📄 জল ও জীবকোষ
বীর্যরূপ অগ্নীতাপে তপ্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণ দেব বীর্য অগ্নি নিবারণার্থে স্বীয় মুখামৃত দ্বারা জল সৃষ্টি করলেন। জলেতে কৃষ্ণ বীর্য মিশ্রিত হওয়ার ফলে জল হতে সৃষ্ট হলো- সর্ব জীবকোষ, বীজ, জীব, রূপবতী নারী, তরুলতা, ইত্যাদি।
📄 মহা বিষ্ণুদেব
কোন কোন বর্ণনা মতে, দেবসভা মঞ্চে শ্রীকৃষ্ণ যে বীর্যপাত করেন- তা হতে সহস্র বছর পরে (ঐ বীর্য হতে) মহা বিষ্ণুদেবের জন্ম হয়। ব্রহ্মাণ্ড শাস্ত্রীয় মতে কামদেব নিক্ষিপ্ত কামশরে কৃষ্ণ বীর্যপাত হয়। লজ্জাবশত: সেই বীর্য শ্রীকৃষ্ণ জলেতে ফেলে দেন। সহস্র বছরে কৃষ্ণবীর্য ডিম্বাকার হয় এবং এ ডিম্ব ব্রহ্মাণ্ড নামে খ্যাত হয়। এই ব্রহ্মাণ্ড হতে মহা বিষ্ণুর জন্ম হয়। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গ্রন্থে আদি সৃষ্টি সংক্রান্ত বর্ণনায় পার্থক্য থাকলেও বিষয় বস্তু এবং ঘটনায় সমন্বয় সুস্পষ্ট।
📄 কৃষ্ণ রাধা রতি শৃঙ্গার
রাধিকা সুন্দরীর সৌন্দর্যে মোহিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্ব প্রথম পরাৎপর পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নানাভাবে রতি শৃঙ্গার করেন রাধিকার সঙ্গে বহুকাল। বিরামহীন রতি কর্মে ছিল নিশ্বাস ঘন। অঙ্গে বয়ে যায় ঘাম। কৃষ্ণের সেই দেহ নিঃসৃত ঘাম হতেই সৃষ্টি হয়েছে ভূ-মন্ডল বেষ্টিত বায়ু, সলীল ও বৃষ্টি। কৃষ্ণ রাধিকার সুদীর্ঘকাল ব্যাপী সঙ্গমের পর রাধিকা দেবী গর্ভধারণ করে একটি ডিম্ব প্রসব করেন। এই ডিম্ব দেখে হতাশ হয়ে রাধিকা খেদোক্ত চিত্তে গোলকটি জলে নিক্ষেপ করেন।
📄 তুলসীর সাথে বিষ্ণুর অনাচার
বিশ্বপালনকর্তা বিষ্ণু নারায়ণ ছিলেন দেবী তুলসীর প্রেমে অন্ধ। দেবী তুলসী হলেন শ্রী কৃষ্ণের প্রেমিকা রাধিকা দেবীর বান্ধবী। তুলসী দেবীর বিয়ে হয় শঙ্খচুড় দৈত্য ঋষীর সাথে। সময় অসময়ে বিষ্ণু অন্তর্নিহিত হয়ে যেতেন। বিষয়টি বিষ্ণু পত্নীর দৃষ্টি এড়ায়নি। এক পর্যায়ে তিনি স্বামী বিষ্ণুর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি আবিষ্কার করেন। হিন্দু নারীদের দৃষ্টিতে স্বামী হলো দেবতাতুল্য। স্বামীর দোষ থাকলেও তা দেখতে নেই। ভগবান বিষ্ণু দেবী তুলসীর রূপে আকৃষ্ট হন। ভগবান বিষ্ণু শঙ্খচুড়ের রূপ ধারণ করে দেবী তুলসীর সতীত্ব নষ্ট করেন। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ একই প্রকৃতির ঘটনা দেবরাজ ইন্দ্রের সতী দেবী অহল্যার সঙ্গেও ঘটে। ভগবান বিষ্ণুর এই অবৈধ তুলসী সঙ্গমের বিষয়টি ঘটনাক্রমে তুলসীর স্বামী দৈত্য ঋষি শঙ্খচুড়ও অবহিত হলেন। তুলসীর স্বামী শঙ্খচুড় ছিলেন একজন ঋষি দেবতা। তিনি ঈশ্বর বিষ্ণুর দোষ ধরলেন না। দোষ ধরলেন অবলা নারী তুলসীর। তিনি তাকে মন ভরে অভিশাপ দিলেন। ঋষি শঙ্খচুড়ের অভিশাপে তুলসী পরিণত হয়ে গেলেন ক্ষুদ্র একটি গাছে। এই গাছটির নাম হলো তুলসী গাছ। এই গাছের পাতা পূজার সময় ব্যবহৃত হয়। ঔষধী পাতা হিসেবেও এটি রোগ নিরামক। ঋষি শঙ্খচুড় পত্নী তুলসী গাছে পরিণত হওয়ার একাধিক ভাষ্য রয়েছে। ঘটনাটি যে সঠিক এতে কোন বৈদিক ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দ্বিমত নেই। বিশ্ব পালনকর্তা ঈশ্বর বিষ্ণু তুলসীর স্বামী শঙ্খচুড়ের ছদ্মবেশে তুলসীর সঙ্গে অবৈধ যৌনাচারে মিলিত হলেও তিনি তুলসীকে সত্যিকারে ভালোবাসতেন। অপরূপ সুন্দরী দেবী তুলসী গাছে পরিণত হলেও বিষ্ণু নারায়ণ তুলসীর প্রতি আকর্ষণ সম্বরণ করতে পারলেন না। তুলসীদেবীর সংসর্গ লোভী হয়ে তিনি তুলসী গাছের কাছেই পড়ে থাকতে চাইলেন। তাই ভগবান বিষ্ণু স্বেচ্ছায় নিজেকে শালগ্রাম শিলায় পরিণত করেন। তুলসী গাছের নিকটে পড়ে থেকে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান। অতি গভীর ছিল ঈশ্বরিক প্রেম। এই উদ্দেশে বিষ্ণু নিজেকে শালগ্রাম নামক একটি শিলায় পরিণত করে, তুলসী গাছের গোড়ায় পড়ে রইলেন। এই কারণে বিষ্ণুর প্রতীক শালগ্রাম প্রস্তরখন্ডকে তার ভক্ত পূজারীগণ দেবতাসম মনে করেন। বিষ্ণুপূজারীরা শালগ্রাম শিলা এবং তুলসী গাছের পূজা করে থাকেন। তাদের নিকট শালগ্রাম শিলা জীবন্ত বিষ্ণুর প্রতিনিধি বা প্রতীক। মৃত্যু পথযাত্রীকে তুলসী তলায় নেয়া হয়। তুলসী তলায় মৃত্যু হলে স্বর্গ লাভ সহজ হয়।