📄 অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়া মানবতার দাবি
মানব থেকে মানবতা, প্রতিটি মানুষের মানবতার দাবি হলো, সে অন্য মানুষের উপকার করবে। আর কেউ যদি কোন বিপদে পড়ে তাহলে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। আমরা মুসলমানগণ জানি, প্রতিটি অমুসলিম মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী জাহান্নামী। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّমَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ শَرُّ الْبَرِيَّةِ
অর্থ: নিশ্চয়ই কিতাবীদের মধ্য থেকে যারা কুফরী করেছে এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারা সৃষ্টির অধম।
প্রিয় পাঠক! আপনার প্রতিবেশী হিন্দু বা খ্রিস্টানদের বাড়িতে যদি আগুন লেগে যায়, তাহলে আপনি কি বসে থাকবেন নাকি আগুন নিভাতে যাবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে যাবেন। আল্লাহ না করুন, যদি কোন মুসলিম মহল্লায় আগুন লেগে যায়, তাহলে প্রতিবেশী অমুসলিম ভাইয়েরা কি বসে থাকবেন নাকি আগুন নিভাতে আসবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে আসবে। দেখুন! আমরা দুনিয়াতে ক্ষণস্থায়ী আগুন থেকে উদ্ধার করার জন্য মানবতার পরিচয় দিয়ে থাকি। কিন্তু একটু কি ভেবেছি যে, দুনিয়ার আগুনে জ্বলে যদি কারো ত্বক নষ্ট হয়ে যায় বা ঘর-বাড়ি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়, তাহলে ওষুধ দ্বারা পুনরায় ত্বক ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নতুন ও উত্তম বাড়ি বানানো সম্ভব। কিন্তু যে ভাইটি ইসলাম গ্রহণ না করে, চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, যার থেকে ফিরানো বা বাঁচানোর কোন পথ নেই, সেই চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য কি কখনো ভেবেছি?
প্রিয় পাঠক! আমাদের অনেক অমুসলিম বন্ধু আছেন, যাদের সাথে একত্রে চলা-ফেরা করি। একই অফিসে চাকরি করি। তার দোকান থেকে কেনাকাটা করি। তার বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়াই। একথাও জানি- এই ভাইটি মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী আগুনে জ্বলবে।
প্রিয় পাঠক! আমাদের কেমন মানবতা? আমার সামনে আমার এক ভাই বা বোন জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, কিন্তু কোন দিন এই ভাইটিকে বলিনি যে, ভাই! তুমি যে পথে চলছো এটা জাহান্নামের পথ। কোন দিন তাকে জান্নাতের পথ ইসলাম দেখাইনি। কেমন জানি তাকে আগুনে জ্বলতে দেখেও আমি চুপ হয়ে আছি। এটা আমাদের কেমন মানবতা? আর কত দিন এভাবে দেখবো? বলুন! এভাবে আর কত দিন বসে বসে তাদেরকে আগুনে ঝাঁপ দিতে দেখবো? চলুন, আর সময় নেই, আমার কাছে যদি সত্যিকার মানবতা থাকে, তাহলে আমার প্রতিবেশী অমুসলিমকে আগুনে জ্বলতে দিব না। আমাদের দায়িত্ব হলো তাকে জান্নাতের পথ দেখিয়ে দেয়া। মানা না মানা তার ব্যাপার। দাওয়াত পাওয়া তাদের অধিকার। গ্রহণ করা-না করা তাদের এখতিয়ার। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাদের আমানত 'ইসলাম' তাদের পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়ে ওদেরকে চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর মাধ্যম বানিয়ে নিন এবং আমাদের উপর তিনি খুশি হয়ে যান। আমীন।
টিকাঃ
১. সূরা-বাইয়্যিনাহ:৬
📄 রাসূল ﷺ-এর সব চেয়ে প্রিয় সুন্নাত
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে বড় সুন্নাত ছিল দাওয়াত। বিশেষত অমুসলিম ভাই-বোনদের মাঝে দাওয়াত। তিনি ১০০ ভাগ অমুসলিমের মাঝে দাওয়াতী কাজ শুরু করেছেন। অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং যারা মুসলমান হয়েছেন, তাদের ইসলাহ ও সংশোধন করেছেন। ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণে সাহাবা (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন- হে রাসূলুল্লাহ, আপনার অবর্তমানে আমাদের কী কাজ? নবী করীম বললেন, আমার যা কাজ ছিল তোমাদেরও একই কাজ। উত্তর শুনে সাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন দেশে দাওয়াত দিতে ছড়িয়ে পড়লেন। এখন প্রশ্ন হলো তারা বিভিন্ন দেশে সফর করে কাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন? অবশ্যই অমুসলিমদের কাছে ইসলাম প্রচার করেছেন এবং লোকেরা দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
মোটকথা, নবীজীর সবচেয়ে বড় আশা ছিল প্রতিটি মানুষ যেন ইসলাম গ্রহণ করে। হিন্দ ইবনে আবি হালা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আখিরাতের চিন্তা করতেন এবং উম্মতের ফিকির করতেন। তিনি উম্মতের দরদে এতো অস্থির ছিলেন যে, আল্লাহ তা'আলা সান্ত্বনা দিয়ে আয়াত অবতীর্ণ করলেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন-
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ
অর্থ: তারা ঈমান আনছে না এই দুঃখে হয়ত তুমি নিজের জীবন শেষ করে দিবে।
এখানে, আল্লাহ তা'আলা নবীজীর চিন্তার কারণ উল্লেখ করে বলেন- أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ তারা কেন মুসলমান হচ্ছে না, কেন ঈমান আনছে না। বলুন তো ঐ সময়ে কারা ঈমান আনছিল না? মুসলিমগণ না অমুসলিমগণ? অবশ্যই অমুসলিমরা; কাফের ও মুশরিকরা। আমরা কি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী হিসেবে কোন দিন প্রতিবেশী অমুসলিমদেরকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য ফিকির করেছি? ঈমানহীন লোকদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেওয়া কি নবীজীর সুন্নত নয়? তাদের জন্য ফিকির করা কি আমাদের দায়িত্ব নয়? অবশ্যই নবীজীর সুন্নত ও আমাদের বড় দায়িত্ব। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে নববী দরদ ও উম্মতের ফিকির দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
১. শুআরা-৩
📄 মুসলিম উম্মাহর বর্তমান সমস্যার সমাধান
এই উম্মতের পরাজয়, ভীতি ও অপদস্থতার আধ্যাত্মিক চিকিৎসা কেবল এটাই যে, এ উম্মত নিজের অবস্থান জানবে এবং দাওয়াতকে জীবনের উদ্দেশ্য বানাবে। আর সকল মানুষকে কুফর ও শিরকের অন্ধকার থেকে বের করে আনা নিজের উদ্দেশ্য জানবে। আর নিজেদেরকে দা'ঈ উম্মত হিসেবে প্রমাণ করবে। এই উম্মতের চিকিৎসা হলো ইসলামের দাওয়াত। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের অভিজ্ঞতা হলো- যে নেতা কেবল নিজের ভোটের নিরাপত্তার চিন্তা করে, সে নিজের ক্ষমতা ও অবস্থানকে বাঁচাতে পারে না। বরং উত্তম ও সফল রাজনীতিবিদ হলেন তিনি, যিনি অপর দলের ভোট কেটে নিজের দলে শামিল করার চিন্তা করেন। অনুরূপভাবে যে শাসক কেবল নিজের দেশের সীমান্ত রক্ষার চিন্তা করে, ধীরে ধীরে সে নিজের রাজ্যও হারিয়ে বসে। এর বিপরীতে যে শাসক নিজ রাজ্যকে বর্ধিত করার চিন্তা করে এবং অতিরিক্ত এলাকা দখল করার উদ্দেশ্যে সচেষ্ট থাকে, যদি সে নিজ রাজ্য ও রাজত্ব বৃদ্ধি করতে নাও পারে কমপক্ষে নিজ রাজ্য অবশ্যই নিরাপদ থাকবে।
এই বিবেচনায় মুসলিম উম্মতের স্থায়িত্ব ও নেতৃত্বের জন্য এটা আবশ্যক যে, নিজ মুসলমান ভাইয়ের উপর মেহনত করে তাদের ঈমান ও ইসলামের ওপর দৃঢ় অবস্থানে স্থির রাখার চিন্তাই কেবল নয়, অপরাপর সম্প্রদায়কেও ইসলামের দাওয়াত দিয়ে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যকে ঈমানহীনতা ও ধর্মহীনতা থেকে বাঁচানোর ফিকির ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব কোন ক্রমেই কম নয়। কিন্তু কেবল এটাকেই উদ্দেশ্য ধরে নেয়া কখনই যথেষ্ট হতে পারে না। বরং মুসলিম উম্মাহ্র ঈমানকে দৃঢ় করার জন্য এবং ধর্মীয় জাগরণের জন্য অন্যদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করাও অত্যন্ত জরুরি।
এ পর্যন্ত বর্ণিত বিস্তৃত বিবরণে এ কথা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সর্বপ্রকারের চিন্তা অনুসারে মুসলিম উম্মাহর সকল সমস্যার সমাধান কেবলমাত্র ইসলামের দাওয়াত। কিন্তু পার্থিব সমস্যা সমাধানের জন্য দাওয়াত দেয়া না উপকারী, না ফলপ্রসূ, আর না প্রশংসিত ও গ্রহণযোগ্য। আমাদের তো নিজেদের সম্পর্ক মহান রব-এর সাথে দৃঢ় করার ও দয়ালু অভিভাবক রাসূল-এর অনুগ্রহকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার এবং নিজের আত্মার সম্পর্ক তাঁর সাথে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যেই দাওয়াতের কাজকে হৃদয়ে ধারণ করা উচিত।
📄 দায়ীর গুণাবলী
দা'ঈর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো এখলাস। এখলাস সম্পর্কে কুরআনের অনেকগুলো আয়াত ও হাদিস রয়েছে। আমরা এখানে একটি আয়াত পেশ করছি। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ
অর্থ: তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্র এবাদত করবে।
উত্তম আমল: উত্তম আমল দ্বারা উদ্দেশ্য এখলাাসের সাথে আমল। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ
অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।
আত্মশুদ্ধি: দা'ঈর জন্য খুবই জরুরি আমলের মাধ্যমে তার আত্মাকে শুদ্ধ করবে। তাদেরকে কুরআন ভৎর্সনা করেছে যারা অন্যের এসলাহের তো ফিকির করে, কিন্তু নিজেকে ভুলে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
অর্থ: তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর। তবুও কি তোমরা চিন্তা- ভাবনা কর না?
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعেলُونَ
অর্থ: মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি হলো সে ইসলামের যে কোন প্রকারের আহকামাতের উপর আমল করবে। চাই সেটা ফরজ, নফল, কিংবা মুস্তাহাবই হোক না কেন। দা'ঈ সমাজে আদর্শ ব্যক্তি হবে।
নামায: নামায দ্বারা আমার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ফরজ নামায নয়। এটা ছাড়ার তো কোন উপায়ই নেই। উদ্দেশ্য হলো নামায আদায় করার ব্যাপারে তার কিছু বৈশিষ্ট্য থাকবে। দা'ঈ সর্বদা প্রথম কাতারে থাকবে। পিছনে থাকার অভ্যাস করবে না। নামায আদায়ের ক্ষেত্রে সুন্নাতের এহতেমাম করবে। কোন ধরণের অপূর্ণতা না রেখে পরিপূর্ণ সুন্নত অনুযায়ী নামায আদায় করবে। এর দ্বারা লাভ হবে বাকী মানুষ তাকে আদর্শ মানবে। দাওয়াতের মাঝে এই আমলের প্রভাব সৃষ্টি হবে।
হযরত লোকমান (আ.) নিজ সন্তানদের উপদেশ দিলেন।
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُور
অর্থ: হে বৎস! নামায কায়েম কর। সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দকাজ হতে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ। হযরত লোকমান (আ.) এর উপদেশ ছিল দাওয়াতের জন্য। দাওয়াতী কাজের জন্য নামাযের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তিনি নামাযের নসিহত করেছেন। দা'ঈদের দাওয়াতী কাজে সফলতার জন্য নাওয়াফেল, সুন্নাতে মুআক্কাদা ইত্যাদি খুবই জরুরি। যেমন বিতর, তাহাজ্জুদ, চান্ত, আওয়াবীন, এশরাক ইত্যাদি আদায় করবে।
কিয়ামুল লাইল: তাহাজ্জুদের নামায এমন এক ইবাদাত, যার দ্বারা দায়ী তার দাওয়াতের মধ্যে অসম্ভব প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যার প্রমাণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নামাযের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন। এই গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন। তিনি নিজে আমল করে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। একই অবস্থা ছিল সাহাবা (রা.)-দের। তাহাজ্জুদের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا
অর্থ: রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠ সহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। হয়ত বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে মোকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন। দা'ঈরা হবেন তাহাজ্জুদগুজার এবং কঠিন পরিশ্রমী। তাদের নেক আমল যেন বেশী থেকে বেশী হয়। আমলটি যেন হয় এখলাস ওয়ালা। আর নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য এস্তেগফার পড়বে। দা'ঈদের বৈশিষ্টই হলো তারা সবধরণের আমল করার পরেও মনে করবে এটা খুবই কম হয়ে গেছে। অক্ষমতার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাবে। দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি তারা যেন এই কাজকে তাহাজ্জুদকে নিজের জীবনের একটি অংশ বানিয়ে নেয়। দাওয়াত কবুল হওয়া ও শক্তিশালী হওয়ার জন্য এটা খুবই জরুরি জিনিস।
রোজ: দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি সে রোজার গুরুত্ব দিবে। এখানে রোজা বলার দ্বারা ফরজ রোজা উদ্দেশ্য নয়। বরং আমার উদ্দেশ্য হলো নফল রোজা। যেমন- সোমবার, বৃহস্পতিবার, মাসে আইয়্যামে বীযের তিন রোজা, আশুরা ও আরাফার রোজা ইত্যাদি। এই রোজা দ্বীন ও দুনিয়ার কাজে ঈমানী শক্তি যোগায়। দা'ঈদের জন্য এটা মৌলিক মাধ্যম। একই অবস্থা দান-খায়রাতের ক্ষেত্রেও। দা'ঈ কৃপণ হবে না। কৃপণ ব্যাক্তির ক্ষেত্রে মানুষ দুশমনি করে। প্রয়োজনের বেশী মাল খরচ করা উচিত। এতে হক গ্রহণের স্পৃহা সৃষ্টি হয়। এর দ্বারা তার সওয়াবও হবে। দান-সদকার অনেক ফজিলত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি কৃপণতার ভয়াবহতার কথাও আছে। মোটকথা, দা'ঈদের জন্য কৃপণতা করা একেবারেই ঠিক না। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।
কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব: কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াতে অভ্যস্ত হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি। বিশেষ করে দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি। তেলাওয়াতকে দা'ঈ তার জীবনের মৌলিক কাজ বানিয়ে নিবে। কারণ কুরআন হলো আল্লাহর কালাম। মুসলমানগণ কুরআন থেকে সকল প্রকার জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। এই কুরআন তাকে সঠিক পথ দেখায়। কুরআন এমন ভাবে তেলাওয়াত করবে, যেন কুরআন তার আখলাক হয়ে যায়। কুরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক আল্লাহ আমাদের দান করুন। আমিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও উত্তম ঐ ব্যক্তি যে কুরআন শেখে এবং শিখায়।
ইল্ম ও জ্ঞান: ইল্ম দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে, দা'ঈর সকল প্রকার জ্ঞান জানা থাকতে হবে। বরং দা'ঈর ওই বিষয়ের এলেম বা জ্ঞান থাকতে হবে, যে বিষয়ে দা'ঈ মানুষকে আহবান করবে। যেসব বিষয় থেকে মানুষকে বাধা দিবে। ইল্ম ও জ্ঞান মৌলিক গুণাবলির মধ্যে একটি গুণ। যা থেকে দা'ঈ বিমুখ হতে পারবে না। আমলের পূর্বে ইলম অর্জন জরুরি। আবু দারদা (রা.) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য পথ চলে আল্লাহ তা'আলা তার (আমল) দ্বারা তাকে বেহেশতের পথসমূহের মধ্যে একটি পথে পৌঁছিয়ে দেন। আর আলেমগণ হলেন নবীগণের ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী)।
তাক্বওয়া: তাক্বওয়ার উপর চলা দা'ঈদের জন্য খুবই জরুরি। এটা ইবাদত কবুল হওয়ার মাধ্যম। মুস্তাহাবের উপর চলতে হবে।
নম্রতা: দাওয়াতী কাজের শুরু লগ্ন থেকে আম্বিয়া (আ.) যেসব আদর্শ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা হলো নম্রতা, মুহাব্বাত ও ভালোবাসা। দা'ঈদের জন্য জরুরি সে মানুষের সাথে নম্রতা অবলম্বন করবে। তার প্রতি দরদি হবে। নিজেকে চিকিৎসক মনে করবে। আর মাদ'উকে রুগী মনে করবে।
ক্ষমা: দা'ঈদের জন্য ক্ষমার মতো মহান গুণে গুণান্বিত হওয়া খুবই জরুরি। দা'ঈদের জন্য জরুরি, নবীজীর ওয়ারিস হিসাবে তার বাস্তব জীবনে বাস্তবায়িত করে আমলি নমুনা পেশ করবে।
এতেদাল: কারো ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করা। কেউ কারো কোন কথা বললে কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে নিন্দা করা, দা'ঈদের জন্য মোটেই উচিৎ না। তাই মেজাজে সাম্যতা এতেদাল থাকতে হবে।
ধৈর্য বা সবর: দা'ঈদের মধ্যে এই গুণ থাকা খুবই জরুরি। সবর অর্থ দৃঢ় দেখানো। অস্থিরতা ও পেরেশানী প্রকাশ না করা। এন্তেকামাতের সাথে অপেক্ষা করা।
উত্তম চরিত্র: আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর পরিচয় করিয়েছেন: "আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।"
ক্রোধ: ক্রোধ এমন একটি রোগ যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য হলো খুব দ্রুত যেন ক্রোধ না আসে, আসলেও যেন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
টিকাঃ
১. বাইয়্যিনাহ-৫
২. মূল্ক-২
৩. বাকারা-৪৪
৪. সাফ-২
৫. লুকমান-১৭
৬. বনী ঈসরাইল-৭৯
৭. বুখারী-৫০২৭
৮. যুমার-৯
৯. মুহাম্মদ- ১৯
১০. আবুদাউদ-৩৬৪১
১১. আল-ইমরান-৭৬
১২. নুর-২২
১৩. নিসা-৯৪
১৪. মরিয়াম: ৬৫
১৫. কলম-৪
১৬. বুখারী-৬২০৩
১৭. রাদ্ব-৩৭