📄 অভিজ্ঞতার আলোকে দাওয়াত দেয়ারপদ্ধতি
প্রিয় পাঠক! আপনাদের খেদমতে এ পবিত্র মেহনতের সংক্ষিপ্ত অভিজ্ঞতা নিবেদন করছি-যা দ্বারা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের মাঝে দাওয়াতী কাজের পদ্ধতি এবং তাদের আকৃষ্ট করার উপায় জানা যাবে।
📄 (প্রথম স্তরের সাক্ষাত ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা)
যখন কোন হিন্দু ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করি বা সফরে একসাথে ভ্রমণ করি, তখন প্রথম কাজটি হলো তার জন্য মনে মনে দুআ' করা। হে আল্লাহ্! আপনার এই বান্দার কপালকে আপনার সামনে ঝুঁকানোর তৌফিক দান করুন এবং তাকে শরীয়তের সীমারেখায় প্রবেশ করিয়ে দিন। তাকে মুসলমান বানিয়েই দিন। যাতে সে জাহান্নামের চিরস্থায়ী প্রজ্জ্বলিত কঠিন আগুন থেকে বেঁচে যায় এবং জান্নাতের বাগানে প্রবেশ করতে পারে।
এবার তার নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করুন। তার সাথে পরিচিত হোন। তার ভিতরের অবস্থা ও আকিদা-বিশ্বাসকে জানার জন্য তাকে কথা বলার সুযোগ দিন।
এবার তার চাহনিতে আপনি বুঝে নিন, সে আপনাকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখছে; না বিদ্বেষের নজরে। এতে আপনার ধারণা হয়ে যাবে, তার সাথে কীভাবে ও কোন পদ্ধতিতে কথা বলতে হবে।
* এবার তাকে বলুন, ভাইয়া! আমি আপনার নাম ঠিকানা শুধু এ জন্যই জানতে চেয়েছি যে, আপনি আল্লাহ্ তা'আলার সৃষ্ট একজন জীবিত মূর্তি। আপনাকে দেখে আমাদের মালিক আল্লাহকে স্মরণ হচ্ছে। আল্লাহ্তা'আলাকত সুন্দর করে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের চক্ষু, কর্ণ, দাঁত, হাত-পা ইত্যাদি সব তাঁরই সৃষ্টি। এখন দেখতে মনে হচ্ছে আমি আপনার দিকে তাকিয়ে আছি, কিন্তু এই দৃষ্টি পৌঁছিয়ে দেয় আমাদের প্রভু পর্যন্ত। তিনি আপনাকে কতো সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্তা'আলাতাঁর সৃষ্টির খোঁজ- খবর নিতে এবং তার সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। আরো আদেশ দিয়েছেন তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে। কাউকে কষ্ট না দিতে। কারণ সৃষ্টিকে কষ্ট দিলে আল্লাহ্নিজেই কষ্ট পান। এ জন্য যে, তিনি সকল মানুষকে খুব ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন।
একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট বুঝে আসবে। কেউ যদি কোন 'কুমারের' সামনে তার হাতে তৈরি হাঁড়ি-পাতিলগুলোকে অন্যায়ভাবে ভেঙ্গে ফেলে, অথবা কোন গর্তে নিক্ষেপ করে, তাহলে ওই কুমার কতটুকু কষ্ট পাবে? ঠিক এমনিভাবে আমাদের আল্লাহ্দুনিয়ার সকল মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। সাথে সাথে তার প্রয়োজনীয় সকল বস্তুও তৈরি করেছেন। এখন যদি কেউ আল্লাহ্র বানানো আকৃতি 'মানুষকে' হত্যা করে ফেলে, ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, সে ব্যক্তি নিজেই এমন কাজ করে, যা নরকের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আপনিই বলুন, তাহলে এতে আল্লাহ্ কেমন কষ্ট পাবেন।
* আপনার সাথে কথা বলার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ্রাআলার ঐশী বাণী কুরআনে কারীমের মাধ্যমে যা কিছু জানতে পেরেছি, তা আপনার কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া।
আর আপনার কাছে যদি কিছু জ্ঞানের কথা থাকে তা জানা। যাতে জ্ঞানের আদান-প্রদান হয়。
* এবার মাদউকে কথা বলার সুযোগ দিন, তার কথা দ্বারা বুঝার চেষ্টা করুন সে কোন মতবাদে বিশ্বাসী। সে কি মূর্তিপূজারী নাকি নেরংকারী। এদিকে আপনি চুপচাপ মনে মনে আল্লাহ্র যিকির করতে থাকুন।
সে যখন কথা বলতে শুরু করে তখন আপনি কম কম বলার চেষ্টা করুন। যাতে মনে করে যে, সে আপনাকে আশ্বস্ত করছে। সে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করবে। কিন্তু ওই মুহূর্তে আপনাকে খুব ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে এবং তার উত্তর দেয়ার পরিবর্তে তাকে একত্ববাদের দিকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করুন। বলুন আমরা এক পিতা-মাতার সন্তান। আমাদের সকলের মালিক আল্লাহ্। তিনি হলেন এক, তার কোন অংশীদার নেই। আমাদের সকলের আত্মা বা রূহ একস্থান থেকে এসেছে। অতঃপর মায়ের পেটে আমাদের তৈরি করা হয়েছে। এরপর আমরা এই দুনিয়াতে এসেছি। বসবাস করছি। কিন্তু এবার পালা হলো পরকালের।
মৃত্যুর পর আমাদের সেখানেই ফিরে যেতে হবে। আমাদের সকলের নবী আদম আ. হলেন আদি মানুষ, যিনি সর্ব প্রথম নবী ছিলেন। অতঃপর নূহ আ. এসেছেন। (যিনি মহাজল প্লাবনওয়ালা বলে পরিচিত।) যার নৌকায় আমরা সকলেই আরোহণ করেছিলাম। এ দিক থেকেও আপনি আমাদের ভাই। একজন মুসলমান ভাইয়ের দায়িত্ব হলো নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তা অন্যের জন্যও পছন্দ করবে। তাই আমার কাছে যতটুকু জ্ঞান আছে তা আপনার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। যাতে আপনিও এর উপর চিন্তা ভাবনা করতে পারেন। এবার পূর্ণ তাওহীদ পেশ করুন-
আপনার শ্রোতা; যেই বিষয়ের ওপর বিশ্বাস রাখে বা মানে, সেই বিষয়টি প্রমাণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। আপনি তার আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে রিসালাতের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করুন এবং বলুন, এক মালিক 'আল্লাহ্তা'আলার পক্ষ থেকে যেই নবী-রাসূল (অবতার) এসেছেন, সকলেই এক মালিকের দিকে আহ্বান করতেন এবং বলতেন- তোমাদের যিনি মালিক, তিনি হলেন একমাত্র আল্লাহ। এ জন্য তোমরা শুধু তাঁর সামনেই মাথা নত কর। আর আমি তো শুধু তাঁর পক্ষ থেকেই রাসূল (অবতার)।
* তবে মানুষের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কিছু ভুল হয়ে যায়, আর তা হলো-আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূলকেই সব কিছু মনে করে বসে, তাই তারই পূজা করা শুরু করে। এর উদাহরণটি এমনই হবে যে, কোন ব্যক্তি নিজ ছেলের কাছে পত্র লিখেছে, সে পত্রে কিছু দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। ছেলে পিয়নের মাধ্যমে পত্রটি পেয়ে, চিঠিটি না পড়ে তাতে যা দিক নির্দেশনা ছিল তার ওপর আমল বাদ দিয়ে শুধু পিয়নের সেবা যত্নে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আর তার প্রশংসা গাইতে লাগলো যে, আপনি তো খুবই ভালো মানুষ! আপনি আমার আব্বুর পক্ষ থেকে চিঠি নিয়ে এসেছেন। এতে কি তার পিতা খুশি হবে? কখনও নয়।
উচিত ছিল পিয়নকে চা-পানি খাইয়ে বিদায় দেয়া। আর পিতার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত পত্রের নির্দেশনাবলীর ওপর আমল করা। আজকাল এমনটিই হচ্ছে যে, আমরা সকল দেবদেবীদের ওই স্থান দিচ্ছি যা আল্লাহকে দেয়া উচিত ছিল। ওই মালিকেরতো শুধু নামই নিই। মূলত পূজা করা হয় ওই অবতারদেরই।
মূলত আমাদের কে শুধু ওই এক আল্লাহ্ ইবাদত করতে হবে। যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যার শিক্ষা আপনাদের বৈদিক বইগুলোয় পাওয়া যায়। যেমন আপনাদের ব্রাহ্মণসূত্রে আছে “একম ব্রহ্মা দ্বিতীয় নাস্তি নেহ না নাস্তি কিঞ্চন। ব্রাহ্মণ বা মালিক একজন, দ্বিতীয় কোন প্রভু নেই। 'কঠোপনিষদেও তা উল্লেখ আছে।
ঠিক এ বিষয়টি কুরআনে করীম এভাবে উল্লেখ করেছে। لا اله الله অর্থাৎ 'আল্লাহ্ছাড়া কোন উপাস্য নেই।' অন্য এক স্থানে আছে “একম ইয়ম অদ্বিতীয়ম” অর্থ: 'তিনি এক, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই।' তদ্রূপ কুরআনে হাকীমে আল্লাহ্তা'আলাবলেন।
وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ অর্থাৎ তিনি এক, তাঁর সাথে কোন অংশীদার নেই।
* এবার শ্রোতা বলতে পারে আল্লাহ্-মালিক যে একজন, এটা আমরাও মানি। (সনাতনধর্মী হলে বলবে) কৃষ্ণ হলো ভগবান, আর সকল দেব দেবীর নাম নিয়ে বলবে এগুলো সেই এক মলিকের শক্তি, অবতার।
এবার আপনি অবতারের সঠিক ব্যাখ্যা দিন এবং এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক ধারণা প্রদান করুন। এবার বলুন, আপনাদের ধর্মীয় গ্রন্থে মূর্তি পূজা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। 'সতাশ চিত্র শরওয়াস্তামা' যা জীবিত সেটাই মূর্তি। এমনি ভাবে আপনাদের গ্রন্থে অন্যত্র আছে। "নাস্তি প্রতিমাস্তি পাসি নাম মহাদিশ্ব” তার কোন সামঞ্জস্য নেই, যার নাম মাহান এটাই সব চেয়ে বড় কল্যাণ।
* বেদে তাওহীদ সম্পর্কে আরো কিছু মন্ত্র আছে, সে গুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদেরকে তো কুরআনের শিক্ষাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। এসব কথা শুরু করার সুবিধার্থে শুধু ব্যবহার করা। অর্থাৎ বেদের বরাত দেয়ার সাথে সাথেই কুরআনের আয়াত পেশ করা। যাতে শুধু এক ধর্মের দিকে জেহেন ফিরতে না পারে। সে যেন এ কথা না বলতে পারে, আপনি যা বলছেন সে গুলো আমাদের এখানেই আছে তাহলে এ গুলোই মানি, তাতে অসুবিধাটা কী? এপর্যায়ে এ কথা বুঝানোর চেষ্টা করুন। বৈদিক শিক্ষা অসম্পূর্ণ ও ভিত্তিহীন। বর্তমানে শুধু কুরআনই একমাত্র ঐশী গ্রন্থ, এছাড়া পৃথিবীতে কোন কিতাব তার আসল অবস্থায় বিদ্যমান নেই।
* এ সকল প্রমাণাদি পেশ করার সাথে সাথে কুরআন হাদীসের শিক্ষার মাধ্যমেই আলোকপাত করুন। তাওহীদের ব্যাপক বিশ্লেষণের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। অনেকেই বলবে, আমরাও পাথরের পূজা করি না। এক আল্লাহকে তো আমারাও মানি।
* এবার তাকে ওই আল্লাহ্ একত্ববাদ ও প্রভূত্ব এবং তার গুণাবলীর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। তিনিই এক, সবকিছুর অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। সকলের লালন-পালনকারী, মৃত্যু দানকারী তিনিই। তিনিই সর্ব শক্তিমান। সব জিনিসের উপর তাঁর অধিকার। তিনিই সর্বদা আছেন এবং সর্বদা থাকেন। তিনি কারও সন্তান নন। তাঁরও কোন সন্তান নেই। তিনি সর্ব শক্তিমান, সব জিনিসের উপর তাঁর অধিকার। তিনি সর্বদা আছেন এবং সর্বদা থাকবেন। তিনি কারো আকৃতি ধারণ করেন না। এর প্রয়োজনও হয় না।
*আল্লাহতো শুধু তাঁর পয়গাম পৌঁছানোর জন্য রাসূল (পত্র বাহকদের) পাঠাতেন। তাঁরা মালিকের পক্ষ থেকে সবকিছু বলতেন। মানুষকে প্রকৃত মলিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেন। তাদেরকে ঐশী জ্ঞানের কথা শোনাতেন। সম্ভবত এই দেশেও কোন অবতার নবী এসেছিলেন এবং তারাও কিছু জ্ঞানের কথা বলেছেন। স্বার্থলোভী কিছু মানুষ সেই জ্ঞানগুলোকে তার আসল অবস্থায় রাখতে দেয়নি। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আপনাদের বড়রাও এর সত্যায়ন করে। এখন মূল জ্ঞান বের করাও খুবই অসম্ভবপর হয়ে পড়েছে। তার পুরো সনদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যার কোন সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।
কিন্তু আপনি কুরআনের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন, ১৪০০ বছরেও একটি অক্ষর, কোন একটি নোকতা বা ফোটারও পরিবর্তন হয়নি। এজন্য কুরআনই শুধুমাত্র হতে পারে সত্যের মাপকাঠি। এর পূর্বের সকল আসমানি গ্রন্থের পরিবর্তন ঘটেছে। তাই কুরআন ছাড়া কোন কিতাবকে মাপকাঠি বলা যেতে পারে না।
* চিন্তার বিষয় হলো, এই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম যেই ধর্ম এসেছে তা হলো ইসলাম। ইসলাম আরবী শব্দ। এ কথায় শ্রোতা একটু চিন্তায় পড়ে যায়, ধর্মতো অনেক ছিল। ইসলামতো অনেক পরে এসেছে। পক্ষান্তরে এমন নয়, মানুষ জাতির ধর্ম তো একটিই, যা মালিকের সন্তুষ্টি মোতাবিক জীবনযাপনের পদ্ধতি শেখায়।
* স্বাভাবিকভাবেই মানুষ এটা স্বীকার করে, আমাদের সকলের মালিক ও প্রভু একজনই, আর সকল মানুষ তারই সৃষ্টি। তাই মানুষের জীবন চলার পথ একটিই হওয়া উচিত। কাউকে এ ধর্ম কারো আবার ভিন্ন ধর্ম দিয়ে কিছু পার্থক্য করা তো নিরপেক্ষতা বিরোধ। এক মালিকের পক্ষ থেকে আসা জ্ঞান তো একটিই হওয়া উচিত। ভিন্ন হওয়া ঠিক নয়।
* এবার আপনি বলতে পারেন, আমাদের ধর্ম সবচেয়ে ভালো, এখানেও ভালো জিনিস আছে। আপনার ধর্মেও ভালো জিনিস আছে। তাই আপনি আপনার ধর্ম মানুন, আমি আমারটা মানি। পথ ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্য তো একটিই। এই বাক্যটিও অযৌক্তিক। কারণ, সত্য একটিই হয়, আর মিথ্যা হয় অনেক।
* আমরা যদি সত্য ও সরল পথের সন্ধান না করি, তাহলে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছার পরিবর্তে বাড়বে দূরত্ব। হতে হবে অস্থিরতা ও সমস্যার সম্মুখীন। পাওয়া যাবে না গন্তব্যের সন্ধান। রাতের অন্ধকারে ক্লান্তির এমন ছায়া জমবে সেখান থেকে ফিরে আসা হবে কঠিন। পরিণাম হবে ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত কোন জন্তুর খাদ্যে।
এবার মাদউ বলতে পারে, আপনি তো ধর্ম পরিবর্তন করাতে চান, কেউ যদি আপনার কথা শুনে তাহলে সে নিজ ধর্মই পরিবর্তন করে ফেলবে।
* মাদউকে এ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করুন যে, ভাইজান! আমরা আপনার ধর্ম পরিবর্তন করাতে চাই না, বরং আসল ধর্মে ফিরিয়ে আনতে চাই। যা আপনি ছেড়ে দিয়ে মানব রচিত ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আমরা আপনাকে তা থেকে বের করে পিতা আদম (আ.) (মুনুর) ধর্মে নিয়ে আসতে চাই। যা হযরত মুহাম্মদ কেয়ামত পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে পেশ করেছেন।
📄 মূর্তি পূজা এবং তাজিয়া পূজা
আমাদেরকে সেই মহান আল্লাহ্র সামনে মাথা ঝুঁকাতে হবে। যেভাবে মূর্তি পূজা ভুল, তেমনিভাবে তাজিয়া পূজা ও কবর পূজাও ভুল। দুনিয়ার সকল মানুষ ওই মহান স্রষ্টার মুখাপেক্ষী। যিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, আর যারা কিছুই সৃষ্টি করেনি তা কি সমান হতে পারে? কখোনও নয়।
* এসব প্রমাণাদির পর আশা করা যায়, সে তাওহীদ বা একত্ববাদের প্রবক্তা হয়ে যাবে। এবার তাকে বলুন তিনিই আল্লাহ্, যিনি সব কিছুকে অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। মৃত্যুর পর বিচারকও হবেন, যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন। তিনি সবকিছুতেই সক্ষম।
* হিন্দুদের বিভিন্ন গ্রুপের লোকদের প্রশ্নের উত্তর হবে ভিন্ন ভিন্ন। যেমন কিছু লোক প্রশ্ন করবে- মানুষ এবং সকল সৃষ্টির মাঝে কিআল্লাহতা'আলার মহত্ত্ব বিদ্যমান আছে? উত্তরে বলতে হবে, সৃষ্টি যদি আল্লাহ্র অস্তিত্বের অংশ হতো, তাহলে জান্নাত ও জাহান্নাম, স্বর্গ-নরকের অস্তিত্ব থাকতো না। কেননা, আল্লাহ্র অস্তিত্বের একটি অংশ দোযখে জ্বলবে, এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের হাস্যকর ধারণা। মৃত্যুর পর প্রতিদান ও শাস্তির ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণাদি রয়েছে। মৃত্যুর পর রূহ বা আত্মা আল্লাহ্র কাছে ফিরে যায়। যা হিন্দুধর্মের গ্রন্থেও বিদ্যমান। চিন্তা কখনো অসীম হতে পারে না। যদি আমাদের সসীম চিন্তা আল্লাহকে সীমাবদ্ধ করতে পারতো তাহলেআল্লাহ্তা'আলা অসীম হতেন না। আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন- ليس كمثله شي পৃথিবীর কোন জিনিস তার সাদৃশ্য নেই।
* যখন একথা বুঝতে পারবে যে, ধর্মীয় গ্রন্থে আল্লাহসম্পর্কে কোন স্ববিরোধ নেই। নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বুঝতে বেশি সমস্যা হবে না-
* যেমন কুরআনে কারীমে বলা হয়েছে- যেদিকেই ফিরবে সে দিকেই আল্লাহ্ চেহারা....।
আশা রাখা যায় এবার সে প্রকৃত তাওহীদের প্রবক্তা হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ। এবার তার দৃষ্টি আকর্ষণ করুন আখেরাতের দিকে।
* মাদউর (যাকে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে) সাথে আখেরাতের বিষয়ে আলোচনা শুরু করুন। বলুন যে এই দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পৃথিবীর সকল জিনিস শেষ হয়ে যাবে। মহাপ্রলয় বা কেয়ামত সংঘটিত হবে। ইনসাফের দাবিও হলো তা প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
যেমন কোন ব্যক্তি তিন জনকে হত্যা করে ফেলল। এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো তার জানটিকে শেষ করে দেয়া। কিন্তু জানতো হলো একটি। এক জনের পক্ষ থেকে বিচার হলো, বাকি দুজনকে হত্যা করার জন্য তার বিচার কীভাবে হবে? এ জন্যই আল্লাহ্তা'আলাআখিরাতে এর বিচারের ব্যবস্থা রেখে দিয়েছেন। (নরকে) জাহান্নামে তাকে তিন হত্যার বিচার করা হবে। তদ্রূপ কোন ব্যক্তি ভালো আমল করে, তার প্রতিদানস্বরূপ রাখা হয়েছে জান্নাত। সেখানে চিরস্থায়ী ভাবে থাকতে হবে। সেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। যেমন মায়ের পেটে দ্বিতীয় বার প্রবেশ করা অসম্ভব।
* মাদ'উ বলবে হ্যাঁ আপনিতো এবার আপনার ধর্মই প্রমাণিত করে ফেললেন। এবার বলুন ভাই! এটা শুধু আমাদের ধর্মই নয় বরং আপনাদেরও ধর্ম। তখন সে উত্তর দিবে না, আদি পাপের কারণে পুনরায় বিভিন্ন রূপে জন্মগ্রহণ করবে।
* আমাদের বলতে হবে, না ভাই! এটা সাধারণ যুক্তি-বুদ্ধিরও পরিপন্থি। এটা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিও মেনে নিবে না। আপনি তো একজন বুদ্ধিমান মানুষ। পুনর্জন্ম বিশ্বাস করলে কয়েকটি প্রশ্ন দেখা দেয় যার উত্তর কোন হিন্দু ভাইও দিতে পারে না।
* প্রথম প্রশ্ন সাইন্স বলে, পৃথিবী যখন বানানো হয়, তখন প্রথমে জীব-জন্তু সৃষ্টি হয়েছে। এর পর গাছ-পালা, তরু-লতা অস্তিত্বে এসেছে। এর পর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব যে, যখন মানুষই ছিল না, তখন জীব-জন্তু কোন পাপের কারেণে দুনিয়াতে এসেছে?
* দ্বিতীয় প্রশ্ন উঠে, হিন্দুদের বর্ণনা অনুযায়ী শুরুতে যুগ ছিল সত্য। উদাহরণস্বরূপ সত্য যুগে জনসংখ্যা ছিল ১০,০০০। যদি সকলেই ভলো হয় তাহলে ১০,০০০ তো এখনও থাকা উচিত। যদি পূর্বের যুগের ১০,০০০ দশ হাজারের মধ্যে কিছু লোক খারাপ ছিল, তাহলে জন্ম সংখ্যা হিসেবে, জনসংখ্যা কম হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বাস্তবতা হলো এর উল্টো। পূর্বের তুলনায় জনসংখ্যা বেড়েই চলছে। তাহলে এটা আবার কীভাবে সম্ভব? এতে বুঝা গেল পুনর্জন্মের এই ধারণা সঠিক নয়।
* তৃতীয় প্রশ্ন হলো, পুরো দুনিয়ার সকল মানুষ ভালো হতে চায়, আর সকলেই যদি ভালোই হয়ে যায়, তাহলে শাক-সবজি কোথা থেকে আসবে। নাউযুবিল্লাহ আল্লাহ্ কি জালেম (?) (কখোনই নয়।) এমনটি নয় যে তিনি এক দিকে মানুষকে ভালো হতে বলবেন, আবার অন্যদিকে ভালোও হতে দিবেন না? এটা অসম্ভব। যখন খাবারের কোন জিনিস না থাকবে, তখন এমনিতেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। এমন স্ববিরোধ? কেমন ধর্ম? মোট কথা এই কথা দ্বারা বুঝা গেল যে, এই পুনর্জন্মের বিশ্বাস সঠিক নয়।
এবার সম্ভব হলে ওই বৈঠকেই অথবা অন্যদিন রেসালাতের উপর আলোকপাত করুন। যদি আল্লাহ্তা'আলাএকই দেশে একই যুগে বিভিন্ন আকার আকৃতিতে আসেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ও অন্যান্য দেশের লোকদের কী অবস্থা হবে?
যদি আল্লাহ্ অংশ মনে করি তাহলে পাপীকে শাস্তি দিবেন, বা নরকে জ্বালাবেন কেন? এমনটি সঠিক নয়। দুনিয়াতে সবকিছু আল্লাহনিজেই পারিচালনা করেন। কিন্তু কিছু কাজের জন্য ফেরেশতাদের নির্দিষ্ট করে রেখেছেন এবং সঠিক পথ দেখানো জন্য রাসূল বা দূতদের পাঠিয়েছেন। যাতে মানুষ এক আল্লাহ্রই উপাসনা করে। এ জন্যই আদি পিতা আদম (আ.)কে সর্বপ্রথম নবী হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। দুনিয়াতে যারাই দাবি করেন, আমাদের কাছে ঐশী জ্ঞান আছে, তাদের প্রত্যেকের গ্রন্থে শেষ নবীর আলোচনা বিদ্যমান আছে। তাওরাত, ইঞ্জিল, বৌদ্ধ ধর্ম ও কুরআনে শেষ নবীর আলোচনা পাওয়া যায়। এসব কিছু রয়েছে পৃথক পৃথক ভাষায়, যার একটিই অর্থ হয়- মুহাম্মদ।
টিকাঃ
বাকারা ১১৫
📄 বেদে মুহাম্মদ ﷺ এর আলোচনা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী আলোচনা করা যেতে পারে। যা বেদে উল্লিখিত আছে। এই বইয়ের ৯১ পৃষ্ঠায় দেখুন।
* আসুন এবার আমরা আমাদের পিতা আদম (আ.)-এর দিকে চিন্তা করি। তিনি যেই ধর্ম নিয়ে এসেছেন সেটিই হলো ইসলাম। আরবীতে ইসলাম বলা হয়েছে। বাংলায় যাকে বলা হয় আত্মসমর্পণকারী ধর্ম। আমাদের সকলের পিতা একজন। আমাদের ধর্মও একটিই, আর আপনি সে যুগেই রয়ে গেছেন। আর সর্বশেষ নবী 'নরাশংস' মুহাম্মদকে চিনেননি ও মানেননি। আমরা তাঁর উপর আস্থা রেখেছি ঈমান এনেছি।
*মোটকথা, আমরা আপনার ধর্ম পরিবর্তন করছি না বরং আপনার ভুলে যাওয়া সবক স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। যাতে আপনি সঠিক ধর্মে চলে আসেন এবং ওই জিনিস থেকে ফিরে আসেন যা নিজেদের জন্য বানিয়ে নিয়েছেন। তাই আমি আপনার মাথা থেকে একথা বের করতে চাই যে, ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ নন। বরং ইসলামের হলেন মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)। মুহাম্মদ-এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম পূর্ণতা লাভ করেছে। এ জন্য আপনি তো অর্ধেক মানেন। আর যদি শেষ নবীকে না মানেন, তাহলে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন উপায় থাকবে না। অর্ধ মানুষ হয়ে থাকতে হবে। না এদিক, না ওদিক।
* আপনার এখানে যেই খারাবিগুলো এসেছে এসব তার স্থানে ঠিক। এই জন্য যে, মুহাম্মদ-এর অনুসারীগণ মাত্র ১৪শত বছর পরে তাদের মাঝে কবর পূজা এসে গেছে, তাতো আপনার এখানে হাজার বছর পর মুর্তিপূজা হয় এতে আশ্চর্যের কি আছে? কিন্তু তখন আশ্চর্য লাগে, যখন কাউকে কোন হিতাকাঙ্ক্ষী তাকে তার ভুলে যাওয়া পথের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় তখন সে মুহসিনকে দুশমন মনে করে বসে। অথবা মনে করে যে, সে আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে। হ্যাঁ, এই যুগ অবশ্যই ধোঁকার যুগ। কিন্তু সতর্ক করিয়ে দেয়ার পর তার উপর চলতে অসুবিধা কীসের? তাই, এক আল্লাহকে উপাস্য হিসাবে মেনে এবং মুহাম্মদ-কে নবী স্বীকার করে তাঁর উপর অর্পিত হুকুমগুলির আমল করার অঙ্গীকার নিয়ে মুসলমান হয়ে যান।
এবার যদি সে মুসলমান হতে চায় তাহলে তাকে কালেমা শাহাদত পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে নিন। অন্যথায় তাকে দু'টি মন্ত্র বা দু'আ শিখিয়ে দিন। মন্ত্রটি হলো 'ইয়া হাদি, ইয়া রাহীম"। আল্লাহ্তা'আলাআমাদেরকে দরদের সাথে দাওয়াত দেওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
০-অথর্ব বেদ-১২৭:২০
ঋগ্বেদ- ২:৩:২
ঋগ্বেদ-২:৫:৫
ঋগ্বেদ-৩:১৩:১