📄 ব্রাহ্মণ
ব্রাহ্মণগণ হলেন হিন্দু সমাজে সর্বোচ্চ স্তরের জাতি রাষ্ট্র ও সমাজের রক্ষক ও পালক একমাত্র তারাই। পূজা, অর্চনা, আরাধনায় পৌরহিত্য করতে পারেন। অপর সকল হিন্দু জাতের আনুগত্য এবং শ্রদ্ধা তাঁদের প্রাপ্য। পূজার সময় একমাত্র পুরোহিত দেবতার সান্নিধ্যে থাকতে পারেন। তাই মন্দিরের আকার মসজিদের মতো প্রশস্ত বা বৃহৎ নয়। এরা হলো আর্যদের যারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল বা রাজা ছিল। তাদের দায়িত্ব কম অধিকার বেশি। বাকি জাতের লোকেরা তাদের খেদমত করবে। হিন্দুদের বিশ্বাস ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণের জন্ম বা সৃষ্টি। তাই তার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।
টিকাঃ
-- সিন্ধু থেকে হিন্দু-১১১
📄 ক্ষত্রিয়
ক্ষত্রিয়গণ হলেন যোদ্ধার জাত রাষ্ট্র ও সমাজের রক্ষক। তারা সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং রাজ্যের শাসন দায়িত্বে থাকবেন। রাজা হলে বংশানুক্রমে অথবা সামরিক শক্তি বলে রাজ্য শাসনের ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারেন। এরা হলো তারাই যারা আর্যদের সাথে যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করতে এসেছিল। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস হলো ক্ষত্রিয়দের সৃষ্টি হলো ব্রহ্মার বাহু থেকে। তাই তারা শক্তিশালী ও যুদ্ধা।
টিকাঃ
*- সিন্ধু থেকে হিন্দু-১১১ট
📄 বৈশ্য
বৈশ্যগণ হলেন ব্যবসায়ী শ্রেণী, কৃষি-ব্যবসা দ্বারা সমাজের ধন-সম্পদের উৎপাদক ও পালক। তাদের কাজ হলো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কল- কারখানা ইত্যাদির মালিক হওয়া এবং পরিচালনা করা। এরা ছিল তারা দ্রাবিড়দের মধ্যে যারা আর্যদের সমর্থন করেছিল। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস হলো- ব্রহ্মার উরু থেকে বৈশ্য এর সৃষ্টি।
টিকাঃ
০-সিন্ধু থেকে হিন্দু-১১১
📄 শূদ্র
শূদ্রগণ হলেন সেবক শ্রেণী; পরিশ্রমের দ্বারা সমাজের সেবক ও পোষক। তাদের কাজ হলো উপরিউক্ত তিনশ্রেণীর সেবা করা, তাদের চাকরগিরী করা। এরা ছিল হিন্দুস্তানে দ্রাবিড়দের মধ্যে যারা আর্যদের বিরোধিতা করেছিল। এরা সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণীর মানুষ। ক্ষত্রিয়গণের যদি তাদের ছায়ায় পা পড়ে যায় বা তাদের স্পর্শ লাগে তাহলে তারা নাপাক হয়ে যায়। কোন পূজা-অর্চনা করা বা কোন অনুষ্ঠানে বা মন্দিরে যাবার তাদের কোন অধিকার নেই। তারা সবচেয়ে নির্যাতিত ও নিপিড়ীত। এদের দায়িত্ব বেশি, অধিকার কম। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস- শূদ্রের সৃষ্টি হলো ব্রহ্মার পা থেকে। তাই তারা পায়ের জাত, নিচু জাত।
টিকাঃ
০-সিন্ধু থেকে হিন্দু-১১১