📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 অন্তিম উপদেশ

📄 অন্তিম উপদেশ


মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে প্রায় সোয়া লক্ষ সাহাবী সঙ্গীদের নিয়ে তিনি হজ্ব পালন করেন। এখানে তিনি সকল মানুষের সামনে অন্তিম উপদেশ প্রদান করেন। একথাও বলেছিলেন, মৃত্যুর পর যখন তোমাদের আমলের হিসাব নেয়া হবে, তখন আমার সম্পর্কেও তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে-'আমি কি আল্লাহ্র দ্বীন এবং সত্যের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছিয়েছি'? সবাই বললেন, নিঃসন্দেহে আপনি পৌঁছিয়েছেন। তিনি আকাশের দিকে আঙুল উঠিয়ে তিনবার বললেন, আল্লাহ্! তুমি সাক্ষী থেকো, তুমি সাক্ষী থেকো, তুমি সাক্ষী থেকো। এরপর তিনি লোকজনকে লক্ষ্য করে বললেন, এই সত্য ধর্ম যাদের কাছে পৌঁছেছে, তারা যেন ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছিয়ে দেয়, যাদের কাছে তা পৌঁছায় নি। তিনি একথাও বলেছেন, আমি সর্বশেষ নবী। আমার পরে আর কোন নবী আসবে না। তিনিই সেই শেষ নবী, নরাশংস ও কল্কি অবতার, যাঁর অপেক্ষায় আপনারা বসে আছেন। পবিত্র কুরআনে আছে, “যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা সেই (পয়গম্বরকে) তাদের সন্তানের মতোই চিনে। নিঃসন্দেহে তাদের একটি দল সত্য গোপন করে।”

ভাইজান! এ কথা সত্য যে, প্রতিটি মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর মৃত্যুর পর কী হবে এ বিষয়ে আপনাকে কিছু জানাতে চাই। আপনি কি শুনবেন?

রমেশ: অবশ্যই শুনবো, বলুন আপনি。

আব্দুল্লাহ: দেখুন ভাই! সব চেয়ে বড় সত্য হলো, এই চিরন্তন মালিক তাঁর সত্যগ্রন্থ কোরআনুল কারীমে একটি সত্যের বাণী আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন: “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে”। -সূরা-আনকাবূত: ৫৭ এ বাণীতে তিনি দু'টি জিনিস আমাদেরকে বুঝিয়েছেন, প্রথমাংশে বলেছেন, 'প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।' মৃত্যু এমন অমোঘ সত্য, যা শুধু সকল ধর্ম ও মতের অনুসারীই কেবল নয় বরং ধর্মত্যাগী নাস্তিক-মুরতাদরাও তা অস্বীকার করে না। মৃত্যুর থাবার সামনে সবাই নত। বিচরণশীল প্রাণীরাও মৃত্যুর বাস্তবতা অনুধাবন করে মৃত্যুর ভয় আছে বলে বিড়াল দেখে ইঁদুর পালায় এবং চাপা পড়ার ভয়ে গাড়ি দেখে কুকুর দৌঁড়ে পালায়ন করে। সকল সন্দেহ-সংশয়ের ঊর্ধ্বে মৃত্যুর হাতছানি সকল প্রাণীকে আলিঙ্গন করবে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 মৃত্যুর পর কী হবে?

📄 মৃত্যুর পর কী হবে?


আয়াতের দ্বিতীয় অংশে একটি চরম সত্য আমাদের সামনে উদ্ভাসিত করে দেয়া হয়েছে যা মানুষ বুঝতে পারলে পৃথিবীর রং বদলে যাবে। পৃথিবী তার শৃঙ্খলা ফিরে পাবে। সে সত্যটা হলো মৃত্যুর পর তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে, দুনিয়ার সকল কর্মের প্রতিদান দেয়া হবে। মৃত্যুর পর পচে গলে নিঃশেষ হবে না। হিসাব-নিকাশের জন্য পুনরায় সৃষ্টি না হয়ে অন্য কোন প্রাণীর দেহে আত্মপ্রকাশ করবে, বিষয়টি এমন নয়। সুস্থ বিবেকের কাছে এমন দাবি কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না。

রমেশ : আব্দুল্লাহ ভাই! দেখুন আমরা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করি। অর্থাৎ আমরা মৃত্যুর পর আবার জন্মগ্রহণ করব। যদি এই দুনিয়াতে ভালো কাজ করে যাই তাহলে ব্রাহ্মণ বা ভালো কিছু হয়ে পুনরায় জন্মগ্রহণ করব। আর যদি পাপ করে থাকি, তাহলে কুকুর বিড়াল বা কীট-পতঙ্গ হয়ে জন্মগ্রহণ করবো।

আব্দুল্লাহ: রমেশ ভাই! আপনার জেনে রাখা দরকার: পুনর্জন্মের মতবাদ বেদের মধ্যে নেই। পরবর্তীতে 'পুরাণ' এর মধ্যে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। পুনর্জন্মের বিশ্বাসে এ কথাই বুঝতে চাই যে, মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্যগুলো পিতা থেকে পুত্র এবং পুত্র থেকে তার পুত্রের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে থাকে। মূলত পূনর্জন্মের মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে, এক শ্রেণীর মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য।

মহানআল্লাহতা'আলা মানব জাতিকে সৃষ্টির পর তাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ রাখেননি। অভিশপ্ত শয়তান প্রথমে ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের মধ্যে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। ধর্মের নামে দলিত ও নিজ সম্প্রদায় 'শূদ্রদের সেবা গ্রহণকারী ও তাদেরকে নিচু জাত সাব্যস্তকারী' ধর্মের ঠিকাদারদের কাছে যখন তারা জানতে চাইলেন, আমাদের সৃষ্টিকর্তা একজন, তিনি যেহেতু নাক, কান, চোখ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আমাদেরকে একই রকম বানিয়েছেন, তাহলে আপনারা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ এবং আমাদেরকে নিচুজাত বানালেন কেন? ধর্ম ব্যবসায়ীরা তখন নিজেদের স্বার্থরক্ষার তাগিদে পূনর্জন্মের দোহাই দিয়ে এই ফর্মুলা তৈরি করে দিলেন যে, 'পূর্বের জীবনের কর্মফলই তোমাদেরকে নিচু বানিয়ে দিয়েছে।' তখন থেকে এই মতবাদের জন্ম হয়। এই মতবাদের দৃষ্টিতে সমস্ত আত্মা পূনঃসৃষ্টি হয়ে কর্মফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর আকৃতি ধারণ করে আবার পৃথিবীতে আত্মপ্রকাশ করে, মারাত্মক অন্যায়কারীরা উদ্ভিদ (বনস্পতি) রূপে পূনর্জন্ম লাভ করে এবং সৎকর্মশীলরা পূনর্জন্মের চক্র থেকে অব্যাহতি পেয়ে যায়।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 পুনর্জন্ম মতবাদের বিরুদ্ধে তিনটি প্রমাণ

📄 পুনর্জন্ম মতবাদের বিরুদ্ধে তিনটি প্রমাণ


১. পূনর্জন্মের অসারতা প্রমাণে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো- পৃথিবীর সমস্ত বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের তথ্যমতে, ভূপৃষ্ঠে সবার আগে সৃষ্টি হয়েছে উদ্ভিদ। এরপর জীব-জন্তু। তার আরো লক্ষ-কোটি বছর পর মানুষের অস্তিত্ব। তখন পর্যন্ত যেহেতু মানুষের জন্মই হয়নি, কোন আত্মা পাপ কর্ম করেনি। তাহলে কোন আত্মা কোন পাপের ফলে ওই সব উদ্ভিদ এবং জীব-জন্তুরূপে সৃষ্টি হয়েছে?

২. পূনর্জন্মের মতবাদ বিশ্বাস করলে আবশ্যিকভাবে একথাও মানতে হবে যে, ভূপৃষ্ঠের প্রাণীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। কারণ, যে সকল আত্মা পূনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি পেয়েছে-সেই পরিমাণ প্রাণীর সংখ্যাও হ্রাস পাওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত পৃথিবীর মানুষ, জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদ এর সংখ্যা অবিশ্বাস্য গতিতে বেড়েই চলছে。

৩. পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী ও মৃত্যুবরণকারীদের সংখ্যায় আসমান-জমিন পার্থক্য। মৃত্যুবরণকারী মানুষের তুলনায় জন্মগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি। কখনো কখনো লক্ষ-কোটি মশা-মাছিসহ পৃথিবীজুড়ে অজস্রনাম না জানা প্রাণী জন্মলাভ করে, অথচ বাস্তবে মৃত্যুবরণকারীদের সংখ্যা হয় অনেক কম। তাহলে এতসব মশা-মাছি কার আত্মার রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আসে?

শিশুদের সম্পর্কে অনেক সময় শোনা যায় যে, পূর্বজন্মে যেখানে সে বসবাস করতো সেই জায়গা সে চিনতে পারছে, তার পূর্বের নাম বলে দিচ্ছে এবং পুনর্জন্মের কথা বলে দিচ্ছে; এগুলো শয়তান ও ভূত-প্রেতের কারসাজি। মানুষের দ্বীন-ঈমান ধ্বংস করার জন্য এরা শিশুর মাথায় প্রবেশ করে আবোল তাবোল কথা বলে। মরণের পর মানুষ প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরে যায় এবং দুনিয়ার কর্মফল হিসেবে শান্তি বা পুরস্কার লাভ করে; এই প্রকৃত সত্যটি মৃত্যুর পর সবার সামনেই উন্মোচিত হবে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 কর্মের প্রতিদান মিলবে

📄 কর্মের প্রতিদান মিলবে


যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে ও সৎপথে চলে, সে জান্নাতে (স্বর্গে) যাবে। জান্নাত হলো এমন পবিত্রতম স্থান, যেখানে আরাম-আয়েশের সব ব্যবস্থা বিদ্যমান। বিলাসিতা এবং বিনোদনের এমন সব উপকরণ সেখানে আছে, 'যা দুনিয়ায় কোন চক্ষু অবলোকন করেনি, কারো কর্ণ শোনেনি এবং কারো অন্তরে সে সবের কল্পনাও করেনি। স্বর্গ তথা জান্নাতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে স্বচক্ষে মহান মালিকের দর্শন'। এর চেয়ে আনন্দের এবং খুশির আর কিছুই হতে পারে না।

আর যারা মন্দকর্ম করে, অসৎপথে চলে এবং মালিকের নির্দেশ অমান্য করে তারা জাহান্নামে যাবে। অনন্ত আগুনে জ্বলবে। সব পাপাচারের শাস্তি তাকে দেয়া হবে। সবচেয়ে বড় শাস্তি হবে মহান মালিকের প্রিয় দর্শন থেকে বঞ্চিত হওয়া। তারা মালিকের কঠিন শাস্তি ভোগ করবে।

রমেশ : আব্দুল্লাহ ভাই! জান্নাত-জাহান্নাম তো দেখা যায় না। তাহলে মৃত্যুর পর জান্নাত বা জাহান্নামের ব্যাপারে বিশ্বাস করবো কীভাবে?

আব্দুল্লাহ : এসম্পর্কে আমাদের এতটুকু জেনে রাখা দরকার যে, সকল ধর্মগ্রন্থেই স্বর্গ-নরকের আলোচনা স্থান পেয়েছে। যদ্বারা প্রমাণ হয়, স্বর্গ-নরক তথা জান্নাত-জাহান্নামের বাস্তবতা সকল ধর্মালম্বীদের মতে স্বীকৃত।

একটি উদাহরণের মাধ্যমেও আমরা জান্নাত-জাহান্নামের বাস্তবতা বুঝতে পারি। বাচ্চা যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন যদি তাকে বলা হয় তুমি গর্ভ থেকে বেরিয়ে এসে দুধপান করবে, হাসবে, কাঁদবে, অনেক জিনিস দেখতে পাবে, গর্ভ অবস্থায় সে এগুলো বিশ্বাস করতে চাইবে্বা না। কিন্তু যখনই ভূমিষ্ঠ হয়ে বাইরের আলোতে চোখ মেলবে, তখন তার সব কথা বিশ্বাস হবে। এমনিভাবে পৃথিবীটা মায়ের গর্ভের মতো। মৃত্যুর পরে যখন আখেরাতের আলোতে চোখ মেলবে, তখন সবকিছু তার বুঝে আসবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো পরকালের জীবনে জান্নাত-জাহান্নাম, পুলসিরাত-মিযান প্রভৃতি সম্পর্কেও সত্যবাদী মহাপুরুষ সংবাদ দিয়েছেন, প্রাণের শত্রুও যাকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দিতে পারে না এবং সেই কুরআন আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছে, যার সততা সম্পর্কে পৃথিবীর কোন মানুষের সামান্যতম সন্দেহ নেই।

রমেশ ভাই! আমি আপনাকে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে কিছু বলতে চাই আপনি কি শুনবেন?

রমেশ : হ্যাঁ বলুন, অবশ্যই শুনবো।

আব্দুল্লাহ আল্লাহতা'আলার পবিত্র বাণী আল-কুরআন। শাশ্বত এই চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন, "যদি তোমরা আমার বান্দা মুহাম্মদ এর উপর অবতীর্ণ কিতাবে কোন রূপ সন্দেহ কর, তাহলে কুরআনের সূরার মতো একটি সূরা বানিয়ে নিয়ে এসো! আল্লাহছাড়া তোমাদের যত সহযোগী আছে, সবাইকে ডেকে নাও। যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।”

সুদীর্ঘ চৌদ্দশত বছর থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সকল সাহিত্যিক, কলামিস্ট, গবেষক, বিজ্ঞানী সবাই থমকে গেছে। কুরআনের অলৌকিকতার সামনে সবাই নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। অকপটে সবাই স্বীকার করেছে, কুরআন কোন মানুষের রচনা হতে পারে না।

রমেশ ভাই! যে কথাগুলো বললাম এগুলোর নাম হলো ইসলাম। তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা। মুখে স্বীকার করা ও আমলে পরিণত করার নাম হলো ইসলাম। আমি আপনাকে সেই ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। আপনি যদি তা গ্রহণ করেন, তাহলে আপনি অনন্তকালের জন্য চিরস্থায়ী নরক থেকে বেঁচে যাবেন।

রমেশ : আব্দুল্লাহ ভাই! সমস্ত নবী-রাসূল ও আসমানী গ্রন্থসমূহ যখন সত্য, তাহলে একটা মানলেই তো হবে। ইসলাম গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা কী?

আব্দুল্লাহ: বর্তমান সময়ে এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া খুবই সহজ। আমাদের দেশে একটি পার্লামেন্ট আছে। সংসদের একটি সংবিধান আছে। এখানে যতজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে এসেছেন, তারা সবাই প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী। যেমন- এরশাদ, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এবং সময়ের পরিবর্তনে তারা যেসব আইন এবং সংশোধন পাস করেছেন, তা পালন করা সকল নাগরিকের ওপর বাধ্যতামূলক। পূর্বের প্রবর্তিত আইনের তখন কার্যকারিতা থাকে না। নতুন পাস হওয়া সংবিধানই সকল স্থানে কার্যকর হয়।

এখন কেউ যদি বলে এরশাদ বাংলাদেশের প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাই আমি তার পাস করা আইন মানবো। নতুন সংশোধিত আইন মানবো না। নতুন সংবিধানের ধার্যকৃত কর আদায় করবো না, তাহলে এই লোককে সবাই রাষ্ট্রদ্রোহী বলবে। সে শান্তির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। এমনিভাবে সকল ধর্ম এবং ধর্মগ্রন্থ স্ব-স্ব সময়ে এসেছে। সব ধর্মই সত্যের শিক্ষা দিয়েছে। এ জন্যই সমস্ত নবী-রাসূলকে এবং তাঁদের উপর নাযিলকৃত কিতাবকে সত্য বিশ্বাস করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ-এর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁর শরীয়ত মেনে চলা সকল মানুষের জন্য অপরিহার্য।

রমেশ: আব্দুল্লাহ ভাই! তাহলে সত্য ধর্ম কয়টি? কারণ সব ধর্মই ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যাবে। রাস্তা ভিন্ন হলেও গন্তব্য তো এক ও অভিন্ন, তাহলে অসুবিধাটা কোথায়?

আব্দুল্লাহ: সত্য ধর্ম একটিই। একথা বলা যাবে না যে, সব ধর্মই ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যাবে। রাস্তা ভিন্ন হলেও গন্তব্য তো এক ও অভিন্ন, এমনটি ভাবার কোন সুযোগ নেই। সত্যপথ শুধু একটিই। অসত্য অনেক হতে পারে। যেমন-আলোর উৎস একটিই হয়ে থাকে, আর অন্ধকারের উৎস অনেক হতে পারে। পৃথিবীর শুরু থেকেই সত্য ও মুক্তির পথ একটিই। এক আল্লাহকে মানা এবং এক ধর্মমতে অনুসরণ করার নামই ইসলাম। ধর্ম কখনো পরিবর্তন হয় না। সময়ের প্রয়োজনে শুধু শরীয়ত তথা বিধানের পরিবর্তন হয়। আর সেই পরিবর্তন এক মালিকের নির্দেশেই হয়। মানুষের বংশ এক, মালিক-স্রষ্টা এক, তেমনি তার মুক্তির পথও এক। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে আল্লাহ্ নিকট মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম।

রমেশ: আব্দুল্লাহ ভাই! হযরত মুহাম্মদ সত্য এবং সর্ব শেষ নবী। এ কথার প্রমাণ কী?

আব্দুল্লাহ: এ প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ। প্রথম কথা হলো, এই কুরআন বিশ্বস্রষ্টার বাণী। কুরআন সত্য হওয়ার ব্যাপারে তিনি যে সব সত্য প্রমাণ পেশ করেছেন-তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য কেউ এগিয়ে আসতে সাহস করেনি। আজ পর্যন্ত কুরআনের কোন ভুল কেউ বের করতে পারেনি। সেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্তা'আলামুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সত্যতা ও শেষনবী হওয়ার কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন।

দ্বিতীয় কথা হলো, হযরত মুহাম্মদ-এর সোনালি জীবনের প্রতিটি অধ্যায় পৃথিবীর সামনে সুস্পষ্ট। দুনিয়ার আর কোন নবী বা মহামানবের জীবন, তাঁর জীবনের মতো এতো সুরক্ষিত ও সুস্পষ্ট নয়। তাঁর জানের দুশমন এবং ইসলাম ধর্মের ঘোর শত্রুও কোন দিন এ কথা বলার সুযোগ পায়নি যে, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কখনো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। লোকেরা তাঁর সততার ব্যাপারে কসম খেতো। যে লোকটি তার ব্যক্তিগত জীবনে কোন দিন মিথ্যার কাছে যাননি, তিনি আল্লাহ্ এবং ধর্মের নামে কেমন করে মিথ্যা কথা বলতে পারেন? তিনি নিজেও বলেছেন, আমিই সর্বশেষ নবী। আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। অন্য সকল ধর্মগ্রন্থে 'অন্তিম ঋষি', 'কল্কি অবতার' প্রভৃতি নামে ভবিষ্যদ্বাণী করে যে পরিচয় দেয়া হয়েছে, তিনিই হলেন হযরত মুহাম্মাদ। বর্ণিত নিদর্শনগুলো তাঁর ওপরই পুরোপুরি পাওয়া যায়।

রমেশ : আব্দুল্লাহ ভাই! এই ঈমানের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

আব্দুল্লাহ : মৃত্যুর পরের যিন্দেগীর প্রশ্ন ছাড়াও এই নশ্বর পৃথিবীতে আপনার জন্য ঈমান ও ইসলামের আবশ্যকতা বিদ্যমান। মহান মালিকের দরবার ছেড়ে যে নরাধম নিজ ক্ষুদ্র সৃষ্টির সামনে মাথা নত করে, সে পশুর চেয়েও অধম। একটি নিকৃষ্ট কুকুরও প্রভুর দরবার ছেড়ে অন্য কোথাও যায় না। কিছু পাবার আশায় তার দরবারেই পড়ে থাকে। তাহলে কত নিকৃষ্ট হলে মানুষ নিজের প্রকৃত মালিকের দরবার ছেড়ে অন্যের দরজায় মাথা ঠেকাতে পারে।

দুনিয়াতে যেমনই হোক মরণের পরে, যেখান থেকে ফিরে আসার কোন পথ নেই, মৃত্যু কামনা করলেও যেখানে মৃত্যু আসবে না, সেখানে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঈমানের প্রয়োজন হবে আরো অনেক বেশি। দুনিয়া থেকে মানুষ ঈমান ছাড়া পরপারে পাড়ি জমালে, চিরদিনের জন্য জাহান্নাম বা নরকের আগুনে জ্বলতে হবে। দুনিয়ায় সামান্য আগুনের ফুলকি কারো শরীরে লাগলে শিউরে ওঠে। তাহলে জাহান্নামের অনন্তকালের আগুন যা দুনিয়ার আগুন থেকে সত্তর গুণ শক্তিশালী, কীভাবে আমরা সহ্য করবো। সর্বদা সেই আগুনে পুড়তে হবে, এক চামড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেলে নতুন চামড়া লাগানো হবে। এই শাস্তি অনন্তকাল ধরে বিরামহীন চলতেই থাকবে。

রমেশ ভাই! জানি না কখন মৃত্যুর হাতছানি এসে যাবে! ভিতরের নিঃশ্বাস বাইরে বের হবে- এই ভরসাও নেই। বাইরের শ্বাস ভিতরে প্রবেশ করার আশাও নেই। মৃত্যুর আগেই সুযোগ। সুযোগ থাকতেই নিজের সর্বপ্রথম ও প্রধান দায়িত্ব সম্পর্কে ভাবুন। ঈমান ছাড়া ইহকাল ও পরকালীন জীবনের কী মূল্য আছে? একটু পরে সবাইকে মালিকের সামনে দাঁড়াতে হবে। সেখানে সর্বপ্রথম ঈমানের হিসাব নেয়া হবে। এই আহ্বানে আমার স্বার্থ হলো, আপনাকে প্রশ্ন করা হলে এ কথা বলতে পারবেন না যে, আমাদের কাছে ঈমানের দাওয়াত পৌঁছেনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনার অন্তরে এই সত্যটি বদ্ধমূল হয়েছে। সুতরাং আর দেরি নয়, আসুন হে হৃদয়বান ভাই আমার! মহান সত্তাকে সাক্ষী রেখে মনের গভীর থেকে উচ্চারণ করুন- "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু” অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর সত্য বান্দা ও রাসূল।

আমি কুফর, শির্ক এবং সমস্ত পাপ থেকে তাওবা করছি। আর অঙ্গীকার করছি সৃষ্টিকর্তা, সত্য মালিকের সমস্ত বিধান মেনে চলব এবং তাঁর পয়গাম্বর মুহাম্মদ-এর পুরোপুরি আনুগত্য করবো। পরম করুণাময় দাতা ও দয়ালু আল্লাহ্আমাকে এবং আপনাকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পথে অবিচল রাখুন। আমিন!

রমেশ ভাই! এই ঈমান ও বিশ্বাসের ওপর যদি মৃত্যু পর্যন্ত চলতে পারেন, তাহলে বুঝবেন এই অধম কেমন ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার হক আদায় করেছে।

রমেশ: ঠিক আছে আপনার কথা মেনে নিলাম। এখন কি আমার কোন দায়িত্ব আছে?

আব্দুল্লাহ: হ্যাঁ রমেশ ভাই! আপনার দায়িত্বের কথা বলার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে নিই, আর তা হলো, ইসলাম ও ঈমান আনার ফলে আপনার কিছু পরীক্ষা আসতে পারে। মনে রাখবেন, জয় সত্যের পক্ষেই হয়। এখানেও হকের বিজয় হবে। সারা জীবনও যদি পরীক্ষার মধ্যে কাটাতে হয়, তবুও এই ভেবে সহ্য করে নিবেন যে, এই দুনিয়ার জীবন তো খুবই সামান্য ক'দিনের মাত্র। মৃত্যুর পর আসছে অনন্তকালের জীবন। অসীম জীবনের সুখ সমৃদ্ধি, প্রভুর সন্তুষ্টি এবং প্রিয়তমের দর্শন লাভের বিনিময়ে এই ক'দিনের পরীক্ষা তেমন কিছুই নয়।

টিকাঃ
০-সূরা বাকারা: ৩৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px