📄 শ্রীকৃষ্ণ কামাহত
কামদেব নিক্ষিপ্ত পঞ্চশর বাণের ফলে আদি স্রষ্টা, সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর অনঙ্গ জগন্নাথ শ্রীকৃষ্ণ হয়ে গেলেন কামে অধৈর্য। সেই সৃষ্টি সভার মধ্যেই তার হলো বীর্যপাত। লজ্জায় তিনি স্বীয় বীর্য বস্ত্রে আচ্ছাদন করলেন। কিন্তু তা গোপন রইল না। শ্রীকৃষ্ণ বীর্যতে সৃষ্টি হলো প্রবল কাম অনল। তা হতে সৃষ্টি হলো কোটি গুণ হুতাশন। এ হুতাশনে বা কাম অগ্নীতাপে আদিস্রষ্টা সর্বপ্রথম স্রষ্টা কৃষ্ণ জনার্দন তাপিত হলেন। স্বীয় বীর্য রূপী অনলে তার বস্ত্র দগ্ধ হয়ে গেল।
টিকাঃ
-ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ, পৃঃ ৮৯
📄 জল ও জীবকোষ
বীর্যরূপ অগ্নীতাপে তপ্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণ দেব বীর্য অগ্নি নিবারণার্থে স্বীয় মুখামৃত দ্বারা জল সৃষ্টি করলেন। জলেতে কৃষ্ণ বীর্য মিশ্রিত হওয়ার ফলে জল হতে সৃষ্ট হলো- সর্ব জীবকোষ, বীজ, জীব, রূপবতী নারী, তরুলতা, ইত্যাদি।
📄 মহা বিষ্ণুদেব
কোন কোন বর্ণনা মতে, দেবসভা মঞ্চে শ্রীকৃষ্ণ যে বীর্যপাত করেন- তা হতে সহস্র বছর পরে (ঐ বীর্য হতে) মহা বিষ্ণুদেবের জন্ম হয়। ব্রহ্মাণ্ড শাস্ত্রীয় মতে কামদেব নিক্ষিপ্ত কামশরে কৃষ্ণ বীর্যপাত হয়। লজ্জাবশত: সেই বীর্য শ্রীকৃষ্ণ জলেতে ফেলে দেন। সহস্র বছরে কৃষ্ণবীর্য ডিম্বাকার হয় এবং এ ডিম্ব ব্রহ্মাণ্ড নামে খ্যাত হয়। এই ব্রহ্মাণ্ড হতে মহা বিষ্ণুর জন্ম হয়। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গ্রন্থে আদি সৃষ্টি সংক্রান্ত বর্ণনায় পার্থক্য থাকলেও বিষয় বস্তু এবং ঘটনায় সমন্বয় সুস্পষ্ট।
📄 কৃষ্ণ রাধা রতি শৃঙ্গার
রাধিকা সুন্দরীর সৌন্দর্যে মোহিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্ব প্রথম পরাৎপর পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নানাভাবে রতি শৃঙ্গার করেন রাধিকার সঙ্গে বহুকাল। বিরামহীন রতি কর্মে ছিল নিশ্বাস ঘন। অঙ্গে বয়ে যায় ঘাম। কৃষ্ণের সেই দেহ নিঃসৃত ঘাম হতেই সৃষ্টি হয়েছে ভূ-মন্ডল বেষ্টিত বায়ু, সলীল ও বৃষ্টি। কৃষ্ণ রাধিকার সুদীর্ঘকাল ব্যাপী সঙ্গমের পর রাধিকা দেবী গর্ভধারণ করে একটি ডিম্ব প্রসব করেন। এই ডিম্ব দেখে হতাশ হয়ে রাধিকা খেদোক্ত চিত্তে গোলকটি জলে নিক্ষেপ করেন।