালে যন্ত্রসঙ্গীত উচ্চ কন্ঠের গীত হয়। করতাল, ঢোল, বেল বাজানো হয়।

দুর্গাপূজা হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কৃত্তিবাসী রামায়ণ থেকে জানা যায়, রাবণকে হত্যা করার জন্য রাম শরৎকালে দুর্গার পূজা করেছিলেন। তখন থেকে এর নাম হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা করার জন্য শুক্ল ষষ্ঠীতিথিতে দুর্গার বোধন (জাগরণের আয়োজন) করা হয় এবং সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে পূজা দিয়ে দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। দুর্গাপূজা কেউ ব্যক্তিগতভাবে আবার কেউ সমষ্টিগতভাবে করে। সমষ্টিগত পূজাকে বলা হয় বারোয়ারি দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজার সময় অষ্টমীর দিন মন্দিরে আট-নয় বছরের একটি বালিকাকে দুর্গা সাজিয়ে কুমারী পূজা করা হয়। দশমীর দিন বিকালে মিছিল সহকারে প্রতিমা নিয়ে নিকটস্থ নদী-খাল-বিল বা পুকুরে বিসর্জন দেয়া হয়। পূজার সময় জাতিভেদকে অগ্রাহ্য করার কারণে দুর্গাপূজাকে বলা হয় সার্বজনীন পূজা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px