📄 তাওহীদ
৫। পয়গামটি শুনিয়ে দেয়া
وَالْهُنَا وَ الْهُكُمْ وَاحِدٌ وَ نَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তারই আজ্ঞাবহ, আত্মসমর্পণকারী।
৬। এক উপাস্যের পরিচয় দেয়া
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهْدَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন। তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা।
৭। আল্লাহ্র পরিচয় দেয়া
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِي وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ .
আল্লাহ যিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَه إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ্হাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে তার সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে্বা, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
৮। বাতিল উপাস্যদের স্বরূপ বর্ণনা করা
إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُوْنِ اللهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ
আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতোই বান্দা। অতএব, তোমরা যখন তাদেরকে ডাক, তখন তাদের পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাক কবুল করা উচিত- যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক?
مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ .
তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যে নিছক কতগুলো নামের ইবাদত কর সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারাই সাব্যস্ত করে নিয়েছে। আল্লাহএদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ্ছাড়া কারো বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন, আল্লাহ্ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করো না, এটা সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।
إِنَّمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا وَتَخْلُقُوْنَ إِفْكًا إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُوْنِ اللهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوا عِنْدَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
তোমরা তো আল্লাহ্র পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছো এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছো। তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের ইবাদত করছো, তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহ্র কাছে রিজিক তালাশ কর, তার ইবাদত কর এবং তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
৯। বাতিল উপাস্যদের দূর্বলতা বর্ণনা করা
وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَّا يَخْلُقُوْنَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَّلَا نَفْعًا وَلَا يَمْلِكُونَ مَوْتًا وَلَا حَيَاةً وَلَا نُشُورًا
তারা তার পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনেরও তারা মালিক নয়।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ
হে মানুষ সকল! একটি উপমা দেওয়া হচ্ছে, তা মনোযোগ সহকারে শোনো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। এই উদ্দেশ্যে তারা সকলে একত্র হলেও। এবং মাছি যদি কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের নিকট হতে, তাও তারা তার নিকট হতে উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষক অন্বেষিত কতই দুর্বল।
১০। আল্লাহ্র সাথে শির্ক না করার দাওয়াত দেয়া
لَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ فَتَقْعُدَ مَنْ مُوْمًا مَّخْذُوْلاً
স্থির করো না আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্য। তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে।
১১। আল্লাহ্র সাথে শিরক করার ক্ষতিসমূহ বর্ণনা করা
لَهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِنْ تَحْتِهِمْ ظُلَلْ ذَلِكَ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ يُعِبَادِ فَاتَّقُوْنِ
তাদের জন্যে ওপর থেকে এবং নীচের থেকে আগুনের মেঘমালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারাআল্লাহ্হতাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন যে, হে আমার বান্দাগণ! আমাকে ভয় কর।
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخُسِرِينَ
আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহ্ শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন।
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارِ
তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ্; অথচ মসীহ বলেন, হে বনী-ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহ্র এবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ্রার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।
১২। আল্লাহ্র কুদরত বর্ণনা করা
الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذُ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكَ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَه تَقْدِيرًا .
তিনি হলেন ওই সত্ত্বা যাঁর রয়েছে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব। তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি। রাজত্বে তাঁর কোন অংশীদার নেই। তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে পরিমিতভাবে শোধিত করেছেন।
১৩। আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দেয়া
امِنُوا بِرَبِّكُمْ ....
তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।
وَابْرُهِيمَ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ اعْبُدُوا اللهَ وَاتَّقُوهُ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ .
স্মরণ কর ইবরাহীমকে। যখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা আল্লাহ্ ইবাদত কর এবং তাকে ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বোঝ।
১৪। আল্লাহ্ ইবাদত করার দাওয়াত দেয়া
يَأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত কর যিনি তোমাদিগকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন যাহাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা বানিয়েছেন এবং আকাশকে ছাদ আর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। তারপর তার মাধ্যমে তোমাদের জীবিকারূপে ফল-ফলাদি উদগত করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্র কোন শরীক স্থির করো না। যখন তোমরা (এসব বিষয়ে) জানো।
টিকাঃ
আন-কাবুত-২৯:৪৬
০-সূরা আল হাশর: ৫৯:২২
-সূরা-সাজদা: ৩২:০৪
• বাকারা-২৫৫
০-আল-আরাফ:৭:১৯৪
০-সূরা ইউসূফ: ১২:৪০
সূরা আনকাবুত: ২৯:১৭
-সূরা ফুরকান: ২৫:৩
০- সুরা হজ্ব-৭৩
--সূরা বনী ইসরাঈল :১৭:২২
--আয-যুমার: ৩৯:১৬
০-আয-যুমার: ৩৯:৬৫
০-মায়েদা-৭২
--সূরা আল- ফুরকান: ২৫:০২
-আলে ইমরান: ৩:১৯৩
-আনকাবুত: ২৯:১৬
-সূরা বাকারা:২১-২২
📄 রিসালাত
১৫। রাসূল-এর পরিচয় দেয়া
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِه وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوْ مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَلٍ مبين.
তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। ইতোপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।
১৬। তিনি সকল মানুষের নবী
قُلْ يُأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَأُمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُوْلِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
বলে দাও, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের সকলের প্রতি আমি আল্লাহপ্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও জমিনে তাঁর রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সকলে বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহ্ ওপর, তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর ওপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহ্ এবং তাঁর সমস্ত কালামের ওপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
১৭। মুহাম্মাদ-এর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দেয়া
يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِنْ رَّبِّكُمْ فَأَمِنُوا خَيْرًا لكُمْ وَإِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মানো, তবে জেনে রাখ, আসমানসমূহে ও জমিনে যা কিছু রয়েছে তার সবকিছুই আল্লাহ্। আর আল্লাহ্হচ্ছেন সর্বজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ।
১৮। রসূল-এর আনুগত্যের দাওয়াত দেয়া
وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَالرَّسُوْلَ فَأُلْئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّلِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا
আর যে কেউ আল্লাহ্ হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে সে তাদের সঙ্গী হবে, আল্লাহ্যাদেরকেনেয়ামত দান করেছেন। তাঁরা হলেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হলো উত্তম।
১৯। রসূল -কে অমান্যকারীর ক্ষতি বর্ণনা করা
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعُ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও যে কেউ রসূলের বিরূদ্ধাচরণ করে এবং মুসলমানদের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ওই দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থল।
টিকাঃ
০-সূরা আল আ'রাফ:৭:১৫৮
--সূরা নিসা-৪:১৭০
০-সূরা আল-জুমুআহ:৬২:২
0-সূরা আন- নিসা:৪:৬৯
0-সূরা আন্- নিসা:৪:১১৫
📄 আখেরাত
২০। আখেরাতের পরিচয় দান করা
وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।
وَمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَهُمْ وَلَعِبٌ وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক বৈ তো কিছুই নয়। পরকালের গৃহই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত।
২১। মৃত্যু সুনিশ্চিত সকলকেই তা বরণ করতে হবে
قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখোমুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহ্র কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।
২২। আখেরাতকে অস্বীকারকারীর শাস্তি বর্ণনা করা
وَمَن يَكْفُرْ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসূলগণ ও কিয়ামত দিবসকে অবিশ্বাস করলো সে তো সুদূর বিভ্রান্তিতে নিপতিত হল।
২৩। আখেরাতের ওপর ঈমান আনার দাওয়াত প্রদান
এবার তাকে বলতে হবে যে, এক আল্লাহকে মানা ও তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা এবং তাঁর শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) কে সর্বশেষ নবী হিসেবে পূর্ণ বিশ্বাস করা ও তাঁর আনীত সকল হুকুমের ওপর আমল করা এবং আখেরাত তথা মৃত্যুর পর পুনরায় আল্লাহ্র সামনে উপস্থিত হওয়ার ওপর বিশ্বাস আনা, এটাকেই ইসলাম বলে আর এই ইসলামই আল্লাহ্র নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম। এ ছাড়া তাঁর নিকট অন্য কোন ধর্ম গৃহীত নয়।
২৪। ইসলামই আল্লাহ্র নিকট একমাত্র মনোনীত ও গ্রহণযোগ্য ধর্ম
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম।
২৫। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম আল্লাহ্র নিকট গ্রহণ যোগ্য নয়
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَسِرِينَ
অর্থ: যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম কামনা করবে তা কখনই কবুল করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত।
এবার তাকে বলতে হবে যে, আমরা আপনাকে এই ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। আপনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যান। যদি আপনি মুসলমান হোন, তাহলে চিরস্থায়ী জান্নাত পেয়ে যাবেন। অন্যথায় ভোগ করতে হবে জাহান্নামের ভায়াবহ শাস্তি।
২৬। মুসলমান হওয়ার লাভ বর্ণনা করা
ইসলাম গ্রহণ করার সবচেয়ে বড় লাভ হল তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। যেমন রসূল বলেন-
الاسلام يهدم ما كان قبله
ইসলাম তার পূর্বের সকল পাপকে ক্ষমা করে দেয়। অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ করার সাথে সাথে বেগুনাহ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবেন। আরো আপনার জন্য অপেক্ষা করছে চিরশান্তির স্থান জান্নাত। যেমন আল্লাহ্তা'আলা বলেন-
بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অর্থ: শোন, যে কেউআল্লাহ্র নিকট সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয় তার ফল তাহার প্রতিপালকের নিকট রয়েছে এবং তাহাদের কোন ভয় নেই। তারা দুঃখিতও হবে না।
إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ جَنَّتِ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
নিশ্চয়ইযারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহতাদেরকে দাখিল করাবেন উদ্যানসমূহে, যার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণীসমূহ প্রবাহিত হবে। তাদেরকে তথায় স্বর্ণ-কঙ্কন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং তথায় তাদের পোশাক হবে রেশমী।
এবার বলতে হবে আপনি যদি মুসলমান না হন তাহলে আপনাকে চিরকালের জন্য নরকের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে ও জাহান্নামের কঠিন আগুনে জ্বালানো হবে।
২৭। ইসলাম গ্রহণ না করার ক্ষতিসমূহ বর্ণনা করা
هُذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّنْ نَارِ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ
অর্থ: এই দুই বাদী-বিবাদী, তারা তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করে। অতএব যারা কাফের, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে।
يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُوْنِهِمْ وَالْجُلُودُ
অর্থ: ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে।
وَلَهُمْ مَّقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ
অর্থ: তাদের জন্যে আছে লোহার হাতুড়ি।
كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمَّ أُعِيدُهُ فِيهَا وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ
অর্থ: তারা যখনই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবে: দহনশক্তি আস্বাদন কর।
এবার যদি মুসলমান হতে চায় তাহলে তাকে কালিমায়ে শাহাদাত পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে দিন। আর যদি মুসলমান না হতে চায়, তাকে হেকমতের সাথে তাঁর ওপর রেখে আসার চেষ্টা করুন এবং তাকে বলুন, "আপনাকে একটি মন্ত্র শিখিয়ে দিতে চাই যা আপনাকে বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করবে। তা হলো- (ইয়া হাদী! ইয়া রাহীম!” )ياها ديارحیم আল্লাহ্তা'আলা আমাদেরকে কুরআন দিয়ে দাওয়াত দেওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
-বাকারা ২:০৪
• আনকাবুত-৬৪
*-সূরা জুমআ ৬২:৮
-সূরা-নিসা:০৪:১৩৬
0-অলে-ইমরান:৩:১৯
০-আলে-ইমরান:৩:৮৫
-সূরা বাকারা:১১২
--সূরা হজ্ব:২২:২৩
-সূরা হজ্ব:২২:১৯
০-সূরা হজ্ব:২২:২০
-সূরা হজ্জ-২২:২১
-সূরা হজ্জ: ২২:২২