📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 যুক্তির আলোকে দাওয়াতের পদ্ধতি

📄 যুক্তির আলোকে দাওয়াতের পদ্ধতি


[এখানে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একটি নমুনা তুলে ধরা হলো যেনএর দ্বারা পাঠকগণ উপকৃত হতে পারেন]

প্রথমে একজন হিন্দুভাইকে সম্বোধন করতে হবে এবং তার সাথে ধারাবাহিক কথা বলতে হবে। মনে করুন আপনি অপরিচিত একজন হিন্দুভাইকে দাওয়াত দিচ্ছেন।

আব্দুল্লাহ: 'আসসালামু আলা মানিত্তাবাআল 'হুদা'। দাদা! ভালো আছেন তো?

রমেশচন্দ্র রায়: আদাব। ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন? আপনাকে চিনতে পারছি না যে......

আব্দুল্লাহ: আমি আপনারই একজন ভাই। আমার নাম আব্দুল্লাহ। আপনার পাশের এলাকায় আমার বাড়ি।

রমেশ: কী ব্যাপার! কী উদ্দেশ্যে আসা হলো?

আব্দুল্লাহ: আপনার সাথে দেখা করতে এলাম। কিছু কথা বলতে পারি কি?

রমেশ: অবশ্যই বলুন। কেন বলতে পারবেন না।

আব্দুল্লাহ: দেখুন, আমাদের সমাজে একটি বড় ধরণের ভুল বোঝাবোঝি আছে। আর তা হলো অনেক সময় দেখা যায়, আমরা মুসলমানগণ কোন হিন্দুভাইকে দেখে নাক সিটকাই, লোকটি হিন্দু হওয়ার দরুন তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। অনেক হিন্দুভাই মুসলমানকে দেখে নাক সিটকায়। তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। আসলে এমনটি হওয়া উচিত নয়। কারণ হিন্দু-মুসলিম এই পার্থক্যটি আমরা নিজেরা সৃষ্টি করেছি। আমার আপনার মালিক ও স্রষ্টা এই ভাগ করেননি। তিনি তার পবিত্র গ্রন্থে স্পষ্ট ভাষায় হিন্দু- মুসলিম সকলকে বলছেন। “হে মানুষ সকল! তোমরা পূজা কর তোমাদের প্রভুর।”

এখানে আল্লাহ্তা'আলাহিন্দু বা মুসলিম কিছুই পৃথক করেননি। বরং সকল মানুষকে তাঁর পূজা করতে বলেছেন। ঠিক কি না?

রমেশ: হ্যাঁ, আব্দুল্লাহ ভাই! আপনি ঠিকই বলেছেন।

আব্দুল্লাহ: রমেশ ভাই! আমি আপনাকে সেই আল্লাহ্ত্সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। আপনি একটু মুহাব্বতের সাথে শুনবেন?

রমেশ: হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন। মালিক সম্পর্কে সকলের জানা উচিত。

আব্দুল্লাহ : এই মহাপবিত্র গ্রন্থে 'বিশ্ব মালিক' বিবেকের মাপকাঠিতে যাচাইয়ের জন্য অনেক দলিল আমাদের সামনে পেশ করেছেন। মহান মালিক বলেন-"আসমান ও যমীনে যদি অনেক মালিক (প্রভু) থাকতেন, তাহলে আসমান ও জমিন ফাসাদে ভরে যেতো"। এক আল্লাহ্ একাধিক নিয়ন্ত্রণকারী হলে স্বাভাবিক ভাবেই বিবাদ সৃষ্টি হতো। একজন বলতেন-এখন দিন হোক, অপরজন বলতেন- রাত হোক। একজন বলতেন, ছয়মাসে একদিন হবে, আরেকজন চাইতেন, তিন মাসে একদিন হবে। একজন বলতেন, আজ সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠবে। অন্য জন দাবি করতেন, পূর্ব দিক থেকে উঠবে। আর দেব-দেবীদের এই কিচ্ছা-কাহিনী যদি বাস্তব হতো, তাহলে কখনো এমন হতো যে, একবান্দা পূজা-অর্চনা করে বৃষ্টি দেবতার কাছে দাবি করতো তখন স্বাভাবিক ভাবেই নিচের স্তরের 'মালিকগণ' হরতাল ডেকে বসতেন। লোকজনকে অপেক্ষা করতে হতো যে, আজকে দিন আসবে না। মনে হয় সূর্যদেবতা হরতাল ডেকেছেন।

দুনিয়ার সকল বস্তু এবং সুশৃঙ্খলরূপে পরিচালিত বিশ্ব জগতের সুনিপুণ ব্যবস্থাপনা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বিশ্বজাহানের মালিক-অধিপতি একজন। তিনি সকল ক্ষমতার উৎস। তিনি যা চান, তাই করতে পারেন। মানুষের কল্পনার বহু ঊর্ধ্বে তাঁর অবস্থান। জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে তাঁর ছবি আঁকা যায় না। সমগ্র পৃথিবীকে তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। চন্দ্র-সূর্য, আকাশ-মাটি, আগুন-পানি, জড়-জীব সবকিছুই মানুষের উপকারের জন্য তিনি সৃজন করেছেন। মানুষকে সবকিছুর সরদার বানিয়েছেন। আর মানুষকে শুধুমাত্র এজন্য সৃষ্টি করেছেন, যেন তারা তাঁর গোলামি ও পূজা করে এবং তাঁর হুকুম মানে।

সৃষ্টিকর্তা জীবনদাতা, মৃত্যুদাতা, আহারদাতা ও সমস্ত প্রয়োজন পূরণকারী যেহেতু আল্লাহ্তা'আলা, তাই জীবন ও জীবন সম্পর্কিত সকল চাওয়া-পাওয়া তাঁর সন্তুষ্টি ও নির্দেশ মতে ব্যবহার হওয়াই ইনসাফের দাবি। বরং মহান মালিকের আনুগত্যে জীবন অতিবাহিত না করলে মানুষ বলে দাবি করারই অধিকার থাকে না। অতএব, আমাদের এক মালিক আল্লাহকেই মানতে হবে। তার সাথে কাউকে অংশীদার বানানো যাবে না।

রমেশ: আমরাও তো এক মালিককে মানি। মালিক একজন; কিন্তু তার শক্তিগুলো বিভিন্নজনের কাছে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। যেমন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন। তার কাজগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। সেই মালিককে পাওয়ার জন্য মূর্তিগুলোর ধ্যানের মাধ্যমে তাকে পেতে চাই, মূলত সেই মালিকেরই পূজা করি।

আব্দুল্লাহ: রমেশ ভাই! সেই মালিকের সাথে বা তাকে পাওয়ার জন্য কোন মূর্তির মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, বরং এই মূর্তিপূজা হলো মহাপাপ।

প্রকৃত প্রভূ-মালিকের পবিত্র কালাম কুরআনে কারীমের ভাষ্য মতে নেক কাজ দুই প্রকারে বিভক্ত, ছোট আর বড়। তেমনিভাবে তাঁর নিকট গুনাহ ও পাপাচারও দুই প্রকারে বিভক্ত। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, যে পাপের কারণে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে, যে গুনাহ কখনো আল্লাহ্ ক্ষমা করবেন না, যে পাপের কারণে আমৃত্যু নরকের আগুনে জ্বলতে হবে, সেই গুনাহ হলো অদ্বিতীয় মালিকের সাথে কাউকে শরিক করা। এক আল্লাহ্, মহান মালিক ছাড়া অন্য কারো সামনে মাথা নত করা, হাত জোড় করা, তাঁকে রেখে অন্য কাউকে পূজার যোগ্য মনে করা, জন্ম-মৃত্যুদানকারী রিযিকদাতা ও ত্রাণকর্তা মনে করা গর্হিত এবং বুদ্ধিহীনতার কাজ। দেব-দেবী, চন্দ্র-সূর্য, পীর-ফকির এবং যে কোন বস্তুকে পূজার উপযুক্ত মনে করা শিরক। আল্লাহ্ তা'আলা যা কখনোই ক্ষমা করেন না। শিরক ছাড়া অন্য যে কোন গুনাহ আল্লাহ্ চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। আমাদের বিবেকের কাছেও শিরক বা অংশীদারিত্ব মারাত্মক গর্হিত কাজ। শিরক বা অংশীদারিত্বকেও আমরা কোন দিন মেনে নিতে পারি না। যেমন-

কারো স্ত্রী ঝগড়াটে, মন্দচারিণী, গাল-মন্দকারিণী, অবাধ্য এবং বেপরোয়া স্বভাবের হলে স্বামী তাকে বেরিয়ে যেতে বলার পর সে বলতে থাকে, আমি শুধু তোমার। তোমারই থাকবো। তোমার ঘরে মরবো। এক পলকের জন্যও তোমার ঘর ছেড়ে কোথাও যাবো না। তাহলে স্বামী শত রাগের পরও তাকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হবে। অপরদিকে কারো স্ত্রী অত্যন্ত স্বামীসোহাগা এবং অনুগত। সর্বদা সে স্বামীর চিন্তায় অস্থির। স্বামী গভীর রাতে ঘরে ফিরলে তার অপেক্ষায় বসে থাকে। খাবার গরম করে দেয়।

প্রেম-ভালোবাসায় স্বামীকে ডুবিয়ে রাখে। একদিন প্রিয় স্ত্রী আদরের স্বামীকে বলে, তুমিতো আমার জীবন সঙ্গী। তোমার উপর আমার কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু তোমার একার দ্বারা আমার চাহিদা মেটে না। তাই আমি পাশের বাড়ির যুবকটিকে আমার দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম। সামান্যতম আত্মমর্যাদাবোধও যদি সেই স্বামীর থাকে, তাহলে কখনই সে তা সহ্য করতে পারবে না। হয়তো সে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করে ফেলবে অথবা নিজে আত্মহত্যা করবে। এটা কেন হচ্ছে? তার একমাত্র কারণ হলো, স্বামী কখনোই স্ত্রীর উপর প্রতিষ্ঠিত অধিকারে অন্য কাউকে অংশীদার হিসেবে দেখতে পছন্দ করে না। একটি শুক্রকণা থেকে সৃষ্টি মানুষ যখন অংশীদারিত্বকে মেনে নিতে পারে না, তাহলে যে মহান প্রভু নাপাক ক্ষুদ্র কীট হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি কী করে তাঁর একক সৃষ্টিতে অংশীদারিত্ব মেনে নিবেন? তাঁর সাথে অন্য কারো পূজা-অর্চনা মেনে নিবেন? যখন দুনিয়ায় সবকিছুই তিনি দিয়েছেন। যেভাবে একজন চরিত্রহীন নারী সব পুরুষকে আশ্রয় দেয়ার ফলে নীচ বলে পরিচিত লাভ করে, তেমনি আল্লাহ্র দরবারে ওই ব্যক্তি আরো বেশী নিকৃষ্ট, যে তাঁকে ছেড়ে দেবতা, মূর্তি বা অন্য কোন বস্তুর পূজায় মগ্ন হয়।

এবার শুনুন মূর্তিপূজার স্বরূপ সন্ধানে আল-কুরআন কী বলে; এ ব্যাপারে কি আপনাকে কিছু বলতে পারি?

রমেশ: জী হ্যাঁ, অবশ্যই। কুরানেও কি মূর্তিপূজা সম্বন্ধে লেখা আছে?

আব্দুল্লাহ: তাহলে শুনুন কুরআন এ ব্যাপারে কী বলে। কুরআনে আল্লাহ্তা'আলাবলেনঃ “হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না। প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন।”

রমেশ: আচ্ছা, আব্দুল্লাহ ভাই! দেব-দেবীরা মূলত আমাদেরকে মালিক পর্যন্ত পৌঁছার পথ দেখিয়ে দেয় এবং তাদের মাধ্যমে আমরা মালিক-বিশ্বপ্রভুর দয়া অনুগ্রহ পেয়ে থাকি, তাই আমরা তাদের পূজা-অর্চনা করি। এতে অসুবিধাটা কী?

আব্দুল্লাহ:রমেশ ভাই! এ ধরনের খেয়াল সঠিক নয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারবেন, ব্যাপারটি হলো এমন "কুলির কাছ থেকে ট্রেনের বিবরণ জেনে ট্রেনের স্থলে কুলির উপর চেপে বসার মতো। ট্রেনের দিক-নির্দেশকারী কুলির উপর সওয়ার হওয়া যেমন নিছক বোকামি ছাড়া কিছুই নয়, তেমনি আল্লাহকে পাওয়ার বিশুদ্ধ পথনির্দেশকারীর পূজা করাও নিতান্ত বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। কেউ ধ্যানমগ্ন এবং গভীর মনোনিবেশ আনয়নের জন্যই মূর্তিকে সামনে রাখি। এ উদাহরণটি এমনই যে, কেউ গভীরভাবে একটি পিলারের দিকে তাকিয়ে আছে আর বলছে, পিতার ধ্যানে নিবিষ্ট হওয়ার জন্য গভীরভাবে পিলারের দিকে তাকিয়ে আছি! এমন কথা কি মেনে নেওয়া যায়? কোথায় পিতা আর কোথায় পিলার! কোথায় দুর্বল মূর্তি আর কোথায় বিশ্বপ্রতিপালক! এতে মালিকের প্রতি ধ্যান তো বাড়বেই না বরং আরো নষ্ট হবে। মোটকথা, যে কোন উপায়ে তাঁর সাথে শরিক করা মারাত্মক গুনাহ, অন্যায়। অংশীদারিত্বের পাপ (শিরক) তিনি কখনও ক্ষমা করবেন না। শিরককারী চিরদিনের জন্য জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হবে।

রমেশ ভাই, আপনি কি জানেন মূর্তিপূজা কীভাবে শুরু হয়েছে, তার ইতিহাস কী?

রমেশ: না, এ ব্যাপারে সঠিক ধারণা নেই, তবে বাপ-দাদারা করে আসছেন তাই জানি।

আব্দুল্লাহ: আমি আপনাকে এ বিষয়ে কিছু বলব কি?

রমেশ: হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন।

আব্দুল্লাহ: দেখুন রমেশ ভাই! আল্লাহ্ বাণী প্রচারকারী এসব নবী-রসূল মানুষ ছিলেন। অপরাপর মানুষের মতো তারাও মৃত্যুবরণ করতেন। (যার মৃত্যু নেই তিনি হলেন একমাত্র আল্লাহ্) পয়গম্বরগণের মৃত্যুর পর অনুসারীদের যখন তাঁদের কথা মনে হতো, তখন তারা খুব কান্নাকাটি করতেন। শয়তান সে সুযোগটাকে কাজে লাগালো। শয়তান মানুষের আজন্ম শত্রু। মানুষকে পরীক্ষার জন্য প্রভু শয়তানকে ধোঁকা-প্রতারণা এবং মন্দকাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য ক্ষমতা প্রদান করেছেন। কে সৃষ্টিকর্তাকে মানে আর কে শয়তানের আনুগত্য করে এটা যেনো সুস্পষ্ট হয়ে যায়। ধূর্ত শয়তান তখন মানুষের বেশ ধারণ করে এসে বলল, পয়গাম্বরগণকে তোমরা অনেক ভালোবাসতে। মরণের পরে তারা তোমাদের চোখের আড়াল হয়ে গেছেন। তাঁদের স্মরণের জন্য আমি তোমাদেরকে একটি মূর্তি বানিয়ে দিচ্ছি, এটাকে দেখে আশা করি তোমরা কিছুটা সান্ত্বনা পাবে। নবীর প্রেম বিরহে সৎ মানুষেরা তার এই পরামর্শ খুব ভালো মনে করে লুফে নিল। শয়তান প্রতিমা বানিয়ে দিল। যখন নবী-রাসূলের কথা স্মরণ হতো, তখন তাঁরা মূর্তিটাকে দেখত। আস্তে আস্তে যখন মূর্তির ভালোবাসা অন্তরে স্থান পেয়ে গেল, তখন শয়তান যুক্তি দিল যে, এসব প্রতিমার সামনে মাথা নত করলে, তাদের মধ্যেই ভগবানকে পেয়ে যাবে। প্রতিমা সম্পর্কে যেহেতু আগে থেকেই একটি ভক্তি-শ্রদ্ধা জন্মে ছিল, তাই খুব সহজেই তারা শয়তানের এই ফাঁদে পা বাড়িয়ে দিল। মূর্তির সামনে মাথানত ও তাদের পূজা শুরু করে দিলো। এভাবেই এক আল্লাহ্ পূজা থেকে মানুষ প্রতিমা পূজা শুরু করে এবং শিকের ভয়াবহ পাপে নিমজ্জিত হয়ে যায়।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ যখন মাটি-পাথর প্রভৃতির সামনে মাথানত করল, তখনই সে অপদস্থ হলো এবং মালিকের দয়ার দৃষ্টি থেকে ছিটকে পড়ে চিরদিনের জন্য জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হলো। এরপর মহান আল্লাহ্আরো নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। যাঁরা মূর্তি এবং আল্লাহ্ছাড়া অন্য কিছুর পূজা থেকে মানুষকে বিরত থাকার উপদেশ প্রদান করেছেন। কেউ তাঁদের কথা গ্রহণ করতো, আবার কেউ প্রত্যাখ্যান করতো। যারা তাদের উপদেশ গ্রহণ করতো, তারা আল্লাহ্র নিকট প্রিয় পাত্র হয়ে যেতো। আর যারা প্রত্যাখ্যান করতো, আসমান থেকে তাদের ধ্বংস করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো।

রমেশ ভাই! আপনাকে আমি যে সব কথা বলছি, তা আমি জানতে পেরেছি আপনার আমার নবী (অবতার) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। আপনাকে কি সেই নবী ও শেষ অবতার সম্পর্কে কিছু বলতে পারি?

রমেশ : হ্যাঁ বলুন, আমাদের ধর্মেও তো অবতারের কথা আছে। ঠিক আছে বলুন শুনি।

আব্দুল্লাহ : নবী বা অবতার হলেন মানুষের উপর মহান মালিক তাঁর নির্বাচিত কিছু বান্দা। তাদের কাছে ফেরেশতা তথা স্বর্গীয় দূতের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করেছেন। যাঁরা মানবজাতিকে জীবন পরিচালনা পদ্ধতি এবং বন্দেগী তথা প্রভুর দাসত্ব করার নিয়ম বর্ণনা করেছেন এবং জীবনের প্রকৃত রহস্য বর্ণনা করেছেন। যা মানুষ বিবেকপ্রসূত জ্ঞান দ্বারা অর্জন করতে সক্ষম নয়। এ মহামানবদেরকে পয়গম্বর বা অবতার বলা হয়। এখানে অবতার অর্থ হলো সেই মানব, যাঁর কাছে প্রভুর বার্তা আসে। বর্তমানে অবতার বলতে ওই সত্তাকে বুঝানো হয়, যিনি স্বয়ং প্রভু বা প্রভুররূপে আগমনকারী। এটা নিছক কল্পনাপ্রসূত বিশ্বাস। এই ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করা মারাত্মক অপরাধ। এই ভ্রান্ত বিশ্বাসই মানুষকে এক আল্লাহ্ পূজা-বন্দেগী থেকে সরিয়ে মূর্তি পূজার আসনে নিমজ্জিত করেছে।

এ সকল মহামানব, যাঁদেরকে আল্লাহ্তা'আলা নবী রাসূলের মর্যাদায় সমাসীন করেছেন, সবযুগে সব এলাকায় আগমন করেছেন। তাদের আহ্বান ছিলো-এক আল্লাহ্ ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা, শুধু তারই পূজা-ও গোলামী করা এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রদর্শিত জীবনবিধান অনুসরণ করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। কোন নবী একআল্লাহ্ছাড়া অন্যকারো পূজা-অর্চনা করতে বলেননি। বরং এই পাপ থেকেই তাঁরা মানুষকে বিরত রেখেছেন। তাঁদের কথায় মানুষ বিশ্বাস স্থাপন করে সত্যপথ অবলম্বন করেছেন।

যত নবী-রাসূল এসেছেন, সবার ধর্মের মূল বাণী ছিলো এক ও অভিন্ন। তাদের সবার আহ্বান ছিলো- এক আল্লাহকে বিশ্বাস করো, তার সত্ত্বা ও গুণাবলিতে কাউকে শরিক করো না। তাছাড়া সকল পয়গম্বরকে বিশ্বাস করো, ফেরেশতা বা স্বর্গীয় দূতের প্রতি এই বিশ্বাস করো যে, তারা আল্লাহ্র এমন সৃষ্টি, যাঁরা পানাহার করে না, ঘুমায় না, সকল কাজে তাঁরা আল্লাহ্র আনুগত্য প্রদর্শন করে। তিনি ফেরেস্তাদের মাধ্যমে যে ওহী, বার্তা বা গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, তা সত্য বলে বিশ্বাস করো, মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হয়ে কর্মফল ভোগ করতে হবে এই বিশ্বাস রেখো। ভালো মন্দ যা ভাগ্যে আছে সবই আল্লাহ্ পক্ষ থেকে নির্ধারিত, এই কথার ওপর বিশ্বাস রেখো। আর আমি এ সময় তোমাদের সামনে যে শরীয়ত এবং বিধান নিয়ে এসেছি তা অনুসরণ করে চলো।

যত নবী-রাসূল আগমন করেছেন এবং তাঁরা যে গ্রন্থ নিয়ে এসেছেন, সবই সত্য। তাদের সবার প্রতি আমরা একই ধরনের বিশ্বাস পোষণ করি। তাঁদের মধ্যে আমরা পার্থক্য করিনি। বাস্তবতার দাবি হলো, যাঁরা আল্লাহকে মানার দাওয়াত দিয়েছেন, তাদের শিক্ষায় এক প্রভুকে ছেড়ে অন্যের পূজা করা বা স্বয়ং তাদের পূজা করার নির্দেশ থাকতে পারে না। সুতরাং যে সব মহাপুরুষের শিক্ষায় মূর্তিপূজা বা একাধিক প্রভুর ইবাদতের কথা পাওয়া যায়, হয়তো তারা রাসূলই ছিলেন না। অথবা তাদের শিক্ষায় পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়েছে。

মুহাম্মাদ-এর পূর্ববর্তী সকল রাসূলের শিক্ষায় পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হয়েছে। কোন কোন ধর্মের গ্রন্থই তো আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে।

আব্দুল্লাহ: রমেশ ভাই! আপনি কি মুহাম্মদ ও তার জীবনী সম্পর্কে কিছু জানেন?

রমেশ : তাঁর সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা আমার নেই। তবে এতটুকু জানি তিনি আপনাদের নবী।

আব্দুল্লাহ: আমি কি মুহাম্মদ সম্পর্কে কিছু বলতে পারি?

রমেশ: অবশ্যই বলুন, জ্ঞানের কথাতো শুনতে ভালোই লাগে。

আব্দুল্লাহ: ভাইয়া! আপনি যে বললেন মুহাম্মদ আমাদের নবী এটা ভুল ধারণা, কারণ মুহাম্মদ সকল মানুষের নবী। এটা আল্লাহ্তা'আলানিজেই পবিত্র কুরআনে বলেছেন- 'হে নবী! আপনি বলে দিন, হে মানব জাতি! আমি তোমাদের সকল মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।'-আরাফ-১৫৮

এবার আপনাকে নবীজীর জীবনী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্।

সর্বশেষ পয়গাম্বর হযরত মুহাম্মদ সম্পর্কে পৃথিবীতে আগত সকল নবী-রাসূল এবং তাদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। এও বলে দেয়া হয়েছে, তিনি আগমনের পর এবং তাঁর পরিচয় লাভের পর, সমস্ত পুরনো ধর্ম এবং শরীয়ত ছেড়ে, শুধুমাত্র তাঁকেই মানতে হবে। তাঁর আনীত শরীয়ত মতেই চলতে হবে। ইসলাম সত্যধর্ম হওয়ার এটাও একটি প্রমাণ, পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে ব্যাপক বিকৃতি সাধনের পরও মহান মালিক শেষনবী আগমনের সুসংবাদ সে সব কিতাবে অবিকৃত রেখে দিয়েছেন। যাতে কেউ বলতে না পারে, শেষ নবী ও আগমনের কথা আমরা জানতাম না। বেদের মধ্যে 'নরাশংস', পুরাণে অবতার, বাইবেলে ফারকালিত এবং বৌদ্ধ ধর্মের গ্রন্থে আখেরী বৌদ্ধ নামে শেষ নবীর কথা উল্লেখ আছে। ওই সব ধর্মীয় কিতাবে তাঁর জন্মস্থান, জন্মের বৃত্তান্ত সবিস্তরে বর্ণিত হয়েছে।

টিকাঃ
• -ত্বাহা-৪৭
০-বাকারা-২১
• আম্বিয়া-২২
-আল-হাজ্জ-২২:৭৩
•আল বাকারা-১৪৬

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 হযরত মুহাম্মদ ﷺ -এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত

📄 হযরত মুহাম্মদ ﷺ -এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত


আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগের কথা। আখেরী পয়গাম্বর (অন্তিম অবতার) সৌদি আরবের পবিত্র মক্কানগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের কয়েক মাস পূর্বে তিনি পিতৃহারা হন। মমতাময়ী মায়ের ছায়াও তিনি খুব বেশি দিন উপভোগ করতে পারেননি। প্রথমে দাদা আব্দুল মুত্তালিব, তার মৃত্যুর পর চাচা আবু তালেব তাঁকে লালন-পালন করেন। নিঃসঙ্গ, নীরব এই মানুষটিই একদিন মক্কানগরীর সকল মানুষের চোখের তারায় পরিণত হলেন।

তিনি বড় হতে লাগলেন আর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসাও বাড়তে লাগলো। তিনি ঈমানদার, সত্যবাদী নামে অভিহিত হলেন। বহু মূল্যবান সম্পদ লোকেরা তাঁর কাছে নিশ্চিন্তে আমানত রেখে দিতো। তিনি পরস্পরের ঝগড়া-বিবাদ মিটিয়ে দিতেন। একবার আল্লাহ্র পবিত্র ঘর কাবা শরীফের নির্মাণ কাজ চলছিল। কা'বাঘরের এক কোণে 'হাজরে আসওয়াদ' নামে মূল্যবান পবিত্র একটি পাথর আছে। যখন সেই পাথর যথাস্থানে রাখার পালা আসল, তখন সবাই এই মহান কাজে অংশীদার হয়ে সৌভাগ্যবান হওয়ার আশা ব্যক্ত করল। মক্কার সমস্ত গোত্রপ্রধানরা এগিয়ে এলেন। যুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির রূপ নিল। তখন একজন বুদ্ধিমান প্রবীণ এই সমাধান পেশ করলেন, আগামী দিন যে ব্যক্তি সবার আগে কা'বা ঘরে আসবে, সেই এই দায়িত্ব পালন করবে। তার পরামর্শ গৃহীত হলো। সবাই প্রস্তুতি নিল। সেদিন সবার আগে আগমনকারী ছিলেন হযরত মুহাম্মদ। সবাই আনন্দে সমস্বরে বলে উঠল, আমাদের মাঝে ঈমানদার (বিশ্বস্ত) এবং সবচেয়ে সত্যবাদী মানুষটি এসে গেছেন। আমরা সবাই তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত। তিনি একটি চাদর বিছিয়ে তাতে পাথরটি রেখে বললেন, এবার সব গোত্রের অধিপতিরা চাদরের এক এক কোণ ধরুন। পাথর দেয়ালের কাছে পৌঁছে গেলে তিনি নিজ হাতে তা যথাস্থানে বসিয়ে দিলেন। তাঁর এই কৌশলের কারণে আশু যুদ্ধের ভয়াবহতা হতে সবাই পরিত্রাণ পেল।

লোকেরা সকল কাজে তাঁকে সবার আগে রাখতো। তিনি সফরে-ভ্রমণে বের হলে সবাই অস্থির হয়ে যেতো। তিনি সফর থেকে ফিরে এলে তাঁকে ঘিরে লোকেরা খুশিতে কান্নাকাটি শুরু করে দিত। তখন আল্লাহ্ পবিত্র ঘর কা'বা শরীফে ৩৬০টি মূর্তি ছিলো। আরবজুড়ে ছিল মানুষ মানুষে ভেদাভেদ, চুরি-ডাকাতি, শরাব, খুন-খারাবি, যিনা-ব্যভিচার, নারী ও অসহায়ের ওপর অন্যায়-অবিচার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল।

৪০ বছর বয়সে আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশতার মাধ্যমে তাঁর ওপর কোরআন শরীফ অবতরণ করা শুরু করেন। তাঁকে রাসূল হিসেবে মনোনীত করার সুসংবাদ জানিয়ে দেন এবং মানুষকে আল্লাহ্ একত্ববাদের প্রতি আহ্বান করার মহান দায়িত্ব অর্পণ করেন。

সত্যের আহবান
নবুওয়াত তথা আল্লাহ্ বাণী পৌঁছানোর মহান দায়িত্ব কাঁধে আসার পর, তিনি একটি পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে সবাইকে ডাক দিলেন। তাঁর ডাক শুনে সবাই ছুটে এলো। কারণ, এটা ছিল সত্যবাদী বিশ্বস্ত মানুষের আওয়াজ। সমবেত লোকজনকে তিনি প্রশ্ন করেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, এই পাহাড়ের পেছনে বিশাল এক সৈন্যবাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণের জন্য ধেয়ে আসছে, তোমরা কি তা বিশ্বাস করবে? সবাই একবাক্যে বলল, আপনার কথা কে অবিশ্বাস করতে পারে। আপনি কখনো মিথ্যা বলেন না। আর তাছাড়া পাহাড়ের চূড়া থেকে আপনি তো পেছনে দেখতেই পাচ্ছেন। অতঃপর তিনি উপস্থিত জনতাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। মূর্তিপূজা নিষেধ করলেন এবং মরণের পর জাহান্নামের আগুনের ভীতি প্রদর্শন করলেন。

আব্দুল্লাহ : রমেশ ভাই আপনি কি জানেন মানুষের সবচেয়ে বড় ব্যাধি কী?

রমেশ: আপনিই বলুন সেটা কী?

আব্দুল্লাহ: শুনুন তাহলে মানুষের একটি মারাত্মক ব্যাধি হলো, পূর্বসূরিদের ভ্রান্তধারণা-বিশ্বাসকে অন্ধের মতো অনুসরণ করে। সুস্থ বিবেক ও যুক্তি-তর্কের সামনে অসারতা প্রমাণ হলেও বাপ-দাদার কীর্তি-কলাপ মানুষ ছাড়তে পারে না। পূর্ববর্তীদের রীতি-রেওয়াজ পরিত্যাগ তো দূরের কথা, কারো কথাই তারা শুনতে নারাজ। একারণেই রাসূল-কে চল্লিশ বছর পর্যন্ত সত্যবাদী, বিশ্বাসী বলে সম্মান প্রদর্শনের পরও মক্কার লোকেরা তাঁর শত্রুহয়ে গেলো।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 অগ্নিপরীক্ষা

📄 অগ্নিপরীক্ষা


তিনি যতই সত্যের পথে আহ্বান করতে লাগলেন, ততবেশি তারা তাঁর শত্রুতা করতে লাগল। কিছু নরাধম ঈমানদার-বিশ্বাসীদেরকে প্রহার, আগুনে শোয়ানো, গলায় রশি বেঁধে টানাহেঁচড়া, পাথর বর্ষণ প্রভৃতি শান্তি দিতে শুরু করে। কিন্তু রাসূল সবার জন্য দু'আ করতেন, কারো থেকে প্রতিশোধ নিতেন বৈদেশিক প্রতিশোধ নিতেন না। রাতের পর রাত আল্লাহ্র দরবারে তাদের হেদায়াতের জন্য দু'আ করতেন। একবার তিনি মক্কার লোকদের থেকে নিরাশ হয়ে তায়েফ শহরে চলে গেলেন। আশা ছিলো ওখানের মানুষ যদি ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করে। কিন্তু তায়েফের লোকেরা এই মহামানবকে অপমান করল। দুষ্ট ও বখাটে ছেলেদেরকে তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিল। এরা তাঁকে নানা ধরনের গাল-মন্দ করে। পবিত্র দেহে পাথর নিক্ষেপ করে, এতে তিনি আহত হয়ে যান। আঘাতের ফলে তাঁর পা থেকে রক্ত ঝরতে লাগল। ক্লান্ত-শ্রান্ত দেহে যখন কোথাও একটু বসতেন, ওই দুষ্টছেলেরা এসে আবার উঠিয়ে দিতো। তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে কোন বদদু'আ করেননি। বরং এই দু'আ করেছেন- হে মালিক! এদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং হেদায়েত দান করুন, এরা তো জানে না।

আল্লাহ্ বাণী ও বার্তা পৌঁছানোর অপরাধে তাঁকে নিজ শহর মক্কা ছাড়তে হয়েছে। চলে যেতে হয়েছে মাতৃভূমি ছেড়ে মদীনায়। মদীনায় থাকার সময়েও মক্কাবাসীরা তাঁকে শেষ (হত্যা) করার জন্য বারবার সৈন্য প্রেরণ করেছে।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 সত্যের জয়

📄 সত্যের জয়


সত্য চিরকাল বিজয়ী থাকে। এখানেও তার বিপরীত হয়নি। দীর্ঘ তেইশ বছরের কঠোর সাধনার পর তিনি সবার ওপর বিজয়ী হলেন। সত্যের প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ আহ্বান সারা আরবের মানুষকে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে এসেছিল। সারা পৃথিবীতে একটি অবিস্মরণীয় বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে সকল স্তরের মানুষ এক আল্লাহ্ অনুগত দাসে পরিণত হয়েছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px