📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 হিন্দুভাইদের ধর্মীয় গ্রন্থ দিয়ে দাওয়াত

📄 হিন্দুভাইদের ধর্মীয় গ্রন্থ দিয়ে দাওয়াত


এবার হিন্দুভাইকে বলতে হবে আপনি যদি কুরআন না মানেন, যদি শুধু আপনার ধর্মীয় গ্রন্থ মানেন, তা হলেও আপনাকে মুসলমান হতে হবে। কারণ আপনাদের ধর্মীয় গ্রন্থে একত্ববাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থে একত্ববাদ

📄 হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থে একত্ববাদ


পুরো পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা মহান মালিক আল্লাহ্। তিনি এক, তিনি ব্যতীত আর কোন মালিক নেই। যুগে যুগে যত ধর্ম এসেছে, সকল ধর্মের মূল শিক্ষা ছিল একেশ্বরবাদ, কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ধর্মানুসারীরা সেই মালিকের সাথে অন্য কাউকে শরিক করা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা অনেক চেষ্টা করার পরও তাদের ধর্মীয় গ্রন্থে একেশ্বরবাদ ও রিসালাতের কথা বিদ্যমান রয়েছে। যেমন হিন্দুধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ বেদে তাওহীদ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
১। ঋগ্বেদ আছে:- “একং ব্রহ্ম দ্বিতীয়ং নাস্তি, নেহ না নাস্তি কিঞ্চন।
অর্থ: পরমেশ্বর এক তিনি ব্যতীত কেহ নেই।

২। ঋগ্বেদে আছে:- ত্বমগ্নে দ্রবিণোদা অরংকৃতে ত্বং দেবঃ সবিতা রত্নধা অসি। ত্বং ভগো নৃপতে বস্ব ইশিষে ত্বং পা যুদমে যস্তেহ বিধৎ৷
অর্থ:-পরমেশ্বর স্তবকারীকে ধনদানকারী এবং রত্ন ধারণকারী সবিতা (প্রেরণকারী) দেব। তিনি মানুষের প্রতিপালনকারী, ভজনীয়, ধনের মালিক এবং গৃহে উপাসনাকারীকে রক্ষাকর্তা।

৩। “একো দেবঃ সর্বভূতেষু গূঢ়ঃ সর্বব্যাপী সর্বভূতান্তরাত্মা। কর্মাধ্যক্ষঃ সর্ব ভুতাধিবানশ, সাক্ষী চেতাকেবলো নির্গুনশ্চ।।
তিনি এক, সকল প্রাণীর অন্তর্যামী পরমাত্মা, সকল প্রাণীর মধ্যে ব্যাপ্ত, সর্বব্যাপক, কর্মে অধিষ্ঠাতা, সর্ব আশ্রয়স্থল, সর্বদর্শী চেতনা এবং গনাতীত। ব্রহ্মা আছেন বলিয়া কেহ বিশ্বাস করে, আবার কেহ তাঁহার অস্তিত্ব অস্বীকার করে। তিনি তাঁহার শত্রুর সম্পদসমূহকে বিনষ্ট করিয়া দেন। যে ব্যক্তি তাঁহাকে স্বীকার করে না, সেই তাঁহার শত্রু।

৪। শ্রীমদ্ভগবতগীতায় আছে-
ত্বমাদিদেবঃপুরুষঃপুরাণ ♡মস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম।
বেত্তাসি বেদ্যঞ্চ পরঞ্চ ধাম ত্বয়া ততং বিশ্বমনন্তরূপ।
অর্থ: তুমি অনাদিদেব; তুমি পুরুষ পুরাণ; তুমিই বিশ্বের পরম আশ্রয় স্বরূপ একমাত্র প্রভু। তুমিই একমাত্র জ্ঞাতব্য এবং জ্ঞেতা। তুমিই একমাত্র পরমস্থান। হে অনন্তরূপ, তুমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রসারিত।

৫। ঋগ্বেদে আছে য এক ইত্তমুষ্টুহি কৃষ্টীনাং বিচর্ষানিঃ।
অর্থ: যিনি সবদর্শী ও বর্ষণশীল, তিনি এক।

একত্ববাদ সম্পর্কে হিন্দুভাইদের ধর্মীয় গ্রন্থে অনেক প্রমাণ রয়েছে । বইয়ের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ার ভয়ে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

টিকাঃ
০-কঠোপনিষদ ২:১:১১, কল্কিঅবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব-পৃ.৫৭
(ঋগ্বেদ ২, মণ্ডল, ১ শ্লোক, ৭ নং মন্ত্র)
*-শ্বেতা, উপনিষদ অধ্যায় ৬, মন্ত্র১১
•-শ্রীমদ্ভগবতগীতা-১১/৩, -হিন্দু ধর্ম মূল্যবোধ-২
০- ঋগ্বেদ-৬ মণ্ডল ৪৫ সুক্ত ১৬ মন্ত্র

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 ঈশ্বর নিরাকার

📄 ঈশ্বর নিরাকার


ন তস্য কার্যং করণঞ্চ বিদ্যতে ন তৎসমশ্চাভ্য ধিকশ্চ দৃশ্যতে।
ঈশ্বরের শরির নেই। তাহার ইন্দ্রীয়ও নেই। তাহার সমান বা তা হইতে শ্রেষ্ঠ কেউ নেই।

ন তস্য কশ্চিৎ পতিরস্তি লোকে ন চেশিতা নৈব চ তস্য লিঙ্গম স কারনং করানাধি পাধিপো ন চাস্য কশ্চিৎ জনিতা ন চাধিপ।
এই জগতে তাহার প্রভু কেউ নেই নিয়ন্তা ও কেহ নেই এমন কোন লিঙ্গ বা চিহ্ন নেই যাহা দ্বারা তাহাকে অনুমান করা চলে। তিনি সকলের কারণ; ইন্দ্রিয়াধিষ্ঠাতা দেবতাদেরও অধিপতি তাহার কোন জনক বা অধ্যক্ষ নেই।

“মা দুর্গার কাঠামো " বইটির শুরুতেই লেখা আছে। বেদের ঋষিরা উপলব্ধি করিয়াছিলেন “ঈশ্বর নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান”। প্রকৃতির মধ্যে তারা পাইয়াছিলেন ঈশ্বরের নানা শক্তির পরিচয়।

টিকাঃ
• বিস্তারিত জানতে চাইলে বেদের নিম্নের শ্লোকগুলো দেখা যেতে পারে- ১. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-২ সুক্ত-১২ মন্ত্র-২, ২. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-২ সুক্ত-১ মন্ত্র-৩-৭, ৩. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-২ সুক্ত-১২ মন্ত্র-৫, ৪. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-১ সুক্ত-১৬৪ মন্ত্র-৬, ৫. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-১০সুক্ত-৯০ মন্ত্র-১,-৪,১২, ৬. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-১০ সুক্ত-৮২ মন্ত্র-২,৩ ৭. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-১০ সুক্ত-১২২ মন্ত্র-১-১০ ৮. ঋগ্বেদ-মণ্ডল-১০ সুক্ত-১২৯ মন্ত্র-১
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ-৬/৮
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬/৯
*-মা দুর্গার কাঠামো-২

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 মূর্তি পূজা যেভাবে শুরু হয়

📄 মূর্তি পূজা যেভাবে শুরু হয়


মা দূর্গা কাঠামো -বইতে এভাবে আছে যে, বেদের দেবতাদের চেহারা ছিল না। ঋষিরা যজ্ঞ করতেন এবং স্তব-স্তুতি করে সেই যজ্ঞে (মুরাকাবা) দেবতাদের আহ্বান করতেন। দেবতারা সংখ্যায় অনেক, কিন্তু এক ঈশ্বরের বহু প্রকাশ। অনেক দিন পরে ঋষিদের কাছে তা আবার প্রতিভাত হইল।

সত্যং শিবং সুন্দরম্। বিজ্ঞানমানন্দং বম্মনং।।
ঈশ্বর ব্রহ্ম, তিনি সত্যস্বরূপ, মঙ্গলময় ও সকল সৌন্দর্যের আধার। তিনি জ্ঞানময়ও আনন্দস্বরূপ।

মূলকথা : সনাতন ধর্মের শুরুর দিকে মূর্তিপূজার প্রথা ছিল না তারা শুধু ধ্যান তথা মুরাকাবা করতো। এরপর তাদের ধর্মের ঋষিরা মুরাকাবা করে একটি রূপ দিয়েছে এবং তাকে উছিলা করে মূল ঈশ্বরের পূজা করে।

আল্লাহ্র কোন শরিক নেই
আল্লাহ্ কোন শরিক নেই। তাঁর কোন সমকক্ষ নেই। এ কথাটি সকল ধর্me স্বীকৃত। হিন্দুধর্মও এ কথা বলে-
ন তস্য কশ্চিৎ পতিরস্তি লোকে ন চেশিতা নৈব চ তস্য লিজ্ঞাম।
স কারনং করনাধি পাধিপে ন চাস্যকচিৎ জনিতা ন চাধিপ :॥ ৯

অর্থ : এই জগতে তাহার প্রভু কেহ নেই, নিয়ন্তাত্ত কেহ নেই। এমন কোন লিঙ্গ বা চিহ্ন নেই যাহা দ্বারা তাহাকে অনুমান করা চলে। তিনি সকলের কারণ ইন্দ্রিয় অধিষ্ঠাতা দেবতাদেরও অধিপতি; তাহার কোন জনক বা অধ্যক্ষ নাই।

টিকাঃ
*-মা দুর্গার কাঠামো
০-শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ-৬নং অধ্যায় ৯নং মন্ত্র

ফন্ট সাইজ
15px
17px