📄 রচনাকাল
বেদ কখন রচিত হয়- এই প্রশ্নের সঠিক জবাব অজানা। তবে এগুলো যে মানব ইতিহাসের অতি প্রাচীন রচনা, তা অনুমান করা যায়। চারটি প্রধান বেদ লেখা বা রচনা করা হয়েছে ৬ শতক হতে ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। তবে বিশেষ ধারণা করা হয় যে, খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতকে বেদ রচনা করা হয়েছে। স্মৃতি গ্রন্থগুলো খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ বছর থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ বছর সময়ের মধ্যে রচনা হয়েছে অথবা সংগৃহীত করা হয়েছে।
📄 বেদের ভাষা
হিন্দুধর্ম গ্রন্থগুলো প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় রচিত। সংস্কৃত ভাষা ভারত উপমহাদেশের বহু ভাষা এবং শত শত উপভাষার উৎস। এই ভাষাটি বর্তমানে অপ্রচলিত। অপ্রচলিত হলেও এই ভাষার ব্যাকরণ ও বিধিমালা এত গূঢ় নীতিমালা ভিত্তিক যে, এই ভাষাটি অপ্রচলিত হলেও অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও জীবিত থাকবে।
সংস্কৃতভাষা হিন্দুধর্ম বা আর্যধর্মের ভাষাগত ধারক-বাহক। সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন গ্রন্থসমূহ মৌলিক হলেও এর মধ্যে শতাব্দির পর শতাব্দিতে বহু পরিবর্তন এসেছে। সংযোজন হয়েছে এবং বিকৃতি ঘটেছে। বেদ গ্রন্থসমূহ হিন্দি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হচ্ছে।
এমন কোন হিন্দু ধর্মীয়গ্রন্থ পাওয়া যায় না- যাতে পুরোহিতগণ তাদের বিশ্বাস, প্রত্যয়, মেধা ও প্রজ্ঞার প্রভাব সংযোজিত করেননি বা তাদের প্রতিভা দীপ্তকল্পনা শক্তির প্রলেপ দেননি। হিন্দুধর্মে বহু মহাঋষির আবির্ভাব হয়েছে। তাদের মূল্যবান বচন এবং মর্মার্থের গ্রন্থগুলো বিভিন্ন ভাষা-রীতিতে সংকলিত হয়েছে।
টিকাঃ
- সিন্ধু থেকে হিন্দু-২০
📄 বেদ পাঠের নিষিদ্ধতা
হিন্দুদের মতে বেদ এত পবিত্রগ্রন্থ হিসাবে পরিচিত যে, নি বর্ণের হিন্দুদের বেদগ্রন্থ পাঠ বা স্পর্শ করারও অধিকার নেই। কারণ, তারা জন্মগতভাবে অপবিত্র। যাদের বেদগ্রন্থ পাঠ এবং চর্চা করার অধিকার ছিল- তারা ছিলেন উচ্চ বর্ণের হিন্দুগণ। বিশেষ করে আর্য হিন্দুগণ।
শূদ্র বা দলিত অথবা অন্য কোন অনার্যদের পক্ষে বেদ পড়া বা শোনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। শুধু অনার্য নয়, আর্য নারীদের জন্যও বেদের বাণী পাঠ করা বা শোনা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই শাস্তি ছিল-যারা বেদের বাণী শুনবেন তাদের কর্ণকুহরে গলিত সীসা বা গলিত টিনের উষ্ণ তরল পদার্থ ঢেলে দেয়া এবং এ পদ্ধতিতে তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা।
বেদের শ্লোকগুলোর রচনাকারী অনেক হলেও এগুলোকে ব্রাহ্মণদের গোষ্ঠীগত ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক সম্পত্তি মনে করা হয়। আর্যদের প্রভাবে অনার্যগণ বেদ গ্রন্থাবলী পড়ার সুযোগ হতে বঞ্চিত হন।
বেদ এর সংখ্যা বহু। শ্রেণীবিভাগও বহু। তবে বুঝার সুবিধার জন্য বেদকে চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই চারটি বেদগ্রন্থ হলো (১) ঋগ্বেদ, (২) যজুর্বেদ, (৩) সামবেদ, (৪) অথর্ববেদ।
📄 উপনিষদ
হিন্দুধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উপনিষদ। উপনিষদ বৈদিক সাহিত্যের চতুর্থ বা শেষ স্তর।
উপনিষদ শব্দের অর্থ: উপনিষদ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো যে বিদ্যা নির্জনে গুরুর সমীপে উপবিষ্ট হয়ে গ্রহণ করতে হয়, অর্থাৎ গুহ্যজ্ঞান। তবে ব্যবহার অনুসারে শব্দটি বোঝায় বৈদিক সাহিত্যের অন্তিম পর্যায়ে রচিত বিশেষ গ্রন্থাবলি। বৈদিক সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত গ্রন্থাবলির চারটি ভাগ হলো সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ। তবে বৈদিক ঐতিহ্য অনুসারে আরণ্যকগুলি ব্রাহ্মণের এবং উপনিষদগুলি আরণ্যকের অন্তর্গত। প্রতিটি ব্রাহ্মণ ও আরণ্যক একেকটি সংহিতার সঙ্গে সংযুক্ত বলে ধরা হয়, ফলে উপনিষদগুলিও শেষ পর্যন্ত সেভাবে পরিগণিত।
টিকাঃ
- সিন্ধু থেকে হিন্দু-২২