📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দাওয়াতের কিছু মূলনীতি

📄 দাওয়াতের কিছু মূলনীতি


স্থান-কাল-পাত্রভেদে মাদউর (আহ্বানকৃতের) অবস্থানের দিকে খেয়াল করে কিছু মূলনীতি এখানে পেশ করা হলো যার উপর আমল করা একজন দা'ঈর উপর খুবই জরুরি-
১। নিয়তকে শুদ্ধ করবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দাওয়াত দিবে।
২। নিজের দাওয়াতের ওপর ১০০ ভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রাখবে।
৩। বিশেষ করে হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন দল, শ্রেণী ও আকিদা-বিশ্বাসের ওপর ধারণা রাখতে হবে।
৪। খুব হিতাকাঙ্ক্ষিতা ও মুহাব্বতের সাথে স্থান-কাল পাত্র ভেদে প্রয়োজনীয় কথা বলবে।
৫। হিন্দু ভাইদের পরিভাষায় তাদের সাথে কথা বলা। যেমন স্বর্গ (জান্নাত), নরক (জাহান্নাম) ইত্যাদি।
৬। জাতীয়তা অর্থাৎ আমরা একই পিতা-মাতার সন্তান। আদম হাওয়া সকলের পিতা-মাতা। এভাবে ভাইয়ের সম্পর্ক বের করে কথা শুরু করা।
৭। দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। যেমন নামায পড়ে দুআ' করা।
৮। প্রমাণবিহীন কথা পরিহার করা, শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ প্রমাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৯। মাদ'উর বুদ্ধির পরিধি ও তার চিন্তাধারার প্রতি লক্ষ্য রাখবে।
১০। দা'ঈ শুধু আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিবে।
১১। তাড়াহুড়া পরিহার করবে।
১২। দা'ঈর আমল হবে পরিপূর্ণ সুন্নত মুতাবিক।
১৩। দা'ঈ উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবে।
১৪। দা'ঈর মাঝে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে।
১৫। সর্বসম্মত বিষয় দ্বারা আলোচনা শুরু করবে।
১৬। নরম ভাষায় কথা বলবে।
১৭। উপস্থিত প্রমাণ না থাকলে গবেষণার জন্য সময় নেবে।
১৮। যুক্তিহীন বিতর্ক থেকে বেঁচে থাকবে।
১৯। প্রতিপক্ষের কথা মনোযোগসহ শুনবে, তার প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর দিবে।
২০। মাদউর দেবদেবীদের ভর্ৎর্সনা ও তিরস্কার করবে না।
২১। নিজের বিপরীত অবস্থান সঠিক হলে সেই সত্য স্বীকার করে নিবে।
২২। তাদের জন্য বদদু'আ করবে না।
২৩। দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করবে ও মাদউকে তুচ্ছ মনে করবে না।
২৪। স্মরণ রাখবে যে, হেদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ্।
২৫। দাওয়াতের পদ্ধতি সীরাত পাঠের মাধ্যমে নবুওয়াতের নূর হতে গ্রহণ করতে হবে।
২৬। দা'ঈকে দুনিয়াবিমুখ হতে হবে।
২৭। দাওয়াতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক করা।
২৮। দা'ঈ তাহাজ্জুদে আল্লাহর কাছে খুব কান্নাকাটি করবে।
২৯। মাদউর হৃদয়কে দাওয়াতের টার্গেট বানাবে।
৩০। দা'ঈ কোন লোভ-লালসা ছাড়াই দাওয়াতের কাজ করবেন।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দা'য়ীর আরো একটি বৈশিষ্ট্য

📄 দা'য়ীর আরো একটি বৈশিষ্ট্য


আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করা। এক পর্যায়ে শাহাদাতের আগ্রহ সৃষ্টি হলে, বড় উপকার এটাই হবে, দা'ঈর দৃষ্টি পার্থিব বস্তু থেকে সরে আল্লাহ তা'আলার মহান সত্ত্বার প্রতি আকৃষ্ট হবে, যা দাওয়াতী কাজের জন্য একটি মৌলিক শর্ত। এজন্য যার দৃষ্টি থাকবে সম্পদের উপর কিংবা নিজের চেষ্টার ওপর অথবা নিজের আত্মার বা সাফল্যের ওপর তাকে এটা বোঝা উচিত রাসূলের প্রিয় ও বিশ্বস্ত চাচা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন- "তুমি যাকে ভালোবাসো (ইচ্ছা করলেই) তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন।"

টিকাঃ
১. সূরা কাসাস: ৫৬

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 নওমুসলিমদের কালেমা পড়ানোতে বিলম্ব না করা

📄 নওমুসলিমদের কালেমা পড়ানোতে বিলম্ব না করা


একটি জরুরি আবেদন হলো কেউ যদি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করতে আসেন কিংবা আপনার বা যে কোন কারো দাওয়াতে অথবা যে কোন কারণে প্রভাবিত হয়ে মুসলিম হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাদের কালেমা পড়ানো এবং মুসলিম বানানোর কাজে বিলম্ব করবেন না। আর তার থেকে ইসলাম কবুল করার অজুহাতের ব্যাপারে ইতস্তত করবেন না বরং তাকে তাড়াতাড়ি কালেমা পড়িয়ে দিন। কেউ মুসলমান হতে এলে আমরা কালেমা পড়াতে ভয় পাই। বিভিন্ন ধরণের সন্দেহ করে থাকি। এমনটি না করা। তবে খেয়াল রাখতে হবে আঠারো বছর বয়স হয়েছে কি-না। বয়স যদি আঠারো বছরের নিচে হয়, তাকে মুসলমান বানালে তার পরিবার যদি আপত্তি করে তাহলে তা রাষ্ট্রীয় আইনে গ্রহণযোগ্য। তবে এটা শরয়ী আইন না।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দাওয়াতের ব্যাপারে সংবিধান

📄 দাওয়াতের ব্যাপারে সংবিধান


অমুসলিমদের দাওয়াত দেওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে সাংবিধানিক আইন হলো প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম প্রচার করতে পারে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৪১/১/ক. এ আছে মৌলিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা। ক. প্রত্যেক নাগরিকের যেকোন ধর্ম অবলম্বন পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে।

টিকাঃ
১. বাংলাদেশ সংবিধান ৪১/১/ক

ফন্ট সাইজ
15px
17px