📄 দেবতা পূজার বৈশিষ্ট্য
হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ গর্ববোধ করেন যে, মুসলিমদের আল্লাহ মাত্র একজন। তাদের দেবদেবী তেত্রিশ কোটি বা তিনশত ত্রিশ মিলিয়ন। ভক্তের আচরণে একজন দেবতা সন্তুষ্ট না হলে আরেকজন দেবতা সন্তুষ্ট হতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসাশাস্ত্রে একাধিক চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া হয়। কিন্তু আত্মার চিকিৎসাশাস্ত্রে একাধিক চিকিৎসক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো সহজে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এগুলোকে পূজার বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
📄 পূজার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যহীনতা
দেবদেবীর পূজা করার পেছনে অন্তরের পরিশুদ্ধি, আত্মার পবিত্রতা, নৈতিক চরিত্রের উন্নতি, রিপুর ওপর বিজয়লাভ, ঈশ্বরের সন্তুষ্টি, এ ধরনের কোন মহৎ উদ্দেশ্য থাকে বলে মনে হয় না। পূজার সময় যা করা হয় তার মধ্যে প্রধান হলো প্রতিমার সম্মুখে মন্ত্রপাঠ (তাও পুরোহিতের মুখে), ফুল ছড়ানো, ধূপকাঠি দান, পানি ছিঁটানো, ধূপ জ্বালানো ইত্যাদি। এসব কাজ করে ভক্তগণ কী পায়, তা বোঝা যায় না। পুরোহিতগণ যে সব মন্ত্র আওড়ান তা সংস্কৃত ভাষায় হওয়ায় এর থেকে কেউ কোন কিছু শিখবারও কথা নয়। এসব কারণে, পূজায় অংশগ্রহণ বা তীর্থস্থান ভ্রমণের পরও কারো ব্যক্তি জীবনে কোন পরিবর্তন আসে না।
📄 দেবদেবীর সংখ্যা
হিন্দুধর্মে দেব দেবীর সংখ্যা ৩৩ কোটি। এই তেত্রিশ কোটির নাম কোথাও লেখা নেই এবং লেখা সম্ভবও নয়। ঋগবেদে দুই স্থানে তিন হাজার তিনশত ঊনচল্লিশ জন (৩,৩৩৯) দেব দেবীর কথা বলা হয়েছে। ঋগবেদ, মণ্ডল-৮, সুক্ত-৩০। অন্যত্র তেত্রিশ জন দেবদেবীর নাম উল্লেখ আছে। তবে প্রধান ঈশ্বর যে একজন- এই ধারণাও আছে। দেবদেবীর সংখ্যা ৩৩ থেকে হয়ত পূজারীদের অতি উৎসাহের ফলে ৩৩ কোটিতে পৌঁছে গেছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ তেত্রিশ কোটি দেবতার কথা বলেন। কিন্তু নাম জিজ্ঞাসা করলে কোটি, লক্ষ- দূরের কথা, হাজার দেবতার নামও তাদের থেকে জানা যায় না। ধর্মের সকল শাস্ত্র খোঁজ করে চারশতের বেশি হিন্দুদের দেব দেবীর নাম পাওয়া যায় না।
📄 দেবতাদের শ্রেণীবিভাগ
অবস্থান, দৈহিক আকার, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ব্যবহৃত বাহন, অস্ত্র প্রভৃতির ভিত্তিতে হিন্দু দেবতাদের শ্রেণীবিন্যাস করা যায়। এ সম্পর্কিত কিছু তথ্য নিচে দেয়া হলো।