📄 হিন্দুধর্মে অসারত
নবম অধ্যায়
হিন্দুধর্মে অসারত্ব
📄 যৌন প্রবণতা ও লিঙ্গপূজা
হিন্দু শাস্ত্রগুলো প্রধানত অশ্লীলতা, কামোদ্দীপক আচার-ভঙ্গি, যৌন উত্তেজনা বর্ধক বাক্যাবলী এবং যৌন আবেদনমূলক কাহিনীতে ভরা। হিন্দুধর্মীয় কোন কোন সম্প্রদায় ব্যভিচারকে মুক্তিলাভের কার্যকর উপাসনা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। হিন্দু পূজা-পার্বণের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অশালীনতাপূর্ণ প্রতিমা স্থাপন ও যৌন আবেদনমূলক নানা আয়োজন।
📄 অনৈতিক কার্যাবলী
তাদের নৈতিকতা খারাপ হওয়া সম্পর্কে কোন দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না। এ সবের মধ্যে রয়েছে অবৈধ যৌনাচার, নারীনির্যাতন, হত্যা, চুরি প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজ। এটা অপ্রিয় হলেও সত্য যে, হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে এ ধরনের কাজের ছড়াছড়ি দেখা যায়। এসব কাজ সম্পর্কে নিচে কিছু ধারণা দেয়া হলো।
টিকাঃ
০ - কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব পৃ:৩৪
📄 অশ্লীলতা ও যৌনাচার
দেবদেবীর যৌনাচার: হিন্দু দেবদেবীর যৌনজীবন ছিল বেহায়াপনা ও অশ্লীলতায় ভর্তি। এ প্রসঙ্গে কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় দেবলোকে যৌন জীবন শীর্ষক প্রবন্ধে ভারতীয় বুদ্ধিজীবী শ্রী অতুল সুর লিখেছেন-
"মৎস্যপুরাণ অনুযায়ী শতরূপা ব্রহ্মার কন্যা। কিন্তু ব্রহ্মা কন্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে অজাচারে লিপ্ত হন। এই কন্যার গর্ভে ব্রহ্মা হতে স্বায়ম্ভর মনুর জন্ম হয় আবার স্বায়ম্ভর মনু হতে শতরূপার গর্ভে প্রিয়ব্রত ও উত্তলপদ নামে দুই পুত্র এবং বাকুতি ও প্রসূতি নামে দুই কন্যা জন্মগ্রহণ করে। আবার এদের পুত্রকন্যা হতে মনুষ্য জাতির উদ্ভব হয় তার মানে জন্ম থেকেই মনুষ্য জাতির রক্তের মধ্যে অজাচারের বীজ উত্তহয়ে ছিল। যৌন জীবনে দেবতাদের কোন রূপ সংযম ছিল না। আদিত্যযজ্ঞে মিত্র ও বরুণ উর্বশীকে দেখে যজ্ঞ্যকুম্ভের মধ্যে শুক্রপাত করে। অগ্নি একবার সপ্তার্ষিদের স্ত্রীদের দেখে কামোন্মাত্ত হয়েছিল। যক্ষরাজাকে দেখে ইন্দ্র ও সূর্য দুজনেই এমন উত্তেজিত হয়েছিল যে, ইন্দ্র তার চিকুরে ও সূর্য তার গ্রীবায় রেতঃপাত করে ফেলে”
রাবণের বিরুদ্ধে রাম যে যুদ্ধ করেছিলেন তার প্রস্তুতি হিসেবে আগেই একটি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল। এ বাহিনী গঠন করার পদ্ধতি ছিল খুবই অভিনব। বেশ্যা, বিবাহিত এবং অবিবাহিত নারীদের সাথে ব্যাপকভাবে সহবাস করে দেবতাগণ বহু পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। এদেরকে নিয়েই গঠিত হয়েছিল লঙ্কাভিযানকারী বাহিনী।
বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের নারীঘটিত কর্মকাণ্ড খুবই সুবিদিত ব্যাপার। বৃন্দাবনের যুবতী মেয়ে ও গোপিনীদের সাথে তার ছিল অবৈধ সম্পর্ক। গোপিনীদের নিয়ে এক ধরনের চক্রাকার নৃত্যে তিনি অংশগ্রহণ করতেন এ নৃত্যে গোপিনীগণ কৃষ্ণের প্রতি নানাভাবে প্রেম নিবেদন করত। এ সব অনুষ্ঠান কৃষ্ণের রসলীলা নামে পরিচিত। বিষ্ণুপুরাণ, হবিংশ ও ভাগবতে বিস্তারিতভাবে কৃষ্ণের রসলীলার বিবরণ আছে। আপন মামী রাধার সাথেও কৃষ্ণের ছিল অবৈধ সম্পর্ক। রাধাকৃষ্ণ লীলা ভারতীয় ধর্মজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মৎস্যগন্ধা কুমারী অবস্থায় পরাশর নামক এক বিখ্যাত ঋষির সাথে সহবাস করেছিলেন। এ মিলনের ফলেই বিখ্যাত ঋষি কৃষ্ণদ্বৈপায়নের জন্ম হয়েছিল। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন মৃত ভাই বিচিত্রবীর্যের বিধবা দুই স্ত্রীর সাথে সংগম করে পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। একজন দাসীর সাথে সহবাস করে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন আরেকটি পুত্রের জন্ম দিয়েছিল।