📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 মুসলিম উম্মাহর বর্তমান সমস্যার সমাধান

📄 মুসলিম উম্মাহর বর্তমান সমস্যার সমাধান


এই উম্মতের পরাজয়, ভীতি ও অপদস্থতার আধ্যাত্মিক চিকিৎসা কেবল এটাই যে, এ উম্মত নিজের অবস্থান জানবে এবং দাওয়াতকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাবে। আর সকল মানুষকে কুফর ও শিরকের অন্ধকার থেকে বের করে আনা নিজের উদ্দেশ্য জানবে। আর নিজেদেরকে দা'ঈ উম্মত হিসেবে প্রমাণ করবে। এই উম্মতের চিকিৎসা হলো ইসলামের দাওয়াত। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের অভিজ্ঞতা হলো- যে নেতা কেবল নিজের ভোটের নিরাপত্তার চিন্তা করে, সে নিজের ক্ষমতা ও অবস্থানকে বাঁচাতে পারে না। বরং উত্তম ও সফল রাজনীতিবিদ হলেন তিনি, যিনি অপর দলের ভোট কেটে নিজের দলে শামিল করার চিন্তা করেন। অনুরূপভাবে যে শাসক কেবল নিজের দেশের সীমান্ত রক্ষার চিন্তা করে, ধীরে ধীরে সে নিজের রাজ্যও হারিয়ে বসে। এর বিপরীতে যে শাসক নিজ রাজ্যকে বর্ধিত করার চিন্তা করে এবং অতিরিক্ত এলাকা দখল করার উদ্দেশ্যে সচেষ্ট থাকে, যদি সে নিজ রাজ্য ও রাজত্ব বৃদ্ধি করতে নাও পারে কমপক্ষে নিজ রাজ্য অবশ্যই নিরাপদ থাকবে।

এই বিবেচনায় মুসলিম উম্মতের স্থায়িত্ব ও নেতৃত্বের জন্য এটা আবশ্যক যে, নিজ মুসলমান ভাইয়ের উপর মেহনত করে তাদের ঈমান ও ইসলামের ওপর দৃঢ় অবস্থানে স্থির রাখার চিন্তাই কেবল নয়, অপরাপর সম্প্রদায়কেও ইসলামের দাওয়াত দিয়ে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যকে ঈমানহীনতা ও ধর্মহীনতা থেকে বাঁচানোর ফিকির ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব কোন ক্রমেই কম নয়। কিন্তু কেবল এটাকেই উদ্দেশ্য ধরে নেয়া কখনই যথেষ্ট হতে পারে না। বরং মুসলিম উম্মাহ্র ঈমানকে দৃঢ় করার জন্য এবং ধর্মীয় জাগরণের জন্য অন্যদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করাও অত্যন্ত জরুরি।

এ পর্যন্ত বর্ণিত বিস্তৃত বিবরণে এ কথা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সর্বপ্রকারের চিন্তা অনুসারে মুসলিম উম্মাহর সকল সমস্যার সমাধান কেবলমাত্র ইসলামের দাওয়াত। কিন্তু পার্থিব সমস্যা সমাধানের জন্য দাওয়াত দেয়া না উপকারী, না ফলপ্রসূ, আর না প্রশংসিত ও গ্রহণযোগ্য। আমাদের তো নিজেদের সম্পর্ক মহান রব-এর সাথে দৃঢ় করার ও দয়ালু অভিভাবক রাসূল-এর অনুগ্রহকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার এবং নিজের আত্মার সম্পর্ক তাঁর সাথে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যেই দাওয়াতের কাজকে হৃদয়ে ধারণ করা উচিত।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দায়ীর গুণাবলী

📄 দায়ীর গুণাবলী


দা'ঈর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো এখলাস। এখলাস সম্পর্কে কুরআনের অনেকগুলো আয়াত ও হাদিস রয়েছে। আমরা এখানে একটি আয়াত পেশ করছি। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ
অর্থ: তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্র এবাদত করবে।

উত্তম আমল: উত্তম আমল দ্বারা উদ্দেশ্য এখলাাসের সাথে আমল। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ
অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।

আত্মশুদ্ধি: দা'ঈর জন্য খুবই জরুরি আমলের মাধ্যমে তার আত্মাকে শুদ্ধ করবে। তাদেরকে কুরআন ভৎর্সনা করেছে যারা অন্যের এসলাহের তো ফিকির করে, কিন্তু নিজেকে ভুলে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
অর্থ: তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর। তবুও কি তোমরা চিন্তা- ভাবনা কর না?

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعেলُونَ
অর্থ: মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি হলো সে ইসলামের যে কোন প্রকারের আহকামাতের উপর আমল করবে। চাই সেটা ফরজ, নফল, কিংবা মুস্তাহাবই হোক না কেন। দা'ঈ সমাজে আদর্শ ব্যক্তি হবে।

নামায: নামায দ্বারা আমার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ফরজ নামায নয়। এটা ছাড়ার তো কোন উপায়ই নেই। উদ্দেশ্য হলো নামায আদায় করার ব্যাপারে তার কিছু বৈশিষ্ট্য থাকবে। দা'ঈ সর্বদা প্রথম কাতারে থাকবে। পিছনে থাকার অভ্যাস করবে না। নামায আদায়ের ক্ষেত্রে সুন্নাতের এহতেমাম করবে। কোন ধরণের অপূর্ণতা না রেখে পরিপূর্ণ সুন্নত অনুযায়ী নামায আদায় করবে। এর দ্বারা লাভ হবে বাকী মানুষ তাকে আদর্শ মানবে। দাওয়াতের মাঝে এই আমলের প্রভাব সৃষ্টি হবে।

হযরত লোকমান (আ.) নিজ সন্তানদের উপদেশ দিলেন।
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُور
অর্থ: হে বৎস! নামায কায়েম কর। সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দকাজ হতে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ। হযরত লোকমান (আ.) এর উপদেশ ছিল দাওয়াতের জন্য। দাওয়াতী কাজের জন্য নামাযের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তিনি নামাযের নসিহত করেছেন। দা'ঈদের দাওয়াতী কাজে সফলতার জন্য নাওয়াফেল, সুন্নাতে মুআক্কাদা ইত্যাদি খুবই জরুরি। যেমন বিতর, তাহাজ্জুদ, চান্ত, আওয়াবীন, এশরাক ইত্যাদি আদায় করবে।

কিয়ামুল লাইল: তাহাজ্জুদের নামায এমন এক ইবাদাত, যার দ্বারা দায়ী তার দাওয়াতের মধ্যে অসম্ভব প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যার প্রমাণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নামাযের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন। এই গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন। তিনি নিজে আমল করে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। একই অবস্থা ছিল সাহাবা (রা.)-দের। তাহাজ্জুদের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا
অর্থ: রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠ সহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। হয়ত বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে মোকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন। দা'ঈরা হবেন তাহাজ্জুদগুজার এবং কঠিন পরিশ্রমী। তাদের নেক আমল যেন বেশী থেকে বেশী হয়। আমলটি যেন হয় এখলাস ওয়ালা। আর নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য এস্তেগফার পড়বে। দা'ঈদের বৈশিষ্টই হলো তারা সবধরণের আমল করার পরেও মনে করবে এটা খুবই কম হয়ে গেছে। অক্ষমতার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাবে। দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি তারা যেন এই কাজকে তাহাজ্জুদকে নিজের জীবনের একটি অংশ বানিয়ে নেয়। দাওয়াত কবুল হওয়া ও শক্তিশালী হওয়ার জন্য এটা খুবই জরুরি জিনিস।

রোজ: দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি সে রোজার গুরুত্ব দিবে। এখানে রোজা বলার দ্বারা ফরজ রোজা উদ্দেশ্য নয়। বরং আমার উদ্দেশ্য হলো নফল রোজা। যেমন- সোমবার, বৃহস্পতিবার, মাসে আইয়্যামে বীযের তিন রোজা, আশুরা ও আরাফার রোজা ইত্যাদি। এই রোজা দ্বীন ও দুনিয়ার কাজে ঈমানী শক্তি যোগায়। দা'ঈদের জন্য এটা মৌলিক মাধ্যম। একই অবস্থা দান-খায়রাতের ক্ষেত্রেও। দা'ঈ কৃপণ হবে না। কৃপণ ব্যাক্তির ক্ষেত্রে মানুষ দুশমনি করে। প্রয়োজনের বেশী মাল খরচ করা উচিত। এতে হক গ্রহণের স্পৃহা সৃষ্টি হয়। এর দ্বারা তার সওয়াবও হবে। দান-সদকার অনেক ফজিলত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি কৃপণতার ভয়াবহতার কথাও আছে। মোটকথা, দা'ঈদের জন্য কৃপণতা করা একেবারেই ঠিক না। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।

কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব: কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াতে অভ্যস্ত হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি। বিশেষ করে দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি। তেলাওয়াতকে দা'ঈ তার জীবনের মৌলিক কাজ বানিয়ে নিবে। কারণ কুরআন হলো আল্লাহর কালাম। মুসলমানগণ কুরআন থেকে সকল প্রকার জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। এই কুরআন তাকে সঠিক পথ দেখায়। কুরআন এমন ভাবে তেলাওয়াত করবে, যেন কুরআন তার আখলাক হয়ে যায়। কুরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক আল্লাহ আমাদের দান করুন। আমিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও উত্তম ঐ ব্যক্তি যে কুরআন শেখে এবং শিখায়।

ইল্ম ও জ্ঞান: ইল্ম দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে, দা'ঈর সকল প্রকার জ্ঞান জানা থাকতে হবে। বরং দা'ঈর ওই বিষয়ের এলেম বা জ্ঞান থাকতে হবে, যে বিষয়ে দা'ঈ মানুষকে আহবান করবে। যেসব বিষয় থেকে মানুষকে বাধা দিবে। ইল্ম ও জ্ঞান মৌলিক গুণাবলির মধ্যে একটি গুণ। যা থেকে দা'ঈ বিমুখ হতে পারবে না। আমলের পূর্বে ইলম অর্জন জরুরি। আবু দারদা (রা.) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য পথ চলে আল্লাহ তা'আলা তার (আমল) দ্বারা তাকে বেহেশতের পথসমূহের মধ্যে একটি পথে পৌঁছিয়ে দেন। আর আলেমগণ হলেন নবীগণের ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী)।

তাক্বওয়া: তাক্বওয়ার উপর চলা দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি। এটা ইবাদত কবুল হওয়ার মাধ্যম। মুস্তাহাবের উপর চলতে হবে।

নম্রতা: দাওয়াতী কাজের শুরু লগ্ন থেকে আম্বিয়া (আ.) যেসব আদর্শ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা হলো নম্রতা, মুহাব্বাত ও ভালোবাসা। দা'ঈদের জন্য জরুরি সে মানুষের সাথে নম্রতা অবলম্বন করবে। তার প্রতি দরদি হবে। নিজেকে চিকিৎসক মনে করবে। আর মাদ'উকে রুগী মনে করবে।

ক্ষমা: দা'ঈদের জন্য ক্ষমার মতো মহান গুণে গুণান্বিত হওয়া খুবই জরুরি। দা'ঈদের জন্য জরুরি, নবীজীর ওয়ারিস হিসাবে তার বাস্তব জীবনে বাস্তবায়িত করে আমলি নমুনা পেশ করবে।

এতেদাল: কারো ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করা। কেউ কারো কোন কথা বললে কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে নিন্দা করা, দা'ঈদের জন্য মোটেই উচিৎ না। তাই মেজাজে সাম্যতা এতেদাল থাকতে হবে।

ধৈর্য বা সবর: দা'ঈদের মধ্যে এই গুণ থাকা খুবই জরুরি। সবর অর্থ দৃঢ় দেখানো। অস্থিরতা ও পেরেশানী প্রকাশ না করা। এন্তেকামাতের সাথে অপেক্ষা করা।

উত্তম চরিত্র: আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর পরিচয় করিয়েছেন: "আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।"

ক্রোধ: ক্রোধ এমন একটি রোগ যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য হলো খুব দ্রুত যেন ক্রোধ না আসে, আসলেও যেন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

টিকাঃ
১. বাইয়্যিনাহ-৫
২. মূল্ক-২
৩. বাকারা-৪৪
৪. সাফ-২
৫. লুকমান-১৭
৬. বনী ঈসরাইল-৭৯
৭. বুখারী-৫০২৭
৮. যুমার-৯
৯. মুহাম্মদ- ১৯
১০. আবুদাউদ-৩৬৪১
১১. আল-ইমরান-৭৬
১২. নুর-২২
১৩. নিসা-৯৪
১৪. মরিয়াম: ৬৫
১৫. কলম-৪
১৬. বুখারী-৬২০৩
১৭. রাদ্ব-৩৭

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দাওয়াতের কিছু মূলনীতি

📄 দাওয়াতের কিছু মূলনীতি


স্থান-কাল-পাত্রভেদে মাদউর (আহ্বানকৃতের) অবস্থানের দিকে খেয়াল করে কিছু মূলনীতি এখানে পেশ করা হলো যার উপর আমল করা একজন দা'ঈর উপর খুবই জরুরি-
১। নিয়তকে শুদ্ধ করবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দাওয়াত দিবে।
২। নিজের দাওয়াতের ওপর ১০০ ভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রাখবে।
৩। বিশেষ করে হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন দল, শ্রেণী ও আকিদা-বিশ্বাসের ওপর ধারণা রাখতে হবে।
৪। খুব হিতাকাঙ্ক্ষিতা ও মুহাব্বতের সাথে স্থান-কাল পাত্র ভেদে প্রয়োজনীয় কথা বলবে।
৫। হিন্দু ভাইদের পরিভাষায় তাদের সাথে কথা বলা। যেমন স্বর্গ (জান্নাত), নরক (জাহান্নাম) ইত্যাদি।
৬। জাতীয়তা অর্থাৎ আমরা একই পিতা-মাতার সন্তান। আদম হাওয়া সকলের পিতা-মাতা। এভাবে ভাইয়ের সম্পর্ক বের করে কথা শুরু করা।
৭। দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। যেমন নামায পড়ে দুআ' করা।
৮। প্রমাণবিহীন কথা পরিহার করা, শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ প্রমাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৯। মাদ'উর বুদ্ধির পরিধি ও তার চিন্তাধারার প্রতি লক্ষ্য রাখবে।
১০। দা'ঈ শুধু আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিবে।
১১। তাড়াহুড়া পরিহার করবে।
১২। দা'ঈর আমল হবে পরিপূর্ণ সুন্নত মুতাবিক।
১৩। দা'ঈ উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবে।
১৪। দা'ঈর মাঝে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে।
১৫। সর্বসম্মত বিষয় দ্বারা আলোচনা শুরু করবে।
১৬। নরম ভাষায় কথা বলবে।
১৭। উপস্থিত প্রমাণ না থাকলে গবেষণার জন্য সময় নেবে।
১৮। যুক্তিহীন বিতর্ক থেকে বেঁচে থাকবে।
১৯। প্রতিপক্ষের কথা মনোযোগসহ শুনবে, তার প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর দিবে।
২০। মাদউর দেবদেবীদের ভর্ৎর্সনা ও তিরস্কার করবে না।
২১। নিজের বিপরীত অবস্থান সঠিক হলে সেই সত্য স্বীকার করে নিবে।
২২। তাদের জন্য বদদু'আ করবে না।
২৩। দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করবে ও মাদউকে তুচ্ছ মনে করবে না।
২৪। স্মরণ রাখবে যে, হেদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ্।
২৫। দাওয়াতের পদ্ধতি সীরাত পাঠের মাধ্যমে নবুওয়াতের নূর হতে গ্রহণ করতে হবে।
২৬। দা'ঈকে দুনিয়াবিমুখ হতে হবে।
২৭। দাওয়াতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক করা।
২৮। দা'ঈ তাহাজ্জুদে আল্লাহর কাছে খুব কান্নাকাটি করবে।
২৯। মাদউর হৃদয়কে দাওয়াতের টার্গেট বানাবে।
৩০। দা'ঈ কোন লোভ-লালসা ছাড়াই দাওয়াতের কাজ করবেন।

📘 হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি 📄 দা'য়ীর আরো একটি বৈশিষ্ট্য

📄 দা'য়ীর আরো একটি বৈশিষ্ট্য


আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করা। এক পর্যায়ে শাহাদাতের আগ্রহ সৃষ্টি হলে, বড় উপকার এটাই হবে, দা'ঈর দৃষ্টি পার্থিব বস্তু থেকে সরে আল্লাহ তা'আলার মহান সত্ত্বার প্রতি আকৃষ্ট হবে, যা দাওয়াতী কাজের জন্য একটি মৌলিক শর্ত। এজন্য যার দৃষ্টি থাকবে সম্পদের উপর কিংবা নিজের চেষ্টার ওপর অথবা নিজের আত্মার বা সাফল্যের ওপর তাকে এটা বোঝা উচিত রাসূলের প্রিয় ও বিশ্বস্ত চাচা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন- "তুমি যাকে ভালোবাসো (ইচ্ছা করলেই) তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন।"

টিকাঃ
১. সূরা কাসাস: ৫৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px