📄 পুরাণগুলোর রচনাকাল
পুরাণগুলোর রচনাকাল নির্ধারণ করা যায়নি তবে সাধারণত বিশ্বাস করা হয়, যে কোন পুরাণই অষ্টম শতাব্দীর পূর্বে রচিত হয়নি এবং এগুলোতে এমন কিছু লোক কাহিনী রয়েছে, যা পূর্ববর্তী যুগ থেকে নেয়া হয়েছে। পুরাণ রচনার কাজ মুঘল শাসনকাল পর্যন্ত চালু ছিল।
সাধারণত বিশ্বাস করা হয় যে পুরাণগুলো মূলত- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব- প্রধান এ তিন দেবতার ভূতি ও প্রশংসার জন্য রচিত হয়েছিল। কিন্তু ক্রমে হিন্দু প্রভাব যখন উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে, তখন গ্রন্থকারগণ অন্যান্য দেবতাকে এড়িয়ে কেবল নিজের পছন্দের দেবতাদের প্রশংসা ও স্মৃতিভরা পুরাণ রচনা করেন। এ কারণেই দেখা যায়, পুরাণে কোন কোন বৈদিক দেবতার মর্যাদাকে অবনমিত এবং পরবর্তী যুগের কোন কোন দেবতার মর্যাদাকে উন্নীত করা হয়েছে।
অনেকগুলো পুরাণে একই ধরনের উপাদান রয়েছে। প্রতিটি পুরাণে সাধারণত একজন দেবতার গুণগান ব্যক্ত হয়েছে এবং সাথে সাথে অন্যান্য দেবতা সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করা হয়েছে। যে দেবতার গুণকীর্তন করা হয়েছে তাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে দেখানো হয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যান্য দেবতাকে তার অবতার বলা হয়েছে।
হিন্দু পৌত্তলিকতা ও মূর্তিপূজার প্রসার লাভের ক্ষেত্রে পুরাণগুলোর অবদান সর্বাধিক। হিন্দুধর্মে কোন কর্তৃপক্ষীয় নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নানা ধরনের কুসংস্কার, তীর্থস্থানের পবিত্রতা, মন্দিরের মাহাত্ম্য, বিশেষ স্থানে স্নানের মাহাত্ম্য প্রভৃতি বিষয়ের সমর্থনে অবাধে ও ইচ্ছেমতো পুরাণ রচনার কাজ হয়েছে।
📄 মহাভারত
মহাভারত (সংস্কৃত: মহাভারত্ম) সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন ভারতের দুটি প্রধান মহাকাব্যের অন্যতম (অপরটি হল রামায়ণ)। এই মহাকাব্যটি হিন্দুশাস্ত্রের ইতিহাস অংশের অন্তর্গত।
মহাভারত-এর মূল উপজীব্য বিষয় হল কৌরব ও পাণ্ডবদের গৃহবিবাদ এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলি। তবে এই আখ্যানভাগের বাইরেও দর্শন ও ভক্তির অধিকাংশ উপাদানই এই মহাকাব্যে সংযোজিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ- এই চার পুরুষার্থ-সংক্রান্ত একটি আলোচনা সংযোজিত হয়েছে এই গ্রন্থে। মহাভারত-এর অন্তর্গত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা ও উপাখ্যানগুলি হল ভগবতগীতা, দময়ন্তীর উপাখ্যান, রামায়ণ-এর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠান্তর ইত্যাদি; তবে এগুলিকে মহাভারত-রচয়িতার নিজস্ব সৃষ্টি বলে মনে করা হয়।
📄 মহাভারত-এর রচয়িতা
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাভারত-এর রচয়িতা ব্যাসদেব। অনেক গবেষক এই মহাকাব্যের ঐতিহাসিক বিকাশ ও রচনাকালীন স্তরগুলি নিয়ে গবেষণা করেছেন। অধুনা প্রাপ্ত পাঠটির প্রাচীনতম অংশটি মোটামুটি ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ রচিত হয়। মহাভারত কথাটির অর্থ হল ভরত বংশের মহান উপাখ্যান। গ্রন্থেই উল্লিখিত হয়েছে যে ভারত নামে ২৪,০০০ শ্লোকবিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্রতর আখ্যান থেকে মহাভারত মহাকাব্যের কাহিনীটি বিস্তার লাভ করে。
📄 মহাভারতের শব্দসংখ্যা
মহাভারত-এ এক লক্ষ শ্লোক ও দীর্ঘ গদ্যাংশ রয়েছে। এই মহাকাব্যের শব্দসংখ্যা প্রায় আঠারো লক্ষ। মহাভারত মহাকাব্যটির আয়তন ইলিয়াড ও ওডিসি কাব্যদ্বয়ের সম্মিলিত আয়তনের দশগুণ এবং রামায়ণ-এর চারগুণ।