📄 বৈদিক দেবতা পূজা
হিন্দুধর্মে এক ঈশ্বরবাদের সঙ্গে সঙ্গে বহু ঈশ্বর এবং দেবদেবীর অস্তিত্বের স্বীকৃতি আছে। ঈশ্বর এবং দেব-দেবীগণ শুধুই যে স্বর্গে থাকেন তা নয়, তারা পৃথিবীতে আবির্ভূত হন-মানব সন্তান হিসেবে। যেমন হয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরামচন্দ্র।
📄 সর্বেশ্বর বা বহু ঈশ্বরবাদ
শুধু মানুষই যে দেবতার আসন অলংকৃত করে মানব মন্ডলির পূজা পাওয়ার উপযুক্ত হন, তা নয়। বানর, সাপ, ইঁদুর, মাছ ইত্যাদি মানবমন্ডলি কর্তৃক পূজিত হন। শুধু বানর, ইঁদুর, সাপ, মাছ, প্রভৃতি প্রাণী নয়, প্রাণহীন সূর্য, অগ্নি, বায়ু, ইত্যাদিও দেবতারূপে পূজিত হন। মানব কর্তৃক পূজা পাওয়ার যোগ্য দেব-দেবী একজন, দু'জন, শত শত এবং হাজার হাজার নয়, তারা লক্ষ লক্ষ এবং সর্বমোট তেত্রিশ কোটি। এদের মধ্যে অনেকেই হিংসা বিদ্বেষ বশত পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন এবং অনেকেই মালিকানায় চলে আসেন এবং মানব কল্যাণে জীবন দান করেন।
📄 বৈদিক যুগের দেবতা
সময় ও কালের বিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ ও পরিবেশও বদলায়। বৈদিক যুগে যে দেবদেবীর পূজা হতো, পরবর্তীতে তা পরিবর্তিত হয়। বৈদিক যুগে ক্ষমতাধর এবং পূজনীয় দেবদেবীদের মধ্যে ছিলেন ইন্দ্র, রুদ্র, অগ্নি, প্রজাপতি, মিত্র, বরুণ, সবিতাপ্রমুখ। তারা এখন রয়েছেন বর্তমানে পূজিত দেবমন্ডলের অন্তরালে। মানুষ নিজের থেকে শক্তিশালী ব্যক্তির বা সত্ত্বার উপাসনা করে। তার কাছ থেকে সাহায্য চায়। সভ্যতার শুরুতে মানবজাতি ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি, নদী, মহাসাগর, ইত্যাদিকে নিজের থেকে শক্তিশালী মনে করতো। এখন বহু ক্ষেত্রে মানুষ প্রাকৃতিক বিপদ নিয়ন্ত্রক।
📄 ইন্দ্র পূজা
ঝড় ও বজ্রপাতকে মানুষ ভয় করে। অগ্নি, বৃষ্টি, মহাপ্লাবন, ইত্যাদি ধ্বংসশীল এবং ক্ষমতাবান। এগুলোকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের প্রতিভু দেবতা হিসেবে হিন্দুগণ পূজা করেন। ঝড় বৃষ্টি এবং বজ্রের দেবতা হলেন ইন্দ্র। বৈদিক যুগের অন্যতম প্রধান দেবতা ছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র। তার জীবন সঙ্গিনী ভার্যা ছিলেন ইন্দ্রানী। অন্যান্য প্রাণীদের ন্যায় দেবতাদেরও জন্ম আছে, জনক-জননীও আছে। দেবরাজ হলেন ইন্দ্র। তার পিতা অদিতি, মাতার নাম নিষ্টিগ্রী। ইন্দ্রের স্ত্রীর নাম ইন্দ্রানী এবং শচী। দেবতাগণ আহার-বিহার করেন। দেবরাজ ইন্দ্র এক ভোজে ১০টি বৃষের মাংস এবং ৩০০টি মহিষের মাংস ভক্ষণ করেন।
টিকাঃ
১. চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব বাণী