📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 কৃষ্ণ রাধা রতি শৃঙ্গার

📄 কৃষ্ণ রাধা রতি শৃঙ্গার


রাধিকা সুন্দরীর সৌন্দর্যে মোহিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্ব প্রথম পরাৎপর পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নানাভাবে রতি শৃঙ্গার করেন রাধিকার সঙ্গে বহুকাল। বিরামহীন রতি কর্মে ছিল নিশ্বাস ঘন। অঙ্গে বয়ে যায় ঘাম। কৃষ্ণের সেই দেহ নিঃসৃত ঘাম হতেই সৃষ্টি হয়েছে ভূ-মন্ডল বেষ্টিত বায়ু, সলীল ও বৃষ্টি। কৃষ্ণ রাধিকার সুদীর্ঘকাল ব্যাপী সঙ্গমের পর রাধিকা দেবী গর্ভধারণ করে একটি ডিম্ব প্রসব করেন। এই ডিম্ব দেখে হতাশ হয়ে রাধিকা খেদোক্ত চিত্তে গোলকটি জলে নিক্ষেপ করেন।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 তুলসীর সাথে বিষ্ণুর অনাচার

📄 তুলসীর সাথে বিষ্ণুর অনাচার


বিশ্বপালনকর্তা বিষ্ণু নারায়ণ ছিলেন দেবী তুলসীর প্রেমে অন্ধ। দেবী তুলসী হলেন শ্রী কৃষ্ণের প্রেমিকা রাধিকা দেবীর বান্ধবী। তুলসী দেবীর বিয়ে হয় শঙ্খচুড় দৈত্য ঋষীর সাথে। সময় অসময়ে বিষ্ণু অন্তর্নিহিত হয়ে যেতেন। বিষয়টি বিষ্ণু পত্নীর দৃষ্টি এড়ায়নি। এক পর্যায়ে তিনি স্বামী বিষ্ণুর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি আবিষ্কার করেন। হিন্দু নারীদের দৃষ্টিতে স্বামী হলো দেবতাতুল্য। স্বামীর দোষ থাকলেও তা দেখতে নেই। ভগবান বিষ্ণু দেবী তুলসীর রূপে আকৃষ্ট হন। ভগবান বিষ্ণু শঙ্খচুড়ের রূপ ধারণ করে দেবী তুলসীর সতীত্ব নষ্ট করেন। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ একই প্রকৃতির ঘটনা দেবরাজ ইন্দ্রের সতী দেবী অহল্যার সঙ্গেও ঘটে। ভগবান বিষ্ণুর এই অবৈধ তুলসী সঙ্গমের বিষয়টি ঘটনাক্রমে তুলসীর স্বামী দৈত্য ঋষি শঙ্খচুড়ও অবহিত হলেন। তুলসীর স্বামী শঙ্খচুড় ছিলেন একজন ঋষি দেবতা। তিনি ঈশ্বর বিষ্ণুর দোষ ধরলেন না। দোষ ধরলেন অবলা নারী তুলসীর। তিনি তাকে মন ভরে অভিশাপ দিলেন। ঋষি শঙ্খচুড়ের অভিশাপে তুলসী পরিণত হয়ে গেলেন ক্ষুদ্র একটি গাছে। এই গাছটির নাম হলো তুলসী গাছ। এই গাছের পাতা পূজার সময় ব্যবহৃত হয়। ঔষধী পাতা হিসেবেও এটি রোগ নিরামক। ঋষি শঙ্খচুড় পত্নী তুলসী গাছে পরিণত হওয়ার একাধিক ভাষ্য রয়েছে। ঘটনাটি যে সঠিক এতে কোন বৈদিক ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দ্বিমত নেই। বিশ্ব পালনকর্তা ঈশ্বর বিষ্ণু তুলসীর স্বামী শঙ্খচুড়ের ছদ্মবেশে তুলসীর সঙ্গে অবৈধ যৌনাচারে মিলিত হলেও তিনি তুলসীকে সত্যিকারে ভালোবাসতেন। অপরূপ সুন্দরী দেবী তুলসী গাছে পরিণত হলেও বিষ্ণু নারায়ণ তুলসীর প্রতি আকর্ষণ সম্বরণ করতে পারলেন না। তুলসীদেবীর সংসর্গ লোভী হয়ে তিনি তুলসী গাছের কাছেই পড়ে থাকতে চাইলেন। তাই ভগবান বিষ্ণু স্বেচ্ছায় নিজেকে শালগ্রাম শিলায় পরিণত করেন। তুলসী গাছের নিকটে পড়ে থেকে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান। অতি গভীর ছিল ঈশ্বরিক প্রেম। এই উদ্দেশে বিষ্ণু নিজেকে শালগ্রাম নামক একটি শিলায় পরিণত করে, তুলসী গাছের গোড়ায় পড়ে রইলেন। এই কারণে বিষ্ণুর প্রতীক শালগ্রাম প্রস্তরখন্ডকে তার ভক্ত পূজারীগণ দেবতাসম মনে করেন। বিষ্ণুপূজারীরা শালগ্রাম শিলা এবং তুলসী গাছের পূজা করে থাকেন। তাদের নিকট শালগ্রাম শিলা জীবন্ত বিষ্ণুর প্রতিনিধি বা প্রতীক। মৃত্যু পথযাত্রীকে তুলসী তলায় নেয়া হয়। তুলসী তলায় মৃত্যু হলে স্বর্গ লাভ সহজ হয়।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 শালগ্রাম শিলা পূজা

📄 শালগ্রাম শিলা পূজা


ভগবান বিষ্ণু শঙ্খচুড় মুনী-ঋষি পত্নী তুলসীর সঙ্গে তার স্বামী শঙ্খচুড়ের ছদ্মবেশে ব্যভিচারে লিপ্ত হতেন- ওই ঘটনাটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দেবী তুলসী অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হন এবং ভগবান বিষ্ণুকে অভিশাপ দেন। এর ফলে ভগবান বিষ্ণু গোলাকার শিলা পাথরে পরিণত হন। এই ব্যভিচারের ঘটনাটি ঘটেছিল শালগ্রাম নামক স্থানে। তাই এই বিষ্ণু পাথরটির নাম হয় শালগ্রাম শিলা।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 শিব পূজা

📄 শিব পূজা


ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিব হলো মহা ঈশ্বরের উচ্চতম স্তরের তিনপ্রকার কর্ম ভিত্তিক দায়িত্ব বা রূপ। ঈশ্বর তিনটি বিভিন্নরূপে প্রকাশিত হন। মহাদেব শিব হিন্দুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেবতা। সকল মন্দিরে বিশেষ করে শিবমন্দিরে শিবলিঙ্গ পূজা হয়।

শিবপূজার অন্যতম প্রধান প্রকৃতি হলো শিবলিঙ্গ পূজা। মন্দিরে শিবলিঙ্গের প্রতীক এবং লিঙ্গের অনুরূপ একটি পাথর খাড়া করে রাখা হয় যা শিবলিঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। এই লিঙ্গটিকে প্রত্যেক দিন কয়েক বার দুধ, জল এবং ভাং দ্বারা স্নান করানো হয়। প্রচুর পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য, পুষ্প, চন্দনকাঠ এবং বস্ত্রাদি দেবতার উদ্দেশে মন্দিরে উৎসর্গ করা হয়।

বর্তমানে বহু হিন্দু শিবপূজার পরিবর্তে বেশি করেন শিব লিঙ্গের পূজা। ঋষি ভৃগুর অভিশাপের কারণেই ঈশ্বর শিবের পূজা না হয়ে, তার লিঙ্গ পূজা হয়। এ তথ্যের উৎস হলো পদ্ম পুরাণ।

মন্দিরে ধাতু এবং পাথরের শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়। নারী পুরুষ সকলেই একই সঙ্গে শিবলিঙ্গের পূজা করে। শিব এবং তার স্ত্রী পার্বতীর যৌনতা দৃশ্যের স্থাপত্য এমনভাবে পাথর এবং ধাতুতে চিত্রিত করা হয় যা মুসলিমদের নিকট পুত্র কন্যাসহ যুগপত দর্শন বিব্রতকর।

মহাদেব শিবকে ধরা হয় যৌনশক্তিতে সর্বশক্তিমান। তাই শিবলিঙ্গ পূজা নারী পুরুষ সকলের জন্য সর্বজনীনভাবে কাঙ্ক্ষিত। তবে বাংলা এবং আসামে শিবলিঙ্গ পূজা এবং শিব পার্বতীর যৌনদৃশ্য স্থাপত্যে পরিলক্ষিত হয়।

টিকাঃ
-হিন্দু ধর্মে দেব দেবী পৃ.৪৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px