📄 গঙ্গা স্নান
গঙ্গাতীরে বা নদী তীরে যাদের বাস- তারা সাধারণত প্রাতঃকালে গঙ্গাস্নান করে দিবসের কাজ শুরু করেন। যে কোন নদীর তীরে প্রাতঃস্নান অতি পুণ্য কাজ। স্নানকালে ধর্মপ্রাণ হিন্দুগণ গায়ত্রীমন্ত্র পাঠ করেন। গায়ত্রীমন্ত্রে দেবতা বন্দনা করা হয়। দেবতার নিকট প্রার্থনা করা হয় পূজারীকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার জন্য। যেমনিভাবে মুসলিমগণও মুনাজাত করে অজ্ঞানতার অন্ধকার (জাহিলিয়াত) থেকে জ্ঞানের আলোতে (নূর) আসার জন্য। যাদের বাড়ি গঙ্গাতীরে নয় অথবা কোন নদী তীরে নয়, তাদেরও গঙ্গাস্নানের বিকল্প বিধি আছে। তারা সূর্য উঠার শুরুতেই ভূমিতে মস্তক স্পর্শ করে সূর্য দেবতাকে সম্মান জানাবে, দেবতার সম্মানার্থে মন্ত্র পাঠ করবে, নদীর পানি কয়েক ফোঁটা চারদিকে ছড়িয়ে দিবে। জল না পাওয়া গেলে বিকল্প জল ব্যবহার করা হবে।
📄 বৃক্ষ পূজা
বৃক্ষ ফল দেয়, ছায়া দেয়, পাতা দেয়। গাছ কেটে কাঠ পাওয়া যায়। কাঠ দিয়ে ঘর তৈরি হয়। নৌকা তৈরি হয়। জাহাজ তৈরি হয়। জ্বালানি হিসেবেও কাঠ ব্যবহার হয়। বৃক্ষ, মহীরুহ শত শত বছর জীবিত থাকে। তাই বৃক্ষমূলে পূজা অর্পণ শুরু হয়। প্রাকৃতিক শক্তির পূজা মানুষের মনে প্রথম সৃষ্টি হয়। ঝড়ে বা অন্য কারণে বৃক্ষ উপড়ে পড়ে। বুড়ো ডাল ভেঙ্গে পড়ে। বৃক্ষ স্বেচ্ছায় কারো ক্ষতি করে না। বৃক্ষের উপকার এতো বেশি যে, বৃক্ষকেও দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। ঈশ্বরের প্রতিভূ দেব দেবীবৃন্দ নিজেদের বৃক্ষের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। মুনি ঋষিগণ বৃক্ষতলে তপস্যা করেন। এই বৃক্ষকেও হিন্দুগণ দেবতা জ্ঞানে পূজা করেন।
📄 তুলসী দেবীরপূজা
ঈশ্বর নিজেকে তার সৃষ্টজীবের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। শুধু বটবৃক্ষ, অশ্বথ বৃক্ষ নয়, তরুলতার মাধ্যমেও ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশ করেন। তুলসী চারা অতি ক্ষুদ্র। ঝোপ ঝাড় যতটুকু উঁচু হয় তুলসী ততটুকুও নয়। ক্ষুদ্র তুলসী গাছকেও দেবী মনে করা হয়। ধরা হয় যে, তুলসী গাছে এক হাজার দেবতা বাস করেন। তুলসী পাতার রস, কফ এবং সর্দির জন্য খুবই উপকারী। এর অন্যান্য স্বাস্থ্যগুণও রয়েছে। ধর্মপ্রাণ হিন্দুগৃহে তুলসী গাছ রোপণ করা হয়। মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যুপথযাত্রীকে বাড়ির আঙ্গিনায় তাড়াতাড়ি তুলসী বৃক্ষদেবীর তলে নিয়ে যাওয়া হয়। যাতে মৃতের প্রতি এক হাজার দেবতার আশীর্বাদ তুলসীদেবীর আশীর্বাদের সঙ্গে মিলিত হয়।
📄 কীর্তন
হিন্দুদের ধর্মীয় সঙ্গীতকে বলা হয় কীর্তন। সঙ্গীতের বিষয়বস্তু থাকে ধর্মসংক্রান্ত এবং পবিত্রতার আমেজস্নিগ্ধ। কীর্তন ধর্মীয় আরাধনা বা পূজার একটি বিশেষরূপ। যন্ত্র সঙ্গীতের তালে তালে কীর্তনে অংশগ্রহণকারীদের নৃত্যও থাকে।