📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 কখন থেকে জাতিভেদ প্রথা শুরু

📄 কখন থেকে জাতিভেদ প্রথা শুরু


বাঙালি হিন্দুর সামাজিক ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায় যে, এই জন্মগত জাতিভেদ প্রথাটির বয়স সর্বোচ্চ সাত-আটশত বছর। কীভাবে এই প্রথাটির উদ্ভব হয়েছে তার একটি সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন ড. গুর তার গ্রন্থে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের যে চরিত্র তুলে ধরেছেন। তাতে দেখা যায় প্রাক পাল যুগে (প্রায় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলার চার বর্ণের ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র কোন সমাজ ছিল না। কারণ প্রাক পাল যুগে স্থানীয়দের মধ্যে জন্মগত কোন জাতিভেদ ছিল না। অর্থাৎ সমাজটি ছিল জাতপাতহীন একটি সমতল সমাজ।
নবম দশম শতাব্দীর দিকেই ব্রাহ্মণরা জাতিভেদ প্রথার বীজ রোপণ করে। তারা সুযোগ বুঝে চার বর্ণের আদলে সমাজকে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বলা হয়, ব্রাহ্মণ বাদে বাংলার সকল মানুষই সংকর এবং শূদ্র। কেবল মাত্র ব্রাহ্মণই নির্ভেজাল। এ প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারিরা নিজেদেরকে কায়স্থ হিসাবে গণ্য করতে শুরু করে। দেখাদেখি কৈবর্ত্য ইত্যাদি জাতিরও নিজেদেরকে স্বতন্ত্রভাবে শুরু করে। কিন্তু এই দাবিগুলো কোন আনুষ্ঠানিক লাভ করে নি। পাল যুগের শেষে আসে সেন রাজত্ব। একাদশ শতকে বল্লাল সেনের সমসাময়িক কালে রচিত বৃহদ্ধর্ম পুরাণেই প্রথম পাওয়া যাচ্ছে বাঙালি হিন্দুর জাতি বিন্যাস। এই বৃহদ্ধর্ম পুরাণ দিয়ে আরম্ভ করে পরবর্তীকালে সামাজিক বিবর্তনের সাথে সাথে হিন্দুর জাতি বিন্যাস বারবার পরিবর্তিত হয়। নিম্নে প্রধান চার জাতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো।

টিকাঃ
০ - সিন্ধু থেকে হিন্দু-১৩৬-১৩৭

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 ব্রাহ্মণ

📄 ব্রাহ্মণ


ব্রাহ্মণগণ হলেন হিন্দু সমাজে সর্বোচ্চ স্তরের জাতি রাষ্ট্র ও সমাজের রক্ষক ও পালক একমাত্র তারাই। পূজা, অর্চনা, আরাধনায় পৌরহিত্য করতে পারেন। অপর সকল হিন্দু জাতের আনুগত্য এবং শ্রদ্ধা তাঁদের প্রাপ্য। পূজার সময় একমাত্র পুরোহিত দেবতার সান্নিধ্যে থাকতে পারেন। তাই মন্দিরের আকার মসজিদের মতো প্রশস্ত বা বৃহৎ নয়। এরা হলো আর্যদের যারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল বা রাজা ছিল। তাদের দায়িত্ব কম অধিকার বেশি। বাকি জাতের লোকেরা তাদের খেদমত করবে। হিন্দুদের বিশ্বাস ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণের জন্ম বা সৃষ্টি। তাই তার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

টিকাঃ
-- সিন্ধু থেকে হিন্দু-১১১

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 ক্ষত্রিয়

📄 ক্ষত্রিয়


ক্ষত্রিয়গণ হলেন যোদ্ধার জাত রাষ্ট্র ও সমাজের রক্ষক। তারা সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং রাজ্যের শাসন দায়িত্বে থাকবেন। রাজা হলে বংশানুক্রমে অথবা সামরিক শক্তি বলে রাজ্য শাসনের ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারেন। এরা হলো তারাই যারা আর্যদের সাথে যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করতে এসেছিল। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস হলো ক্ষত্রিয়দের সৃষ্টি হলো ব্রহ্মার বাহু থেকে। তাই তারা শক্তিশালী ও যুদ্ধা।

টিকাঃ
*- সিন্ধু থেকে হিন্দু-১১১ট

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 বৈশ্য

📄 বৈশ্য


বৈশ্যগণ হলেন ব্যবসায়ী শ্রেণী, কৃষি-ব্যবসা দ্বারা সমাজের ধন-সম্পদের উৎপাদক ও পালক। তাদের কাজ হলো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কল- কারখানা ইত্যাদির মালিক হওয়া এবং পরিচালনা করা। এরা ছিল তারা দ্রাবিড়দের মধ্যে যারা আর্যদের সমর্থন করেছিল। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস হলো- ব্রহ্মার উরু থেকে বৈশ্য এর সৃষ্টি।

টিকাঃ
০-সিন্ধু থেকে হিন্দু-১১১

ফন্ট সাইজ
15px
17px