📄 মিথ্যাচার
স্কন্ধ পুরাণে ব্রহ্মার বিরুদ্ধে মিথ্যাবাদিতার উল্লেখ আছে। তিনি উপাসনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য এ অপরাধকেও অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অজেয় দ্রোণকে নিরস্ত্র করার একমাত্র উপায় ছিল তাকে তার পুত্র অশ্বত্থামার মৃত্যুসংবাদ জানানো। অশ্বত্থামা নামক একটি হাতি বধ করে ভীম সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরকে দিয়ে এ কাজটি করালেন। যেহেতু অশ্বত্থামা জীবিত ছিল, কাজেই যুধিষ্ঠির মিথ্যা বলতে চাইলেন না। অবশেষে কৃষ্ণের প্ররোচনায়ই তিনি মিথ্যা বলতে রাজি হয়েছিলেন। একতা বলার পর তিনি অস্পষ্ট স্বরে বললেন, ইতি কুঞ্জরঃ- এ নামের হাতি। এ কথা শুনে দ্রোণ শোকে অভিভূত হয়ে যুদ্ধ থেকে বিরত হয়েছিলেন।
📄 শ্রীকৃষ্ণ কামাহত
কামদেব নিক্ষিপ্ত পঞ্চশর বাণের ফলে আদি স্রষ্টা, সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর অনঙ্গ জগন্নাথ শ্রীকৃষ্ণ হয়ে গেলেন কামে অধৈর্য। সেই সৃষ্টি সভার মধ্যেই তার হলো বীর্যপাত। লজ্জায় তিনি স্বীয় বীর্য বস্ত্রে আচ্ছাদন করলেন। কিন্তু তা গোপন রইল না। শ্রীকৃষ্ণ বীর্যতে সৃষ্টি হলো প্রবল কাম অনল। তা হতে সৃষ্টি হলো কোটি গুণ হুতাশন। এ হুতাশনে বা কাম অগ্নীতাপে আদিস্রষ্টা সর্বপ্রথম স্রষ্টা কৃষ্ণ জনার্দন তাপিত হলেন। স্বীয় বীর্য রূপী অনলে তার বস্ত্র দগ্ধ হয়ে গেল।
টিকাঃ
-ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ, পৃঃ ৮৯
📄 জল ও জীবকোষ
বীর্যরূপ অগ্নীতাপে তপ্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণ দেব বীর্য অগ্নি নিবারণার্থে স্বীয় মুখামৃত দ্বারা জল সৃষ্টি করলেন। জলেতে কৃষ্ণ বীর্য মিশ্রিত হওয়ার ফলে জল হতে সৃষ্ট হলো- সর্ব জীবকোষ, বীজ, জীব, রূপবতী নারী, তরুলতা, ইত্যাদি।
📄 মহা বিষ্ণুদেব
কোন কোন বর্ণনা মতে, দেবসভা মঞ্চে শ্রীকৃষ্ণ যে বীর্যপাত করেন- তা হতে সহস্র বছর পরে (ঐ বীর্য হতে) মহা বিষ্ণুদেবের জন্ম হয়। ব্রহ্মাণ্ড শাস্ত্রীয় মতে কামদেব নিক্ষিপ্ত কামশরে কৃষ্ণ বীর্যপাত হয়। লজ্জাবশত: সেই বীর্য শ্রীকৃষ্ণ জলেতে ফেলে দেন। সহস্র বছরে কৃষ্ণবীর্য ডিম্বাকার হয় এবং এ ডিম্ব ব্রহ্মাণ্ড নামে খ্যাত হয়। এই ব্রহ্মাণ্ড হতে মহা বিষ্ণুর জন্ম হয়। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গ্রন্থে আদি সৃষ্টি সংক্রান্ত বর্ণনায় পার্থক্য থাকলেও বিষয় বস্তু এবং ঘটনায় সমন্বয় সুস্পষ্ট।