📄 শ্রীমদ্ভাগবতগীতা
শ্রীমদ্ভাগবতগীতা বা গীতা হলো হিন্দুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধর্মগ্রন্থ। এটা হিন্দু ধর্মের বাইবেল হিসেবে পরিচিত। শ্রীমদ্ভাগবতগীতা মহাভারতেরই অংশ। এর রচয়িতা হলেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
গীতা মহাভারতেরই অংশ। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের প্রতি শ্রীকৃণের উপদেশাবলী গীতাতে সংকলিত হয়েছে। মহাভারত মানব রচিত হলেও গীতা ঈশ্বরপ্রদত্ত বাণী হিসেবেই প্রদত্ত এবং গৃহীত। সমাজে হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সমাদৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে গীতা বিবেচিত।
গীতা গ্রন্থটির উপরে হিন্দুধর্ম বিশেষজ্ঞগণ সবচেয়ে বেশি গবেষণা করেছেন, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন এবং ভাষ্য রচনা করেছেন। গীতার উপরে এবং গীতা সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা ও গবেষণা এবং গীতচর্চা শুধু ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ এবং বিদগ্ধ ব্যক্তিরাই করেছেন তা নয়। সাধারণ পাঠক এবং লেখকদের ধর্মচর্চার জন্য গীতা অবশ্য পাঠ্যগ্রন্থ। ধর্মীয় নির্দেশনা হিসেবে গীতাই ধরা হয় নির্ভুল গ্রন্থ এবং বাস্তব জীবনের দিক নির্দেশনা।
গীতার মূল বিষয় বস্তু হলো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক মহাযোদ্ধা এবং মহাবীর অর্জুনকে প্রদত্ত উপদেশাবলী। গীতার সবচেয়ে বড় শিক্ষা এই যে- হক, সত্য, ন্যায় এবং ইনসাফের জন্য প্রয়োজনবোধে নিজের আত্মীয়, বংশীয় এবং অতি আপনজনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে এবং অস্ত্র ধারণ করতে হবে। এটা শুধু সংগত নয়, বরং অবশ্য করণীয় ধর্মীয় কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালন না করা, অবহেলা করা অথবা তা থেকে বিরত থাকা ধর্ম মতে মহাপাপ। এতে ঈশ্বরের অভিশাপে অভিশপ্ত হতে হয়। এটা গীতার একটি মহা শিক্ষা।
মহেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বিষ্ণুর অবতার হিসেবে অর্জুনকে বলেন- সমস্ত বিষয়ে অবগত না হলেও যা সত্য, যা ন্যায়, যা ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক, তা করতে হবে। এর পরিণতি যাই হোক না কেন। এরূপ ক্ষেত্রে ঐশ্বরিক নির্দেশ পালন করাই মানুষের কর্তব্য। এই কর্তব্য পালন করতে হবে। ভালো-মন্দ, সঙ্গত, অসঙ্গত, ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা ও বিতর্ক ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দিতে হবে।
অধিকাংশ হিন্দুর নিকট, হিন্দুধর্মের মূলকথা রয়েছে গীতায়। এর নৈতিকতা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের। গীতার প্রধান বাণী হলো জীবন ও আত্মার পরিত্রাণ প্রাপ্তি। এজন্য যে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হোক না কেন- উদ্দেশ্য ঠিক থাকলে সকল পথ ও পদ্ধতি বৈধ। গীতার মর্মবাণী অনুসারে যাই করা হোক না কেন- ঈশ্বরের সন্তোষ এবং ঈশ্বর প্রাপ্তির লক্ষ্যে- তবে তা বিবেচিত হবে সঙ্গত।
নর হত্যা করা বা ব্যভিচার করা হলেও যদি তা করা হয় ঈশ্বরের সন্তোষ এবং ঈশ্বর প্রাপ্তির লক্ষ্যে- তবে তা বিবেচিত হবে সঙ্গত।
গীতার এরূপ শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করা হয় বা করা যায়। যে কোন কর্মই হোক না কেন- তার পরিণতি নির্ভর করবে উদ্দেশ্য ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের উপর। গীতাকে একটি ধর্মতত্ত্ব ভিত্তিক উপনিষদ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
গীতার দর্শনের মধ্যে হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ প্রথার পরিপূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ড. বাবা সাহেব বি.আর. আম্বেদকর এর ধারণা হলো অব্রাহ্মণ এবং অস্পৃশ্য দলিতদের শোষণকে যুক্তি গ্রাহ্য করার উদ্দেশেই ব্রাহ্মণগণ গীতা রচনা করেছেন।
গীতা হলো পাণ্ডুর পুত্র অর্জুন এবং তার বন্ধু ঈশ্বরের অবতার শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে আলোচনা ও কথোপকথনের সংকলন। মহাভারতের যুদ্ধে ক্লান্ত অর্জুনের পরামর্শ দাতা, দার্শনিক ও রথচালক ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।
টিকাঃ
-হিন্দু ধর্ম-৬৪
📄 রামায়ণ
রামায়ণ (দেবনাগরী: रामायण) একটি প্রাচীন সংস্কৃত মহাকাব্য। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, ঋষি বাল্মীকি রামায়ণের রচয়তা। এই গ্রন্থটি হিন্দুশাস্ত্রের স্মৃতি বর্গের অন্তর্গত। রামায়ণ ও মহাভারত ভারতের দুটি প্রধান মহাকাব্য। [১] এই কাব্যে বিভিন্ন সম্পর্কের পারস্পরিক কর্তব্য বর্ণনা করা হয়েছে।
টিকাঃ
১. [পাদটীকা মূল টেক্সটে বিস্তারিত নেই]
📄 রামায়ণের নাম করণ
রামায়ণ নামটি রাম ও অয়ন শব্দদুটি নিয়ে গঠিত একটি তৎপুরুষ সমাসবদ্ধ পদ; যার আক্ষরিক অর্থ রামের যাত্রা। রামায়ণ ৭টি কাণ্ড (পর্ব) ও ৫০০টি সর্গে বিভক্ত ২৪,০০০ শ্লোকের সমষ্টি। [২] এই কাব্যের মূল উপজীব্য হল বিষ্ণুর অবতার রামের জীবনকাহিনি। বিষয়গতভাবে, রামায়ণ-উপাখ্যানে বর্ণিত হয়েছে মানব অস্তিত্বের নানান দিক এবং প্রাচীন ভারতের ধর্মচেতনা। [৩]
টিকাঃ
২. [পাদটীকা মূল টেক্সটে বিস্তারিত নেই]
৩. [পাদটীকা মূল টেক্সটে বিস্তারিত নেই]
📄 রামায়ণের রচয়িতা
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভারতের আদিকবি বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছিলেন। [৪] ভারতীয় সংস্কৃতিতে এই ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই যে রামের সমসাময়িক তথা এই মহাকাব্যের অন্যতম চরিত্র ঋষি বাল্মীকি স্বয়ং এই মহাকাব্য রচনা করেছিলেন। [৫] সংস্কৃত ভাষায় রচিত রামায়ণের মূল পাঠটি বাল্মীকি রামায়ণ নামে পরিচিত। মহাভারতের ন্যায় রামায়ণও বহু শতাব্দীর ফসল। কিন্তু নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই কাব্যের মূল আখ্যানভাগটি একক ব্যক্তির মস্তিষ্কপ্রসূত। "[৯] অবশ্য বাল্মীকি রামায়ণের প্রথম ও শেষ কাণ্ড দুটি মূল রচয়িতা কর্তৃক রচিত কিনা সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
টিকাঃ
৪. [পাদটীকা মূল টেক্সটে বিস্তারিত নেই]
৫. [পাদটীকা মূল টেক্সটে বিস্তারিত নেই]
৯. [পাদটীকা মূল টেক্সটে বিস্তারিত নেই]