📄 ইসলামী দাওয়াতের দু'টি পর্যায়
নওমুসলিমদের ঈমান গ্রহণের পর চারদিক থেকে বিরুদ্ধবাদী ও তাদের দুঃখ-কষ্ট দেয়াটা স্বাভাবিক। এ সবের জন্য মানসিক প্রস্তুতি থাকা উচিত। আর চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করা প্রয়োজন। আমাদেরকে মনে করতে হবে আমরা মক্কা মুকাররমায় কাজ করছি এবং এখনও ঈমানী দাওয়াতের প্রথম পর্যায় চলছে। প্রথম দিকে ঈমান কবুলকারীদের জন্য নিজ ঈমানকে গোপন রাখতে বলা দরকার এবং আমলের নিয়মানুসারে দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার।
একটি জরুরি ও উপকারী কথা হলো, দাওয়াতের কাজ আধ্যাত্মিক বুযুর্গ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এমন কোন পরহেযগার আলেমের তত্ত্বাবধানে, পৃষ্ঠপোষকতায় ও পরামর্শে করা উচিত, যাঁদের দৃষ্টি কুরআন-সুন্নাহ, ইতিহাস ও জামানার নাড়ির স্পন্দনের সাথে গভীর। আল্লাহওয়ালাদের সাথে সম্পর্ক একটি বড় জিনিস। এ এমন এক পাওয়ার হাউজ, যা দিয়ে নিজের দিলের ব্যাটারিকে ঈমানের চার্জ দেয়ার ভাগ্যে জোটে।
📄 দাওয়াতের তিনটি স্তর
১. প্রথমত: উপস্থিত যত প্রাপ্তবয়স্ক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি আছেন সবাই ঈমানে দৃঢ় থাকবেন। তাদের জন্য তাবলিগী জামাতের কাজের পদ্ধতি খুবই উপকারী।
২. দ্বিতীয়ত: আগামী প্রজন্ম যাতে ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এজন্য তার অন্তরে এই অস্থিরতা থাকবে। এ কাজের জন্য মুসলমানদের পাড়ায় পাড়ায় এবং ঘরে ঘরে প্রাথমিক দ্বীনী শিক্ষা চালু করার চিন্তা করা যেতে পারে এবং ছোট ছোট মক্তব প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
৩. তৃতীয়: গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে, অমুসলিম ভাইদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেয়া। একাজটিকে বিভিন্ন শ্রেণীর ভিত্তিতে বণ্টন করে দেয়া যায়।
টিকাঃ
১. আলে ইমরান:৩:১০২
📄 দা'ঈর কোন ভয় নেই
দাওয়াত দিতে গিয়ে আমাদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে। মূলত এসব কিছুই না। দা'ঈর কোন ভয় নেই। দা'ঈর বিরুদ্ধে যেই আসবে, তার দুই অবস্থা। হয়তো ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো হেদায়েত পেয়ে যাবে। ইতিহাস সাক্ষী দুনিয়াতে আগমনকারী নবীগণ সকলেই দা'ঈ ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে যারাই এসেছে হয়তো হেদায়েত পেয়েছে, নতুবা ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন আমাদের দেশে শাহজালাল রহ. এসেছিলেন দা'ঈ হয়ে, তার বিরুদ্ধে রাজা গৌড়গবিন্দ এসেছিল; সে ধ্বংস হয়ে গেছে। খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি রহ.- এর মোকাবেলায় এসেছিলেন পৃথ্বীরাজ; সেও ধ্বংস হয়ে গেছে।
📄 শিক্ষণীয় ঘটনা
বাবা আদম শহীদ রহ. বিক্রমপুরের মাজার। তিনি ছিলেন আব্দুল কাদের জিলানী রহ.- এর খলিফা। দাওয়াত দিতে দিতে এক পর্যায়ে তৎকালীন রাজা বল্লালের ভাগিনাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলেন। তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন। রাজার আর সহ্য হলো না। এবার রাজা বাবা আদম শহীদ রহ.-এর সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। যুদ্ধে যাবার আগে রাজা তার পরিবার সদস্যদের উপদেশ দিলেন যে, দেখ যুদ্ধের মধ্যে জয়-পরাজয় দুটোই হতে পারে। যদি আমরা বিজয়বেশে ফিরে আসি তাহলে তো ফিরেই এলাম। আর যদি পরাজয় বরণ করি তাহলে কাঠের স্তুপে আগুন জ্বালিয়ে গেলাম, আর পোশা পাখিটি সাথে নিয়ে গেলাম। পাখিটি যদি ফিরে আসে তাহলে বুঝবে আমরা পরাজয় বরণ করেছি। তখন তোমরা এই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবে।
রাজার তরবারি যখন বাবা আদম শহীদ রহ.-এর গায়ে পড়লো সঙ্গে সঙ্গে সাথে নিয়ে আসা পাখিটি খাঁচা থেকে বের হয়ে রাজপ্রসাদের দিকে চলল। রাজা দরবারে পৌঁছার আগে পাখি হাজির হয়ে গেল। পাখি দেখার সাথে সাথে সকলে এক সাথে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এ ছিল দা'ঈর মোকাবেলা আগমনকারীর ধ্বংসের উজ্জ্বল প্রমাণ। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে প্রতিটি মানুষকে দিল খুলে দাওয়াত দেওয়ার তৌফিক দান করুন।
টিকাঃ
১. তাহা: ২০:৪৭