📄 মন্দিরে অশ্লীলতা
মন্দির ও বিভিন্ন তীর্থস্থানে যেসব ভাস্কর্য মূর্তি রয়েছে, তা নানা ভাবে যৌন ইঙ্গিত ধারণ করছে। শিবমন্দিরে যেসব ভক্ত শিবলিঙ্গের পূজা করে তাদের মনে কুচিন্তা জাগ্রত না হওয়া প্রায় অসম্ভব। শিব ও তার স্ত্রী পার্বতীর ভাস্কর্যে রতিক্রিয়ার যেসব ভঙ্গি পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে, তাকে অশ্লীলতার চরম নিদর্শন বলা যেতে পারে। এ ছাড়া, প্রসিদ্ধ বিভিন্ন মন্দিরের দেয়ালে কামশাস্ত্রে বর্ণিত স্ত্রী পুরুষের রতিক্রিয়ার যে দৃশ্যাবলী রয়েছে, তাও অশ্লীলতার চরম নিদর্শন। দেবদাসী রাখার নামে এক সময় মন্দিরে বেশ্যাবৃত্তিও চলত।
📄 হিন্দু পূজা ও উৎসবে অশ্লীলতা
হিন্দু পূজা ও উৎসবাদির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অশালীনতাপূর্ণ প্রতিমা নির্মাণ এবং যৌন আবেদনমূলক নানা আয়োজন। পূজার সময় যেসব উপকরণ লাগে তাও যৌন আবেদন থেকে মুক্ত নয়। যেমন সনাতন পদ্ধতিতে দূর্গাপূজা করতে যেসব অনুষঙ্গ লাগে তার তালিকায় রয়েছে পঞ্চগব্য (গোমূত্র, গোবর, দুগ্ধ, দধি, ঘৃত)- সহ বেশ্যাদ্বারমৃত্তিকা। শিবলিঙ্গ পূজার মধ্যে যে যৌন আবেদন রয়েছে, তা অতি স্পষ্ট। তা ছাড়া, পূজার নামে যেসব অনুষ্ঠান হয় তাকে একটি আনন্দ উৎসব বলাই যথার্থ বলে মনে হয়।
📄 হিন্দুশাস্ত্রে অশ্লীলতা
হিন্দুশাস্ত্রগুলো, বিশেষত পুরাণগুলো অশ্লীলতা, কামোদ্দীপক আচার-ভঙ্গি, যৌন উত্তেজনাবর্ধক বাক্যাবলী এবং যৌন আবেদনমূলক কাহিনীতে ভরা। এসব শাস্ত্র থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করে কোন কোন হিন্দু সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিক ব্যভিচারকে মুক্তি লাভের কার্যকর উপাসনা হিসেবে চালু করেছে। কামশাস্ত্র নামক পুস্তকে রতিক্রিয়ার যেসব ভঙ্গি বর্ণনা করা হয়েছে, তা অশ্লীলতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।
📄 কৃষ্ণের বস্ত্রহরণ
ভাগবতে উল্লেখ আছে, বিষ্ণুর অন্যতম অবতার কৃষ্ণ স্নানরত নারীদের বস্ত্রহরণ করেছিলেন। এসব নারীর প্রত্যেকে পৃথকভাবে তাঁর সামনে উলঙ্গ অবস্থায় না আসা পর্যন্ত তিনি কাপড় ফেরত দেননি। এ ঘটনাটি কৃষ্ণের বস্ত্রহরণ নামে খ্যাত। কৃষ্ণের যে আটজন প্রধান স্ত্রী ছিলেন, তাদের কয়েকজনকে তিনি বলপূর্বক অপহরণ করে বিয়ে করেছিলেন। তার পরামর্শেই অর্জুন সুভদ্রাকে অপহরণ করে বিয়ে করেছিলেন। বিষ্ণুর অন্যতম অবতার রাম নিজের নিরপরাধ ও গর্ভবতী স্ত্রী সীতাকে বনবাসে দিয়েছিলেন। এসব ঘটনা থেকে মানুষের শেখার মতো কী আছে। তা বোঝা মুশকিল।