📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 মহাপুরাণ

📄 মহাপুরাণ


পুরাণ নামাঙ্কিত সাহিত্যধারায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ মহাপুরাণ (সংস্কৃত: महापूराण)। সাধারণ বিশ্বাস অনুযায়ী মহাপুরাণের সংখ্যা আঠারো এবং এগুলি ছয়টি করে পুরাণযুক্ত তিনটি পৃথক শ্রেণিতে বিন্যস্ত। যদিও এই সংখ্যা ও শ্রেণিবিভাগ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অধ্যয়ন করে ডিমিট ও ভ্যান বুইটেনেন ২০টি মহাপুরাণের একটি তালিকা প্রস্তুত করেন: অগ্নিপুরাণ-এর প্রবক্তা হিন্দু দেবতা অগ্নি, অজ্ঞাত শিল্পী, পুনে, ১৮০০- ০৫।

অগ্নিপুরাণ বা আগ্নেয়পুরাণ: সঠিক রচনাকাল জানা যায় না। শ্লোকসংখ্যা ১১৫০০। এটি একটি প্রাচীন পুরাণ এবং একে "পৌরাণিক ও সাহিত্যবিদ্যার কোষগ্রন্থ" বলা হয়। কিংবদন্তি অনুসারে, ঋষি বশিষ্ঠের অনুরোধে অগ্নি এই পুরাণ রচনা করেছিলেন। এই পুরাণে বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতারের বর্ণনা, বংশানুচরিত, সৃষ্টিতত্ত্ব, ভূগোল, ছন্দ, অলংকার, ব্যাকরণ, স্মৃতিশাস্ত্র, আয়ুর্বেদ, রাজনীতি, অশ্বচিকিৎসা ইত্যাদির বর্ণনা আছে। এটি বৈষ্ণব পুরাণ; তবে এতে তান্ত্রিক উপাসনা পদ্ধতি, লিঙ্গপূজা, দুর্গাপূজা ইত্যাদি শাক্ত ও শৈব বিষয়বস্তুও সংযোজিত হয়েছে।

ভাগবত পুরাণ (১৮,০০০ শ্লোক) সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় পুরাণ। এই পুরাণের মূল উপজীব্য বিষ্ণুর দশাবতারের কাহিনী। দশম স্কন্দটি গ্রন্থের বৃহত্তম অধ্যায়; এই অধ্যায়ে কৃষ্ণের লীলা বর্ণিত হয়েছে। পরবর্তীকালে একাধিক ভক্তি আন্দোলনের মূখ্য বিষয়বস্তু কৃষ্ণের বাল্যলীলা এই পুরাণেই লিপিবদ্ধ।

ভবিষ্য পুরাণ (১৪,৫০০ শ্লোক)

ব্রহ্মপুরাণ বা আদিপুরাণ: (রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টীয় অষ্টম-দ্বাদশ শতাব্দী): শ্লোকসংখ্যা ২৪,০০০। কিংবদন্তি অনুসারে, সূত লোমহর্ষণ নৈমিষারণ্যে উপস্থিত ঋষিদের কাছে এই পুরাণ প্রথম বর্ণনা করেন। এই পুরাণে ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি, দেব, মনু চন্দ্র ও সূর্য বংশের বিবরণ, বিশ্বের ভূগোল, স্বর্গ-নরক, তীর্থ মাহাত্ম্য, সূর্য ও বিষ্ণু উপাসনার পদ্ধতি, আদিত্যগণের বিবরণ, বিষ্ণু-সংক্রান্ত পৌরাণিক গল্প, শিব-পার্বতীর গল্প, কৃষ্ণের জীবনী, বর্ণাশ্রম ধর্ম, নীতিধর্ম ইত্যাদি বর্ণনা করা হয়েছে। এই পুরাণের প্রক্ষিপ্ত অংশগুলি অন্যান্য পুরাণ থেকে গৃহীত এবং কয়েকটি প্রক্ষিপ্ত তীর্থমাহাত্ম্যের বর্ণনা বৈষ্ণব, শাক্ত, শৈব ও সৌর সম্প্রদায়ের লেখকদের রচনা।

ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ: (১২,০০০ শ্লোক; হিন্দু প্রার্থনাগাথা ললিত সহস্রনাম এই গ্রন্থের অন্তর্গত)
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ: (১৮,০০০ শ্লোক)
গরুড়পুরাণ: (১৯,০০০ শ্লোক)
হরিবংশ পুরাণ: (১৬,০০০ শ্লোক; ইতিহাস নামে সমধিক আখ্যাত)
কূর্ম পুরাণ: (১৭,০০০ শ্লোক)
লিঙ্গ পুরাণ: (১১,০০০ শ্লোক)
মার্কণ্ডেয়পুরাণ: (৯,০০০ শ্লোক; পবিত্র শাক্ত ধর্মগ্রন্থ দেবীমাহাত্ম্যম্ এই পুরাণভুক্ত)
মৎস্য পুরাণ: (১৪,০০০ শ্লোক)
নারদ পুরাণ: (২৫,০০০ শ্লোক)
পদ্ম পুরাণ (৫৫,০০০ শ্লোক)
শিব পুরাণ (২৪,০০০ শ্লোক)
স্কন্দ পুরাণ: (৮১,১০০ শ্লোক) বৃহত্তম পুরাণ। একাধিক পাঠান্তর সংবলিত এই পুরাণের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বহু কাহিনী-উপকাহিনী ও কিংবদন্তির কথা। একাধিক গ্রন্থে এই পুরাণের উদ্ধৃতি প্রাপ্ত হয়।
বামন পুরাণ (১০,০০০ শ্লোক)
বরাহ পুরাণ (১০,০০০ শ্লোক)
বায়ু পুরাণ (২৪,০০০ শ্লোক)
বিষ্ণু পুরাণ (২৩,০০০ শ্লোক)

টিকাঃ
* ইউকিপিডিয়া

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 ব্রহ্মা পুরাণসমূহ:

📄 ব্রহ্মা পুরাণসমূহ:


ব্রহ্মা পুরাণসমূহ: ব্রহ্মা পুরাণ, ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, মার্কণ্ডেয়পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 শিব পুরাণসমূহ

📄 শিব পুরাণসমূহ


শিব পুরাণসমূহ: শিব পুরাণ, লিঙ্গ পুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, অগ্নি পুরাণ, বায়ু পুরাণ

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 পুরাণগুলোর রচনাকাল

📄 পুরাণগুলোর রচনাকাল


পুরাণগুলোর রচনাকাল নির্ধারণ করা যায়নি তবে সাধারণত বিশ্বাস করা হয়, যে কোন পুরাণই অষ্টম শতাব্দীর পূর্বে রচিত হয়নি এবং এগুলোতে এমন কিছু লোক কাহিনী রয়েছে, যা পূর্ববর্তী যুগ থেকে নেয়া হয়েছে। পুরাণ রচনার কাজ মুঘল শাসনকাল পর্যন্ত চালু ছিল।

সাধারণত বিশ্বাস করা হয় যে পুরাণগুলো মূলত- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব- প্রধান এ তিন দেবতার ভূতি ও প্রশংসার জন্য রচিত হয়েছিল। কিন্তু ক্রমে হিন্দু প্রভাব যখন উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে, তখন গ্রন্থকারগণ অন্যান্য দেবতাকে এড়িয়ে কেবল নিজের পছন্দের দেবতাদের প্রশংসা ও স্মৃতিভরা পুরাণ রচনা করেন। এ কারণেই দেখা যায়, পুরাণে কোন কোন বৈদিক দেবতার মর্যাদাকে অবনমিত এবং পরবর্তী যুগের কোন কোন দেবতার মর্যাদাকে উন্নীত করা হয়েছে।

অনেকগুলো পুরাণে একই ধরনের উপাদান রয়েছে। প্রতিটি পুরাণে সাধারণত একজন দেবতার গুণগান ব্যক্ত হয়েছে এবং সাথে সাথে অন্যান্য দেবতা সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করা হয়েছে। যে দেবতার গুণকীর্তন করা হয়েছে তাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে দেখানো হয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যান্য দেবতাকে তার অবতার বলা হয়েছে।

হিন্দু পৌত্তলিকতা ও মূর্তিপূজার প্রসার লাভের ক্ষেত্রে পুরাণগুলোর অবদান সর্বাধিক। হিন্দুধর্মে কোন কর্তৃপক্ষীয় নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নানা ধরনের কুসংস্কার, তীর্থস্থানের পবিত্রতা, মন্দিরের মাহাত্ম্য, বিশেষ স্থানে স্নানের মাহাত্ম্য প্রভৃতি বিষয়ের সমর্থনে অবাধে ও ইচ্ছেমতো পুরাণ রচনার কাজ হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px