📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দুর্গা শক্তির দেবী

📄 দুর্গা শক্তির দেবী


দূর্গা (সংস্কৃত: দুর্গা; অর্থাৎ "যিনি দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন"; অন্যমতে, "যে দেবী দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছিলেন") হলেন একজন হিন্দু দেবী। তিনি একজন জনপ্রিয় দেবী। হিন্দুরা তাঁকে মহাশক্তির একটি উগ্র রূপ মনে করেন। তাঁর অন্যান্য নামসমূহ হল চণ্ডিকা, যোগমায়া, অম্বিকা, বৈষ্ণবী, মহিষাসুরসংহারিণী নারায়নী, মহামায়া, কাত্যায়নী ইত্যাদি। দেবী দূর্গার অনেকগুলি হাত। তাঁর অষ্টাদশভূজা, ষোড়শভূজা, দশভূজা, অষ্টভূজা ও চতুর্ভুজা মূর্তি দেখা যায়। তবে দশভূজা রূপটিই বেশি জনপ্রিয়। তাঁর বাহন সিংহ (কোন কোন মতে বাঘ)। মহিষাসুরমর্দিনী-মূর্তিতে তাঁকে মহিষাসুর নামে এক অসুরকে বধরত অবস্থায় দেখা যায়।

মা দূর্গা হিন্দুধর্মে দেবী দূর্গা পরমা প্রকৃতি ও সৃষ্টির আদি কারণ। হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে তিনি শিবের স্ত্রী পার্বতী, কার্তিক ও গণেশের জননী, এবং কালীর অন্যরূপ। বাংলা মঙ্গলকাব্যগুলিতে এবং আগমনী গানে দূর্গারূপে শিবজায়া হিমালয়দুহিতা পার্বতীর সপরিবারে পিতৃগৃহে অবস্থানের আনন্দময় দিনগুলির (দূর্গাপূজা) এবং তাঁর বিবাহিত জীবনের অপূর্ব বর্ণনা পাওয়া যায়।

দূর্গার আরাধনা বাংলা, অসম, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের কোন কোন অঞ্চলে প্রচলিত। ভারতের অন্যত্র দূর্গাপূজা নবরাত্রি উৎসব রূপে উদযাপিত হয়। বছরে দুইবার দুর্গোৎসবের প্রথা রয়েছে। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে শারদীয়া এবং চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে বাসন্তী দূর্গাপূজা। সম্ভবত খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বাংলায় দুর্গোৎসব প্রবর্তিত হয়। জনশ্রুতি আছে, রাজশাহীর তাহিরপুরের রাজা কংসনারায়ণ প্রথম মহাআড়ম্বরে শারদীয়া দূর্গাপূজার সূচনা করেছিলেন।

দূর্গা মূলত শক্তির দেবী। ঋগ্বেদে দূর্গার বর্ণনা নেই, তবে ঋগ্বেদোক্ত দেবীসূক্তকে দেবী দূর্গার সূক্ত হিসাবেই মান্যতা দেওয়া হয়। দূর্গার বিশেষ আলোচনা ও পূজাবিধি তন্ত্র ও পুরাণেই প্রচলিত। যেসকল পুরাণ ও উপপুরাণে দূর্গা সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে সেগুলি হল: মৎস্যপুরাণ, মার্কণ্ডেয়পুরাণ, দেবীপুরাণ, কালিকাপুরাণ ও দেবী ভাগবত। তিনি জয়দূর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদূর্গা, চণ্ডী, নারায়ণী প্রভৃতি নামে ও রূপে পূজিত হন।

দেবী দূর্গা শাক্ত ধর্মে সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবী, বৈষ্ণব ধর্মে তাঁকে ভগবান বিষ্ণুর অনন্ত মায়া হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং শৈবধর্মে দূর্গাকে শিবের অর্ধাঙ্গিনী পার্বতী হিসাবে অর্চনা করা হয়। বৈদিক সাহিত্যে দূর্গার উল্লেখ পাওয়া যায়। কেনোপনিষদে বর্ণিত হৈমাবতীকে দূর্গা হিসাবেই আখ্যায়িতি করা হয়েছে; ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণের যোগমায়াকে দূর্গা আখ্যা দেওয়া হয়েছে যিনি হরি সহায়িনী তথা হরিভক্তিপ্রদায়িনী। এইসমূহ ছাড়াও দূর্গাদেবীর বর্ণনা মহাভারতের বিরাট পর্ব ও অন্যান্য পুরাণে পাওয়া যায়। দূর্গাদেবীর ভিন্ন ভিন্ন অবতার সমূহ হল: কালিকা, নন্দা, ভ্রামরী, শাকম্ভরী, রক্তদণ্ডিকা, সতী, পার্বতী, কৌশিকী ইত্যাদি。

টিকাঃ
০-বিশ্বের ধর্ম পরিচিতি, পৃ-১৮৬, হিন্দু শিক্ষা -১২ ও উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 সুখ ও সৌভাগ্যদাতা

📄 সুখ ও সৌভাগ্যদাতা


লক্ষ্মী (সংস্কৃত: লক্ষ্মী) হলেন একজন হিন্দু দেবী। তিনি ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পত্নী। তাঁর অপর নাম মহালক্ষ্মী। জৈন স্মারকগুলিতেও লক্ষ্মীর ছবি দেখা যায়। লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা।

লক্ষ্মী ছয়টি বিশেষ গুণের দেবী। তিনি বিষ্ণুর শক্তিরও উৎস। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার গ্রহণ করলে, লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁদের সঙ্গিনী হন। কৃষ্ণের দুই স্ত্রী রুক্মিণী ও সত্যভামাও লক্ষ্মীর অবতার রূপে কল্পিত হন। লক্ষ্মীর পূজা অধিকাংশ হিন্দুর গৃহেই অনুষ্ঠিত হয়। দীপাবলি ও কোজাগরী পূর্ণিমার দিন তাঁর বিশেষ পূজা হয়। এটি কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা নামে খ্যাত। বাঙালি হিন্দুরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন।

হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী সুখ ও সৌভাগের দেবী মা লক্ষ্মী। প্রতিটি গৃহে মা লক্ষ্মীর পূজার্চনা করা হয়। সকাল-সন্ধ্যায়ও তার পূজা করা হয়। হিন্দুদের আকীদা হলো এই দেবীর পূজা করলে সংসারে সুখ আসবে, বরকত হবে। ধান কেটে প্রথমে মা লক্ষ্মীকে পূজা দেয়া হয়।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 সৌন্দর্য দাতা (কার্তিক)

📄 সৌন্দর্য দাতা (কার্তিক)


কার্তিক শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতীক। কার্তিককে দেবতাদের সেনাপতি রূপে গণ্য করা হয়। যুদ্ধে তার আসল পরিচয়। গায়ের রং দেবী দুর্গার মতো। দেখতে খুব সুন্দর। চিরযৌবন ও ধনুর্বানধারী। ময়ূর তার বাহন। ময়ূর হিংস্রতার বিরোধী। কার্তিক মাসের শেষের দিকে তার প্রতি পূজা নিবেদিত হয়। শিব ও পার্বতীর পুত্র কার্তিক। হিন্দুধর্মের যুবশক্তির প্রতিমূর্তিরূপে কার্তিককে পূজা করা হয়। কোন নির্দিষ্ট দিনে বা মাসে কার্তিক পূজা হয় না।

কার্তিককে গৃহেই পূজা করা হয়ে থাকে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 অলঙ্কার শিল্পের স্রষ্টা (বিশ্বকর্মা)

📄 অলঙ্কার শিল্পের স্রষ্টা (বিশ্বকর্মা)


দেবতাদের মধ্যে বিশ্বকর্মা সৃষ্টিশৈলীর প্রতীক। বিশ্বকর্মা চতুর্ভুজ ও গজারুঢ়। তার আকৃতি অনেকটা কার্তিকের ন্যায়। বেদে বিশ্বকর্মাকে পৃথিবীর নির্মাতারূপে বর্ণনা করা হয়েছে। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস মতে তিনি বিশ্বের তাবৎ কর্মের সম্পাদক। তিনি শিল্পসমূহের প্রকাশক। অলঙ্কার শিল্পের স্রষ্টা, দেবতাদের চলাচলের জন্য যান সমূহের নির্মাতা ইত্যাদি। অর্থাৎ শিল্পবিদ্যায় তার একচ্ছত্র অধিকার। তাই শিল্পকর্মের পারদর্শিতা অর্জন প্রত্যাশীগণ বিশ্বকর্মা অনুগ্রহ কামনায় পূজা নিবেদন করে থাকে। ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে কল-কারখানা মূর্তি গড়ে অথবা পথে ঘাটে বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px