📄 বেদের রচয়িতা
বেদের শ্লোকগুলো কে রচনা করেছেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে এগুলো নানা মুনি-ঋষির রচনা হিসেবে প্রচলিত। বেদের সংকলন করেছেন কৃষ্ণদৈপায়ন বেদব্যাস। অর্থাৎ ব্যাস বা ব্যাসদেব। তিনি কালো রঙের বলে কৃষ্ণ এবং দ্বীপে জন্ম গ্রহণ করেন বলে দ্বৈপায়ন এবং বেদ সংকলন করেন বলে বদেব্যাস বলে পরিচিত।
📄 বেদের কাঠামো
চারটি বেদে সর্ব মোট ২০,৩৭৯টি ঋক আছে। নিচে বেদের নাম ও ঋক সংখ্যা দেওয়া হলো।
বেদ — ঋকসংখ্যা
ঋগ্বেদ — ১০৫৫২
যজুর্বেদ — ১৯৭৫
সামবেদ — ১৮৭৫
অথর্ববেদ — ৫৯৭৭
টিকাঃ
- সিন্ধু থেকে হিন্দু-১৯
📄 রচনাকাল
বেদ কখন রচিত হয়- এই প্রশ্নের সঠিক জবাব অজানা। তবে এগুলো যে মানব ইতিহাসের অতি প্রাচীন রচনা, তা অনুমান করা যায়। চারটি প্রধান বেদ লেখা বা রচনা করা হয়েছে ৬ শতক হতে ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। তবে বিশেষ ধারণা করা হয় যে, খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতকে বেদ রচনা করা হয়েছে। স্মৃতি গ্রন্থগুলো খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ বছর থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ বছর সময়ের মধ্যে রচনা হয়েছে অথবা সংগৃহীত করা হয়েছে।
📄 বেদের ভাষা
হিন্দুধর্ম গ্রন্থগুলো প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় রচিত। সংস্কৃত ভাষা ভারত উপমহাদেশের বহু ভাষা এবং শত শত উপভাষার উৎস। এই ভাষাটি বর্তমানে অপ্রচলিত। অপ্রচলিত হলেও এই ভাষার ব্যাকরণ ও বিধিমালা এত গূঢ় নীতিমালা ভিত্তিক যে, এই ভাষাটি অপ্রচলিত হলেও অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও জীবিত থাকবে।
সংস্কৃতভাষা হিন্দুধর্ম বা আর্যধর্মের ভাষাগত ধারক-বাহক। সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন গ্রন্থসমূহ মৌলিক হলেও এর মধ্যে শতাব্দির পর শতাব্দিতে বহু পরিবর্তন এসেছে। সংযোজন হয়েছে এবং বিকৃতি ঘটেছে। বেদ গ্রন্থসমূহ হিন্দি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হচ্ছে।
এমন কোন হিন্দু ধর্মীয়গ্রন্থ পাওয়া যায় না- যাতে পুরোহিতগণ তাদের বিশ্বাস, প্রত্যয়, মেধা ও প্রজ্ঞার প্রভাব সংযোজিত করেননি বা তাদের প্রতিভা দীপ্তকল্পনা শক্তির প্রলেপ দেননি। হিন্দুধর্মে বহু মহাঋষির আবির্ভাব হয়েছে। তাদের মূল্যবান বচন এবং মর্মার্থের গ্রন্থগুলো বিভিন্ন ভাষা-রীতিতে সংকলিত হয়েছে।
টিকাঃ
- সিন্ধু থেকে হিন্দু-২০