📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 মূর্তিপূজা

📄 মূর্তিপূজা


মূর্তিপূজা হিন্দু ধর্মের বৈশিষ্ট্য। বেদ, উপনিষদ, পুরাণে মূর্তিপূজার কোন উল্লেখই নেই। মূর্তিপূজা হিন্দুধর্মে কখন প্রবর্তন হয়েছিল তা অস্পষ্ট হলেও বর্তমানে মূর্তিপূজা হিন্দুধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোন্ যুগ- শতাব্দী থেকে মূর্তিপূজা শুরু হলো তা অস্পষ্ট এবং অজানা। কিন্তু কোন্ গ্রন্থ থেকে শুরু হলো তার ইঙ্গিত রয়েছে। অনেকের মতে, গ্রীসে মূর্তিপূজা ছিল। আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের পরেই গ্রীক প্রভাবে ভারতে মূর্তিপূজা শুরু হয়। এটা সাধারণভাবে গৃহীত একটি সত্য। মহেঞ্জোদারোতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় দেবতাদের মূর্তি পাওয়া যায়। মহেঞ্জোদারোতে প্রাপ্ত একটি মূর্তিকে ধারণা করা হয় এটা শিবমূর্তির প্রতীক। কারো কারো মতে, ভারতে মূর্তিপূজা শুরু হয় বৌদ্ধধর্ম প্রচারের পর থেকে। বৌদ্ধধর্মে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্পষ্ট। বৌদ্ধের প্রধান শিস্য আনন্দ। আনন্দ তার প্রভু বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- ঈশ্বর বা প্রভু বলে কোন সত্তা আছেন কি? মহাজ্ঞানী বুদ্ধ বলেছিলেন আমি কি বলেছি ঈশ্বর নেই? আনন্দ পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন তাহলে প্রভু! আমি কি ভাববো ঈশ্বর আছেন? এবার বুদ্ধ বুদ্ধিমত্তার সাথে জবাব দিলেন আমি কি বলেছি ঈশ্বর আছেন? অর্থাৎ ঈশ্বর আছেন কি নেই- এর কোনটাই বুদ্ধ বলেননি। হয়ত বুদ্ধই ছিলেন ঈশ্বর অথবা ঈশ্বরের নবম অবতার। হিন্দুগণ এক ও অদ্বিতীয় সর্ব শক্তিমান ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেও এখন পর্যন্ত ঈশ্বরের কোন মূর্তি কেউ দেখেনি। তবে যে কোন প্রাণীর পূজাকে ঈশ্বরের পূজা বলে ধারণা করা হয়। কারণ, সব কিছুই ঈশ্বর থেকে এসেছে অথবা ঈশ্বর থেকেই সৃষ্টি অথবা সৃষ্টির প্রেরণা থেকেই পাওয়া গেছে। এর ফলে এক ঈশ্বরের পূজা অসংখ্য মূর্তি পূজায় পরিগণিত হয়েছে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 বৈদিক দেবতা পূজা

📄 বৈদিক দেবতা পূজা


হিন্দুধর্মে এক ঈশ্বরবাদের সঙ্গে সঙ্গে বহু ঈশ্বর এবং দেবদেবীর অস্তিত্বের স্বীকৃতি আছে। ঈশ্বর এবং দেব-দেবীগণ শুধুই যে স্বর্গে থাকেন তা নয়, তারা পৃথিবীতে আবির্ভূত হন-মানব সন্তান হিসেবে। যেমন হয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরামচন্দ্র।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 সর্বেশ্বর বা বহু ঈশ্বরবাদ

📄 সর্বেশ্বর বা বহু ঈশ্বরবাদ


শুধু মানুষই যে দেবতার আসন অলংকৃত করে মানব মন্ডলির পূজা পাওয়ার উপযুক্ত হন, তা নয়। বানর, সাপ, ইঁদুর, মাছ ইত্যাদি মানবমন্ডলি কর্তৃক পূজিত হন। শুধু বানর, ইঁদুর, সাপ, মাছ, প্রভৃতি প্রাণী নয়, প্রাণহীন সূর্য, অগ্নি, বায়ু, ইত্যাদিও দেবতারূপে পূজিত হন। মানব কর্তৃক পূজা পাওয়ার যোগ্য দেব-দেবী একজন, দু'জন, শত শত এবং হাজার হাজার নয়, তারা লক্ষ লক্ষ এবং সর্বমোট তেত্রিশ কোটি। এদের মধ্যে অনেকেই হিংসা বিদ্বেষ বশত পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন এবং অনেকেই মালিকানায় চলে আসেন এবং মানব কল্যাণে জীবন দান করেন।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 বৈদিক যুগের দেবতা

📄 বৈদিক যুগের দেবতা


সময় ও কালের বিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ ও পরিবেশও বদলায়। বৈদিক যুগে যে দেবদেবীর পূজা হতো, পরবর্তীতে তা পরিবর্তিত হয়। বৈদিক যুগে ক্ষমতাধর এবং পূজনীয় দেবদেবীদের মধ্যে ছিলেন ইন্দ্র, রুদ্র, অগ্নি, প্রজাপতি, মিত্র, বরুণ, সবিতাপ্রমুখ। তারা এখন রয়েছেন বর্তমানে পূজিত দেবমন্ডলের অন্তরালে। মানুষ নিজের থেকে শক্তিশালী ব্যক্তির বা সত্ত্বার উপাসনা করে। তার কাছ থেকে সাহায্য চায়। সভ্যতার শুরুতে মানবজাতি ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি, নদী, মহাসাগর, ইত্যাদিকে নিজের থেকে শক্তিশালী মনে করতো। এখন বহু ক্ষেত্রে মানুষ প্রাকৃতিক বিপদ নিয়ন্ত্রক।

ফন্ট সাইজ
15px
17px