📄 নও মুসলিমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
ইসলাম কবুল করার পর নওমুসলিমদের প্রশিক্ষণ দানের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন কোন সময় কেবল কালেমা পড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর তাকে দ্বীন শেখানোর প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না। তাই তারা পূর্বের এবং পরের জীবনের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য না পেয়ে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে। এজন্য এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটির দিকেও খুবই মনোযোগ দেয়া উচিৎ যেখানে ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আছে সেখানে এদের প্রশিক্ষণ দানের শাখাও প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বরং দাওয়াতী কাজের জন্য এটা খুবই জরুরি। বিভিন্ন মাদ্রাসায় এ কাজের জন্য নিয়ম মাফিক তাবলিগ শাখা প্রতিষ্ঠিত করা।
📄 নওমুসলিমদের জন্য প্রাথমিক যে কাজগুলো করতে হয়
একজন ব্যক্তি মুসলিম হতে চাইলে বা মুসলমান হলে যে কাজগুলো আমাদের করতে হবে তা নিম্নে পেশ করা হলো-
১. প্রথমে তাকে কালেমা পড়িয়ে মুসলিম বানাতে হবে।
২. এফিডেভিট ও আইনি কাগজ প্রস্তুত করতে হবে।
৩. ঈমান মজবুত করার জন্য তাবলিগে পাঠানো যেতে পারে।
৪. তালিমের জন্য কোন আলেমের তত্ত্বাবধায়নে দ্বীন শিখানোর ব্যবস্থা করা।
৫. নওমুসলিম ভাইকে ভিক্ষুক না বানিয়ে কোন কাজ দিয়ে দেয়া।
৬. নওমুসলিম ভাই-বোনদের সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়া।
৭. প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ে-শাদির ব্যবস্থা করা।
৮. সবচেয়ে উত্তম হলো ভাতৃত্ব বন্ধন করে নেয়া। তাকে নিজের পরিবারের সদস্য করে নেয়া।
৯. মাঝে মাঝে তাদের খোঁজ খবর নেয়া।
১০. অনেক সময় নওমুসলিমদের বিভিন্ন আচরণে অনেক কষ্ট পেতে হয়, সেগুলো মেনে নেয়া।
১১. তাদের পুনর্বাসনের প্রতিও খেয়াল রাখা অতি জরুরি।
১২. কাউকে মুসলমান বানিয়ে ছেড়ে দিলে হবে না। তাদের তত্ত্বাবধায়ন ও নেগরানী করতে হবে।
১৩. কোন নওমুসলিম সাহায্যের জন্য এলে তার তাহকিক করার চেষ্টা করা।
📄 ইসলামী দাওয়াতের দু'টি পর্যায়
নওমুসলিমদের ঈমান গ্রহণের পর চারদিক থেকে বিরুদ্ধবাদী ও তাদের দুঃখ-কষ্ট দেয়াটা স্বাভাবিক। এ সবের জন্য মানসিক প্রস্তুতি থাকা উচিত। আর চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করা প্রয়োজন। আমাদেরকে মনে করতে হবে আমরা মক্কা মুকাররমায় কাজ করছি এবং এখনও ঈমানী দাওয়াতের প্রথম পর্যায় চলছে। প্রথম দিকে ঈমান কবুলকারীদের জন্য নিজ ঈমানকে গোপন রাখতে বলা দরকার এবং আমলের নিয়মানুসারে দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার।
একটি জরুরি ও উপকারী কথা হলো, দাওয়াতের কাজ আধ্যাত্মিক বুযুর্গ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এমন কোন পরহেযগার আলেমের তত্ত্বাবধানে, পৃষ্ঠপোষকতায় ও পরামর্শে করা উচিত, যাঁদের দৃষ্টি কুরআন-সুন্নাহ, ইতিহাস ও জামানার নাড়ির স্পন্দনের সাথে গভীর। আল্লাহওয়ালাদের সাথে সম্পর্ক একটি বড় জিনিস। এ এমন এক পাওয়ার হাউজ, যা দিয়ে নিজের দিলের ব্যাটারিকে ঈমানের চার্জ দেয়ার ভাগ্যে জোটে।
📄 দাওয়াতের তিনটি স্তর
১. প্রথমত: উপস্থিত যত প্রাপ্তবয়স্ক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি আছেন সবাই ঈমানে দৃঢ় থাকবেন। তাদের জন্য তাবলিগী জামাতের কাজের পদ্ধতি খুবই উপকারী।
২. দ্বিতীয়ত: আগামী প্রজন্ম যাতে ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এজন্য তার অন্তরে এই অস্থিরতা থাকবে। এ কাজের জন্য মুসলমানদের পাড়ায় পাড়ায় এবং ঘরে ঘরে প্রাথমিক দ্বীনী শিক্ষা চালু করার চিন্তা করা যেতে পারে এবং ছোট ছোট মক্তব প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
৩. তৃতীয়: গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে, অমুসলিম ভাইদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেয়া। একাজটিকে বিভিন্ন শ্রেণীর ভিত্তিতে বণ্টন করে দেয়া যায়।
টিকাঃ
১. আলে ইমরান:৩:১০২