📄 হত্যা
নিরপরাধ লোককে হত্যা করা একটি মহাপাপ। এ কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু বিষ্ণুর অন্যতম অবতার রামের জীবন থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই? নির্দোষ বালীকে তিনি যেভাবে হত্যা করেছিলেন, তাকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে মনে করা হয়। শম্বুক নামক একজন লোককে তিনি শুধু এ কারণে হত্যা করেছিলেন যে, নিম্নবর্ণের লোক হয়েও সে তপস্যায় আত্মনিয়োগ করেছিল। বিষ্ণুর অন্যতম অবতার কৃষ্ণও যে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিলেন এবং এ কাজে অন্যদের সহযোগিতা করেছিলেন, তার বিবরণও শাস্ত্রে পাওয়া যায়।
📄 চুরি
চুরি যেকোন জনসমাজে একটি অপরাধমূলক কাজ বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, হিন্দুদের অন্যতম প্রধান দেবতা কৃষ্ণ তার স্ত্রী সত্যভামার অনুরোধে ইন্দ্রের স্বর্গ থেকে পারিজাত নামক একটি বৃক্ষ চুরি করেছিলেন। ইন্দ্র নিজেও সাগর রাজার একটি ঘোড়া চুরি করেছিলেন বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
📄 মিথ্যাচার
স্কন্ধ পুরাণে ব্রহ্মার বিরুদ্ধে মিথ্যাবাদিতার উল্লেখ আছে। তিনি উপাসনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য এ অপরাধকেও অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অজেয় দ্রোণকে নিরস্ত্র করার একমাত্র উপায় ছিল তাকে তার পুত্র অশ্বত্থামার মৃত্যুসংবাদ জানানো। অশ্বত্থামা নামক একটি হাতি বধ করে ভীম সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরকে দিয়ে এ কাজটি করালেন। যেহেতু অশ্বত্থামা জীবিত ছিল, কাজেই যুধিষ্ঠির মিথ্যা বলতে চাইলেন না। অবশেষে কৃষ্ণের প্ররোচনায়ই তিনি মিথ্যা বলতে রাজি হয়েছিলেন। একতা বলার পর তিনি অস্পষ্ট স্বরে বললেন, ইতি কুঞ্জরঃ- এ নামের হাতি। এ কথা শুনে দ্রোণ শোকে অভিভূত হয়ে যুদ্ধ থেকে বিরত হয়েছিলেন।
📄 শ্রীকৃষ্ণ কামাহত
কামদেব নিক্ষিপ্ত পঞ্চশর বাণের ফলে আদি স্রষ্টা, সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর অনঙ্গ জগন্নাথ শ্রীকৃষ্ণ হয়ে গেলেন কামে অধৈর্য। সেই সৃষ্টি সভার মধ্যেই তার হলো বীর্যপাত। লজ্জায় তিনি স্বীয় বীর্য বস্ত্রে আচ্ছাদন করলেন। কিন্তু তা গোপন রইল না। শ্রীকৃষ্ণ বীর্যতে সৃষ্টি হলো প্রবল কাম অনল। তা হতে সৃষ্টি হলো কোটি গুণ হুতাশন। এ হুতাশনে বা কাম অগ্নীতাপে আদিস্রষ্টা সর্বপ্রথম স্রষ্টা কৃষ্ণ জনার্দন তাপিত হলেন। স্বীয় বীর্য রূপী অনলে তার বস্ত্র দগ্ধ হয়ে গেল।
টিকাঃ
-ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ, পৃঃ ৮৯