📄 ২. নেংকারী
২. নেরংকারী
তারা কোন সাকারের পূজা করে না নিরাকার এক মালিককে মানে। তবে অবতারদের স্বীকার করে। এই গ্রুপটিও ভারতে বেশি দেখা যায়।
📄 ৩. ইসকন
৩. ইসকন
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ একটি হিন্দু বৈষ্ণব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। ইসকনের মূল ধর্মবিশ্বাসটি শ্রীমদ্ভাগবত ও ভগবতগীতা গ্রন্থদ্বয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই সংগঠন গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের অনুগামী। উক্ত মতটি খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে প্রবর্তিত হয় এবং ১৯৩০-এর দশক থেকে পাশ্চাত্য সমাজে ধর্মান্তরণের কাজ শুরু করে। ইসকন একটি অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। ভক্তিযোগ এই সংগঠনের মূল উপজীব্য। স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণকে তুষ্ট করাই এই প্রতিষ্ঠানের ভক্তদের জীবনের মূল লক্ষ্য বলে বিবেচিত হয়।
২০০৯ সালের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে সারা বিশ্বে ইসকনের ৬৫০টিরও বেশি মন্দির এবং কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি খামার সংগঠন (কয়েকটি স্বনিযুক্তি প্রকল্প সহ), ৫৪টি বিদ্যালয় ও ৯০টি ভোজনালয়। বর্তমানে পূর্ব ইউরোপে (সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর) ও ভারতে এই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
(ইসকন সম্পর্কে ইনকিলাবের এক স্টাফ রিপোর্টে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছিল ৩ জুলাই, ২০১৭ ইং তারিখে। পাঠকের সুবিধার্থে এখানে সেই তথ্যটি নিম্নে পেশ করছি।)
ইসকন সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন সংগঠন নয়। এটা হিন্দু বেশধারী একটি ইহুদী সংগঠন। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা, বাংলাদেশে 'র' বইয়ের ১৭১ পৃষ্ঠায় লেখা আছে "ইসকনের সদর দপ্তর ভারতের নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। এই সম্প্রদায়ের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানীমূলক হিন্দুদের অনুষ্ঠান পালন করা, উদ্দেশ্য হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি। ইসকনের প্রতিষ্ঠা ভারতে নয়, ১৯৬৬ সালে আমেরিকার নিউইয়র্কে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। তিনি ভারতের কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে লেখাপড়া করেননি। তিনি লেখাপড়া করেন নিউইয়র্কে খ্রিস্টান চার্চে। পেশায় তিনি ছিলেন ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসায়ী। ভারতে তার ইসকন সংগঠনকে প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রথমেই বাধা দিয়েছিল, ভারতের সনাতন হিন্দুরা (যারা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে)। ভারতে ইসকন প্রতিষ্ঠাকালে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের বাধার সময় স্বামী প্রভুপাদের পক্ষে কাজ করেছিল জে. স্টিলসন জুডা, হারভে কক্স, ল্যারি শিন ও টমাস হপকিন্স-এর মত চিহ্নিত ইহুদী-খ্রিস্টান এজেন্টরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসকন একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন। এই সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য মধ্যযুগের শ্রী চৈতন্য থেকে আগত। চৈতন্যের অন্যতম থিওরী বা নীতি হচ্ছে- "নির্যবন করো আজি সকল ভুবন”। যার অর্থ- সারা পৃথিবীকে যবন মানে মুসলমান মুক্ত করো। (বাংলাদেশের ইতিহাস (মধ্য যুগ), পঞ্চম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৬২)। উল্লেখ্য, ইসকন শিব দেবতাকে দেখতেই পারে না। ইসকনের বই পত্রে আত্মা, পরকাল, পুনর্জন্ম নিয়ে একটি আলাদা ধারণা দেয়া হয়েছে যেটা সনাতন ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন ইসকনিদের মতে যেসব হিন্দু কালী ভক্ত বা লোকনাথ ভক্ত তারা কোনদিনও স্বর্গে যেতে পারবে না। তারা বারবার কেবল পুনর্জন্ম নিবে। বাংলাদেশে অনলাইন অফলাইন উভয় প্লাটফর্মে হিন্দু মুসলিম বিভেদ বা সাম্প্রদায়িক উসকানির হোতা হচ্ছে ইসকন। এটা প্রমাণ করে যে ইসরায়েলী ইহুদীদের টাকায় পরিচালিত সংগঠন ইসকনের মূল কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে দাঙ্গা সৃষ্টি করা। উগ্র সংগঠন ইসকন কর্তৃক বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের মানুষের মাঝে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে দাঙ্গা লাগানোর নমুনা হচ্ছে, বাংলাদেশে সনাতন মন্দিরগুলো দখল করা এবং সনাতনদের তাড়িয়ে দেয়া। যেমন স্বামীবাগের মন্দিরটি আগে সনাতনদের ছিল, পরে ইসকনরা কেড়ে সনাতনদের ভাগিয়ে দেয়। এছাড়া পঞ্চগড়েও সনাতনদের এলাকা ছাড়া করে ইসকনরা। ঠাকুরগাঁও-এ সংঘর্ষ বাধিয়ে সনাতন হিন্দুকে হত্যা করে মন্দির দখল করে ইসকন। এছাড়া গতবছর সিলেটের জগন্নাথপুরে সনাতনদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন।
এছাড়া বাংলাদেশে মসজিদে সাম্প্রদায়িক হামলা করা এদের অন্যতম লক্ষ্য। দুই বছর পূর্বে ঢাকাস্থ স্বামীবাগে মসজিদে তারাবীর নামাজ বন্ধ করে দিয়েছিল ইসকন। নামাজের সময় ইসকনের গান-বাজনা বন্ধ রাখতে বলায় তারা পুলিশ ডেকে এনে তারাবীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। সিলেটেও গত বছর অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল সিলেট শহরের ইসকন মন্দিরের কাছে কাজল শাহ এলাকার একটি জামে মসজিদে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন। যেমন- জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু, বেদান্ত, ইত্যাদি তৈরি করে ইসকনের উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিস্তৃতি ঘটানো। বর্তমান অনলাইন জগতে যেসব ধর্ম অবমাননা করা হচ্ছে তার অধিকাংশ ইসকন সদস্যদের অপকর্ম। সিলেটে রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ ইস্যুর পেছনে রয়েছে ইসকন। ইসকন আড়াল থেকে পুরো ঘটনা পরিচালনা করে এবং পঙ্কজগুপ্তকে লেলিয়ে দেয়। পঙ্কজগুপ্ত জমি পাওয়ার পর সেই জমি নিজেদের দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসকন। বর্তমানে বিচারবিভাগে ইসকনের প্রভাব মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ খোদ প্রধান বিচারপতিও একজন ইসকন সদস্য।
২০১২ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে সনাতনী মন্দির দখল করে নেয়ায় ইসকনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল। ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা এলাকায় বর্তমান ইসকন পরিচালিত বাসুদেব মুকুন্দ ধাম মন্দির দখল করার জন্য পার্শ্ববর্তী সুজন শেখর দত্তের মাধ্যমে হামলা করে এ মন্দির দখল করেছে।
তাই বাংলাদেশে যদি এখনই ইসকনকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে, যেই অপেক্ষায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা হারালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
তারা সাধু টাইপের তারা নিরামিষ ছাড়া অন্য কিছু খাবার খায় না। তারা জীব হত্যাকে মহাপাপ মনে করে। এরা হলো সনাতন ধর্মের সংস্কারবাদী একটি দল। তারা ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে নিয়ে সামাজিক অনেক কিছুর সংস্কার করেছে। সনাতন ধর্মের অনেক আকীদা-বিশ্বাস ও রুসম রেওয়াজকে কুসংস্কার বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের সাধনাও হয় খুবই কঠিন। যেমন ভোরে উঠে গোসল করতে হয়, শৌচকার্য থেকে পবিত্র হতে হলে গোসল করতে হয়। নিরামিষ ছাড়া কিছু খায় না। তাদেরকে চেনার উপায় হলো, সাধারণত তারাই মাথায় টিকি রাখবে। হলুদ ও গেরুয়া রঙের পোশাক পরিধান করে। হাতে থাকে একটি থলে, তাতে থাকে ১০০০ দানা বিশিষ্ট একটি মালা। সেই দানাগুলো গুনে মন্ত্র জপে। মন্ত্রটি হলো, "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।"
এরা ধর্ম নিয়ে যথেষ্ট লেখাপড়া করে। যা হিন্দুদের মধ্যে অন্য কোন দল করে না। তাদের রচিত অনেক বই বাজারে পাওয়া যায়। তাদের নিজস্ব প্রকাশনাও আছে। তারা নিজেদেরকে সনাতন বলেই দাবি করে।
টিকাঃ
• [মৃণালকান্তি গঙ্গোপাধ্যায়] ইউকিপিডিয়া
- দৈনিক ইনকিলাব, ৩ জুলাই, ২০১৭ (শ্রীমদ্ভগবত গীতা যথাযহ পৃ.৬)
📄 ৪. সনাতন
৪. সনাতন
আমাদের দেশে যাদের আমরা হিন্দু বলে মনে করি- তারা অধিকাংশ সনাতন। তারা বিভিন্ন দেব দেবীর পূজা করে। সনাতন ধর্মের আরেকটি নাম হলো বৈদিক ধর্ম। সনাতন অর্থ পুরাতন। যুগযুগ থেকে যেহেতু এই ধর্ম চলে আসছে তাই তাকে সনাতন ধর্ম বলা হয়। প্রকৃত পক্ষে ইসলামই হলো সনাতন ধর্ম। কারণ পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানুষ আদম আ. মুসলমান ছিলেন, তাঁর ধর্ম ছিল ইসলাম। এর পরও যত নবী রাসূল এসেছেন তারাও মুসলমান ছিলেন। তাদের ধর্মও ছিল ইসলাম। তাই ইসলাম হলো প্রকৃত সনাতন ধর্ম।