📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 অন্তিম অবতারের জন্ম তারিখ

📄 অন্তিম অবতারের জন্ম তারিখ


অন্তিম অবতার 'মাধব মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বাদশ তারিখে জন্মগ্রহণ করবেন।'
"দ্বাদশ্যাং শুক্লপক্ষস্য মাধবে মাসি মাধবঃ।"
মাধব অর্থ বৈশাখ মাস, বিক্রমী ক্যালেন্ডার মতে বৈশাখকে বসন্তের মাস বলা হয়, যার আরবী অর্থ হয় 'রবি'। শুক্ল পক্ষ, অর্থাৎ 'প্রথম অংশ' আরবীতে প্রথমকে বলা হয়, 'আউয়াল'। একত্রে হয় 'রবিউল আউয়াল' দ্বাদশ তারিখ অর্থাৎ ১২ তারিখ। সকল মানুষের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন।

টিকাঃ
০-কল্কিপুরাণ-১/২/১৫

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 অথর্ববেদে হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর প্রসঙ্গ

📄 অথর্ববেদে হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর প্রসঙ্গ


{অথ কুন্ডাপ সুক্তানি} ইদংজনা উপশ্রুত নরাশংস স্তবিষ্যতে। ষষ্টিং সহস্রা নবতিং চ কৌরম আ রুশমেষু দদ্মহে।। ১
উষ্ট্রা যস্য প্রবাহণো বধুমস্তো দ্বির্দশ। বৰ্ম্মা রথস্য নি জিহীড়তে দিব ঈষমাণা উপস্পৃশঃ।।২।।
এষ ইষায় মামহে শতং নিষ্কান দশ স্রজঃ। ত্রীণি শতান্যবতাং সহস্রা দশ গোনাম।। ৩।।
বচ্যস্ব রেভ বচ্যস্ব বৃক্ষে ন পক্কে শকুনঃ। নষ্টে জিহ্বা চর্চরীতি ক্ষুরো ন ভূরিজোরিব।।৪।
প্র রেভাসো মনীষা বৃষা গাব ইবেরতে। আমোত পুত্রকা এষামমোত গা ইবাসতে।। ৫।।
প্র রেভ ধীং ভরস্ব গোবিন্দং বসুবিদম্। দেবত্রেমাং বাচং শ্রীণীহীষুর্নবীরস্তারম।।৬।।
রাজ্ঞো বিশ্বজনীনস্য যো দেবোহমর্ত্যা অতি। বৈশ্বানরস্য সুষ্টুতিমা সুনোতা পরিক্ষিতঃ।।৭।।
ঈরিচ্ছিন্নঃ ক্ষেমমকরেনাৎ তম আসনমাচরন। কূলায়ন কৃম্বন কৌরব্য পতিবদতি জায়য়া।। ৮।।
কতরৎ তে আ হরাণি দধি মন্থাং পরিশ্রম। জায়াঃ পতিং বি পৃচ্ছতি রাষ্ট্রে রাজ্ঞঃ পরিক্ষিতঃ।।৯
অভীবস্বঃ প্র জিহীতে যবঃ পক্কঃ পথো বিলম। জনঃ স ভদ্রমেধতি রাষ্ট্রে রাজ্ঞঃ পরিক্ষিতঃ।।১০
ইন্দ্রঃ কারুমবৃধুদুত্তিষ্ঠ বি চর‍্যা জনম। মমেদু গ্রস্য চিকর্ধ সর্ব ইৎ তে পৃণাদরিঃ।।১১
ইহ গাবঃ প্রজায়ধ্বমিহাশ্বা ইহ পুরুষাঃ। ইহো সহস্রদিক্ষণনোহয়ি পূষা নি ষীদতি।। ১২
নেমা ইন্দ্র গাবো রিষন মো আসাং রীরিষৎ। মাসামিত্রয়ুর্জন ইন্দ্র মা স্তেন ঈশত।।১৩
উপ নো র রমসি সূক্তেন বচসা বয়ং ভদ্রেণ বচসা বয়ম। বনাদধিধ্বনো গিরো ন রিষ্যেম কদাচন।। ১৪
(অথর্ববেদ ২০শ কাণ্ড ৯ম অনুবাক ৩১শ সুক্ত)

১ম মন্ত্রে যে ঋষির প্রশংসা গীত হয়েছে তার নাম নরাশংস। নরাশংস অর্থ প্রশংসিত, প্রশংসা।
(ক) 'কৌরম' অর্থ দেশত্যাগী। ইহা উক্ত ঋষির দ্বিতীয় পরিচয়। মন্ত্রে উক্ত হইয়াছে যে, দেশত্যাগী ব্যক্তিকে ষাট হাজার নব্বই ব্যক্তির মধ্যে দৃষ্ট হইতেছে। আমরা ইতিহাসে দেখিতে পাই যে, হযরত মুহাম্মদ-এর যুগে আরব দেশের লোক সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট হাজার।
আরো দেখা যায় যে, হযরত মুহাম্মদ তাঁহার মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করিয়া মদীনায় চলিয়া যান এবং সমগ্র আরব দেশের ষাট হাজার মানুষ তাঁহার সঙ্গে বৈরিতা পোষণ করে।
সুতরাং নরাশংস-প্রশংসিত; কৌরম-দেশত্যাগী, উভয় বিষয় হযরত মুহাম্মদ-এর মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রযোজ্য হইতেছে।

২য় মন্ত্র: এই মন্ত্রে উক্ত ঋষির তিনটি পরিচয় প্রদত্ত হইয়াছে।
(ক) উষ্ট্রে আরোহণকারী হইবেন- এত দ্বারা সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয় যে, (১) ভবিষ্যতে আগমনকারী ঋষি মরুভূমি দেশের অধিবাসী হইবেন এবং (২) তিনি ভারত বহির্ভূত অহিন্দু জাতি হইতে আবির্ভূত হইবেন। কারণ উট মরুদেশ ছাড়া পাওয়া যায় না এবং হিন্দু ব্রাহ্মণের জন্য মনুস্মৃতিতে উটে আরোহণ নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। (১১ঃ২০১)। এমনকি মনুসংহিতায় উটের দুধ ও মাংস খাওয়াও নিষিদ্ধ করা হইয়াছে (৫ঃ৮, ১১:১৫৭)।
(খ) তাঁহার একাধিক স্ত্রী থাকিবেন।
(গ) তিনি রথে চড়িয়া ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করিবেন।
এই তিনটি পরিচয়ও হযরত মুহম্মদ-এর সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্ত হয়। তিনি মরুভূমি আরব দেশের অধিবাসী ছিলেন, তিনি জীবনব্যাপী উটে আরোহণ করেন। তাঁহার একাধিক স্ত্রী ছিল এবং তিনি ঐশীবাহন বোরাকে চড়িয়া সপ্ত আকাশে স্বর্গসমূহে ভ্রমণ করেন, যাহা 'মিরাজ' নামে খ্যাত。

৩য় মন্ত্র: (ক) এখানে উক্ত ঋষির আর একটি নাম দেওয়া হয়েছে তা হল মামহ। 'মামহ' সংস্কৃত নয় তা বিদেশি শব্দ। মামহ আসলে আরবী মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংস্কৃত রূপ।
ঋগ্বেদে ৫ম মণ্ডল ২৭ সুক্ত ১ম মন্ত্রে-ও মামহ ঋষির উল্লেখ আছে।
(খ) উক্ত ঋষিকে একশত স্বর্ণমুদ্রা, দশটি হার, তিনশত অশ্ব এবং দশ সহস্র গাভী প্রদত্ত হইবে।
স্বর্ণমুদ্রা, হার, অশ্ব ও গাভী-এইগুলো পার্থিব অর্থে ব্যবহৃত হইতে পারে না। কারণ এই সকল পার্থিব বস্তু লাভের দ্বারা কোন ঋষির মাহাত্ম্য প্রকাশ পায় না, বরং তাহার পার্থিব-কলুষতাই প্রকাশ করে। প্রকৃতপক্ষে এইগুলো অলঙ্কারিক অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। তাহার শিস্যগণের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা ও ধার্মিকতার ক্ষেত্রে একশত জন স্বর্ণমুদ্রা স্বরূপ, দশজন সততা ও মানব কল্যাণের প্রতীক গাভী স্বরূপ হইবেন।
হযরত মুহাম্মদ এর সাহাবাগণের একশত জন সংসার ত্যাগী ও আল্লাহতে সমর্পিত প্রাণ ছিলেন, যাহারা ইতিহাসের 'আসহাবে সুফফা' নামে খ্যাত ছিলেন। দশজনকে তাঁদের ধর্মে চরম সফলতা লাভের জন্য এই ইহজীবনেই স্বর্গ-লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয়। তাহারা 'আশারায়ে মোবাশ্বারাহ' (সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন) নামে খ্যাত।
হযরত মুহাম্মদ জন্মভুমি মক্কা ত্যাগ করিয়া মদীনায় আসেন। কিন্তু মক্কার বিপক্ষগণ ৩০০ মাইল দূরে মদীনা আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে একহাজার সৈন্যসহ আগমন করেন। হযরত মুহাম্মদ তাঁর তিনশত শিস্যসহ তাহাদের মোকাবিলা করেন এবং সেই তিনশতের বীরত্ব ও বিক্রমে বিপক্ষের একহাজার সৈন্য পরাজিত হয় এবং তাহাদের সত্তর জন নিহত ও সত্তর জন বন্দী হয়। এই জন্য উক্ত তিনশত জনকে ধর্মের ক্ষেত্রে অশ্ব উপাধি দান করা হয়। যাহারা ইতিহাসে 'বদরী সাহাবা' নামে খ্যাত আছেন।
হযরত মুহাম্মদ অষ্টম হিজরীতে দশ হাজার শিস্যসহ মক্কাভিমুখে রওনা হন। মক্কাবাসীগণ সামান্য প্রতিরোধ করার পর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। হযরত মুহাম্মদ তাঁহাদের প্রতি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রদর্শন করিলে তাহার দশহাজার শিস্য-সৈন্যও সকলের প্রতি উদার ব্যবহার করেন। এইজন্য তাহাদিগকে গাভীর ন্যায় কল্যাণের প্রতীকরূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে। ইতিহাসে এই ঘটনাকে 'মক্কাবিজয়' নামে অভিহিত করা হইয়াছে।
অতএব মন্ত্রের এইরূপ সুসামঞ্জস্য হযরত মুহাম্মাদ কেই নির্দেশ করিয়াছে।

৪র্থ মন্ত্র: এখানে বলা হইয়াছে, হে রেভ সত্য প্রচার কর। বেদের হিন্দু ভাষ্যকার 'রেভ' এর অর্থ করিয়াছেন যিনি প্রশংসা করেন তথা প্রশংসাকারী। অর্থাৎ রেভ দ্বারা এমনর ঋষিকে সম্বোধন করিয়া সত্য প্রচার করার ঐশী আদেশ দেওয়া হইয়াছে, যাহার নামের অর্থ প্রশংসাকারী। আহমদ অর্থ প্রশংসাকারী। রেভ উহার সংস্কৃত শব্দ।
কুরআনের তাহাকে আদেশ দেওয়া হইয়াছে "আপনার প্রভুর নিকট হইতে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয় তাহা প্রচার করুন।"

৫ম মন্ত্র: এখানে মক্কা বিজয়ের বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে। প্রশংসাকারীর দল প্রভুর প্রশংসা করিতে করিতে চলিয়াছেন আর তাহাদের সন্তানগণ গৃহে তাহাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছে।

৬ষ্ঠ মন্ত্র: এখানে রেভ ঋষিকে জ্ঞানময় স্তোত্র। (প্রশংসাগীতি) ধারণ করিয়া মানুষের মধ্যে তীরন্দাজের ন্যায় সুনিপুণভাবে প্রচার করিতে আদেশ করা হইয়াছে।
হযরত মুহাম্মদ-এর উপর অবতীর্ণ কুরআনকে 'হাকীম' জ্ঞানময় গ্রন্থ বলা হইয়াছে। আশ্চর্য বিষয় যে, কুরআনের প্রথম সূরাটিও প্রভুর প্রশংসা দ্বারা আরম্ভ হইয়াছে। “সমস্ত সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকর্তা প্রভু আল্লাহ্র সকল প্রশংসা, যিনি অনন্ত করুণাময় পরম দয়ালু।”- সূরা ফাতিহা

৭ম মন্ত্র: এখানে উক্ত ঋষিকে রাজ ক্ষমতার অধিকারীরূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে যে, তিনি রাজ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হইয়া দেশে শান্তি স্থাপন করিবেন। হযরত মুহাম্মদ-ই একমাত্র সেই ঋষি ব্যক্তি, যিনি রাজ সিংহাসনের অধিকারী ছিলেন এবং বিশ্বে সমাজ ছিন্নতা, 'অজ্ঞতা' ও বর্বরতার যুগের অবসান ঘটান এবং সমগ্র আরব তথা বিশ্বে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তাহার প্রতিষ্ঠিত ধর্ম ইসলাম, যাহার অর্থ হইল শান্তি।
এই মন্ত্রে সেই রাজ-ঋষিকে বিশ্বজনীন বলা হইয়াছে অর্থাৎ তিনি কোন বিশেষ জাতি বা দেশের ঋষি হইবেন না। বরং তিনি হইবেন বিশ্বনবী এবং তাহার কাছে এমন বিশ্বজনীন ঐশী বিধান থাকিবে যাহার সাহায্যে বিশ্বকে শাসন ও পরিচালনা করা সম্ভব হইবে। এই কষ্টিপাথরে যাচাই করিলে একমাত্র হযরত মুহাম্মদ ও তাহার কুরআনই চিহ্নিত হইতে পারে, অন্য কেহ নয়। এই জন্য কুরআনে হযরত মুহাম্মদ-কে বিশ্বনবী এবং কুরআনকে বিশ্বজনীন বিধান (রহমাতালীল আলামীন) বলে ঘোষণা করা হইয়াছে, যা বিশ্ব ইতিহাসের কষ্টিপাথরে বাস্তব সত্যরূপে প্রতিষ্ঠিত ও অমর হইয়া আছে।

৮ম ও ৯ম মন্ত্র: এখানেও ঋষিকে রাজরূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে, তাহার রাজ্যে এইরূপ শান্তি বিরাজ করিবে যে, একজন কূলবধূর বাজার হইতে নির্ভয়ে দিবা রাত্রে যে কোন সময় বাজার করিয়া আসিতে সক্ষম।
পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র হযরত মুহাম্মদ-এর যুগেই এইরূপ সম্ভব হইয়াছিল। বর্তমান আধুনিক যুগেও যাহা সম্ভব নয়। বর্তমান যুগে দেখা যায় যে, পাশ্চাত্য নারীগণ বাহিরে বহির্গত হওয়ার সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র সঙ্গে নিতে বাধ্য থাকে এবং তজ্জন্য তাহারা অস্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করে। অথচ অত্যাশ্চর্য হইলেও সত্য যে, এখনও মক্কায় আযান শ্রবণ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজ নিজ গৃহ ও দোকানসমূহ খোলা রেখেই লোকজন মসজিদে নামায পড়তে ছুটে যান।

১০ম মন্ত্র: এখানেও তাহার রাজত্বে শান্তি ও সমৃদ্ধির উল্লেখ করা হইয়াছে।

১১তম মন্ত্র: এখানে ঋষিকে ৪র্থ মন্ত্রের ন্যায় প্রশংসাকারী বলা হইয়াছে এবং তাহাকে সর্বত্র ঈশ্বরের প্রশংসা প্রচার করিতে আদেশ দান করা হইয়াছে।
ইতোপূর্বে ব্যক্ত হয়েছে যে, হযরত মুহাম্মদ-এর নাম আহমদ বা প্রশংসাকারী।

১২তম ১৩শ মন্ত্র: এখানে উক্ত ঋষিকের রাজত্বে জনমানব ও পশু সকলের উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটিবে বলা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ নেতৃত্বে গঠিত ও পরিচালিত মুসলিম জাতি পৃথিবীতে কত সমৃদ্ধি ও উন্নতি লাভ করিয়াছিল তাহা নিঃসন্দেহে বিশ্ব ইতিহাসের উজ্জ্বলতম অধ্যায়, এই কথা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই স্বীকার করে নিয়েছেন।

১৪তম মন্ত্র: এখানে ঋষিকে বীর যোদ্ধা নামে সম্বোধন করা হইয়াছে এবং তাহাকে আমাদের প্রশংসা গ্রহণ করিতে অনুরোধ করা হইয়াছে, তাহাতে আমরা পাপ হইতে রক্ষা লাভ করিতে পারি।
অতএব, যোদ্ধা ঋষি হিসেবে আমরা একমাত্র হযরত মুহাম্মদ কেই দেখিতে পাই।
তাহার প্রশংসা করিলে পাপ মোচন হয় এবং পাপ হইতে নিষ্কৃতি লাভ হয় এই বলিয়া কুন্তপপ মন্ত্র সমাপ্ত হইল।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 রাসূলে করীম ﷺ এর ভবিষ্যৎবাণীর কয়েকটি মন

📄 রাসূলে করীম ﷺ এর ভবিষ্যৎবাণীর কয়েকটি মন


১। “হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো মহাসূরিন্দ্রাঃ অল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং পরমং ব্রহ্মণং অল্লাম ॥ অল্লো রসূল মোহাম্মদ রকং বরস্য অল্লো অল্লাম। আদাল্লাং বুকমেকং অল্লাবুকংল্লান লিখতকম।” অর্থ: দেবতাদের রাজা আল্লাহ আদি ও সকলের বড় ইন্দ্রের গুরু। আল্লাহ পূর্ণ ব্রহ্ম, মোহাম্মদ আল্লাহ্র রাসূল পরম বরণীয় আল্লাহ্ আল্লাহ্। তাঁহার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কেহ নাই। আল্লাহ অক্ষয়, অব্যয়, স্বয়ম্ভু।
২। হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আর একটি পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেই মন্ত্রটি হলো এই: "মদৌ বর্তিতা দেবাদ কারান্তে প্রকৃত্তিতা। বৃষানাং ভক্ষয়েৎ সদা মেদা শাস্ত্রেচ স্মৃতা।” যে দেবের নামের প্রথম অক্ষর 'ম' ও শেষ 'দ' এবং যিনি বৃষমাংস ভক্ষণ সর্বকালের জন্য পূর্ণ বৈধ করিবেন তিনিই হইবেন বেদানুযায়ী ঋষি। মুহাম্মদ-এর নামের প্রথম ও শেষ অক্ষর বেদের নির্দেশ যথাক্রমে 'ম' ও 'দ' হওয়াতে তাঁকে মান্য করাও শাস্ত্রেরই নির্দেশ।
৩। হিন্দুধর্মের কিতাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামটি স্পষ্ট ভাবে এসেছে, তা হলো- “লা-ইলাহা হরতি পাপম ইল্লইলাহা পরম পাদম, জন্ম বৈকুণ্ঠ অপ ইনুতি ত জপি নাম মুহম্মদ” অর্থ: লা-ইলাহার আশ্রয় ছাড়া পাপ মুক্তির কোন প্রকৃত আশ্রয় নাই। বৈকুণ্ঠে জন্ম লাভের আশা করিলে ইলাহার আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোন গতি নাই। আর এ জন্য মুহাম্মদ-এর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ ও অনুকরণ একান্তই অপরিহার্য।
৪। হিন্দুধর্মের কিতাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামটি স্পষ্ট ভাবে এসেছে, তা হলো- "অল্লো রসুল মহম্মদ রকং বরস্য।" স্মিন্নন্তিদরে ম্লেচ্ছ আচার্যেন সমন্বিতঃ। মহাম্মদ ইতখ্যাতঃ শিস্যশাখা সমন্বিতঃ। নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থল নিবাসিনম। চন্দনাদিভির ভ্যার্য্য তুষ্টার মনসা হম। নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল নিবাসিনম।। ত্রিপুরাসুনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে।। মেচ্ছৈর্গপ্তায় শুদ্ধায় সচ্চিদানন্দরুপিণে।
'যথাসময়ে 'মহাম্মদ' নামে একজন মহাপুরুষ আবির্ভূত হইবেন যাহার মরুস্থ (আরব দেশে) সাথে স্বয়ং সহচরবৃন্দও থাকিবেন। হে মরুর প্রভু! হে জগতগুরু! আপনার প্রতি আমাদের স্তুতিবাদ। আপনি জগতের সমুদয় কলুষাদি ধ্বংসের উপায় অবগত আছেন। আপনাকে প্রণতি জানাই। হে মহাত্মা! আমরা আপনার দাসানুদাস। আমাদেরকে আপনার পদমূলে আশ্রয় প্রদান করুন।'
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হলো যে, কোন হিন্দু যদি প্রকৃত হিন্দু থাকতে চায়, তাহলে তাকে হযরত মুহাম্মদকে মানতে হবে। আর মুহাম্মদকে মানার অর্থই মুসলমান হওয়া। তাই আমি আপনাকে আপনার চিরমুক্তির জন্য ইসলাম গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আপনি মুসলমান হয়ে যান।
প্রিয় পাঠক! এবার তিনি যদি মুসলমান হতে চান, তাহলে তাকে কালেমা পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে দিন। অন্যথায় তাকে 'ইয়া হাদি, ইয়া রাহীম' মুখস্থ করিয়ে দিন। আর মাদউর সাথে সম্পর্ক রাখুন।

টিকাঃ
০ কল্কি অবতার এবং মুহাম্মদ সাহেব-পৃ. ৬৫-৬৮
০ কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব-২৩
০ কল্কি অবতার এবং মুহাম্মদ সাহেব-২৩
* কল্কি অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব-২৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px