📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 পর্বত ও পাহাড় পূজা

📄 পর্বত ও পাহাড় পূজা


পাহাড় পর্বত থেকে নদী প্রবাহিত হয়। পাহাড়ে বৃক্ষরাজী জন্মে। বিরাট বিরাট মহীরুহে পরিণত হয় ক্ষুদ্র চারাগাছ। পাহাড়ের বৃক্ষরাজী তাপে ভারসাম্য আনে। উঁচু হিমালয় পাহাড়ে মেঘ আটকে যায়। পানি হয়ে প্রবাহিত হয়। মুণি ঋষিগণ পাহাড়ে তপস্যা করেন। তাই পাহাড় পবিত্র। পাহাড়কে হিন্দুগণ পূজা করেন। সমতল এলাকা যেখানে পাহাড় নেই সেখানে হিন্দুরা মাটি দিয়ে পাহাড়ের আকৃতি বানিয়ে পূজা করে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 নদী পূজা

📄 নদী পূজা


অন্যান্য প্রাকৃতিক বস্তু এবং শক্তির ন্যায় নদী ও নদীর জলধারা শক্তির প্রতীক। বর্ষাকালে বা বিশেষ বিশেষ সময়ে নদী প্লাবন সৃষ্টি করে। ঘর, বাড়ি ভেসে যায়। জল ধারা পরিবর্তন হয়। মাটি ভেঙ্গে নদীর সৃষ্টি হয়। নদী যোগাযোগ মাধ্যম। নদীতে মৎস্য উৎপন্ন হয়। নদীর পানি মাতৃসম। মা যেমন সন্তানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে, নদীও প্রকৃতিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পবিত্র করেন। হিন্দুগণ নদীপূজা করেন। মাতৃসম নদী শুধু সেবিকা নয়, দেবীও। গঙ্গানদী থেকে শিবপত্নী গঙ্গার জন্ম। এলাহাবাদের অদূরে ত্রিবেনী নামক স্থানে গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর সঙ্গম স্থল। এ স্থান হিন্দুদের নিকট পবিত্রতম। ত্রি-নদীর মিলনস্থানের নিকট বেনারস শহর। বেনারস হলো হিন্দুদের পবিত্রতম তীর্থস্থান। সকাল বেলা গঙ্গাস্নান সৌভাগ্যের প্রতীক। গোবর মিশ্রিত পানি দিয়ে গৃহ পরিষ্কার করা হয় এবং পবিত্র করা হয়। বিত্তশালী এবং হিন্দু সাধকগণ মৃত্যুর পূর্বে বেনারসে যেতে চেষ্টা করেন- গঙ্গা নদীর জলে মৃত্যু-বরণ করার জন্যে। মৃত্যু আসন্ন হলে মৃত্যু যাত্রীদের শরীরের অর্ধেক গঙ্গাজলে ডুবিয়ে রাখা হয়। যেন প্রাণ ত্যাগ করার সাথে সাথেই প্রাণটিকে গঙ্গা দেবী কোলে তুলে নিতে পারেন। উৎপত্তি স্থল থেকে শুরু করে সমুদ্রের মিলনস্থান পর্যন্ত সর্বত্র গঙ্গানদী তথা গঙ্গা দেবী পবিত্র।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 গঙ্গা স্নান

📄 গঙ্গা স্নান


গঙ্গাতীরে বা নদী তীরে যাদের বাস- তারা সাধারণত প্রাতঃকালে গঙ্গাস্নান করে দিবসের কাজ শুরু করেন। যে কোন নদীর তীরে প্রাতঃস্নান অতি পুণ্য কাজ। স্নানকালে ধর্মপ্রাণ হিন্দুগণ গায়ত্রীমন্ত্র পাঠ করেন। গায়ত্রীমন্ত্রে দেবতা বন্দনা করা হয়। দেবতার নিকট প্রার্থনা করা হয় পূজারীকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার জন্য। যেমনিভাবে মুসলিমগণও মুনাজাত করে অজ্ঞানতার অন্ধকার (জাহিলিয়াত) থেকে জ্ঞানের আলোতে (নূর) আসার জন্য। যাদের বাড়ি গঙ্গাতীরে নয় অথবা কোন নদী তীরে নয়, তাদেরও গঙ্গাস্নানের বিকল্প বিধি আছে। তারা সূর্য উঠার শুরুতেই ভূমিতে মস্তক স্পর্শ করে সূর্য দেবতাকে সম্মান জানাবে, দেবতার সম্মানার্থে মন্ত্র পাঠ করবে, নদীর পানি কয়েক ফোঁটা চারদিকে ছড়িয়ে দিবে। জল না পাওয়া গেলে বিকল্প জল ব্যবহার করা হবে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 বৃক্ষ পূজা

📄 বৃক্ষ পূজা


বৃক্ষ ফল দেয়, ছায়া দেয়, পাতা দেয়। গাছ কেটে কাঠ পাওয়া যায়। কাঠ দিয়ে ঘর তৈরি হয়। নৌকা তৈরি হয়। জাহাজ তৈরি হয়। জ্বালানি হিসেবেও কাঠ ব্যবহার হয়। বৃক্ষ, মহীরুহ শত শত বছর জীবিত থাকে। তাই বৃক্ষমূলে পূজা অর্পণ শুরু হয়। প্রাকৃতিক শক্তির পূজা মানুষের মনে প্রথম সৃষ্টি হয়। ঝড়ে বা অন্য কারণে বৃক্ষ উপড়ে পড়ে। বুড়ো ডাল ভেঙ্গে পড়ে। বৃক্ষ স্বেচ্ছায় কারো ক্ষতি করে না। বৃক্ষের উপকার এতো বেশি যে, বৃক্ষকেও দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। ঈশ্বরের প্রতিভূ দেব দেবীবৃন্দ নিজেদের বৃক্ষের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। মুনি ঋষিগণ বৃক্ষতলে তপস্যা করেন। এই বৃক্ষকেও হিন্দুগণ দেবতা জ্ঞানে পূজা করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px